ওপিজী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন ।
এদিকে শশধর মুখার্জির ফ্লিমস্তান থেকে নতুন ছবি হবে – তুমসা নেহি দেখা ।
নাসির হুসেনের গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ।
কাস্টিং – শাম্মি কাপুর আর অমিতা ।
এবারে সুরকার চাই । নাসির হুসেন বললেন একজন নতুন সুরকার এসেছেন হিন্দি ফিল্মের জগতে ওপি নাইয়ার । তাকে সুরকার হিসেবে নিলে ভালো হয় ।
শশধর মুখার্জী বললেন – ডাকো ওকে ।
মুখার্জি বাবুর মনেই নেই – এই সেই ওপি নাইয়ার, যাকে তিনি বলেছিলেন, তোমার জীবনে সুরকার হওয়া হবে না ।
এমন কি ওপি নাইয়ার সামনে আসাতেও চিনতে পারলেন না ।
ওপি বললেন – স্যার আমিই সেই লোক, যাকে আপনি বলেছিলেন , তোমার কোনোদিন সুরকার হওয়া হবে না । সেই আপনিই কিন্তু আমাকে ডেকে এনেছেন ।
মুখার্জিবাবুর মনে পড়ল ! আরে তাইতো ! তবে এরকম ভবিষ্যৎ বাণী তো হামেশা ফেল করে না, তবে তোমার ক্ষেত্রে খাটে নি দেখে আমি খুশী । বলো কত নেবে তুমি সুর করতে ?
স্যার, এক লাখ টাকা । এর কমে আমি সুর করি না ।
চলো – ঠিক আছে । টিউন কিন্তু হিট হওয়া চাই ।
হবে স্যার- নিশ্চিন্ত থাকুন ।
তারপর যা হল- সেটা ইতিহাস ।
এখানে একটা কথা বলা দরকার । যে “হর্স বিট” ব্যবহার করা হয়েছিল, ছবির মূল গানটিতে,( তুমসা নেহি দেখা) সেটা কিন্তু পঙ্কজ মল্লিকই প্রথম ব্যবহার করেছিলেন- ডক্টর ছবিতে (১৯৪১) ।
গানটি ছিল - চলে পবন কি চাল, পঙ্কজ মল্লিকের নিজের গলাতে ।
প্রথমে নৌশাদ, পরে ওপি ব্যবহার করেন এই “হর্স বিট” ।
ওপি বেশী ব্যবহার করাতে এই “হর্স বিট” – ওনার সিগনেচার হয়ে যায় ঠিকই তবে ওপি এটা নিজের মুখে বলেছিলেন গুরু হিসেবে মানা পঙ্কজ মল্লিকের ব্যাপারে ।
একটু আশকথা পাশকথাতে যাই এখন ।
ওপির আগে এস্রাজকে কেউ ফ্লিম মিউজিকে আনেন নি ।
এমনকি দুটো পাথর বা কাঠ ঠুকে, খালি গলায় গান গেয়ে পয়সা চান যে সব বিভিন্ন পথ গায়করা , সেটাও ফ্লিম মিউজিকে ওপির অবদান ।
প্রেমের গানে যে বাইজী বাড়ীর রাগপ্রধান গানে ব্যবহার করা এস্রাজ ব্যবহার করা যায়, সেটা ওপি হাতে নাতে করে দেখিয়েছিলেন – কাশ্মীর কি কলি ছবিতে, দিবানা হুয়া বাদল গানে ।
পণ্ডিত রামনারাইনের এস্রাজ, ওস্তাদ রইস খানের সেতার আর আলবুকার্কের বাজান- চেলোতেই গানটি সুপার ডুপার হিট ।
মাত্র তিনটে বাদ্যযন্ত্রেই কামাল করেছিলেন – বাদ্যযন্ত্রীদের সহায়তায় ।
পঙ্কজ মল্লিক বা রাইচাঁদ বড়ালকে তিনি গুরু মানতেন, সেটা আগেই লিখেছি ।
ওপি যে চারজন রেকর্ডিস্টের সাথে কাজ করেছেন – তাদের মধ্যে তিনজনই বাঙালি ।
মুকুল বোস, রবীন চ্যাটার্জি, আর ঈশান ঘোষ । অপর রেকর্ডিস্ট হলেন – মিনু কর্ত্রাক।
এরা রেকর্ডিং করতে সাহায্য না করলে – ওপি নিজে এত জীবন্ত মিউজিক করতে পারতেন না বলে, বারবার স্বীকার করেছেন।
ইয়ে চাঁদসা রোশন চেহেরা গানেতে ওই কাঠের টুকরো বাজিয়েছিলেন – সহকারি, জি এস কোহলি ।
জি এস কোহলি অবশ্য ঢোলকও বাজাতেন ।
ফাগুন ছবিতে পাঁচটা গানে রাগের ব্যবহার শুনে বিখ্যাত গায়ক আমীর খাঁ বলেছিলেন – ওপি, তুমি যে বলো, গান কোনোদিন শেখো নি – এটা তো মিথ্যে কথা ।
আমি যা বলি ঠিক বলি । হারমোনিয়াম নিজে বাজানো শেখা ছাড়া আর কিছু শিখি নি।
বাজে কথা ছাড়তো । পিলু রাগের ওপর এই সব গান এক কথায় অপূর্ব ।
ওপি তো হাঁ ।
পরে অবশ্য অনেক গানে তিনি বিভিন্ন রাগের ব্যবহার করেছেন । তবে সেটা শিখে না ওস্তাদ রইস খানের সহযোগিতায়- সেটা আর জানা যায় নি ।
পিলু রাগের ওপর ভিত্তি করে তিনি কিন্তু আপাত চটুল গান তৈরি করেছিলেন, যেমন:-
কভি আর কভি পার ( আর পার ১৯৫৪)
লেকে পহেলা পহেলা প্যার( সি আইডি ১৯৫৬)
তবে, ফাগুনের এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া, এই গানটি ময়মনসিংহ গীতি থেকে নেওয়া এটা ওপি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, যদিও গানটি পিলু রাগের ওপর তৈরি ।
========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,
ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি।

No comments:
Post a Comment