বিমলের আজকাল পুরোন কথা খুব বেশী করে মনে পড়ে । বিশেষ করে যৌবনের । সেদিন একটা ফোন পেয়ে দুঃখগুলো চাগাড় দিয়ে উঠেছে ।
মৌমিতা তার ফোন নংটা কোথায় পেল কে জানে !
বলল তো – ফেসবুকের একজন তাকে দিয়েছে।
এদিকে পুজোর বাজার করার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে গিন্নী ।
ভীড়ের ভেতর শ্বাসকষ্ট হয় বিমলের । একটা রফায় আসা গেল । গিন্নীকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটা পার্ক করবে নিউ মার্কেটে । একটু আগে যেতে হবে, না হলে পার্কিংয়ের স্পেস পাওয়া মুশকিল ।
বিমল একবার মিউ মিউ করে বলেছিল – মলে গেলেই তো হয়, আবার নিউ মার্কেট কেন?
গিন্নী দুর্বাসা হওয়ার আগেই নিজেকে সামলে নিল – বিমল ।
ড্রাইভার দীপক গাড়ীতেই থাকবে । বিমল হেঁটে পার্ক স্ট্রিট গিয়ে একটু বিয়ার খাবে, এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে । কত বদলেছে, রাস্তাটা। তাছাড়া উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরার একটা মজা আছে । নিজেকে বেশ বোহেমিয়ান লাগে ।
এখন তো তিন থেকে চার ঘন্টা হাতে সময় ।
অনেক দিন বারে বসে খাওয়া হয় না । বাড়ীতে খেলে সস্তা পড়ে, কিন্তু ঐ মেজাজটা পাওয়া যায় না । না হয়, দুটো টাকা বেশীই লাগবে ।
কিন্তু, ওই যে কথায় আছে না:- যে যায় বঙ্গে, কপাল যায় সঙ্গে ! কারণ, সেই পৃথুলা ( বর্তমানে) মহিলার সঙ্গে এই ফোনালাপের পর পার্ক ষ্ট্রিটে দেখা হয়েছিল। সঙ্গে ছিল- ওনার ১৭/১৮ বছরের সুন্দরী নাতনী। বিমলকে দেখে, কুশল বিনিময়ের পর নাতনীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার সময় বলল- ইনি ই সেই ! যিনি ফ্রেণ্ডলিষ্টে আছেন আর উনি তোর ‘হলেও হতে পারত’ ঠাকুরদা!
নাতনী তো হেসেই খুন! বলল- গ্র্যানি, তুমি না খুব সুইট! এইরকম লোকের সঙ্গে আমি একটু আড্ডা দিয়ে, তোমাদের পুরোনো প্রেমের গপ্পো শুনবো।
তো, বিমলরা গিয়ে বসল সিলভার ড্রাগনে।
নাতনী বললো- সুইটস, তুমি বিয়ার না জিন নেবে?
শুনেই মনটা কেমন করে উঠলো বিমলের। তাও একটু লজ্জা ভাব করে, বলল- দেবে? তা দাও !
বিমলের কাছ থেকে শুনে নিয়ে, অর্ডার দিল:- দুটো জিন উইথ ফ্রেস লাইম।
একটা কোক! আর তিন প্লেট চিলি চিকেন।
জিন দুটো আমার আর ওই মহিলার জন্য। নাতনী নিল- কোক!
বিমল ভদ্রতা করে বলল:- তুমি জিন নিলে না কেন?
উত্তর এল:- আমি এখনও খাই না! খেলে নিতাম। আমার গ্র্যানি খুব লিবারেল। গ্র্যাণ্ড পাও তাই।
নাও! নাও শুরু করো!
বলতে লাগল বিমল!!!!
তোর গ্র্যানি বেশ সুন্দরী ছিলেন।
বলতেই বাধা!
হোয়াট ডু ইউ মিন? আমার গ্র্যানি, এখনও বেশ সুন্দরী!!
থতমত খেয়ে বলল বিমল:- না! মানে ইয়ে, তখন আরও বেশী ছিল।
বেশ বেশ- নো তক্কো! চালাও পানসী বেল ঘরিয়া
শুরু হলো করল বিমল:-
প্রেম হবার পর কটকে পোষ্টিং পেলাম। চিঠিতে তো বটেই, আর কোলকাতায় এলে প্রেমটা আরও জমতো। করে, করে, বেশ চলছিল! হঠাৎ একদিন একটা টেলিগ্রাম তোর গ্র্যানির কাছ থেকে।
“কাম শার্প । মাই ম্যারেজ হ্যাজ বিন ফিক্সড! মিট মি আ্যাট যাদবপুর কফি হাউস আ্যট ওয়ান পিএম শার্প টু ফিক্স দ্য নেক্সট কোর্স অফ আ্যকশানস।”
দুপুরে টেলিগ্রাম পেয়ে, সেই দিন-ই - রাতের ম্যাড্রাস মেল ( তখন ওই নামই ছিল) ধরে হই হই করে চলে এলাম কোলকাতায়! ভোরবেলা হাওড়ায় নেমে,চলে গেলাম ঠিক দুপুর একটার সময়! যাদবপুর কফি হাউসের পাশেই একটা চাইনিজ রেস্তোরাঁ ছিল সেই সময় ( এখনও আছে কিনা, জানি না) টুকটাক অন্য গল্প কোরতে কোরতে তোর গ্র্যানি লাঞ্চ খাচ্ছে, কিন্তু আসল কথা আর বলে না!
শেষ হলে মুখ টুখ মুছে বলল:- শোনো, আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বিয়ে হলেই আমি আ্যমেরিকা চলে যাচ্ছি। তুমি না, আজ থেকে আমাকে বোনের চোখে দেখ। আমার মটকা গরম হয়ে গেল! একে তো লাঞ্চের বিল দিয়েছি, তার ওপর কটক থেকে আসা যাওয়ার খরচ!
বললাম:- কোনো চোখে যদি দেখতেই হয়, তবে আজ থেকে তোমাকে ‘রক্ষিতা’ র চোখে দেখবো!
তোর গ্র্যানি হেসে বলেছিল- আহা চটছো কেন? মশলা খাও!
বিমলের বলা শেষ হতেই একজন হ্যাণ্ডসাম বৃদ্ধ ঢুকলেন।
হেসে হাত মিলিয়ে বললেন- সেল ফোনে আপনার খবর পেয়ে চলে এলাম। আমি প্রেজেন্ট, আপনি পাষ্ট!
সেদিনের বাকী মশলা একটু খান!
বেয়ারা – ঔর দোঠো জিন উইথ ফ্রেস লাইম

No comments:
Post a Comment