উল্টোডাঙা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখেই কেমন চেনা চেনা লেগেছিল ।
বাস এসে যাওয়ায় - উঠে পড়েছিল তপতী । লেডিস সিটে বসে রুমালটা বের করে মুখের ঘামটা মুছে নিলো ও ।
কয়দিন হলো গাড়ীটা বিগড়েছে । দুদিন লাগবে সারাতে । পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া উপায় নেই ।
সিডনি থেকে এসেই গাড়ীটা কিনেছিল, অফিসে যাতায়াতের জন্য । মা- বাবা থাকলে অবশ্য কিনতে পারতো না । দুজনেরই ভয় ছিলো – তপতী গাড়ী চালাতে গেলে বিপদ ঘটাবে ।
কি যে হলো – দুজনেই ছমাসের মধ্যে ছেড়ে চলে গেল তপতীকে । প্রথমে বাবা, হার্ট অ্যাটাকে, তারপর মা সেই শোক সহ্য করতে না পেরে ।
কোলকাতায় তড়িঘড়ি এসেও কিছু করতে পারে নি তপতী ।
মোটামুটি অফিস পাড়া সেন্ট্রাল সিডনিতে হলেও- তপতীর আইটি অফিস টা ছিল ম্যাকোয়ারী তে একটা তিনতলা বিল্ডিংয়ের দোতলায়-। ভারতীয় বাঙালি মেয়ে হিসেবে এপিংয়ের একটা পরিবারে হোম ষ্টে করতো সে । গাড়ির দরকারই পড়তো না ।
যাতায়াত টা মেট্রোতেই করতো । বেশ আরামের যাত্রা । বাবার খবর পেয়ে চলে আসাতে মা আর যেতে দেয় নি অষ্ট্রেলিয়ায় ।
------
অয়ন
+++++
মেয়েটাকে দেখেই চিনেছিল অয়ন । ও তো তপতী । একটু মোটা হয়েছে বটে তবে লাবণ্যটা বেড়েছে । ফর্সাও হয়েছে বেশ । তা কত হবে ওর বয়েস ? অয়নের থেকে তো দু বছরের ছোটো ।
অয়নের এখন ৩২ চলছে । কিন্তু মাথায় তো সিঁদুর দেখতে পেলো না ! তারপরে ভাবলো – এটা বোগাস । একটা মধ্যযুগীয় সংস্কার । বিয়ে হলেই মাথায় সিঁদুর পরতে হবে, এমন দিব্বি কে দিয়েছে ? তার বুক কি চিনচিন করছে? আবার সেই নির্বান্ধব ফ্ল্যাটে । নাঃ ! আজ গ্লেনফিডিচের গোটা ছয় পেগ খেতেই হবে ।
====
তপতী
টেকনোপলিস বিল্ডিংটার সামনে রং দে বসন্তী রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করতে গিয়ে আবার দেখলো ছেলেটাকে । এবারে একবারেই চিনলো ।
=========
অয়ন আর তপতী
------------
তপতীই এগিয়ে গেল ।
কি রে অয়ন, কেমন আছিস?
আরে তপতী ! যাক বাবা, চিনেছিস তালে ।
না চেনার কি আছে ? খালি তোর মধ্যপ্রদেশটা বেড়েছে । খুব টাঙ্কু চলছে বুঝি?
হে হে – তা চলছে ।
বৌ – বাচ্চার খবর কি ?
বৌ ? সে তো এখনও মরীচিকা !
সেকি রে ! এখনও বিয়ে করিস নি ?
সময় পেলাম কোথায়, তোর কাছে দাগা খেয়ে ! যাক সে কথা, তোর খবর কি বল্?
আমিও বিয়ে করি নি – মানে ফুরসত পাই নি । মা আর বাবা চলে গেল কিনা ছ মাসের মধ্যে !
মনে মনে কি আনন্দ পেলো – অয়ন ? না, তপতীর বিয়ে না হওয়ার জন্য নয় । ওর মা বাবাই তো ফ্যাচাংটা তুলেছিলো – অয়ন ব্রাহ্মণ নয় বলে ।
কিরে? চুপ কেন ? কি ভাবছিস?
তোর কথা !
সারা জীবন ভাববি ? আমার কথা কি তোর ভাবার মধ্যে নেই ?
-----
উলুবেড়িয়ায় ছাপা নিমন্ত্রণ পত্র :-
সুধী...........
...........
ভবদীয়
জীবন সাহা

No comments:
Post a Comment