Powered By Blogger

Sunday, September 3, 2017

তপতী



উল্টোডাঙা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখেই কেমন চেনা চেনা লেগেছিল ।
বাস এসে যাওয়ায় - উঠে পড়েছিল তপতী । লেডিস সিটে বসে রুমালটা বের করে মুখের ঘামটা মুছে নিলো ও ।

কয়দিন হলো গাড়ীটা বিগড়েছে । দুদিন লাগবে সারাতে । পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া উপায় নেই ।

সিডনি থেকে এসেই গাড়ীটা কিনেছিল, অফিসে যাতায়াতের জন্য । মা- বাবা থাকলে অবশ্য কিনতে পারতো না । দুজনেরই ভয় ছিলো তপতী গাড়ী চালাতে গেলে বিপদ ঘটাবে ।
কি যে হলো দুজনেই ছমাসের মধ্যে ছেড়ে চলে গেল তপতীকে । প্রথমে বাবা, হার্ট অ্যাটাকে, তারপর মা সেই শোক সহ্য করতে না পেরে ।

কোলকাতায় তড়িঘড়ি এসেও কিছু করতে পারে নি তপতী ।

মোটামুটি অফিস পাড়া সে
ন্ট্রাল সিডনিতে হলেও- তপতীর আইটি অফিস টা ছিল ম্যাকোয়ারী তে একটা তিনতলা বিল্ডিংয়ের দোতলায়-। ভারতীয় বাঙালি মেয়ে হিসেবে এপিংয়ের একটা পরিবারে হোম ষ্টে করতো সে । গাড়ির দরকারই পড়তো না ।

যাতায়াত টা মেট্রোতেই করতো । বেশ আরামের যাত্রা । বাবার খবর পেয়ে চলে আসাতে মা আর যেতে দেয় নি অষ্ট্রেলিয়ায় ।
------
অয়ন

+++++

মেয়েটাকে দেখেই চিনেছিল অয়ন । ও তো তপতী । একটু মোটা হয়েছে বটে তবে লাবণ্যটা বেড়েছে । ফর্সাও হয়েছে বেশ । তা কত হবে ওর বয়েস ? অয়নের থেকে তো দু বছরের ছোটো ।

অয়নের এখন ৩২ চলছে । কিন্তু মাথায় তো সিঁদুর দেখতে পেলো না ! তারপরে ভাবলো এটা বোগাস । একটা মধ্যযুগীয় সংস্কার । বিয়ে হলেই মাথায় সিঁদুর পরতে হবে, এমন দিব্বি কে দিয়েছে ? তার বুক কি চিনচিন করছে? আবার সেই নির্বান্ধব ফ্ল্যাটে । নাঃ ! আজ গ্লেনফিডিচের গোটা ছয় পেগ খেতেই হবে ।

====

তপতী

টেকনোপলিস বিল্ডিংটার সামনে রং দে বসন্তী রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করতে গিয়ে আবার দেখলো ছেলেটাকে । এবারে একবারেই চিনলো ।
=========
অয়ন আর তপতী

------------

তপতীই এগিয়ে গেল ।

কি রে অয়ন, কেমন আছিস?

আরে তপতী ! যাক বাবা, চিনেছিস তালে ।

না চেনার কি আছে ? খালি তোর মধ্যপ্রদেশটা বেড়েছে । খুব টাঙ্কু চলছে বুঝি?

হে হে তা চলছে ।

বৌ বাচ্চার খবর কি ?

বৌ ? সে তো এখনও মরীচিকা !

সেকি রে ! এখনও বিয়ে করিস নি ?

সময় পেলাম কোথায়, তোর কাছে দাগা খেয়ে ! যাক সে কথা, তোর খবর কি বল্?

আমিও বিয়ে করি নি মানে ফুরসত পাই নি । মা আর বাবা চলে গেল কিনা ছ মাসের মধ্যে !

মনে মনে কি আনন্দ পেলো অয়ন ? না, তপতীর বিয়ে না হওয়ার জন্য নয় । ওর মা বাবাই তো ফ্যাচাংটা তুলেছিলো অয়ন ব্রাহ্মণ নয় বলে ।

কিরে? চুপ কেন ? কি ভাবছিস?

তোর কথা !

সারা জীবন ভাববি ? আমার
কথা কি তোর ভাবার মধ্যে নেই ?
-----

উলুবেড়িয়ায় ছাপা নিমন্ত্রণ পত্র :-

সুধী...........

...........
ভবদীয়

জীবন সাহা


No comments:

Post a Comment