সত্যি
ঘটনা অবলম্বনে
++++++++++
তথ্য – ইউ
টিউব
=====
বিধিসম্মত
সতর্কী করণ- হৃদযন্ত্র দুর্বল থাকলে, না পড়াই ভালো ।
++++++++
আজ থেকে আঠাশ বছর আগের কথা । তারিখ-জুলাই ১৯,
১৯৮৯ । এই ফ্লাইটের ডেনভারের কলরাডো থেকে
উড়ে ফিলাডেলফিয়া যাওয়ার কথা।
উড়ান -শিকাগোতে নামবে প্রথানুযায়ী ।
প্নেনের,ফ্লাইট ক্যাপটেন –আলফ্রেড সি হেইনস (
বয়স ৫৭ –তখন) ।
ভদ্রলোকের
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসে ওড়ার অভিজ্ঞতা তখন পর্যন্ত ছিল-২৯,৯৬৭ ঘন্টা ।
তার মধ্যে -৭,১১৯ ঘন্টা অভিজ্ঞতা ছিল ডিসি ১০
ওড়ানোর ।
কো পাইলট
ছিলেন – ৪৮ বছরের ফার্স্ট অফিসার উইলিয়াম আর
রেকর্ডস ।
তখন সব
মিলিয়ে ২০, ০০০ ঘন্টা তাঁর ওড়ার অভিজ্ঞতা ।
৫১ বছরের
সেকেন্ড অফিসার ডুডলি জে ডোভরক ছিলেন – ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার ।
১৫,০০০
ঘন্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা ডুডলির ঝুলিতে ।
সেইদিন
ছিল ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের “শিশুদিবস”।
তাই মাত্র
সেদিনের জন্য একজন শিশুর প্লেনের ভাড়া ছিল – মাত্র এক পেনি ।
প্লেনে সর্বমোট ছিলেন -২৯৬ । তার মধ্যে ২৮৫ জন যাত্রী আর ১১ জন
ক্রু মেম্বার ।
চারজন
কোলের শিশু নিয়ে মোট শিশু ছিল ৫২ জন ।
কোলের শিশু
ছাড়া অনেক শিশুই একা যাচ্ছিল – এই প্লেনে
।
হটাৎ
প্লেনের পেছন থেকে একটা বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ ।
এটা হতেই –
অটোপাইলট থেকে প্লেনের কন্ট্রোল নিলেন - ফার্স্ট অফিসার উইলিয়াম আর রেকর্ডস ।
এদিকে –
ফ্লাইট ডেকে অনবরত বেজে চলেছে বিপদ সংকেত ।
বিপদে পাইলটদের
সবার মাথা ঠাণ্ডা । এটাই শিক্ষা এঁদের ।
প্লেনের
কন্ট্রোল কিছুতেই হাতে রাখতে পারছেন না তাঁরা ।
ক্যাপটেন –আলফ্রেড
সি হেইনস তখন চেষ্টা করে যাচ্ছেন –ব্যাপারটা বোঝার । কি কি গণ্ডগোল হতে পারে তার
একটা আন্দাজ করার চেষ্টা ।
ডিসি ১০
এর মোট এঞ্জিন তিনটে ।
এর মধ্যেই
দুই নম্বর এঞ্জিন একেবারে বন্ধ হবার মুখে পড়ে ধীরে ধীরে সর্বনাশা ব্যর্থতার কবলে ।
ফলে –প্লেনটাকে
আর ঠিক লেভেলে রাখা যাচ্ছে না মাঝ আকাশে ।
এর মধ্যেই
ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার ডুডলি দিলেন আরও একটা বিপদের সংবাদ । প্লেনের হাইড্রোলিকস্ শেষ
হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে ।
ক্যাপটেন হেইনস
দু নম্বর এঞ্জিনটাকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেন ।
কিন্তু
তখন প্লেনের কোনো যন্ত্রই আর কমান্ড মানছে না । চেষ্টা করে যাচ্ছেন ফার্স্ট অফিসার
রেকর্ডস, কিন্তু ভবি ভোলবার নয় ।
প্লেন ডান
দিকে চলে যাচ্ছে । প্লেনের মুখ নীচের দিকে ।
প্লেন
কখনোই আকাশের সমান্তরালে চলে না । মুখ একটু ওপরে দিকেই থাকে । এতে ফুয়েল বাঁচে ।
মুখ নীচের
দিকে থাকলে আরও বিপদ । ফুয়েল তো খরচা হবেই
তার ওপর পড়ে যেতে পারে মাটিতে মুখ থুবড়ে ।
সে যাই
হোক, তখন প্লেন খালি ডান দিকে ঘুরে যাচ্ছে ।
আবার কন্ট্রোল
হাতে নিলেন - ক্যাপটেন হেইনস ।
প্লেনটাকে
ঠিক লেভেলে রাখতে না পারলে – প্লেন পুরো আকাশেই উল্টে যাবে ।
প্লেনটাকে
তখন বাগে আনা একেবারে অসম্ভব ।
এমন সময়ে,
ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার ডুডলি বলতে বাধ্য হলেন – প্লেনের হাইড্রোলিকস্ সব শেষ ।
হাইড্রোলিকস্
ছাড়া প্লেনকে কোনো কমাণ্ড করা যাবে না, ওড়ার সময়ে ।
দুজন
পাইলটই মাথা ঠাণ্ডা রেখে – প্লেনের সব কন্ট্রোলই এমন ভাবে নাড়া চাড়া করতে লাগলেন,
যেন সব স্বাভাবিক ।
পাইলটরা
প্লেন চালানোর ম্যানুয়াল খুলে দেখতে লাগলেন – যদি সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় বের
হয় ।
নাঃ ! সব
কাকস্য পরিবেদনা । কিছুই নেই এই ধরণের বিপত্তির সমাধান করার ।
প্লেনের
বাকি এঞ্জিন গুলোকে অন্যভাবে কিছু করে যায়
কিনা, সে ব্যাপারে চেষ্টা জারি রাখলেন পাইলটরা ।
তিন নম্বর
এঞ্জিনের পাওয়ার বাড়িয়ে দিয়ে, এক নম্বর এঞ্জিনের পাওয়ার কমিয়ে দিলেন পাইলটরা ।
প্লেন
ধীরে ধীরে আকাশে লেভেল হতে শুরু করল ।
এইবারে
পাইলটরা বুঝলেন – এই ধরণের কন্ট্রোল কাজ করছে, যদিও হাইড্রোলিকস্ ছাড়া প্লেন বড়ই
বিপদে ।
এইবার
পাইলটরা আলোচনা করতে লাগলেন – কি ভাবে ল্যান্ডিং করা যায় ।
হাইড্রোলিকস্
ছাড়া ল্যান্ডিং অসম্ভব ।
কোনো
প্রতিকারই পাওয়া যাচ্ছে না, ল্যান্ডিং করানর। এভাবে ল্যান্ডিং করালে সবাই মরবে ।
প্লেন
নিজে থেকেই নীচে নামতে শুরু করল ।
সাধারণ
সময়ে কন্ট্রোল কলামকে টেনে ধরলে প্লেনের মুখ ( নোজ) ওপরের দিকে ওঠানো যায় ।
হাইড্রোলিকস্
ছাড়া এটাও অসম্ভব ।
প্লেনে
তখন মাত্র দুটো এঞ্জিন ছাড়া আর কিছু কাজ করছে না ।
তখন
পাইলটরা সিদ্ধান্ত নিলেন – কাছাকাছি বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানাতে
।
সিওয়াক্স
সিটির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জানতে চাইল- তাঁরা ওই বিমানবন্দরের ল্যাণ্ডিং করতে
ইচ্ছুক কিনা !
পাইলটরা
সেখানেই ল্যাণ্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন
।
বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডান্টদের বলা হলো – কেবিনকে তৈরি
রাখতে ।
এদিকে প্লেন হটাৎ ওপরে উঠতে শুরু করল । এরকম হলে আকাশে
প্লেনের গতি কমে যাবে । মহা সমস্যা ।
বেশী ওপরে উঠলে আবার একটা সময় প্লেনের গতি স্তব্ধ হয়ে
যাবে ।
ফলাফল – অত উঁচু থেকে বিমানের দ্রুতগতিতে মাটিতে পতন ।
ক্যাপটেন হেইনস-এঞ্জিন দুটোর
পাওয়ার কমিয়ে প্লেনকে লেভেলে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন ।
বিপদ হলো –
নোজ আরও নিচে চলে যাচ্ছে । তখন ওটা উঁচু করার সর্বান্তকরণ চেষ্টা ছাড়া গতি নেই ।
এদিকে
প্লেন তার উচ্চতাও হারাচ্ছে । ঘনিয়ে আসছে সর্বনাশা পরিণতি ।
এদিকে সিওয়াক্স
সিটি তখনও ৫৫ মাইল দূরে ।
এই ভাবে
নিচে নামতে থাকলে আর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মাটিতে থুবড়ে পড়বে বিমান ।
এদিকে
এটিসির জিজ্ঞাসা – ফ্লাইট ২৩২ ! আপনারা এখানে নামছেন তো?
ক্যাপটেন হেইনস
জবাবে বললেন – সে আর বলতে? আমরা প্লেনের সমস্ত হাইড্রোলিকস্ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি ।
এটিসির
আবার জিজ্ঞাসা – বাঁ দিকে আপনারা ঘুরিয়ে নিন বিমানকে ।
উপায় নেই
। জবাব - ক্যাপটেন হেইনসের । প্লেন ডান দিক ছাড়া ঘুরছে না ।
কিন্তু,
আপনারা আকাশে যে জায়গায় আছেন, সেখান থেকে সিওয়াক্স সিটি আসতে গেলে প্লেনকে তো বাঁ
দিকে ঘোরাতেই হবে !
জোর করে
বাঁ দিকে ঘোরাতে গেলে ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর হবে । ঠিক আছে, চেষ্টা করছি, ডান দিকে পুরো
ঘুরিয়ে বাঁ দিকে যাওয়া যায় কিনা ! এখন এটাই একমাত্র উপায় ।
দুই
এঞ্জিনের পাওয়ারকে এদিক সেদিক করে পুরো ডান দিকে ঘুরিয়ে আবার বাঁদিকে আনার চেষ্টা
করতেই থাকলেন ।
এটা করতে
গিয়ে আবার প্লেনের নোজ নীচু হয়ে আরও উচ্চতা কমতে থাকল ।
সিওয়াক্স
সিটি এখনও ৪০ মাইল দূর ।
এর মধ্যে,
ফ্লাইট ডেকে আগমন এক অ্যাটেনডান্টের।
তিনি বললেন – প্লেনে একজন আছেন যিনি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ইনস্ট্রাকটর আছেন । নাম –ক্যাপ্টেন ডেনিস
ই ফিচ । বয়েস ৪৬ আর ওড়ার অভিজ্ঞতা-২,৯৮৭ ঘন্টা । তিনি সাহায্য করতে চান ।
উনি ডেকে ঢুকতেই -ক্যাপটেন হেইনস্ ফিচকে দায়িত্ব দিলেন ।
ততক্ষণে সিওয়াক্স সিটিকে খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে।
কিছুই
করার নেই কারণ বিমানের গতি কমানো যাচ্ছে না ।
রানওয়ে
পৌঁছতে পারলেও প্রচণ্ড গতিতে চলতে হবে।
ফিচ দুটো এঞ্জিনের পাওয়ারের সামঞ্জস্য করে চেষ্টা
করছেন ।
ক্যাপটেন হেইনসকে
ফিচ বললেন – ঠিকঠাক সব কিছু চললে , নেমে আমরা বিয়ার খাবো ।
সহাস্যে জবাব এল –আমি মদ খাই না, তবে খাওয়া
যেতেই পারে সব কিছু সফল হলে ।
আর মাত্র
১০ মিনিট । ফ্লাইট -২৩২ তখন একটা অসম্ভব ল্যান্ডিংয়ের সম্মুখে ।
এবারে ক্যাপটেন হেইনস সিদ্ধান্ত নিলেন যাত্রীদের
জানানর ।
ভদ্রমহোদয়া
এবং ভদ্রমহোদয়রা, আপনারা বুঝতেই পারছেন আমাদের প্লেন একটা বিপদের মুখে ।
আমরা আর
আটমিনিটের মধ্যে সিওয়াক্স সিটিতে নামব । এটা আপনাদের কাছে সুখপ্রদ হবে না কারণ
আমরা ক্র্যাস লাণ্ডিং করব । তৈরি থাকুন ।
প্লেন তখন মাত্র ৯,০০০ হাজার ফিট ওপরে । হাতে সময় আর
মাত্র কয়েক মিনিট ।
কিন্তু বিমান প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলেছে ।
এবারে পাইলটরা ল্যান্ডিং গিয়ার হাতে করে নামানর
সিদ্ধান্ত নিলেন ।
হাইড্রোলিকস্
ছাড়া ল্যান্ডিং গিয়ার হাতে করে নামানর বিকল্প থাকে ।
ল্যান্ডিং গিয়ার একবার নামলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যা
করার করবে ।
এদিকে ল্যান্ডিং গিয়ার যদি লক না করে তো প্লেন ধ্বংস
হবে । এছাড়া কোনো উপায় নেই ।
গিয়ার নামানর জন্য প্লেনের গতি কমলেও, তখন ৭০ নট প্রতি
ঘন্টায় । স্বাভাবিকের থেকে বেশ বেশী।
এয়ারপোর্ট আর মাত্র ১৬ মাইল । যাত্রীরা ভবিতব্য বুঝে গেছেন ।
আর এক ঘুরপাক নেওয়ান হলো – বিমানকে ।
এদিকে ফ্ল্যাপ কাজ না করার জন্য – এঞ্জিনের পাওয়ার
বাড়ান হল ।
বিমান তখন মিনিটে ১৬০০ ফুট নামছে ।
এত সত্ত্বেও বিমানের গতি কমছে না ।
মাত্র ১০০ ফুট রানওয়ে ।
ভগবান !
পাশের ভুট্টা ক্ষেতে বিমান গড়িয়ে পড়ল , পেট ওপরে করে ।
১১১ জন মারা গেলেও , পাইলটরা বেঁচে গেছিলেন ।
দু নম্বর এঞ্জিনে একটা সূক্ষ্ম টাইটেনিয়াম রডের জন্য
এটা হয়েছিল, যেটা কেউই খেয়াল করে উঠতে পারেন নি-১৭ বছর বয়স হওয়া প্লেনটার ।
#বি_ দ্র :-
আজকাল এসব হওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ এখন প্লেনকে চেক করা হয়, কম্পিউটারে ।
বিদেশি বানানে ভুল হলে দুঃখিত ।
==================
টিকা :- ল্যান্ডিং
গিয়ার, ফ্ল্যাপ এবং ব্রেককে চালানোর জন্য বিমানে হাইড্রোলিকস্ ব্যবহার করা হয়।
হাইড্রোলিকস্
ব্যবহার করার কারণ হল খুব উচ্চ চাপে তরল (এক
রকম বিশেষ তেল) অল্পতে বল প্রেরণ করতে সক্ষম হয়।

No comments:
Post a Comment