Powered By Blogger

Sunday, May 21, 2017

বিলিতি আমড়া ও ফুটো পয়সা


+++++++++++++
ভারতে, ১৯৫৭ সালে দশমিক পদ্ধতি চালু হয়- এটা সবাই জানেন । অন্তত আমার বয়েসি বা বড় বা একটু ছোটো তো জানবেনই ।
কিন্তু, তারপরেও এক পয়সা, এক আনা, দুই আনা, সিকি ( চার আনা), আধুলি ( আট আনা) এই সব মুদ্রার চল- বহুদিন ধরেই ছিল ।
লোকে চৌষট্টি পয়সায় এক টাকা থেকে একশো নয়া পয়সায় এক টাকা ঠিক বুঝতে পারতো না ।
ফলে, এক আনা মানে ছয় নয়া পয়সা- দু আনা অর্থে বারো নয়া ( চলতি), আর চার আনা আবার পঁচিশ (হিসেবে এক নয়া বেশী) আর আট আনা হলো পঞ্চাশ নয়া ।
দ্বিতী‌য় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাকি তামার যোগানে টান পড়ে, তাই ব্রিটিশ রাজ চালু করেছিলো গোল এক পয়সা, মধ্যেখানে ফুটো ।
এটা এখনও অনেকের কাছে আছে, তবে তার ব্যবহার অবশ্য অন্যরকম ।
বাচ্চা ছেলে মেয়েদের কোমোরে একটা ফুটো পয়সা কালো সুতো দিয়ে ঝোলানো থাকে, “অপদেবতার” কুনজর এড়াতে ।
তা, যেটা বলছিলাম ! তখন বিজয়গড় শিক্ষানিকেতনের গেটের ডানদিকে, পরপর কয়েকটা ঝুপড়ি( এখন হলে, নাম হতো – ঝুপস্) দোকান ছিল ।
ঘুঘনি থেকে শুরু করে পাঁউরুটি – কেক-বিস্কুট, চুরণ থেকে কাঁচা আমড়া, সময়ে কাঁচা আম, ধুলোর আস্তরণে ঢাকা লাল আলুর কষা, বিড়ি, সিগারেট- সবই পাওয়া যেতো ।
সে এক, বিচিত্র হরফন মৌলার জগত ।
সকালের সেকশনে, মেয়েরা পড়তো । ফলে, আমাদের মত “ বিশ্ব পাকা চ্যাংড়ার” দল স্কুলের সময়ের আগেই পৌঁছতাম, মেয়ে দেখতে ( বিয়ের জন্য নয়) ।
দুঃসাহসী কিছু মেয়ে তো ছিলই । সেই সময়ে, মেয়েদের বিড়ি বা সিগারেট টানা মানে, সে দুঃশ্চরিত্রা ।
তবু, কিছু মেয়ে ডাঁটে সিগারেট কিনে- দলবদ্ধ ভাবে, টানতে টানতে যেতো সবার সামনে দিয়ে।
আবার তখন, শব্দ নিয়ে পলিটিকালি কারেক্ট থাকার দরকার ছিল না ।
একদিন একটি সুন্দরী মেয়ে ( তখন আমাদের চোখে সব মেয়েই সুন্দরী ।) একদিন বললো – একটা বিলিতি আমড়া খাওয়াবি ?
কেন রে, একটু আগেই তো সিগারেট কিনলি !
যা পাই, হাতখরচা হিসেবে সবই তো আজ খরচ হয়ে গেলো ।
বিড়ি খেলেই তো পারিস, অতই যদি ধোঁয়া টানার শখ !
কিছু মনে করিস না ! বিড়ি খেলেই চাকর চাকর বদগন্ধ বেরুয় ।
মানে ??
তুই তো আবার বিড়ি খাস !
তাতে কি হলো ??
দেখতেও তো চাকরের মত । সারা গা দিয়ে চিমসে বদগন্ধ আর ধ্যাড়াংগা লম্বা ! তুই চাকর ছাড়া আর কি ? নে নে- আমাকে বিলিতি আমড়া খাওয়া । না হলে, শান্তিকে বলবো ।
অগত্যা ফুটো পয়সা দিয়ে- দুটো বিলিতি আমড়া কাটিয়ে, কষে ঝাল নুন মাখানো অবস্থায় দিলাম তাকে ।
হুসহাস করে খেয়ে, মেয়েটা চলে গেলো ।
তার কয়েকদিন পর অশোক ট্রাস্টে ফুটবল খেলতে গেছি । বাঘাযতীন কলোনী দিয়ে একটা শর্ট কাট ছিল অশোক ট্রাস্ট যাবার ।
বেশরম মেয়েটা দেখি- শান্তির সাথে ফুচকা খাচ্ছে , হা হা হি হি করতে করতে ।
সেই রাগটা হঠাৎ মনে পড়াতে আর কি বোর্ড চলছে না এখন ।
তবে, সেই থেকে আমড়ার টক আর খাই না।
ফুটো পয়সা, যে কটা ছিল- দান করে দিয়েছি ।

No comments:

Post a Comment