জানি না কতখানি সত্যি, তবে প্রবাদ আছে-বাঙালির নিত্য অসুখ – গ্যাস, অম্বল আর বদহজম ।
তার ওপর বাজারে বা অন্য কোনো জায়গায় জিনিস কিনতে গিয়ে দরদাম
না করলে অসুখ গুলো নাকি আরও বেড়ে যায় ।
সঙ্গে যোগ হয়- মাথা ঘোরা, পা ঝিনঝিন আর হা হুতাশ ।
যদি বা কেনা হল – তবুও আফশোস থেকে যায়, কেন আরও একটু দাম
কমালাম না !
তা যাক্ ! দুটো
বহুশ্রুত চুটকি শোনাই আপনাদের- বাঙালির দরদামের ব্যাপারে । অবশ্যই অনেক কাল আগের
কথা ।
এক ভদ্রলোক, তাঁর
পরিবারের বারো জনকে নিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাবেন- কলকাতা থেকে ব্যাণ্ডেল ।
টিকেট কাউন্টারে যখন টিকেট বাবু বললেন
:-দিন চব্বিশ টাকা! ভদ্রলোক বললেন – কি অনাসৃষ্টি কাণ্ড,
একডজন টিকিট নিলাম একটু কমসম হবে না?
ঘটাং ঘটাং করে টিকিট গুলোতে তারিখ পাঞ্চ করতে করতে বললেন –
আপনার বিয়ে কি রেলের কোন কত্তার সাথে হয়েছে ?
কথা না বলে ভদ্রলোক চব্বিশ টাকা দিয়ে টিকেট গুলো নিলেন ।
ভদ্রলোক ফিরছেন ব্যাণ্ডেল থেকে নিমন্ত্রণ রক্ষা করে ।
এবারে টিকেটের দাম বললেন কাউন্টারের বাবু – ত্রিশ টাকা !
ভদ্রলোক অবাক ! আসার সময় তো চব্বিশ টাকা দিলাম, আর ফেরার
সময় ত্রিশ !
জবাব এল – আরে মশাই, সেটা ছিল দিনের বেলা ! এখন রাত । লাইট
জ্বলবে, তার জন্য উপরি টাকা দেবেন না ?
দরাদরি করে, সেটা কমান গেল-আঠাশ টাকায় ।
ভদ্রলোক গিন্নিকে বললেন – দেখলে তো হাওড়ার লোকটা আমায়
ঠকিয়েছিল !
বাজারেও এই বিপত্তি ।
বাজারে
নারকোল
আছে । কিনতে হবে মরসুমের বাজারে ।
দাম জিজ্ঞেস করাতে,
দোকানদার বলল:- জোড়া চল্লিশ টাকা !
একটু কম হবে না ?
- হবে বাবু, তবে আমার
এখানে নয় ।
- কোথায় ?
- একটু এগিয়ে যান,
জোড়া ৩৫ টাকা । আর একটু এগুলে জোড়া ৩০ টাকা । করে করে, এগিয়ে গেলে দেখবেন, বিনে
পয়সায় প্রচুর নারকোল পাবেন !
দই মিষ্টিও
কেনা দরকার ।
ভাই মিষ্টি দই কত করে ? ক্রেতার ব্যাকুল জিজ্ঞাসা
।
- দুশো
কুড়ি টাকা কিলো ।
- এ:,
কিলিয়ে দিলেন ভাই ! দুশো বিশ করে হবে না ? একটু সস্তা হতো তালে !
- নামী
দোকানে একদাম ! নেবার হলে নিন, না হলে আসুন !
এখন তো অনলাইনে কেনার ধূম । তা সেখানেও নাকি -বং
জাতি দরদাম করে ।
আমার জানা নেই – আপনাদের জানা আছে কি?

No comments:
Post a Comment