কেন যে দেবেনবাবু খোদ মহানায়কের পাশ ফেরা পোজে একটা হাফ বাস্ট , কালার ছবি তুলেছিলেন, সেটা ভেবে আফশোস হয় ।
সন্ধ্যা বলেছিল – মরণ ! তিন কালে গিয়ে এককালে ঠেকেছে, এখন গিয়ে বাবুর উত্তমকুমার হবার শখ জেগেছে ।
বাবার কথাতে সন্ধ্যাকে বিয়ে করে ঠকে নি, দেবেন । একটু মুখরা, তবে প্রাণে মায়া দয়া প্রচুর । অযথা সন্দেহ বাতিক নেই বা কিছু কিনে দেবার জন্য প্যানপ্যানানিও ছিল না সন্ধ্যার ।
ঠিক সময়ে চা, জলখাবার, দুবেলাই জুটতো ।
আর রান্নার হাত তো চমৎকার । যাই রাঁধুক না কেন, মনে হতো অন্নপূর্ণার হাত ।
টানাটানির সংসারে ঐটুকু আয়ে কি করে যে চালাত সন্ধ্যা- সেটা ভেবে আশ্চর্য হত দেবেন ।
এখন নয় ছেলে বড় রোজগেরে হয়েছে । মেয়েটির ভালো বিয়ে হয়ে এখন গড়িয়াহাটে থাকে ।
সবই তো সন্ধ্যার কেরামতি । ছেলেটির বিয়ে হয়েছে । বৌমাও বেশ ভাল। সেও চাকরি করলে কি হবে- সকলের দিকে, সংসারে সমান নজর।
চার বছরের নাতি মিষ্টুল । আর মেয়ের ঘরে ছয় বছরের নাতনি – মিষ্টু ।
দুজনের সাথে দেবেনের খুব ভাব । তার সাথে তারা খেলা করে । কত যে গল্প হয় তাদের সাথে ।
সেদিন সন্ধ্যার কোমোর ব্যাথা করছিল । দেবেন খুব ভালো করে মালিশ করে দিল ।
তারপর ব্যাথাটা অনেক কমেছে সন্ধ্যার । চলতে ফিরতে পারছে এখন ।
ইলিশের দাম শস্তা এখন । সন্ধ্যা রান্না করতে গিয়ে কেঁদে ফেলল ।
কত খেতে ভালবাসতো লোকটা ।
মিষ্টুল জিজ্ঞেস করল – ও দিদা কাঁদছ কেন ?
ছবি দেখিয়ে সন্ধ্যা বলল – তোর ঠাকুর্দ্দা খুব খেতে ভালবাসত তো তাই কাঁদছি ।
মিষ্টুল অবাক হয়ে বলল – একটু আগেই তো খেলে গেল আমার সাথে ।

No comments:
Post a Comment