১৯৫৪ তে মুক্তি পেল – দত্তা সায়েবের “আর-পার । প্রতিশ্রুতি মত ওপিজী সুরকার ।
জমজমাট হিট । কি গানে বা ছবি হিসেবে ! এবারে বোনাস হিসেবে নাইয়ার সায়েব পেলেন, বেশ কিছু টাকা উপরি হিসেবে ।
মেরিন ড্রাইভের হোটেল – এভারগ্রীনে ওপি এবারে গ্যাঁট হয়ে বসলেন ।
এখন তো হোটেলের কামরাতে প্রডিউসারদের লাইন নিশ্চয়ই লাগবে ।
দরজাতে খটখটের অপেক্ষা মাত্র । দিন যায়, সপ্তাহ যায়, করে করে তিন মাস চলে গেল- কারও টিকির দেখা নেই । অবশেষে কামরার দরজায় খটখট্ ।
দরজা খুলে দেখেন – হোটেলের ম্যানেজার । ম্যানেজার বলল – অনেক দিন তো হল, এবারে বাকি ভাড়াটা দিন ! না হলে- আপনাকে জিনিস পত্র সহ বাইরে বের করে দেব ।
ওপি ঘাবড়ে গিয়ে তুতলে বললেন – আর দিন পনের সময় দিন । আমি দিয়ে দেব ।
এই যে টাকা দিতে পারবেন, এটা বলার সাহস কোত্থেকে পেলেন তিনি?
বর্তমানে, একই ছবিতে দু তিনজন সুরকার থাকেন, এবং এটা কোন ব্যাপার নয় ।
সেকালে, কিন্তু এটা হত না । দুটো হাফ ছবি তিনি পান নি যে, তা নয় ।
একটা হল – মোঙ্গু, শেখ মুক্তারের প্রডিউস করা ছবি, মাস্টার মহম্মদ সফি তার সুরকার ।
আর একটা হল – মেহেবুবা । কে অমরনাথ প্রডিউসার । সুরকার – রোশন ।
ওপিজির আত্মসম্মানে লাগছিল – এই হাফ ছবি দুটোর সুরকার হিসেবে কাজ করতে ।
তবে, টাকা বড় বালাই আর হোটেলের ম্যানেজার ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে ।
কাজ দুটো নিয়ে নিলেন । লতাজী তখন রোশনের সুরে গান রেকর্ড করে ফেলেছেন মেহেবুবা ছবির ।
এদিকে রোশনের সাথে কোনোকারণে ঝগড়া হয়ে গেছে কে অমরনাথের।
আর শেখ মুক্তারের পছন্দ হচ্ছিল না, মাস্টার সফির সুর ।
ঠিকঠাক ভাবে বলতে গেলে একদিনে প্রায় পাঁচটা গানে ওপি সুর দিতে পারতেন, কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে কখনই বলেন নি ।
সুর করেই তিনি নোটেশনের জন্য তাঁর সহকারী জি এস কোহলি বা সেবেস্টিয়ান ডি সুজাকে দিতেন । পরের দিকে অবশ্য সেবেস্টিয়ান ডি সুজা ছিলেন না, তবে বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে অনেকেই ছিলেন, যাঁদের নাম ক্রমশ প্রকাশ্য- এই লেখায় ।
জিএস কোহলি কিন্তু নাইয়ার সায়েবের শেষ ছবি পর্যন্ত ছিলেন সহকারী।
এদিকে – তখনকার সুরকারদের সংগঠনের অন্যতম নেতা ছিলেন , অনিল বিশ্বাস আর নৌশাদ ।
তাঁরা এসে ওপিজীকে বললেন – এটা ঠিক হচ্ছে না নাইয়ারজী । রোশন সায়েব আর মাস্টার সফি কিন্তু বড় সুরকার । তাঁদের একটা মান সম্মান আছে আর আপনি এঁদের দু দুটো সিনেমার কো মিউজিক ডিরেক্টার হচ্ছেন !
জানি, জানি – তবে কোন উপায় নেই !
কেন?
বরfবরের স্পষ্ট বক্তা – নাইয়ার সায়েব উত্তর দিলেন :-
ম্যানেজার আমাকে বের করে দেবে বলেছে ভাড়া না দিলে । আপনারা ভাড়াটা দিয়ে দিন, আমি আর মিউজিক করবো না ।
কে এখন ভাড়া মেটাবে টাকা দিয়ে !
অনিল বিশ্বাস আর নৌশাদ সায়েব গজগজ করতে করতে চলে গেলেন ।
মঙ্গু সিনেমাতে আশা ভোঁসলে ভালো ভাবে গাইতে সুযোগ পেলেন ।
গীতা দত্ত্ তো ছিলেনই । তাঁকে ছাড়া তো ওপি সুর করবেনই না ।
গীতাজীকে ব্ল্যাক বিউটি বলে ডাকতেন ওপি ।
এতো গেল ১৯৫৪ র কথা ।
৫৫ তে পেলেন – বাপরে বাপ আর মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ । বাম্পার হিট ।
১৯৫৬ তে সেই যুগান্তকারি ছবি – সিআইডি ।
হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন, সুরে এবং গানে ।
এতদিন ওপি জী একটা ট্যাক্সি করে সারা বোম্বে ঘুরে বিভিন্ন স্টুডিওতে যেতেন । দিনভর ভাড়া উঠত – প্রায় একশ টাকা, এখনকার দিনে প্রায় হাজার বারোর সমান ।
এমন নয় যে তিনি ঘুরেই বেড়াতেন । একটা স্টুডিও তে গিয়ে হয়তো ঘন্টা পাঁচেক থাকতেন । ট্যাক্সিও দাঁড়িয়ে থাকত ।
বন্ধুরা বলল – এবার একটা গাড়ি কিনে ফেল রে ।
তিনিও ওপি নাইয়ার । সৌখীন । কিনে ফেললেন – ইম্পালা ।
দিন দুয়েক পর গাড়ী নিয়ে গেলেন –শিবপুরীতে । এতদিনে মা বাবা চলে এসেছেন শিবপুরীতে । ওপি জানতেন সেটা ।
বাবাকে বলে এসেছিলেন পাটিয়ালা ছাড়ার আগে- যদি কিছু হতে পারি, তবেই আমার মুখ দেখাবো, নয়তো নয় ।
মা বাবা দেখে তো থ । আরে ! সবাইকে বলি জানিস ?
কি?
এই অমকার প্রসাদ নাইয়ার আমার ছেলে, কেউ বিশ্বাস করে না ।
তা যাও আমার গাড়ী নিয়ে, বন্ধুদের বলে এসো ।
বাবা বললেন – জনা দশবারোকে । এলেন প্রায় তিনশর ওপর ।
সবাইকে বলতে হয়ে গেলেন – তিনিই সেই অমকার প্রসাদ ।
শিবপুরী ছাড়ার আগে বাবা মহেন্দ্র প্রসাদ নাইয়ারকে বলেছিলেন :- You kidnapped my personality in my childhood and I polished my personality staying far from you.
হ্যাঁ ! ইংরেজিতেই বলেছিলেন ।
========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,
ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ।

No comments:
Post a Comment