Powered By Blogger

Saturday, May 27, 2017

অভিজ্ঞতা


=====
মে মাসের চাঁদিফাটানো গরম এবারে । যেদিকে চোখ যায়, রোদে চারিদিক ঝলসে যাচ্ছে । বৃষ্টির নাম গন্ধ নেই ।

রমাপদর গাড়ীর এসিটা হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিল । দরকার না হলে খুব একটা বেরোয় না আজকাল । নতুন গাড়ীর এসি কেন কাজ করছে না, এটা ভাবার আগেই জানলা খুলতেই ধেয়ে এলো গরম হাওয়া ।

ড্রাইভার ভোলা – অনেক চেষ্টা করেও কারণটা বের করতে পারছে না একে রবিবারের বাজার তায় রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে ।

রমাপদ ফোনটা হাতে নিয়ে কার সার্ভিসে ফোন করতে যেতেই চোখে পড়ল – আজকের প্রথম ফোনটাই ফেসবুক বন্ধু রমার কলের দিকে ।
কথা হয়েছিল সকালেই । বার বার আসতে বলেছিল ওদের বাড়ীতে একবার ।

আগে ওদের বাড়ী গিয়ে এসিতে বসে তারপর না হয় কার সার্ভিসে ফোন করা যাবে ভেবে রমাকেই ফোন করলো রমাপদ ।

হ্যাঁ কাকু বলুন ।

রমাপদ বিপদটা খুলে বললো । রমার প্রথম জিজ্ঞাসা – খাওয়া হয়েছে? না হলে, আমাদের এখানেই না হয় চারটে ডাল ভাত খেয়ে নেবেন । কোথায় আছেন এখন?

বলাতে রমার উত্তর – ও মা ! এতো আমার বাড়ীর একদম কাছে । এক কাজ করুন । গাড়ীটা নিয়ে স্টেট ব্যাংক এটিয়েমের সামনে আসুন

তারপর পরের গলিতে ঢুকেই বাঁ দিকের প্রথম দুটো বাড়ী ছেড়ে, তৃতীয় বাড়ীটাই আমার । চলে আসুন । আমি আর দীপক আপনার জন্য অপেক্ষা করছি ।

রমাপদ পৌঁছে গেল । দোতলা ছিমছাম বাড়ী । বেশ যত্ন নিয়ে করা ।
কলিং বেল বাজালো রমাপদ । রোদে কান ঝাঁ ঝাঁ করছে, এদিকে তেষ্টায় প্রাণ যায় যায়।

একটা চিৎকার করা গলা শুনলো রমাপদ । এই গলাটা মনে হলো না, দীপকের ।

ধড়াম করে দরজা খুলে গেলে- এক বিশাল চেহারার লোক বাঁজখাই গলায় বললো :- কাকে চাই?

রমাপদ রুমাল দিয়ে মুখ মুছে উত্তর দিলো – রমাকে বলুন, রমাপদ কাকু এসেছে ।

এই বাড়ীটা ওদের নয় । আমার বাড়ী । যান, বেরিয়ে যান । দরজা বন্ধ হলো সশব্দে ।

রোদ আর অপমানে ভোঁভোঁ করা মাথা নিয়ে রমাপদ ভোলাকে বলে গাড়ী ঘুরিয়ে নিয়ে একটা এসি রেস্তোঁরাতে এসে বসলো ।

একটু রেস্ট নিয়ে কার সার্ভিসে ফোন করতে যেতেই রমার ফোন । একটু রাগও হলো । তবু কলটা অ্যাকসেপ্ট করতেই রমার উদ্বেগের গলা – কাকু আপনি কোথায় ?

রমাপদ যতটা সম্ভব খুলে বললো – ঘটনাটা ।

দীপক ফোনটা নিয়ে ঘটনাটা আবার শুনে খালি বললো – একটু ওখানেই বসুন – আমরা আসছি রেস্তোঁরায় ।

ইতি মধ্যে ভোলা এসে খবর দিলো – এসি একদম ঠিক কাকু, কি করে যে চলছিল না সেটা বুঝলাম না । চলেন এবার ।

রমাপদর উত্তর – এঞ্জিন চালিয়ে এসি চালা । গাড়ীটা ঠাণ্ডা হবে । পারলে একটা ছায়ার তলায় বোস্, আমি একটু পরে আসছি ।

দীপক আর রমা এসে পুরো ঘটনাটা শুনে খালি ওই ভদ্রলোকের চেহারার বর্ণণা চাইতেই রমাপদ যতটা পারে গুছিয়ে সেটা বললো ।

দীপকের উত্তর – উনি আমার বাবা । তিন বছর আগে মারা গেছেন এক শনিবার দুপুরবেলা হিট স্ট্রোকে । ওনারই তৈরি বাড়িটা । এই নিয়ে তিনবার হলো । আর হবে না – এবারে আমাদের ওখানে চলুন ।
+++++++

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

No comments:

Post a Comment