Powered By Blogger

Sunday, August 13, 2017

রান্না – বান্না





এটা ঠিক – রান্নার কোনো জাত বা নির্দ্দিষ্ট প্রণালী নেই ।
মুখতব্য বা মুখরোচক হতে হবে – এটাই পূর্বশর্ত ।
তবে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে একটা “নিয়ম” তৈরি হওয়াতে –  সেটা সাধারণতঃ মেনে চলা হয় ।
বাঙালি রান্নার ঐতিহ্য যখন সরষের তেলে মধ্যে জনপ্রিয়, সেরকম দক্ষিণ ভারতে হয় নারকেল তেল বা তিলের তেলেই রান্না হয় ।
অবশ্য কেরালাতে আজকাল সাদা তেল ব্যবহার করা হচ্ছে । কিন্তু আন্ধ্রা আবার তিলের তেলেই আটকে ।

মাখন আবার পঞ্জাবে ব্যবহার করা হয়, ঘি – সমগ্র মধ্য বা উত্তর প্রদেশ জুড়ে ।
বাংলাদেশে – বেশ কয়েকবছর হলো পাম তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, সরষের তেলের বদলে । কারণটা জানা নেই ।
ব্যক্তিগত ভাবে বলি – অভ্যাসের কারণে কিনা জানি না – সরষের তেলে রান্না ছাড়া ঠিক মুখে রোচে না আমার ।
ডাল হলে – অবরে সবরে মাখন দিয়ে বাগাড় বা সম্ভার দেয়া হয় বটে, খেতেও চমৎকার লাগে, তবে মধ্যবিত্ত হবার কারণে সেটা রোজ সম্ভব নয়, আমার পক্ষে ।
খেতে দুর্দান্ত হয়- সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।
দুঃসাহস করে, এক আধবার বড় মাখনের প্যাকেট কিনে লুচি ভেজে খেয়েছি বটে ।
একটু দাঁড়ান – জিভের জলটা আটকিয়ে নেই ।
অহো – কি দুর্দান্ত স্বাদ সেই লুচির । শুধু চিনি দিয়েই গোটা কুড়ি খেয়ে নেওয়া, কোনো ব্যাপার নয় ।
আমার বাড়ীতে ডালটা মাষ্ট । দু বেলা হবেই হবে । না থাকলে মনে হয় কি যেন খেলাম না । বিধু ভটের ভাষায়, নিজেকে কেমন যেন উলঙ্গ মনে হয় ।

আমার বাবা মূলত নিরামিশাষী ছিলেন , তাই অড়হঢ় ডাল হিং দিয়ে খেতেন, আমার সেই অভ্যেসটা আছে ।

মামার বাড়ী থেকে বড় হওয়ার কারণে মুশুরের ডাল খেতেও ভালবাসি । এই দুটো ডাল হবেই আমার বাড়ীতে ।
আমি তো মশুরের ডাল দিয়েই সব ভাত খেয়ে নিতে পারি, অন্য কোনো পদের দরকার হয় না । তবে আচার আমার খুবই প্রিয় । বিশেষ করে টক আচার ।
মশুরের ডাল, টক আচার আর ভাত একদম বাপী বাড়ী যা কেস ।

সকালে হাতে গড়া রুটি , আলুর তরকারি, চিঁড়ে দই আর ছুটির দিনে তেলেভাজা লুচি বা পরোটা ।
পারলাখেমুণ্ডিতে (আন্ধ্রা – ওডিশার সীমান্তে) বাবার চাকরি সূত্রে থাকায় সাম্বারটা আমার খুবই পছন্দের ।
কেন জানি না, খাস কোচবিহার নিবাসী আমার উনিও খুব খেতে ভালোবাসেন সাম্বার ।
তাই মাসের বাজারে সাম্বার পাউডার নিশ্চিত ভাবেই আসে আমাদের বাড়ীতে ।

আমি ইলিশ আর চিংড়ি ছাড়া সে ভাবে মাছ খেতাম না, কিন্তু আর আর্থিক কারণেই আর খাওয়া হয় না । যা দাম ! কিনতে গেলেই গা কসকস করে, তাছাড়া অন্য আর কিছু কিনতে পারবো না ।

তাই কাটাপোনা, কাতলা, মৌরালা, কাঁচকি, চারাপোনা,তেলাপিয়া খাই এবং ভালোই খাই । তবে এর মধ্যে কাটা পোনা আমার না পসন্দের তালিকায় পড়ে ।
ডিম পেলে তো কথাই নাই তবে, হাঁসের ডিম আমার এবং পরিবারের হট ফেভারিট ।
দুটো ডিম কোনো দিনও খাই না, খেলেও কালে ভদ্রে ।
সজনে ডাঁটা সকলের প্রিয় আমাদের বাড়ীতে । গোলমরিচ আর আলু দিয়ে ঝোল করলে মনটা কেমন যেন পাগল পাগল লাগে আর গিন্নিকে আবার ভাত বসাতে হয় ।
কাঁচা পোস্ত বাটা আমার খুব প্রিয় আর মুগের ডালে ফুলকপি, কড়াইশুটি বা খিচুড়িতে ।
গরমকালে টক দই খাই । আগে বাড়ীতে জমানো হতো, এখন আর হয় না হ্যাপা বলে । তাই আমুলের দই এবং ফাষ্টো কেলাস ।

টক আচার, দই আর ভাত মিশিয়ে আমার খেতে যা লাগে না আহা । এ ব্যাপারে আমি দক্ষিণ ভারত পন্থী ।

নিমপাতা খাই না । তবে আমার গৃহিণী এবং বৌমা নিম বেগুন বলতে পাগল ।
এবারে আসি আমাদের প্রাত্যহিক মেনুতে ।

দুপুরে :- ভাত, ডাল, আচার, একটা তরকারি, মাছ বা ডিম ( সপ্তাহে চারদিন) আর মুরগীর মাংস ( সপ্তাহে একদিন) আর দই ।

রাতে :- ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা, আলুর ঝাল ঝাল দম( বৌমা আবার এদেশীয়, তাই আলুর দমে আরামসে চিনি ঢেলে খায় এটা)  আর আচার । সাধারণত রাতে আমিষ হয় না আমাদের বাড়ীতে ।
খাদ্যশাস্ত্রের কয়েকটা ব্যাকরণ মেনে চলার চেষ্টা করি ।
যেমন, রাতে দই খাই না ।
সংস্কৃত শাস্ত্রে আছে – ন নক্তৌ দধি ভুঞ্জিত । মানে রাতের বেলা দই খাবে না । কারণ – এতে নাকি শ্লেষ্মা বৃদ্ধি পায় ।
তবে বিখ্যাক গায়ক হেমন্তকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে বাড়িতে রাতে দই খেতে দেখেছি ।
অন্যরা জিজ্ঞেস করাতে বলেছিলেন – জীবন একটাই । অমৃতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে চাই না ।
মাংস খাওয়ার পরে – পায়েস, দই খেতে নেই । তাতে নাকি হৃদযন্ত্রকে সমস্যায় ফেলতে পারে ।
অবশ্য মাংস খাবার পরে যে স্বাদটা জিভে লেগে থাকে, সেটা দই পায়েস খেয়ে নষ্ট করার কোনো মানে হয় না বলে আমার মতামত ।
ইলিশ হলে আর মাংস বা ডাল খাবার দরকার নেই বলে বজুর্গরা বলে গেছেন ।
ঝাল, ঝোল, অম্বলে ইলিশ মাছ একাই কাফি । ইলিশ যদি নায়ক হয় বাকিরা সব ফর্সা । ভিলেন হবার কারুর সুযোগ নেই ।

যে সুগন্ধ হাতে লেগে থাকে, তাতে হাত ধুতেও কষ্ট হয় ।
চিংড়ি হলেও তাই । পান্তাভাতের সঙ্গে চিংড়ির মানে কুচো চিংড়ির বড়া খেয়ে দেখুন – দিল্ একেবারে তররর্ ।
বাগদা দিয়ে আলু-ফুলকপির ঝোল এক থালা ভাত খাওয়া কোনো ব্যাপারই নয়।
পোস্তবাটা, নারকোল, সাদা  সর্ষেবাটা দিয়ে গলদাচিংড়ি ! উফ্
লাও লাও – লাও তো বটে, কিন্তু আনে কে ?
পহা কোত্থেকে আসবে মহাই ?






No comments:

Post a Comment