Powered By Blogger

Friday, September 1, 2017

সময় ভ্রমণ




কয়েকদিন হলো -পাড়াতে একটা বেশ পুরোনো এবং প্রায় লড়ঝড়ে অ্যাম্বাসেডর গাড়ী দাঁড়িয়ে থাকে, রাস্তার ধার ঘেঁসে ।
সেই কবেকার নাম্বার – ওডিশা বালেশ্বরের । ও আর বি ২৫৭৪ । যিনি মালিক, তিনি ওডিশায় থাকতেন বহুকাল আগে । পাড়ায় ফ্ল্যাট কিনে সদ্য এসেছেন । মিন্টুর চায়ের দোকানে আলাপ হয়েছিল রমিতের সাথে ।
রমিত জিজ্ঞেস করেছিল – আচ্ছা, আপনার তো নতুন গাড়ী আছে, তবে এই লড়ঝড়ে গাড়ীটা কেন রেখেছেন ? কেউ তো কিনবে না । স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দিন ।
উত্তর দিয়েছিলেন :- সেটাই তো ইচ্ছে, তবে একটা কারণে পারছি না । না হলে, ট্রাকে করে এই গাড়ীটা আনি ? বালেশ্বরেরই তো বিক্রি করে দিতে পারতাম ।
কি এমন কারণ ?
একটা অতি পুরোনো ব্যাংকের চেক , গ্লোভ কম্পার্টমেন্টে পড়ে আছে নতুন গাড়ীটা কেনার পর থেকেই । মিস্ট্রিটা সলভ্ করলেই ওটা স্ক্র্যাপ করে বিক্রিই করে দেবো ।
=২=
আড় মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে বেশ আরাম লাগছিল রমিতের । সকালের খবরের কাগজটা নিয়ে বিছানায় বালিশে হেলান দিয়ে খবর গুলোতে চোখ বুলোচ্ছে, এমন সময় জানলা দিয়ে দেখে – আকাশে কালো মেঘ আর বিদ্যুৎয়ের ঝিলিক । একটা প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়লো ।
ভয়ে চোখ বুজে ফেলল রমিত ।

চোখ খুলে দেখে বালেশ্বরের ভাড়া বাড়ীটাতে শুয়ে আছে । সকাল হয়ে গেছে । ফুটফুটে রোদ্দুর । শরীরে কোনো ব্যাথা নেই । বাবা ডাকছেন – কত আর ঘুমোবি, বেলা দশটা বেজে গেলো যে ! চা খাবি ?

রমিতের বাবার এই একটা সখ । সকালে বিকেলে প্রাইমাস ষ্টোভ জ্বালিয়ে নিজের হাতে চা করে স্টিলের ছোট গ্লাসে খান । মুখ ধুয়ে এসে চা খেল রমিত ।

কোলকাতায় প্রকাশিত গতকালের কাগজ বালেশ্বরে আজ আসে । চোখ বুলোনোর জন্য কাগজটা হাতে নিতেই একটা ছাপানো ছোট কাগজ টুক করে খসে পড়লো ।
তাতে ইংরেজি আর ওডিয়া ভাষায় লেখা :- আজ বালেশ্বরে রেমুনা মোড়ের কাছে, অ্যাম্বাসেডর গাড়ীর শো রুম খোলা হচ্ছে । কয়েকটা নতুন গাড়ী আছে । উৎসাহী ক্রেতারা যোগাযোগ করে ১০, ০০০ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে গাড়ী বুক করতে পারেন । আগে এলে, আগে পাবেন এই ভিত্তিতে পাওয়া যাবে ।


স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রমিত, পকেটে চেক বুক নিয়ে । রমিতের আগে, মোটে একজন । কথা বার্তা বলে ১০,০০০ টাকার চেক দিয়ে দিল । গাড়ী এক মাস পরে পাওয়া যাবে ।
শোরুমের মালিক হেসে রমিতের সাথে করমর্দন করলেন । বাড়ীতে ফিরে এসে আর কিছু বলল না । একেবারে গাড়ী এনে চমকে দেবে – মা, বাবা, ভাই বোনদের ।
=৩=
হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল । রমিতের স্ত্রী চা নিয়ে ডাকছেন । জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখল- বিকেল হয়ে গেছে ।

হঠাৎ দেখল – ওই ভদ্রলোক যাচ্ছেন রাস্তা দিয়ে । ডেকে নিলাম ঘরে । উনি আসতেই, রমিত বলল – আপনার সেই চেকটা একটু দেখতে পারি?
ফোন করে আনালেন চেকটা ।


দেখা গেল – ষ্টেট ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়া, বালেশ্বর ব্রাঞ্চের একটা ১০, ০০০ হাজার টাকার চেক । নীচে রমিতের সই

No comments:

Post a Comment