---------------
আমার কয়েকটা দুঃখ জমিয়ে রেখেছি- ছোট ছোট হোমিওপ্যাথিক শিশিতে ।
মনে আছে, সেই বরফের গোলা?
র্যাঁদা দিয়ে বরফের ছোট চাঁই ঘসে, বানানো হতো সেই গোলা । তার ওপর ঢালা হতো- লাল নীল সবুজ সিরাপ । তারপর কাঠি গুঁজে সেই অপার্থিব গোলা চলে যেত বিভিন্ন লোকেদের হাতে ।
বাচ্চা বয়েসে, চোখ জুলজুল করে দেখতাম- সেই সব বরফ গোলা ।
একবারই খেয়েছিলাম, তাও আদ্দেকটা । বাকী আমার মাতামহ কেড়ে নিয়েছিলেন হাত থেকে ।
ডাক্তার মানুষ আমার মাতামহ বলেছিলেন- ঐ সব বরফ নাকি ড্রেনের জলে তৈরি ।
বড় হয়ে, খাইনি যে তা নয়- তবে সেই স্বাদ আর কোথায় ? বাচ্চা বয়েসের সেই “কচি” জিভের স্বাদটা যে ততদিনে হারিয়ে ফেলেছি ।
ছোট বেলায়, মামাবাড়ীতে কোনোদিনই গোটা হাঁসের ডিম জোটে নি ।
নাকি- ছোটদের গোটা ডিম খেতে নেই ।
ডুগি- তবলার মত কাটা হতো সেদ্ধ ডিম, সুতো দিয়ে । ডুগির ভাগটা জুটতো অবশ্য দিদিমার কল্যাণে, কিন্তু পুরো ডিম খাওয়ার জন্য মন আকুলি বিকুলি করতো ।
এক বড়লোক সহপাঠী / সহপাঁঠা , এসব শুনে বলেছিল – তোরা, বাঙালরা হাড় কিপ্টের জাত ! ডিম- সেটাও আদ্দেক ভাগ করে খাস?
হায় রে ! সে কি করে বুঝবে উদ্বাস্তুদের যন্ত্রণা !
তখন যে সবারই নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা ।
তো যাক্- এই সব কাঁদুনি গেয়ে লাভ নেই ।
মোদ্দা কথা হলো – হাঁসের ডিমের সাইজ এখন ছোটো । সেই অলৌকিক কুসুমের সুবাস অনুপস্থিত । গরমে তো আরও মেলে না ।
দোকানদারদের বক্তব্য- গরমে হাঁসের ডিম রাখা মুশকিল- নাকি তাড়াতাড়ি পচে যায় ।
সাইজে- মাইক্রোস্কোপিক পোলট্রির ডিম, তার আবার কুসুমের রঙ, ফ্যকাসে ।
মাঝে সাঝে খাই, তবে বেশী খাই না ।
আরও একটা দুঃখ - যে প্ল্যাস্টিকের ডিম নিয়ে অ্যাতো হইচই হলো, সে জিনিস, না আখোঁ সে দেখা- না খায়া ।
খুরমা জানেন ? জানাটা স্বাভাবিক অবশ্য । চিনির রসে ডোবানো কেনি আঙুল সাইজের একরকম মিষ্টি বস্তু ।
সেটাও ছোটবেলায় খাই নি সেরকম । কারণ, সেগুলোও নাকি বাজে ময়দার তৈরি ।
এখন তো, দাঁত নেই- তাই ইচ্ছে থাকলেও খেতে পারি না ।
বুড়ির মাথার পাকা চুল ! সাদা সাদা সেই সব অমৃত মেলে নি খেতে খুব একটা ।
ওগুলো – সাদা চিনির তৈরি । “বাউনরা” খায় না ।
চিনির তৈরি বড় বাতাসার নো এন্ট্রি । গুড়ের বাতাসা খেতাম । খাওয়ার পর, কুঁজোর জল খেলে, গরমে সে কি আরাম !
কুঁজো আজকাল মেলে কি, এই ফ্রিজের যুগে ?
আইসক্রিমের কথা আর বললাম না, কারণ ঘা শুকোনোর জন্য যে দুধ ঢালা হতো (?) – সেই দুধে নাকি আইসক্রিম তৈরি হয় বলে – অভিভাবকদের ধারণা ছিল ।
রেস্তোরাঁতে অবরে সবরে খেতাম – সেটাও আর হবে না ।
তারা নাকি বাসী – এঁটো, মাছি ওড়া, পোকা পড়া খাবার দেয় ।
হোমিওপ্যাথিক শিশিগুলো বেড়েই চলেছে ।

No comments:
Post a Comment