নাইয়ার সাব মনের দুঃখে চলে গেলেন – পাতিয়ালা ।
শশধর মুখর্জির কথাই ঠিক হল । আর সুরকার হওয়া হবে না তাঁর ।
এদিকে, ম্যাট্রিক কোনোরকমে উৎরেছেন । একবার তাঁর নিজের সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন:-
“আমার পরিবারে আমিই একমাত্র অশিক্ষিত । কি আর করবো ? পড়তে টরতে তো ভালোই লাগে না ।
মাট্রিক আমি পাশ করেছিলাম – ফার্স্ট ক্লাস থার্ড ডিভশনে । আটশোর মধ্যে মার্কস পেয়েছি –তিনশো চল্লিশ।
কলেজে, চাপাচাপিতে ভর্তি হয়েছিলাম ঠিকই, তবে ওখানেই শেষ ।”
তা পেলেন তিনি চাকরি, তবে মিউজিক ট্রেইনার হিসেবে – একটা মহিলা কলেজে ।
অধ্যক্ষাও মহিলা, তবে বিবাহিতা । কি করে যেন সেই মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন ।
একদিন হাতে নাতে ধরা পড়াতে, চাকরি ছেড়ে পালালেন – অমৃতসর ।
এদিকে বোম্বেতে হইচই । কোথায় সেই ছেলেটা, যে সি এইচ আত্মার গানে এত চমৎকার সুর করেছে! গান তো সুপার হিট্ ।
খোঁজ – খোঁজ । চিঠি- টেলিগ্রাম, কারও কোনো জবাব নেই ।
উত্তর আসবে কি করে ? চিঠি- টেলিগ্রাম, যাচ্ছে পাতিয়ালায় আর তিনি অমৃতসরে ।
বাড়ীর লোকও মাথা ঘামায় নি ! ব্যাটা- লুচ্চা লাফাঙ্গা ! থাক যেখানে খুশী ।
যাই হোক, ধরে বেঁধে নাইয়ার সায়েবের বিয়ের দিন ঠিক হল- ২৯ শে মে ১৯৫১ ।
কি কাণ্ড ! সেইদিনই তিনি খবরটা পেলেন – বোম্বের এক প্রডিউসার, দিলসুখ পাঞ্চোলি খুঁজছেন নাইয়ার সায়েবকে ।
খবর পাঠান থেকে প্রায় দেড় থেকে দুবছর বাদে, সংবাদটা পেলেন ।
গাঁটরি বেঁধে সোজা বোম্বে । ট্যাঁকে নববিবাহিতা বউ ।
উঠলেন – এভারগ্রিন নামে একটা হোটেলে । পাঞ্চোলি সায়েবের সাথে দেখা হল ।
পাঞ্চোলি সায়েবের নতুন সিনেমা – আশমান ।
মাত্র ছয়শো টাকা দিতে চাইলেন - পাঞ্চোলি সায়েব ।
প্রথমে পাঁচশ, তারপরে ফিল্ম হিট হলে, আরও একশ ।
রাজী হলেন , কারণ কোনো উপায় ছিল না । তবে এর সাথে আরও দুটো ফিল্মের সুরকার হিসেবে কাজ পেলেন । ছমছমা ছম্ আর গুরু দত্ত্ র দ্বিতীয় ছবি – বাজী ।
কপালের ফের ! তিনটি ছবিই সুপার ডুপার ফ্লপ্ ।
তিনটে ছবির মধ্যে কেবল একটা গান হিট্ । বিখ্যাত গায়িকা, গুরু পত্নী গীতা দত্ত্ য়ের – তেরে যাদু ভরি নয়ন ।
বছর দেড়েক পার হয়ে গেছে । এক সন্তানের জনক আর এদিকে পকেট গড়ের মাঠ ।
কারদার স্টুডিওর- কে কে ভাটিয়ার সাথে পরিচয় ছিল । তাঁকে খুলে বললেন সব ।
ভাই আমাদের খাবার দাবার তো দূর অস্ত্ । বাচ্চাটাকে যে কৌটোর দুধ খাওয়াবো, তার রেস্তও নেই ।
ভাটিয়াজি একটা একশ টাকার নোট দিয়ে বললেন :- বাড়ীতে যাও আমার গাড়ি নিয়ে । দুধ কিনে আমার কাছে ফিরে এস । আর কার কাছে টাকা পাও তুমি ?
দত্ত্ সায়েবের কাছ থেকে ।
কত পাবে?
আজ্ঞে, হাজার তিনেক টাকা ।
আচ্ছা, ফিরে এসো- দেখছি ।
ফিরে আসার পর ভাটিয়া জি নিয়ে চললেন – দত্তা সায়েবের কাছে ।
নাইয়ার সায়েবকে নিচে গরমের মধ্যে বসিয়ে রেখে ওপরে গেলেন – ভাটিয়া জি ।
এক ঘন্টা পর ডেকে নিলেন ওপরে ।
দত্তা সায়েবের কাছে টাকা চাইলে বললেন – আমার ফিল্ম ফ্লপ । কোথায় টাকা পাবো? এই হাজার টাকা রাখো আর মানে মানে বিদেয় হও ।
গীতাজি বেঁকে বসলেন ।
আরে তুমি তো নতুন একটা ফিল্ম বানাচ্ছো । ওতে একে সুরকারের দায়িত্ব দাও ।
ক্ষেপেছো?
আরে ক্ষেপবো কেন? ফিল্ম ফ্লপ হলেও তো আশমান ছবিতে আমার গানটা তো হিট । পারবে ও পারবে !
বউয়ের কথা ফেলতে পারলেন না -দত্তা সায়েব।
চুক্তি হল – বারো হাজার টাকায় । অ্যাডভান্স হিসেবে পেলেন আরও হাজার টাকা ।
নাইয়ার সায়েব বললেন – বাকী ১১ হাজার টাকা আমাকে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে দিলে আমার উপকার হয় । না হলে – হোটেলওয়ালা বের করে দেবে ।
ডান্ – উত্তর এল, দত্তা সায়েবের কাছ থেকে ।
========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,
ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ।

No comments:
Post a Comment