+++++++++++++++++
আচ্ছা, অভ্যাস কাকে বলে ? বারবার একই জিনিস এক সময়ে করার নাম বোধহয় অভ্যাস ।
ধরুন – সকালে উঠেই দাঁত মাজা, প্রাতঃকৃত্য করা , এগুলো অভ্যাসের মধ্যেই পড়ে।
বাজার করা একটা অন্যতম অভ্যাস ।
কিশোর বয়সে বাজার করাটা যেচে নিতাম, টু পাইস ইনকাম করার জন্য । বাঙালি যেমন কবিতা লেখে কৈশোরে, বাজার থেকে টু পাইস উপার্জন করাটাও একটা কৈশোর সিমটম ।
এক কেজি আলু কিনে তাকে দেড় কেজি বলে চালানোর সময় কত বার যে ধরা পড়েছি, ম্যাথেমাটিক্যালি তার ভ্যালু – এনেথ টাইমস ।
এখানে এন সংখ্যাটির মান যা খুশী হতে পারে ।
তাও বাজারে আমাকে পাঠানো হত, কারণ মামাদের সময় ছিল না বাজার করার ।
নিজে উপার্জন ক্ষম হয়ে বাজার করি বটে, তবে ছোট বেলার অভ্যাস বলে কথা !
অঙ্গারঃ শতধৌতেন মলিনত্বং ন মুঞ্চতি । হাজার বার ধুলেও কয়লা কালোই থাকে।
তবে, এখানে একটা বিশেষত্ব আছে । পয়সাটা বাঁচে । মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দেই- ইংরেজী আপ্তবাক্যটি বলে:-
এ রুপি সেভড্ ইজ এ রুপি আর্নড ।
হরে দরে সেই ইনকামই হল আর কি !
এটা একটা ভিসিয়াস সাইকেল ।
যে কথা বলছিলাম । স্পোনডিলোসিসে আক্রান্ত হবার পর – আজকাল খুব একটা বাজার যাই না ।
ঠেলাওয়ালার কাছ থেকে সব্জী আর বুড়োকে ফোন করে মাছ আনাই । অবরে শবরে রাজা মুরগীর মাংসটাও দিয়ে যায় ।
কিন্তু, উবু হয়ে বসে আলু, পটল, পেঁয়াজ, শাক – বাছার মধ্যে যে আনন্দ, সেটার মত অন্য কিছু হয় না ।
কাতলা মাছের কানকো খুলে শুঁকে দেখতে হয় । কাদার গন্ধ থাকলে, তার টেষ্ট ভালো হবে না ।
এখন উবু হয়ে বসা বারণ ।
আজকে তাও গেলাম বাজারে । যেতেই, চনি তার হাতে ধরা ছোট বালতি থেকে একটা প্ল্যাসটিকের কাপ আর কেটলি থেকে চা ঢেলে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল – খান।
তবে, আজ বাজার সরগরম । গলদা চিংড়ি আটশো থেকে হাজার টাকা কিলো, আড় বড়ো-৫০০ টাকা । দেখে টেকে আর ইলিশের দিকে তাকাই নি ।
পেত্যয় যাবেন না – কোনো মাছই পড়ে থাকছে না । খাসীর মাংসের দোকানে লম্বা লাইন । দাম জিজ্ঞেস করবো কি !
মুরগীর মাংসর অবস্থাও তথৈবচ ।
আম, লিচু কড়া রোদে শুকনোর কথা, কিন্তু বাজারে বাবুরা তাদের সযত্নে ঘিরে রেখেছে যাতে ফল গুলো না শুকোয় ।
খানিক পরেই দেখি- জহর সরকারের ভোজ বাজী । ঝাঁকায় কিস্সু নেই ।
৫০০ গ্রাম ভোলা মাছ কিনে ঠেলাওয়ালা সেলিমকে বললাম – বাড়ীতে সব্জী দিয়ে যা তো !
পশ্চিম বঙ্গে নাকি লোকের হাতে পয়সা নেই ।
ছোট বেলা থেকে এই মিথ শুনে আসছি ।
যাই হোক – এই বয়সে কিস্সু হজম হচ্ছে না । তাই অজীর্ণে ভোজনং বিষম্ ।
সাবধান থাকা ভালো কারণ গঙ্গাজলী যাত্রার তো দেরী নেই !

No comments:
Post a Comment