খ্রিস্টিয় ১৬২০ র নভেম্বরের এক অপরাহ্নে, দিবানিদ্রা সমাপনান্তে গোবিন্দপুরের জমিদার- বসাক বাবু গাত্রে শাল জড়াইয়া, গড়গড়া হইতে ধূম্রপান করিতেছিলেন ।
দ্বিপ্রাহরিক ভোজন কিঞ্চিৎ গুরুতর হইয়াছিল।
শিয়ালদহর নিকটস্থ লবণ হ্রদ হইতে রামা জেলে দুইখানি রোহিত মৎস, রন্ধনশালায় দিয়া, নতমস্তকে বসাকবাবুকে কহিল:-
আজকাল আর লবণহ্রদে মাছ ধরা যাবে নি কো জমিদার মশাই ।
কেন রে ?
এই এত্ত বড় বড় কুমীর, মেছো কুমীর জলে ।পা কেটে লিয়ে যেতে পারে ওরা ।
তাইলে তো একটা ব্যবস্থা করতে হয় ।
হ্যাঁ, জমিদার মশাই ।
এক্ষণে, হরি কৈবর্ত সালাম করিয়া বসাক বাবুর সমীপে নতশিরে দণ্ডায়মান হইল ।
কি খবর রে হরি ?
এঁজ্ঞে কত্তা, গঙ্গা নদীর ধারে গেচিলাম ।
কি দেখলি ?
কয়েকটা গোরা, পেল্লায় পালতোলা নৌকা থেকে নেমে – দোবাস দোবাস করে চিল্লাচ্ছে। বুইতে পারলুম নি, তাই জমিদার বাবুকে খবর দিতে এলাম ।
লোকগুলো কি লাল মুখো?
এঁজ্ঞে, হ্যাঁ কত্তা ।
মূর্খ ! ওরা ধোবা ধোবা করে চেঁচাচ্ছে । জামাকাপড় তো সব ময়লা ওদের । যা রতনকে পাঠিয়ে দে !
রতন সরকার?
আরে বাপু হ্যাঁ !
------
এই রতন সরকারই পরে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি শিখে প্রথম দোভাষীর কাজ শুরু করে ইংরেজদের সাথে।
তারপরে তো ইতিহাস !
--
কল্পনার সূত্র :- দি আর্লি হিস্টরি অ্যান্ড গ্রোথ অব ক্যালকাটা
লেখক: রাজা বিনয়কৃষ্ণ দেব- ১৯০৫ সংস্করণ ।

No comments:
Post a Comment