Powered By Blogger

Tuesday, September 5, 2017

ছবির ফ্রেম

কেন যে দেবেনবাবু খোদ মহানায়কের পাশ ফেরা পোজে একটা হাফ বাস্ট , কালার ছবি তুলেছিলেন, সেটা ভেবে আফশোস হয় ।
সন্ধ্যা বলেছিল – মরণ ! তিন কালে গিয়ে এককালে ঠেকেছে, এখন গিয়ে বাবুর উত্তমকুমার হবার শখ জেগেছে ।

বাবার কথাতে সন্ধ্যাকে বিয়ে করে ঠকে নি, দেবেন । একটু মুখরা, তবে প্রাণে মায়া দয়া প্রচুর । অযথা সন্দেহ বাতিক নেই বা কিছু কিনে দেবার জন্য প্যানপ্যানানিও ছিল না সন্ধ্যার ।

ঠিক সময়ে চা, জলখাবার, দুবেলাই জুটতো ।

আর রান্নার হাত তো চমৎকার । যাই রাঁধুক না কেন, মনে হতো অন্নপূর্ণার হাত ।

টানাটানির সংসারে ঐটুকু আয়ে কি করে যে চালাত সন্ধ্যা- সেটা ভেবে আশ্চর্য হত দেবেন ।

এখন নয় ছেলে বড় রোজগেরে হয়েছে । মেয়েটির ভালো বিয়ে হয়ে এখন গড়িয়াহাটে থাকে ।

সবই তো সন্ধ্যার কেরামতি । ছেলেটির বিয়ে হয়েছে । বৌমাও বেশ ভাল। সেও চাকরি করলে কি হবে- সকলের দিকে, সংসারে সমান নজর।

চার বছরের নাতি মিষ্টুল । আর মেয়ের ঘরে ছয় বছরের নাতনি – মিষ্টু ।
দুজনের সাথে দেবেনের খুব ভাব । তার সাথে তারা খেলা করে । কত যে গল্প হয় তাদের সাথে ।

সেদিন সন্ধ্যার কোমোর ব্যাথা করছিল । দেবেন খুব ভালো করে মালিশ করে দিল ।

তারপর ব্যাথাটা অনেক কমেছে সন্ধ্যার । চলতে ফিরতে পারছে এখন ।
ইলিশের দাম শস্তা এখন । সন্ধ্যা রান্না করতে গিয়ে কেঁদে ফেলল ।

কত খেতে ভালবাসতো লোকটা ।
মিষ্টুল জিজ্ঞেস করল – ও দিদা কাঁদছ কেন ?

ছবি দেখিয়ে সন্ধ্যা বলল – তোর ঠাকুর্দ্দা খুব খেতে ভালবাসত তো তাই কাঁদছি ।

মিষ্টুল অবাক হয়ে বলল – একটু আগেই তো খেলে গেল আমার সাথে ।

Sunday, September 3, 2017

তপতী



উল্টোডাঙা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখেই কেমন চেনা চেনা লেগেছিল ।
বাস এসে যাওয়ায় - উঠে পড়েছিল তপতী । লেডিস সিটে বসে রুমালটা বের করে মুখের ঘামটা মুছে নিলো ও ।

কয়দিন হলো গাড়ীটা বিগড়েছে । দুদিন লাগবে সারাতে । পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া উপায় নেই ।

সিডনি থেকে এসেই গাড়ীটা কিনেছিল, অফিসে যাতায়াতের জন্য । মা- বাবা থাকলে অবশ্য কিনতে পারতো না । দুজনেরই ভয় ছিলো তপতী গাড়ী চালাতে গেলে বিপদ ঘটাবে ।
কি যে হলো দুজনেই ছমাসের মধ্যে ছেড়ে চলে গেল তপতীকে । প্রথমে বাবা, হার্ট অ্যাটাকে, তারপর মা সেই শোক সহ্য করতে না পেরে ।

কোলকাতায় তড়িঘড়ি এসেও কিছু করতে পারে নি তপতী ।

মোটামুটি অফিস পাড়া সে
ন্ট্রাল সিডনিতে হলেও- তপতীর আইটি অফিস টা ছিল ম্যাকোয়ারী তে একটা তিনতলা বিল্ডিংয়ের দোতলায়-। ভারতীয় বাঙালি মেয়ে হিসেবে এপিংয়ের একটা পরিবারে হোম ষ্টে করতো সে । গাড়ির দরকারই পড়তো না ।

যাতায়াত টা মেট্রোতেই করতো । বেশ আরামের যাত্রা । বাবার খবর পেয়ে চলে আসাতে মা আর যেতে দেয় নি অষ্ট্রেলিয়ায় ।
------
অয়ন

+++++

মেয়েটাকে দেখেই চিনেছিল অয়ন । ও তো তপতী । একটু মোটা হয়েছে বটে তবে লাবণ্যটা বেড়েছে । ফর্সাও হয়েছে বেশ । তা কত হবে ওর বয়েস ? অয়নের থেকে তো দু বছরের ছোটো ।

অয়নের এখন ৩২ চলছে । কিন্তু মাথায় তো সিঁদুর দেখতে পেলো না ! তারপরে ভাবলো এটা বোগাস । একটা মধ্যযুগীয় সংস্কার । বিয়ে হলেই মাথায় সিঁদুর পরতে হবে, এমন দিব্বি কে দিয়েছে ? তার বুক কি চিনচিন করছে? আবার সেই নির্বান্ধব ফ্ল্যাটে । নাঃ ! আজ গ্লেনফিডিচের গোটা ছয় পেগ খেতেই হবে ।

====

তপতী

টেকনোপলিস বিল্ডিংটার সামনে রং দে বসন্তী রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করতে গিয়ে আবার দেখলো ছেলেটাকে । এবারে একবারেই চিনলো ।
=========
অয়ন আর তপতী

------------

তপতীই এগিয়ে গেল ।

কি রে অয়ন, কেমন আছিস?

আরে তপতী ! যাক বাবা, চিনেছিস তালে ।

না চেনার কি আছে ? খালি তোর মধ্যপ্রদেশটা বেড়েছে । খুব টাঙ্কু চলছে বুঝি?

হে হে তা চলছে ।

বৌ বাচ্চার খবর কি ?

বৌ ? সে তো এখনও মরীচিকা !

সেকি রে ! এখনও বিয়ে করিস নি ?

সময় পেলাম কোথায়, তোর কাছে দাগা খেয়ে ! যাক সে কথা, তোর খবর কি বল্?

আমিও বিয়ে করি নি মানে ফুরসত পাই নি । মা আর বাবা চলে গেল কিনা ছ মাসের মধ্যে !

মনে মনে কি আনন্দ পেলো অয়ন ? না, তপতীর বিয়ে না হওয়ার জন্য নয় । ওর মা বাবাই তো ফ্যাচাংটা তুলেছিলো অয়ন ব্রাহ্মণ নয় বলে ।

কিরে? চুপ কেন ? কি ভাবছিস?

তোর কথা !

সারা জীবন ভাববি ? আমার
কথা কি তোর ভাবার মধ্যে নেই ?
-----

উলুবেড়িয়ায় ছাপা নিমন্ত্রণ পত্র :-

সুধী...........

...........
ভবদীয়

জীবন সাহা


Friday, September 1, 2017

সময় ভ্রমণ -২



অর্পণের আজকাল বাড়ী থেকে বেরুনো হয় না । নানা শরীরঘটিত সমস্যা । তার ওপর একটা নতুন উপসর্গ এসে জুটেছে । দুপুরে খাবার পর পরই ওর ভীষণ “পটি” পায় । আবার কমোড ছাড়া পটিতে বসতেও পারে না, হাঁটুর ব্যাথার জন্য ।

তাই পুরোনো সহকর্মী সোমনাথের নাতনীর জন্মদিনের লাঞ্চে যাবে না ভেবেছিল অর্পণ ।

যারা সোমনাথের তরফে নিমন্ত্রিত, প্রায় সবাই এখন বৃদ্ধ – তাই দুপুরেই খাবার আয়োজনটা ছিল যাতে রাত্রে যাতায়াতের অসুবিধে না হয় ।

সোমনাথ এটাও বলেছিল – আসল ব্যাপারটা তো রাতে, ছেলের বন্ধুবান্ধরা আসবে তখন । দুপুরে হলে জমিয়ে চিল্ড বিয়ারটাও খাওয়া যাবে ।

এই লোভটাও উপেক্ষা করেছিল অর্পণ । সকলের সামনে, তোদের টয়লেটটা কোথায়, এটা বলাও লজ্জার ।

কিন্তু, সোমনাথ ভোলবার নয় । গাড়ী নিয়ে এসে জোর করে তুলে নিয়ে গেল অর্পণকে ।

যেতে যেতে বলল – তুই দেখি আজকাল কেমন যেন হয়ে গেছিস ! কেন রে ?

অর্পণের আর উত্তর দিতে ভালো লাগে না । এটা সেটা বলতে বলতে চলে এলো সোমনাথের বাড়ী ।

অলক, অণির্বাণ, শ্যামলরা হৈ হৈ করে উঠলো অর্পণকে দেখে ।
অলক, তার সেই আগের কায়দায় পাঁচটা সিগারেট একসঙ্গে নিজের দু ঠোঁটে ধরিয়ে প্রত্যেকের মুখে গুঁজে দিল ।

শ্যামল নিয়ে এলো ঠাণ্ডা বিয়ার ভর্তি কাঁচের বড় মাগ । সব মিলিয়ে নরক একেবারে গুলজার ।

অর্পণের একটু ধুনকিও এসেছে দু মাগ সাঁটিয়ে । বেশ কয়েকটা চিকেন পকোড়া খেয়ে পেটটা ভার । লাঞ্চটা খেতে পারবে কিনা সন্দেহ ।
সোমনাথ ধাক্কা দিয়ে বললো :- কি রে ঢুলছিস যে বড়ো ? তোর সেই বালেশ্বরের এক্সপিরিয়েন্সটা বল আবার । সবাই তো জানে না এখানে ।

তালে এখন কিন্তু লাঞ্চ খাবো না । পেট ভারি হয়ে আছে ।

আরে ধ্যুস্ । সবারই তাই । পরে খাওয়া যাবে – নে নে,শুরু কর্ তো !

এটা প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর আগের ঘটনা । - অর্পণ শুরু করলো ।
তখন একটা ল্যামব্রেটা স্কুটার কিনেছিলাম আড়াই হাজার টাকায় । আগে বুকিং করলে অনেক পরে মিলতো স্কুটার, মটোর সাইকেল এমন কি গাড়ীও । গাড়ীটা আগে পেলেও স্কুটার, মটোর সাইকেল সহজে মিলতো না, কম সে কম দু বছরের আগে ।

এটা আমার বন্ধু বুক করেছিল, কিন্তু বাড়ীতে মা বাবা আপত্তি করায় আমার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যায় । সেল ডিড করে স্কুটারটা কিনেই নিলাম ওর কাছ থেকে ।

বালেশ্বর শহর থেকে বারো কি মি দূরেই রেমুনায় চৈতন্যদেবের স্মৃতি বিজড়িত ক্ষীর চোরা গোপীনাথের মন্দির । যাওয়া হয় নি কখনও । এক রোববার বেড়িয়ে পড়লাম – স্কুটার নিয়ে ।

বালেশ্বর শহর ছাড়ালে-ন্যাশনাল হাইওয়ে সিক্স পেরিয়ে রেমুনা । পিচঢালা রাস্তা ভালোই তখন । আরামসে চালিয়ে যাচ্ছি । পড়ন্ত শীতের সময় । দুপুরবেলা বলে সেরকম ঠাণ্ডা লাগছে না ।

কেন জানি মেঘে কালো হয়ে এলো আকাশ । বৃষ্টি আর সাথে ঘন ঘন বাজ পড়া ।

রাস্তার ধারে একটা ঝোপড়িতে একটা চায়ের দোকানে কিছু লোক বসে আছে । সেখানে ঢুকলাম, স্কুটারটা রাস্তায় স্টান্ড করিয়ে ।

হঠাৎ একটা তীব্র ঝলকানি । মনে হলো বাজটা আমার গায়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি ।

একটা ঝাঁকুনি খেয়ে দেখি – আমি একটা সুড়কি ঢালা রাস্তায় দাঁড়িয়ে । দুই পাশে গাছে গাছে ভর্তি । কোথাও আমার স্কুটার নেই এমন কি চালা ঘরটাও ।
দূ
রে একটা মন্দিরের চূড়ো দেখা যাচ্ছে পরিস্কার ভাবে । এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি কেউ নেই ।

অর্পণ চুপ করলো ।

কি রে চুপ করলি কেন ?

ধ্যুস্ ! গলা শুকিয়ে গেছে বকবক্ করে ।

আরে নে নে বিয়ার নে । যদিও ঢপ, তবে জমিয়ে দিয়েছিস । চালিয়ে যা । শ্যামল হাসতে হাসতে বলাতে, অর্পণ রেগেই গেলো ।

সোমনাথ, তোর ড্রাইভারকে বলতো – আমাকে আমার ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেবে ।

এই দ্যাখো ! তুই রাগছিস কেন ? আমি তো জানি ঘটনাটা সত্যি । নে নে চুমুক দিয়ে আবার শুরু কর্ ।

অর্পণ কিছুটা শান্ত হয়ে আবার শুরু করলো – দু ঢোঁক খেয়ে ।

হঠাৎ দেখি এক চৈতন্য দেব মার্কা লোক আমার দিকে ধীরে ধীরে আসছে । কাঁধে একটা ঝোলা কাপড়ে গিঁট মেরে তৈরি আর উর্ধাঙ্গে একটা গেরুয়া চাদর হালকা ভাবে ফেলা । নিম্নাঙ্গে একটা গেরুয়া ধূতি একটা অদ্ভূত কায়দায় পরা ।

হেসে বললো আমায় – বৎস, কোথা হইতে আগমন করিয়াছো, এই বিজাতীয় পোশাকে ?

কেমন যেন ভেবলে গেলুম মাইরি ! লোকটা কে আর বলে কি? এখানে তো ওডিয়া ভাষার চল । বাংলা বলছে- তাও যেন কিরকম একটা স্টাইলে ।
গলা শুকিয়ে গেছে । কথা বলতে পারছি না । কি বুঝে, লোকটা ওর ঝোলা থেকে একটা পাথরের ঘটি বের করে আমায় দিয়ে বললো – লহ বৎস, ইহাতে বলবর্ধক পানীয় রহিয়াছে । পান করো । শরীর শীতল হইবে ।

আবার একটা বাজের বিশাল শব্দ । দেখি আমি সেই চালাঘরে বসে আছি ঐ লোকগুলোর মধ্যে । ওরা হাঁ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ।

আকাশ একদম পরিস্কার । আমি নাকি কি সব বিড়বিড় করছিলাম নিজের মনে ।

একটু থিতিয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম – রেমুনা মন্দিরঅ কে বাটে যিবি কি ? ( রেমুনা মন্দির কোন রাস্তা দিয়ে যাবো?) ।

কজন হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো রাস্তাটা । দেখে টেকে ফিরে এসে এই ঘটনাটা সোমনাথকে বলেছিলাম ।

সোমনাথের ছেলে – কাকা, খুব যদি ভুল না করি – তবে তুমি টাইম ট্র্যাভেল করেছিলে ।

অর্পণ একটা চুমুক দিলো বিয়ার মাগে । কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো – হতে পারে ।

পুরোন কথা

বিমলের আজকাল পুরোন কথা খুব বেশী করে মনে পড়ে । বিশেষ করে যৌবনের । সেদিন একটা ফোন পেয়ে দুঃখগুলো চাগাড় দিয়ে উঠেছে ।
মৌমিতা তার ফোন নংটা কোথায় পেল কে জানে !
বলল তো – ফেসবুকের একজন তাকে দিয়েছে।
এদিকে পুজোর বাজার করার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে গিন্নী ।
ভীড়ের ভেতর শ্বাসকষ্ট হয় বিমলের । একটা রফায় আসা গেল । গিন্নীকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটা পার্ক করবে নিউ মার্কেটে । একটু আগে যেতে হবে, না হলে পার্কিংয়ের স্পেস পাওয়া মুশকিল ।

বিমল একবার মিউ মিউ করে বলেছিল – মলে গেলেই তো হয়, আবার নিউ মার্কেট কেন?
গিন্নী দুর্বাসা হওয়ার আগেই নিজেকে সামলে নিল – বিমল ।
ড্রাইভার দীপক গাড়ীতেই থাকবে । বিমল হেঁটে পার্ক স্ট্রিট গিয়ে একটু বিয়ার খাবে, এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে । কত বদলেছে, রাস্তাটা। তাছাড়া উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরার একটা মজা আছে । নিজেকে বেশ বোহেমিয়ান লাগে ।
এখন তো তিন থেকে চার ঘন্টা হাতে সময় ।
অনেক দিন বারে বসে খাওয়া হয় না । বাড়ীতে খেলে সস্তা পড়ে, কিন্তু ঐ মেজাজটা পাওয়া যায় না । না হয়, দুটো টাকা বেশীই লাগবে ।

কিন্তু, ওই যে কথায় আছে না:- যে যায় বঙ্গে, কপাল যায় সঙ্গে ! কারণ, সেই পৃথুলা ( বর্তমানে) মহিলার সঙ্গে এই ফোনালাপের পর পার্ক ষ্ট্রিটে দেখা হয়েছিল। সঙ্গে ছিল- ওনার ১৭/১৮ বছরের সুন্দরী নাতনী। বিমলকে দেখে, কুশল বিনিময়ের পর নাতনীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার সময় বলল- ইনি ই সেই ! যিনি ফ্রেণ্ডলিষ্টে আছেন আর উনি তোর ‘হলেও হতে পারত’ ঠাকুরদা!

নাতনী তো হেসেই খুন! বলল- গ্র্যানি, তুমি না খুব সুইট! এইরকম লোকের সঙ্গে আমি একটু আড্ডা দিয়ে, তোমাদের পুরোনো প্রেমের গপ্পো শুনবো।
তো, বিমলরা গিয়ে বসল সিলভার ড্রাগনে।

নাতনী বললো- সুইটস, তুমি বিয়ার না জিন নেবে?

শুনেই মনটা কেমন করে উঠলো বিমলের। তাও একটু লজ্জা ভাব করে, বলল- দেবে? তা দাও !

বিমলের কাছ থেকে শুনে নিয়ে, অর্ডার দিল:- দুটো জিন উইথ ফ্রেস লাইম।

একটা কোক! আর তিন প্লেট চিলি চিকেন।

জিন দুটো আমার আর ওই মহিলার জন্য। নাতনী নিল- কোক!

বিমল ভদ্রতা করে বলল:- তুমি জিন নিলে না কেন?

উত্তর এল:- আমি এখনও খাই না! খেলে নিতাম। আমার গ্র্যানি খুব লিবারেল। গ্র্যাণ্ড পাও তাই।

নাও! নাও শুরু করো!

বলতে লাগল বিমল!!!!

তোর গ্র্যানি বেশ সুন্দরী ছিলেন।

বলতেই বাধা!

হোয়াট ডু ইউ মিন? আমার গ্র্যানি, এখনও বেশ সুন্দরী!!

থতমত খেয়ে বলল বিমল:- না! মানে ইয়ে, তখন আরও বেশী ছিল।

বেশ বেশ- নো তক্কো! চালাও পানসী বেল ঘরিয়া

শুরু হলো করল বিমল:-

প্রেম হবার পর কটকে পোষ্টিং পেলাম। চিঠিতে তো বটেই, আর কোলকাতায় এলে প্রেমটা আরও জমতো। করে, করে, বেশ চলছিল! হঠাৎ একদিন একটা টেলিগ্রাম তোর গ্র্যানির কাছ থেকে।

“কাম শার্প । মাই ম্যারেজ হ্যাজ বিন ফিক্সড! মিট মি আ্যাট যাদবপুর কফি হাউস আ্যট ওয়ান পিএম শার্প টু ফিক্স দ্য নেক্সট কোর্স অফ আ্যকশানস।”

দুপুরে টেলিগ্রাম পেয়ে, সেই দিন-ই - রাতের ম্যাড্রাস মেল ( তখন ওই নামই ছিল) ধরে হই হই করে চলে এলাম কোলকাতায়! ভোরবেলা হাওড়ায় নেমে,চলে গেলাম ঠিক দুপুর একটার সময়! যাদবপুর কফি হাউসের পাশেই একটা চাইনিজ রেস্তোরাঁ ছিল সেই সময় ( এখনও আছে কিনা, জানি না) টুকটাক অন্য গল্প কোরতে কোরতে তোর গ্র্যানি লাঞ্চ খাচ্ছে, কিন্তু আসল কথা আর বলে না!

শেষ হলে মুখ টুখ মুছে বলল:- শোনো, আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বিয়ে হলেই আমি আ্যমেরিকা চলে যাচ্ছি। তুমি না, আজ থেকে আমাকে বোনের চোখে দেখ। আমার মটকা গরম হয়ে গেল! একে তো লাঞ্চের বিল দিয়েছি, তার ওপর কটক থেকে আসা যাওয়ার খরচ!

বললাম:- কোনো চোখে যদি দেখতেই হয়, তবে আজ থেকে তোমাকে ‘রক্ষিতা’ র চোখে দেখবো!
তোর গ্র্যানি হেসে বলেছিল- আহা চটছো কেন? মশলা খাও!

বিমলের বলা শেষ হতেই একজন হ্যাণ্ডসাম বৃদ্ধ ঢুকলেন।
হেসে হাত মিলিয়ে বললেন- সেল ফোনে আপনার খবর পেয়ে চলে এলাম। আমি প্রেজেন্ট, আপনি পাষ্ট!

সেদিনের বাকী মশলা একটু খান!
বেয়ারা – ঔর দোঠো জিন উইথ ফ্রেস লাইম

সময় ভ্রমণ




কয়েকদিন হলো -পাড়াতে একটা বেশ পুরোনো এবং প্রায় লড়ঝড়ে অ্যাম্বাসেডর গাড়ী দাঁড়িয়ে থাকে, রাস্তার ধার ঘেঁসে ।
সেই কবেকার নাম্বার – ওডিশা বালেশ্বরের । ও আর বি ২৫৭৪ । যিনি মালিক, তিনি ওডিশায় থাকতেন বহুকাল আগে । পাড়ায় ফ্ল্যাট কিনে সদ্য এসেছেন । মিন্টুর চায়ের দোকানে আলাপ হয়েছিল রমিতের সাথে ।
রমিত জিজ্ঞেস করেছিল – আচ্ছা, আপনার তো নতুন গাড়ী আছে, তবে এই লড়ঝড়ে গাড়ীটা কেন রেখেছেন ? কেউ তো কিনবে না । স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দিন ।
উত্তর দিয়েছিলেন :- সেটাই তো ইচ্ছে, তবে একটা কারণে পারছি না । না হলে, ট্রাকে করে এই গাড়ীটা আনি ? বালেশ্বরেরই তো বিক্রি করে দিতে পারতাম ।
কি এমন কারণ ?
একটা অতি পুরোনো ব্যাংকের চেক , গ্লোভ কম্পার্টমেন্টে পড়ে আছে নতুন গাড়ীটা কেনার পর থেকেই । মিস্ট্রিটা সলভ্ করলেই ওটা স্ক্র্যাপ করে বিক্রিই করে দেবো ।
=২=
আড় মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে বেশ আরাম লাগছিল রমিতের । সকালের খবরের কাগজটা নিয়ে বিছানায় বালিশে হেলান দিয়ে খবর গুলোতে চোখ বুলোচ্ছে, এমন সময় জানলা দিয়ে দেখে – আকাশে কালো মেঘ আর বিদ্যুৎয়ের ঝিলিক । একটা প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়লো ।
ভয়ে চোখ বুজে ফেলল রমিত ।

চোখ খুলে দেখে বালেশ্বরের ভাড়া বাড়ীটাতে শুয়ে আছে । সকাল হয়ে গেছে । ফুটফুটে রোদ্দুর । শরীরে কোনো ব্যাথা নেই । বাবা ডাকছেন – কত আর ঘুমোবি, বেলা দশটা বেজে গেলো যে ! চা খাবি ?

রমিতের বাবার এই একটা সখ । সকালে বিকেলে প্রাইমাস ষ্টোভ জ্বালিয়ে নিজের হাতে চা করে স্টিলের ছোট গ্লাসে খান । মুখ ধুয়ে এসে চা খেল রমিত ।

কোলকাতায় প্রকাশিত গতকালের কাগজ বালেশ্বরে আজ আসে । চোখ বুলোনোর জন্য কাগজটা হাতে নিতেই একটা ছাপানো ছোট কাগজ টুক করে খসে পড়লো ।
তাতে ইংরেজি আর ওডিয়া ভাষায় লেখা :- আজ বালেশ্বরে রেমুনা মোড়ের কাছে, অ্যাম্বাসেডর গাড়ীর শো রুম খোলা হচ্ছে । কয়েকটা নতুন গাড়ী আছে । উৎসাহী ক্রেতারা যোগাযোগ করে ১০, ০০০ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে গাড়ী বুক করতে পারেন । আগে এলে, আগে পাবেন এই ভিত্তিতে পাওয়া যাবে ।


স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রমিত, পকেটে চেক বুক নিয়ে । রমিতের আগে, মোটে একজন । কথা বার্তা বলে ১০,০০০ টাকার চেক দিয়ে দিল । গাড়ী এক মাস পরে পাওয়া যাবে ।
শোরুমের মালিক হেসে রমিতের সাথে করমর্দন করলেন । বাড়ীতে ফিরে এসে আর কিছু বলল না । একেবারে গাড়ী এনে চমকে দেবে – মা, বাবা, ভাই বোনদের ।
=৩=
হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল । রমিতের স্ত্রী চা নিয়ে ডাকছেন । জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখল- বিকেল হয়ে গেছে ।

হঠাৎ দেখল – ওই ভদ্রলোক যাচ্ছেন রাস্তা দিয়ে । ডেকে নিলাম ঘরে । উনি আসতেই, রমিত বলল – আপনার সেই চেকটা একটু দেখতে পারি?
ফোন করে আনালেন চেকটা ।


দেখা গেল – ষ্টেট ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়া, বালেশ্বর ব্রাঞ্চের একটা ১০, ০০০ হাজার টাকার চেক । নীচে রমিতের সই