Powered By Blogger

Monday, May 22, 2017

বাজার ও গঙ্গাজলী যাত্রা



+++++++++++++++++

আচ্ছা, অভ্যাস কাকে বলে ? বারবার একই জিনিস এক সময়ে করার নাম বোধহয় অভ্যাস ।

ধরুন – সকালে উঠেই দাঁত মাজা, প্রাতঃকৃত্য করা , এগুলো অভ্যাসের মধ্যেই পড়ে।
বাজার করা একটা অন্যতম অভ্যাস ।

কিশোর বয়সে বাজার করাটা যেচে নিতাম, টু পাইস ইনকাম করার জন্য । বাঙালি যেমন কবিতা লেখে কৈশোরে, বাজার থেকে টু পাইস উপার্জন করাটাও একটা কৈশোর সিমটম ।

এক কেজি আলু কিনে তাকে দেড় কেজি বলে চালানোর সময় কত বার যে ধরা পড়েছি, ম্যাথেমাটিক্যালি তার ভ্যালু – এনেথ টাইমস ।
এখানে এন সংখ্যাটির মান যা খুশী হতে পারে ।

তাও বাজারে আমাকে পাঠানো হত, কারণ মামাদের সময় ছিল না বাজার করার ।

নিজে উপার্জন ক্ষম হয়ে বাজার করি বটে, তবে ছোট বেলার অভ্যাস বলে কথা !
অঙ্গারঃ শতধৌতেন মলিনত্বং ন মুঞ্চতি । হাজার বার ধুলেও কয়লা কালোই থাকে।

তবে, এখানে একটা বিশেষত্ব আছে । পয়সাটা বাঁচে । মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দেই- ইংরেজী আপ্তবাক্যটি বলে:-

এ রুপি সেভড্ ইজ এ রুপি আর্নড ।
হরে দরে সেই ইনকামই হল আর কি !
এটা একটা ভিসিয়াস সাইকেল ।

যে কথা বলছিলাম । স্পোনডিলোসিসে আক্রান্ত হবার পর – আজকাল খুব একটা বাজার যাই না ।

ঠেলাওয়ালার কাছ থেকে সব্জী আর বুড়োকে ফোন করে মাছ আনাই । অবরে শবরে রাজা মুরগীর মাংসটাও দিয়ে যায় ।
কিন্তু, উবু হয়ে বসে আলু, পটল, পেঁয়াজ, শাক – বাছার মধ্যে যে আনন্দ, সেটার মত অন্য কিছু হয় না ।

কাতলা মাছের কানকো খুলে শুঁকে দেখতে হয় । কাদার গন্ধ থাকলে, তার টেষ্ট ভালো হবে না ।

এখন উবু হয়ে বসা বারণ ।

আজকে তাও গেলাম বাজারে । যেতেই, চনি তার হাতে ধরা ছোট বালতি থেকে একটা প্ল্যাসটিকের কাপ আর কেটলি থেকে চা ঢেলে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল – খান।

তবে, আজ বাজার সরগরম । গলদা চিংড়ি আটশো থেকে হাজার টাকা কিলো, আড় বড়ো-৫০০ টাকা । দেখে টেকে আর ইলিশের দিকে তাকাই নি ।

পেত্যয় যাবেন না – কোনো মাছই পড়ে থাকছে না । খাসীর মাংসের দোকানে লম্বা লাইন । দাম জিজ্ঞেস করবো কি !

মুরগীর মাংসর অবস্থাও তথৈবচ ।

আম, লিচু কড়া রোদে শুকনোর কথা, কিন্তু বাজারে বাবুরা তাদের সযত্নে ঘিরে রেখেছে যাতে ফল গুলো না শুকোয় ।

খানিক পরেই দেখি- জহর সরকারের ভোজ বাজী । ঝাঁকায় কিস্সু নেই ।
৫০০ গ্রাম ভোলা মাছ কিনে ঠেলাওয়ালা সেলিমকে বললাম – বাড়ীতে সব্জী দিয়ে যা তো !

পশ্চিম বঙ্গে নাকি লোকের হাতে পয়সা নেই ।

ছোট বেলা থেকে এই মিথ শুনে আসছি ।

যাই হোক – এই বয়সে কিস্সু হজম হচ্ছে না । তাই অজীর্ণে ভোজনং বিষম্ ।

সাবধান থাকা ভালো কারণ গঙ্গাজলী যাত্রার তো দেরী নেই !

No comments:

Post a Comment