Powered By Blogger

Monday, September 11, 2017

অন্য যাদুগর -৪


ওপিজী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন ।

এদিকে শশধর মুখার্জির ফ্লিমস্তান থেকে নতুন ছবি হবে – তুমসা নেহি দেখা ।

নাসির হুসেনের গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ।
কাস্টিং – শাম্মি কাপুর আর অমিতা ।

এবারে সুরকার চাই । নাসির হুসেন বললেন একজন নতুন সুরকার এসেছেন হিন্দি ফিল্মের জগতে ওপি নাইয়ার । তাকে সুরকার হিসেবে নিলে ভালো হয় ।

শশধর মুখার্জী বললেন – ডাকো ওকে ।

মুখার্জি বাবুর মনেই নেই – এই সেই ওপি নাইয়ার, যাকে তিনি বলেছিলেন, তোমার জীবনে সুরকার হওয়া হবে না ।

এমন কি ওপি নাইয়ার সামনে আসাতেও চিনতে পারলেন না ।
ওপি বললেন – স্যার আমিই সেই লোক, যাকে আপনি বলেছিলেন , তোমার কোনোদিন সুরকার হওয়া হবে না । সেই আপনিই কিন্তু আমাকে ডেকে এনেছেন ।

মুখার্জিবাবুর মনে পড়ল ! আরে তাইতো ! তবে এরকম ভবিষ্যৎ বাণী তো হামেশা ফেল করে না, তবে তোমার ক্ষেত্রে খাটে নি দেখে আমি খুশী । বলো কত নেবে তুমি সুর করতে ?

স্যার, এক লাখ টাকা । এর কমে আমি সুর করি না ।
চলো – ঠিক আছে । টিউন কিন্তু হিট হওয়া চাই ।
হবে স্যার- নিশ্চিন্ত থাকুন ।
তারপর যা হল- সেটা ইতিহাস ।

এখানে একটা কথা বলা দরকার । যে “হর্স বিট” ব্যবহার করা হয়েছিল, ছবির মূল গানটিতে,( তুমসা নেহি দেখা) সেটা কিন্তু পঙ্কজ মল্লিকই প্রথম ব্যবহার করেছিলেন- ডক্টর ছবিতে (১৯৪১) ।

গানটি ছিল - চলে পবন কি চাল, পঙ্কজ মল্লিকের নিজের গলাতে ।

প্রথমে নৌশাদ, পরে ওপি ব্যবহার করেন এই “হর্স বিট” ।

ওপি বেশী ব্যবহার করাতে এই “হর্স বিট” – ওনার সিগনেচার হয়ে যায় ঠিকই তবে ওপি এটা নিজের মুখে বলেছিলেন গুরু হিসেবে মানা পঙ্কজ মল্লিকের ব্যাপারে ।
একটু আশকথা পাশকথাতে যাই এখন ।

ওপির আগে এস্রাজকে কেউ ফ্লিম মিউজিকে আনেন নি ।

এমনকি দুটো পাথর বা কাঠ ঠুকে, খালি গলায় গান গেয়ে পয়সা চান যে সব বিভিন্ন পথ গায়করা , সেটাও ফ্লিম মিউজিকে ওপির অবদান ।

প্রেমের গানে যে বাইজী বাড়ীর রাগপ্রধান গানে ব্যবহার করা এস্রাজ ব্যবহার করা যায়, সেটা ওপি হাতে নাতে করে দেখিয়েছিলেন – কাশ্মীর কি কলি ছবিতে, দিবানা হুয়া বাদল গানে ।

পণ্ডিত রামনারাইনের এস্রাজ, ওস্তাদ রইস খানের সেতার আর আলবুকার্কের বাজান- চেলোতেই গানটি সুপার ডুপার হিট ।

মাত্র তিনটে বাদ্যযন্ত্রেই কামাল করেছিলেন – বাদ্যযন্ত্রীদের সহায়তায় ।

পঙ্কজ মল্লিক বা রাইচাঁদ বড়ালকে তিনি গুরু মানতেন, সেটা আগেই লিখেছি ।

ওপি যে চারজন রেকর্ডিস্টের সাথে কাজ করেছেন – তাদের মধ্যে তিনজনই বাঙালি ।
মুকুল বোস, রবীন চ্যাটার্জি, আর ঈশান ঘোষ । অপর রেকর্ডিস্ট হলেন – মিনু কর্ত্রাক।

এরা রেকর্ডিং করতে সাহায্য না করলে – ওপি নিজে এত জীবন্ত মিউজিক করতে পারতেন না বলে, বারবার স্বীকার করেছেন।

ইয়ে চাঁদসা রোশন চেহেরা গানেতে ওই কাঠের টুকরো বাজিয়েছিলেন – সহকারি, জি এস কোহলি ।

জি এস কোহলি অবশ্য ঢোলকও বাজাতেন ।

ফাগুন ছবিতে পাঁচটা গানে রাগের ব্যবহার শুনে বিখ্যাত গায়ক আমীর খাঁ বলেছিলেন – ওপি, তুমি যে বলো, গান কোনোদিন শেখো নি – এটা তো মিথ্যে কথা ।

আমি যা বলি ঠিক বলি । হারমোনিয়াম নিজে বাজানো শেখা ছাড়া আর কিছু শিখি নি।

বাজে কথা ছাড়তো । পিলু রাগের ওপর এই সব গান এক কথায় অপূর্ব ।
ওপি তো হাঁ ।

পরে অবশ্য অনেক গানে তিনি বিভিন্ন রাগের ব্যবহার করেছেন । তবে সেটা শিখে না ওস্তাদ রইস খানের সহযোগিতায়- সেটা আর জানা যায় নি ।

পিলু রাগের ওপর ভিত্তি করে তিনি কিন্তু আপাত চটুল গান তৈরি করেছিলেন, যেমন:-

কভি আর কভি পার ( আর পার ১৯৫৪)

লেকে পহেলা পহেলা প্যার( সি আইডি ১৯৫৬)

তবে, ফাগুনের এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া, এই গানটি ময়মনসিংহ গীতি থেকে নেওয়া এটা ওপি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, যদিও গানটি পিলু রাগের ওপর তৈরি ।

========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,
ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি।


Sunday, September 10, 2017

অন্য যাদুগর-৩



১৯৫৪ তে মুক্তি পেল – দত্তা সায়েবের “আর-পার । প্রতিশ্রুতি মত ওপিজী সুরকার ।

জমজমাট হিট । কি গানে বা ছবি হিসেবে ! এবারে বোনাস হিসেবে নাইয়ার সায়েব পেলেন, বেশ কিছু টাকা উপরি হিসেবে ।


মেরিন ড্রাইভের হোটেল – এভারগ্রীনে ওপি এবারে গ্যাঁট হয়ে বসলেন ।
এখন তো হোটেলের কামরাতে প্রডিউসারদের লাইন নিশ্চয়ই লাগবে ।


দরজাতে খটখটের অপেক্ষা মাত্র । দিন যায়, সপ্তাহ যায়, করে করে তিন মাস চলে গেল- কারও টিকির দেখা নেই । অবশেষে কামরার দরজায় খটখট্ ।

দরজা খুলে দেখেন – হোটেলের ম্যানেজার । ম্যানেজার বলল – অনেক দিন তো হল, এবারে বাকি ভাড়াটা দিন ! না হলে- আপনাকে জিনিস পত্র সহ বাইরে বের করে দেব ।

ওপি ঘাবড়ে গিয়ে তুতলে বললেন – আর দিন পনের সময় দিন । আমি দিয়ে দেব ।


এই যে টাকা দিতে পারবেন, এটা বলার সাহস কোত্থেকে পেলেন তিনি?
বর্তমানে, একই ছবিতে দু তিনজন সুরকার থাকেন, এবং এটা কোন ব্যাপার নয় ।


সেকালে, কিন্তু এটা হত না । দুটো হাফ ছবি তিনি পান নি যে, তা নয় ।
একটা হল – মোঙ্গু, শেখ মুক্তারের প্রডিউস করা ছবি, মাস্টার মহম্মদ সফি তার সুরকার ।

আর একটা হল – মেহেবুবা । কে অমরনাথ প্রডিউসার । সুরকার – রোশন ।


ওপিজির আত্মসম্মানে লাগছিল – এই হাফ ছবি দুটোর সুরকার হিসেবে কাজ করতে ।

তবে, টাকা বড় বালাই আর হোটেলের ম্যানেজার ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে ।

কাজ দুটো নিয়ে নিলেন । লতাজী তখন রোশনের সুরে গান রেকর্ড করে ফেলেছেন মেহেবুবা ছবির ।


এদিকে রোশনের সাথে কোনোকারণে ঝগড়া হয়ে গেছে কে অমরনাথের।

আর শেখ মুক্তারের পছন্দ হচ্ছিল না, মাস্টার সফির সুর ।


ঠিকঠাক ভাবে বলতে গেলে একদিনে প্রায় পাঁচটা গানে ওপি সুর দিতে পারতেন, কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে কখনই বলেন নি ।

সুর করেই তিনি নোটেশনের জন্য তাঁর সহকারী জি এস কোহলি বা সেবেস্টিয়ান ডি সুজাকে দিতেন । পরের দিকে অবশ্য সেবেস্টিয়ান ডি সুজা ছিলেন না, তবে বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে অনেকেই ছিলেন, যাঁদের নাম ক্রমশ প্রকাশ্য- এই লেখায় ।


জিএস কোহলি কিন্তু নাইয়ার সায়েবের শেষ ছবি পর্যন্ত ছিলেন সহকারী।


এদিকে – তখনকার সুরকারদের সংগঠনের অন্যতম নেতা ছিলেন , অনিল বিশ্বাস আর নৌশাদ ।

তাঁরা এসে ওপিজীকে বললেন – এটা ঠিক হচ্ছে না নাইয়ারজী । রোশন সায়েব আর মাস্টার সফি কিন্তু বড় সুরকার । তাঁদের একটা মান সম্মান আছে আর আপনি এঁদের দু দুটো সিনেমার কো মিউজিক ডিরেক্টার হচ্ছেন !

জানি, জানি – তবে কোন উপায় নেই !

কেন?

বরfবরের স্পষ্ট বক্তা – নাইয়ার সায়েব উত্তর দিলেন :-


ম্যানেজার আমাকে বের করে দেবে বলেছে ভাড়া না দিলে । আপনারা ভাড়াটা দিয়ে দিন, আমি আর মিউজিক করবো না ।


কে এখন ভাড়া মেটাবে টাকা দিয়ে !

অনিল বিশ্বাস আর নৌশাদ সায়েব গজগজ করতে করতে চলে গেলেন ।
মঙ্গু সিনেমাতে আশা ভোঁসলে ভালো ভাবে গাইতে সুযোগ পেলেন ।

গীতা দত্ত্ তো ছিলেনই । তাঁকে ছাড়া তো ওপি সুর করবেনই না ।

গীতাজীকে ব্ল্যাক বিউটি বলে ডাকতেন ওপি ।

এতো গেল ১৯৫৪ র কথা ।

৫৫ তে পেলেন – বাপরে বাপ আর মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ । বাম্পার হিট ।

১৯৫৬ তে সেই যুগান্তকারি ছবি – সিআইডি ।

হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন, সুরে এবং গানে ।

এতদিন ওপি জী একটা ট্যাক্সি করে সারা বোম্বে ঘুরে বিভিন্ন স্টুডিওতে যেতেন । দিনভর ভাড়া উঠত – প্রায় একশ টাকা, এখনকার দিনে প্রায় হাজার বারোর সমান ।

এমন নয় যে তিনি ঘুরেই বেড়াতেন । একটা স্টুডিও তে গিয়ে হয়তো ঘন্টা পাঁচেক থাকতেন । ট্যাক্সিও দাঁড়িয়ে থাকত ।

বন্ধুরা বলল – এবার একটা গাড়ি কিনে ফেল রে ।

তিনিও ওপি নাইয়ার । সৌখীন । কিনে ফেললেন – ইম্পালা ।

দিন দুয়েক পর গাড়ী নিয়ে গেলেন –শিবপুরীতে । এতদিনে মা বাবা চলে এসেছেন শিবপুরীতে । ওপি জানতেন সেটা ।


বাবাকে বলে এসেছিলেন পাটিয়ালা ছাড়ার আগে- যদি কিছু হতে পারি, তবেই আমার মুখ দেখাবো, নয়তো নয় ।

মা বাবা দেখে তো থ । আরে ! সবাইকে বলি জানিস ?


কি?


এই অমকার প্রসাদ নাইয়ার আমার ছেলে, কেউ বিশ্বাস করে না ।
তা যাও আমার গাড়ী নিয়ে, বন্ধুদের বলে এসো ।

বাবা বললেন – জনা দশবারোকে । এলেন প্রায় তিনশর ওপর ।
সবাইকে বলতে হয়ে গেলেন – তিনিই সেই অমকার প্রসাদ ।


শিবপুরী ছাড়ার আগে বাবা মহেন্দ্র প্রসাদ নাইয়ারকে বলেছিলেন :- You kidnapped my personality in my childhood and I polished my personality staying far from you.


হ্যাঁ ! ইংরেজিতেই বলেছিলেন ।




========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,


ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ।

Saturday, September 9, 2017

অন্য যাদুগর-২



নাইয়ার সাব মনের দুঃখে চলে গেলেন – পাতিয়ালা ।

শশধর মুখর্জির কথাই ঠিক হল । আর সুরকার হওয়া হবে না তাঁর ।
এদিকে, ম্যাট্রিক কোনোরকমে উৎরেছেন । একবার তাঁর নিজের সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন:-

“আমার পরিবারে আমিই একমাত্র অশিক্ষিত । কি আর করবো ? পড়তে টরতে তো ভালোই লাগে না ।

মাট্রিক আমি পাশ করেছিলাম – ফার্স্ট ক্লাস থার্ড ডিভশনে । আটশোর মধ্যে মার্কস পেয়েছি –তিনশো চল্লিশ।

কলেজে, চাপাচাপিতে ভর্তি হয়েছিলাম ঠিকই, তবে ওখানেই শেষ ।”

তা পেলেন তিনি চাকরি, তবে মিউজিক ট্রেইনার হিসেবে – একটা মহিলা কলেজে ।

অধ্যক্ষাও মহিলা, তবে বিবাহিতা । কি করে যেন সেই মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন ।

একদিন হাতে নাতে ধরা পড়াতে, চাকরি ছেড়ে পালালেন – অমৃতসর ।

এদিকে বোম্বেতে হইচই । কোথায় সেই ছেলেটা, যে সি এইচ আত্মার গানে এত চমৎকার সুর করেছে! গান তো সুপার হিট্ ।

খোঁজ – খোঁজ । চিঠি- টেলিগ্রাম, কারও কোনো জবাব নেই ।

উত্তর আসবে কি করে ? চিঠি- টেলিগ্রাম, যাচ্ছে পাতিয়ালায় আর তিনি অমৃতসরে ।

বাড়ীর লোকও মাথা ঘামায় নি ! ব্যাটা- লুচ্চা লাফাঙ্গা ! থাক যেখানে খুশী ।

যাই হোক, ধরে বেঁধে নাইয়ার সায়েবের বিয়ের দিন ঠিক হল- ২৯ শে মে ১৯৫১ ।

কি কাণ্ড ! সেইদিনই তিনি খবরটা পেলেন – বোম্বের এক প্রডিউসার, দিলসুখ পাঞ্চোলি খুঁজছেন নাইয়ার সায়েবকে ।

খবর পাঠান থেকে প্রায় দেড় থেকে দুবছর বাদে, সংবাদটা পেলেন ।

গাঁটরি বেঁধে সোজা বোম্বে । ট্যাঁকে নববিবাহিতা বউ ।

উঠলেন – এভারগ্রিন নামে একটা হোটেলে । পাঞ্চোলি সায়েবের সাথে দেখা হল ।

পাঞ্চোলি সায়েবের নতুন সিনেমা – আশমান ।

মাত্র ছয়শো টাকা দিতে চাইলেন - পাঞ্চোলি সায়েব ।

প্রথমে পাঁচশ, তারপরে ফিল্ম হিট হলে, আরও একশ ।

রাজী হলেন , কারণ কোনো উপায় ছিল না । তবে এর সাথে আরও দুটো ফিল্মের সুরকার হিসেবে কাজ পেলেন । ছমছমা ছম্ আর গুরু দত্ত্ র দ্বিতীয় ছবি – বাজী ।

কপালের ফের ! তিনটি ছবিই সুপার ডুপার ফ্লপ্ ।

তিনটে ছবির মধ্যে কেবল একটা গান হিট্ । বিখ্যাত গায়িকা, গুরু পত্নী গীতা দত্ত্ য়ের – তেরে যাদু ভরি নয়ন ।

বছর দেড়েক পার হয়ে গেছে । এক সন্তানের জনক আর এদিকে পকেট গড়ের মাঠ ।

কারদার স্টুডিওর- কে কে ভাটিয়ার সাথে পরিচয় ছিল । তাঁকে খুলে বললেন সব ।

ভাই আমাদের খাবার দাবার তো দূর অস্ত্ । বাচ্চাটাকে যে কৌটোর দুধ খাওয়াবো, তার রেস্তও নেই ।

ভাটিয়াজি একটা একশ টাকার নোট দিয়ে বললেন :- বাড়ীতে যাও আমার গাড়ি নিয়ে । দুধ কিনে আমার কাছে ফিরে এস । আর কার কাছে টাকা পাও তুমি ?

দত্ত্ সায়েবের কাছ থেকে ।

কত পাবে?

আজ্ঞে, হাজার তিনেক টাকা ।

আচ্ছা, ফিরে এসো- দেখছি ।

ফিরে আসার পর ভাটিয়া জি নিয়ে চললেন – দত্তা সায়েবের কাছে ।
নাইয়ার সায়েবকে নিচে গরমের মধ্যে বসিয়ে রেখে ওপরে গেলেন – ভাটিয়া জি ।

এক ঘন্টা পর ডেকে নিলেন ওপরে ।

দত্তা সায়েবের কাছে টাকা চাইলে বললেন – আমার ফিল্ম ফ্লপ । কোথায় টাকা পাবো? এই হাজার টাকা রাখো আর মানে মানে বিদেয় হও ।
গীতাজি বেঁকে বসলেন ।

আরে তুমি তো নতুন একটা ফিল্ম বানাচ্ছো । ওতে একে সুরকারের দায়িত্ব দাও ।

ক্ষেপেছো?

আরে ক্ষেপবো কেন? ফিল্ম ফ্লপ হলেও তো আশমান ছবিতে আমার গানটা তো হিট । পারবে ও পারবে !

বউয়ের কথা ফেলতে পারলেন না -দত্তা সায়েব।

চুক্তি হল – বারো হাজার টাকায় । অ্যাডভান্স হিসেবে পেলেন আরও হাজার টাকা ।

নাইয়ার সায়েব বললেন – বাকী ১১ হাজার টাকা আমাকে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে দিলে আমার উপকার হয় । না হলে – হোটেলওয়ালা বের করে দেবে ।

ডান্ – উত্তর এল, দত্তা সায়েবের কাছ থেকে ।

========
(চলবে)
+++++++++
তথ্যসূত্র :-Z Classic টিভি চ্যানেলে জাভেদ আখতারের স্মৃতিচারণ-২০১৫,

ইউ টিউবে -ও পি নায়ারের আপন স্মৃতিচারণ ও উইকি এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ।