Powered By Blogger

Saturday, March 12, 2011

আধ্যাত্মিক ভালোবাসা


মানুষের কষ্ট পেয়েও চৈতন্য হয় না, এটা খুবই আশ্চর্যের। আর এটা হয়, মিথ্যা পরিচয়কে আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য। সভ্যতার আরম্ভ থেকেই, সারা পৃথিবী কাম এবং কাঞ্চনে মায়াবদ্ধ। মানুষ এটাকেই জীবনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিয়ে সবার শেষে খুবই দুঃখ পায়।

নিজের এবং পরের মন আর দেহকে একাত্ম বোধ করে আমরা যত রকমের সম্ভব- সেই সব আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি;ফলে অশেষ দুঃখ- দুর্দশা সৃষ্টি করে ফেলি। এটাও ঠিক, এর মধ্যেই  কিছু মানুষ জাগতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। মানসিক সম্পদ আর সমৃদ্ধ হয় না। জাগতিক সম্পদ মানেই মানসিক সম্পদের অবনমন।

কথামৃততে আমরা একটা গল্প পড়েছি। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন-কাঁটা ঘাস খেয়ে উটের মুখ থেকে রক্ত পড়ে, কিন্তু তাও উট কাঁটা খাবেই।

আমরা যারা সাংসারিক জীব, তাদের অবস্থা ওই উটের মত। সব রকম কষ্ট পেয়েও ওই একই জায়গায় ঘোরাফেরা করি। মান- অভিমান, কথা বলা বন্ধ, অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে নিজের শরীর খারাপ করা, সংবেদনশীল হয়ে পড়া- সবই একসাথে ঘটে চলে।

এই সবের মূলে কে? আমাদের মন। আমাদের মন সবসময় আমাদের প্রতারণা করতে চেষ্টা করে। অবচেতন বা অচেতন বাসনা, কামনার হয়ে কথা বলে।

অতিরিক্ত সংসারাসক্তি বা জাগতিক আসক্তি আগুনের মত। এতে হৃদয় পুড়তে পুড়তে চলে। আর সেই পোড়া কোনো মলমে সারে না। তা বলে আমরা সবাই সাধু হয়ে যাব? না, সেটা আমি নিজে সাংসারিক জীব হয়ে বলতে পারি না, কিন্তু একটা সমাধান তো বের করতে হবে!

আর সেই ক্ষত মেরামত করতে একটাই মলম।  সেই মলম পাওয়া খুবই কষ্টকর।

আসছি সেই মলমের কথায়। তার আগে আরও দু একটা কথা বলে নেওয়া দরকার।
আমাদের ভালোবাসার জিনিষ আর মানুষগুলো আমাদের মনকে আকর্ষণ করে। ফলে সৃষ্টি হয়- আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ। ভালোবাসা আর বিদ্বেষ, একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ- এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।
সুতরাং, তারা একই পর্য্যায়ের। ঘৃণা এবং বিদ্বেষ হলো ভালোবাসা বা আসক্তির উল্টো দিক। এগুলো কিন্তু মূলত একই জিনিষ!
তাই সব রকম আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। এটা লেখা বা বলা যত সোজা- কাজে অনুবাদ করা ততটাই কঠিন। তাই দরকার সেই মলমের।
সেই মলমটা কি? প্রকৃত ধর্মানুশীলন। এখানে ধর্ম বলতে কিন্তু- অং- বং-চং করে পূজো- আচ্চা নয়।
আমরা ভালবাসব আর সবাইকে সেই ভালোবাসার জন্য উদ্বুদ্ধ করব।
তা হলে প্রশ্ন ওঠে- কাকে ভালবাসব? সোজা কথা- ঈশ্বরকে! কে সেই ঈশ্বর?
বিবেকানন্দ এক কথায় উত্তর দিয়েছেন।
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর!
সংস্কৃত সাহিত্যেও বলা আছে।
তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জিতাঃ।
ত্যাগের দ্বারাই ভোগ কর।
কিছুটা কল্যাণকর ও মানবোচিত আত্মসমালোচনা করা যেতে পারে। সেটা যেন কখনোই ধ্বংসমূলক বা নেতি বাচক আবেগ প্রবণতায় শেষ না হয়। কখনোই ভাবা উচিত নয়- আমি কি পাপী! কত অধম!
বরং ভাবা উচিত- যা হয়েছে, হয়ে গেছে! সেদিন শেষ । আমি জীবনপঞ্জীর নতুন পাতা উল্টে নতুন জীবন শুরু করি।
আর সেই নতুন জীবন শুরু করতে হবে নিজেকে, অপরকে ঈশ্বর কে ভালোবেসে!
আধ্যাত্মিক ভালোবাসার জীবন শুরু করে- সত্যস্বরূপের দিকে যাত্রা শুরু করতেই হবে।
সত্যস্বরূপের দিকনির্ণয়ই -আধ্যাত্মিক ভালোবাসা।
True Love Does exist!
বিজয়তে- সত্যম্, শিবম্, সুন্দরম্ ।
সমাপ্ত

 

Thursday, March 10, 2011

পুরোনো প্রেম

- কেমন আছো?
- কে বলছেন?
- জেনে কি হবে? গলা চিনতে পারছো না?
- না!
- মহিলাদের গলা চিনতে পারাটা কি খুব মুশকিল?
- আমি চিনতে পারি না!
- হুম! আমি চন্দনা!
- ..........
- কি হলো? চুপ কেন?
- .........
- লাইন তো কাটে নি! কিছু বলো!
- কি বলবো?
- তোমার নম্বর কি করে পেলাম!!!!!
- ...............
- চুপ কেন?
- ভাবছি
- কি?
- এখনও তোমার গলা, আমার কাছে গানের মত!
- হুম! এই বয়সেও বেশ পটানো কথা বলতে পারো!
- ..............
- শোনো, আমার মেয়ের অরকুট প্রোফাইলে, তোমাকে ফ্রেণ্ড লিষ্টে দেখলাম! আর ওখান থেকেই তোমার সেল নং!ফোটো দেখেই চিনেছি!
- ................
- লাইন তো কাটে নি! পাশ থেকে কিশোরের ওই গানটা শুনতে পারছি!
- হুম! কোনটা?
- ওই যে!‍ কোই হমদম, না রহা.......
- ওটা আমার প্রিয় গান!
- যাক! তোমার বয়স তো ৬৮ হলো! চুল পাকলেও বেশ হ্যাণ্ডসাম আছো! মেয়ে সামনা সামনি দেখেছে তোমায়, একটা জিটি তে!
- .......
- আবার চুপ!!!!!!!
- কি হবে, এসব শুনে!
- কেন?
- যখন শুনতে চেয়েছিলাম, তখন তো আমায় হাড়গিলে বলেছিলে!
- ঈশ্বরী পাটনী তো পড়েছিলে!
- ....
- কি হলো?
- না! এমনি!
- নিন্দাচ্ছলে প্রশংসাকে কি বলে?
- জানি না!
- হুম!
- একদিন দেখা করো না আমার সাথে!
- কি হবে দেখা করে?
- ছাড়ো তো ওসব! তুমি তো নর্থে থাকো!
- হ্যাঁ
- আমি সাউথে। একটা কমন জায়গা বাছো না, দেখা করার!
- দেখো! সময়ে পরিহাস!
- কি রকম?
- সেই আজো,আমি নর্থ পোল আর তুমি সাউথ পোল!
- কুঁক! কুঁক! কুঁক! কুঁক!
- Call ended!


লেখাপড়া

লেখাপড়া ( আলপথ, জানুয়ারী ২০১০)




লেখাপড়ার কথা ভাবলে, আজও শিউরে উঠি। এই বয়সেও দুঃস্বপ্ন দেখি, পরীক্ষার হলে কিস্সু লিখতে পারছি না, আর দরদর করে ঘেমে যাচ্ছি।
পরীক্ষার খাতাতে মুজতবা সাহেব নাকি এ্যায়সা আ্যানসার ঝেড়েছিলেন, যে পরীক্ষককেরা বলেছিলেন-
-এনকোর! ( ফিরসে বা রিপিট) আর সেই ক্লাসে তাঁকে আবার রেখে দিতেন। পরের বছর পর্য্যন্ত পরীক্ষককেরা অপেক্ষা করতেন, কখন আবার এইরকম উত্তর মুজতবা সাহেব লিখবেন।( এটা মুজতবা সাহেব নিজেই লিখে গেছেন)
এনকোর ব্যপারটা একটু বুঝিয়ে বললে বোধহয় ভালো হয়। আগেকার দিনে, যাত্রা থিয়েটারে কোন সিন ভালো লাগলে, দর্শকেরা বলতেন--এনকোর! (ইংরেজী শব্দ) আর কুশীলবেরা সেই দৃশ্যটি আবার অভিনয় করতেন!
এ দিক দিয়ে আমার পরীক্ষককেরা আমাকে এনকোর না বললেও, ফার্ষ্ট কল বা থার্ড কলেও আমাকে পাশ করাতেন না! ফলং- প্রহারং। আবার দাদু গিয়ে বণ্ড দিয়ে আমাকে ওপরের ক্লাসে ওঠাতেন।
ঋষি বঙ্কিম বলেছিলেন:- ( মুজতবা সাহেবের রেফারেন্স)
“ছাত্র জীবন হইত বড় সুখের জীবন
যদি না থাকিত এগ-জামি-নেশন!”
একটা চালু কথা(গুজব?) আছে। ঋষি বঙ্কিমও নাকি প্রথম সুযোগে স্নাতক পর্যায়ে পাশ করতে পারেন নি। যেহেতু, ওই পরীক্ষা কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরীক্ষা ছিল, সঙ্গে সঙ্গে গ্রেস মার্ক দিয়ে পাস করানো হয়! ( প্লিজ, গুজবে কান দেবেন না)
ওই দুই লাইনের কবিতাটা পড়ে মনে হয়, কথাটা সত্যি হলেও হতে পারে। যাই হোক, রেডুকুৎসিও আব আ্যবসার্ডাম ( রিডিউসড টু আ্যবর্সাড থিংস্- আবার মুজতবা সাহেব!!!) সূত্রে আমি পরীক্ষার ব্যাপারে মুজতবা সাহেব আর ঋষি বঙ্কিমের সমগোত্রীয়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
এক তালেবর ম্যাট্রিকে ফেল করে, নাকি বলেছিল:- ম্যাট্রিকুলেশন এক্সামিনেশন ইজ এ গ্রেট বদারেশন টু আওয়ার নেশন। ফাদারস আ্যডভাইস ফর কালটিভেশন আ্যাণ্ড মাদারস কনশোলেশন।
সেই মাতব্বরটি ( আমার কাছে প্রাতঃস্মরণীয়) ইতিহাসে, বাবর সম্বন্ধে লিখেছিল-
বাবর ওয়াজ এ গ্রেট এম্পপেরর। হি ফ্যাটাচুলেটেড আ্যণ্ড ল্যাটাচুলেটেড। হি অলসো পারপেনডিকুলারলি গরমরালাইজড এভরিথিং!
আরও ছিল, কিন্তু সেটা আর জানা যায় নি! ( দেশের কি দুর্গতি! মুন্না ভাইয়ের ভাষায় “ওয়াট লগা দিয়া!”)
হেসে উড়িয়ে দিলেন তো! তা ঠিকই করেছেন। এসব অবাস্তব কথা পড়াই উচিত নয়! মহা পাপ!
আমার তখন ক্লাস সেভেন। সংস্কৃত শেখান হচ্ছে। পণ্ডিত মশাই শেখাচ্ছেন- বৃক্ষ ( উচ্চারণ করেছিলেন- বৃখ্ স) হইতে লম্ফ প্রদান কর।
বৃক্ষাৎ উল্লম্ফ!
শান্তি (আমাদের পাগলা দাশু) বলল- স্যার, থুড়ি পণ্ডিতস্যার- ট্রাম হইতে লম্ফ প্রদান কর, এর সংস্কৃত কি হবে?
ফার্ষ্ট বয় কার্ত্তিক ভদ্রের উত্তর:- ট্রাম- অ কারান্ত শব্দ, নর শব্দের ন্যায়, সুতরাং ওটা হবে-
ট্রামাৎ উল্লম্ফ!
পণ্ডিতস্যার খেপে গেলেন। বললেন:-
ওহে শাখামৃগের ( বাঁদর) দল! ট্রাম, ইংলণ্ডিয় যবন শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় যাবনিক শব্দের প্রবেশ নিষিদ্ধ!!!!!!
তবে, কি হবে পণ্ডিতস্যার?
দাঁড়া, একটু চিন্তা করতে দে!
শান্তি উঠে দাঁড়াল!
-এ কি—খাড়াইলি ক্যান? (পণ্ডিতস্যার, রেগে গেলে বা হতচকিত হলে মাতৃভাষা বলতেন)
-আপনেই তো কইলেন!
-বলদা! তরে কখন খাড়াইতে কইলাম!!!!!
-ছ্যার! অহনেই তো কইলেন!
-ওও বুঝসি। বয়! বয়! ভাবতে দে।
-কিন্তু ছ্যার!
-ক
- ওই যে বলদা কইলেন, হেইডার সমসক্রিত কি হইবো? বলদা তো দুয়ো সম্প্রদায়ই কয়! হেইডা কি যাবনিক শব্দ?
-ছ্যামড়া, তুই তো মহা বজ্জাত! এইডা ন্যায়ের প্রশ্ন! হেইগুলা বোঝোনের বয়স তোগো হয় নাই!
- ছাড়ান দ্যান। অহনে কন, টেরামের সমসক্রিত কি হইবো?
-শকট
- এই দ্যাহেন, তা অইলে গিয়া, বলদা গাড়ীর সমসক্রিত কি?
-ওইটা পরে কমু হনে! টেরাম গাড়ীর তো টিক্কি থাহে! তা হইলে গিয়া- শিখা! আচে- সমন্বিত। লাইন- লৌহবর্ত্ম! ইলেকট্রিকে চলে- বিদ্যুশ্চালিত। উমমমমমম! তা অইল হইবো গিয়া- শিখা সমন্বিত লৌহবর্ত্মে বিদ্যুশ্চালিত স্বতশ্চল শকটঃ। বুঝছস? পুরাডা দাঁড়াইল গিয়া -শিখা সমন্বিত লৌহবর্ত্মে বিদ্যুশ্চালিত স্বতশ্চল শকটাৎ উল্লম্ফ!  
আমরা স্বতঃর্স্ফূত ভাবে হাততালি দিয়ে উঠলাম। শুনে পণ্ডিতস্যার হাঁফ ছাড়লেন! শান্তি, শুধু আস্তে একটা ফুট কেটেছিল- টেরাম, তলে হইল গিয়া জাতে বাউন!!!! শিখা আসে কইতাসেন!!! পণ্ডিতস্যার বোধহয় শুনতে পান নি বা শুনেও উপেক্ষা করেছিলেন।
তখনও কি পণ্ডিতস্যার জানতেন, আরও কি অপেক্ষা করে আছে তাঁর জন্য? দুই বছর ধরে এনকোর পাওয়া আর একটি ছিল, গদা। ভালো নামটা আর মনে নেই! ওই নামে ডাক শুনতে অভ্যস্থ ছিল সে। ফলে ভালো নামে ডাক শুনলে, ও নিজেও উত্তর দিত না। কারণ বোধহয় একটাই ছিল- ভালো নামটা ও নিজেও ভুলে গেসল। গদা খুব শিব্রাম পড়ত!
তা গদা হঠাৎ কাঁচুমাচু হয়ে জিজ্ঞেস করল-
-ছ্যার! একডা শ্লোকের মানে একডু কইয়া দেবেন?
- আরে ক না! সংস্কৃত শ্লোকের মানে কইতে পারুম না!!!! তইলে কিসের আমি হরিহর দেবশর্মণ?
- কইলাম তইলে- বলে করযোড়ে, মুদিত নয়নে; গদা সুর করে শুরু করল: -
হবর্তাবা কহিপ্তাসা, টজেগে ন শকেডুএ।
রন্তগাযু শদে ইব সীবাঙ্গবঃ।।
স্পষ্টতই পণ্ডিতস্যার কুলকুল করে ঘামছেন, দেখতে পেলাম। তখন, ইস্কুলে ইলেকট্রিক ছিল না। রতন, জোরে জোরে পাখার হাওয়া করতে লাগল। সাথে, পণ্ডিতস্যার মাথাকে বাম থেকে ডান দিকে ঘোরাতে শুরু করলেন। শান্তি জিজ্ঞেস করল:-
-মাথাডা ঘোরান ক্যান, পণ্ডিতস্যার?
-আরে, হাওয়ার ইস্পিড বাড়াইতেসি, লগে মাথা থিকা শ্লোকের মানে বাইর করনের চেস্টা!
ঢং ঢং করে ক্লাস শেষ করার ঘন্টা পড়ল। ক্লাস থেকে বেরিয়ে, পণ্ডিতস্যার দৌড়ে টীচারস রুমের দিকে চলে গেলেন। পরে, টিফিনের জন্য আধঘন্টা ছুটি। সবাই গদাকে চেপে ধরলুম। ক, শ্লোকটার মানে ক- শান্তির চিৎকার! গদা শুরু করল:- আরে ওই শ্লোকটা বুঝছস, কতকগুইলা খবরের কাগজ আর সাময়িক কাগজের নাম উল্টাইয়া দিসি। লগে, ইব আর বিসর্গ জুইড়া দিসি।
- খুইল্যা ক!
- হবর্তাবা= বার্তাবহ, কহিপ্তাসা= সাপ্তাহিক,টজেগে ন শকেডুএ= এডুকেশন গেজেট, রন্তগাযু= যুগান্তর, শদে= দেশ, সীবাঙ্গব = বঙ্গবাসী। বোঝসস?
টিফিন পিরিয়ড শেষ হল। ইংরাজীর ক্লাস। স্বয়ং হেডস্যার আসবেন। আমরা সবাই তটস্থ।
হেডস্যার এসেই বললেন- তোদের আজ ইংরাজী কথপোকথন শেখাব। আ্যাই গদা, তোকে আমি ইংরাজীতে জিজ্ঞেস করব আর তুই ইংরাজীতেই উত্তর দিবি। বুঝেছিস? গদা মাথা নাড়ল। সেটাতে, হ্যাঁ, না কিছুই বোঝা যায় না।
হেডস্যার শুরু করলেন-
-হোয়াট ইজ ইওর ফাদার?
- মাই ফাদার ইজ আমব্রেলা ফ্যাকটরী।
- হোয়াট?
- মানে ছ্যার, আমার বাবায় ছাতাকলে কাম করে!
হেডস্যার খানিক চোখ বন্ধ করে বসে থাকলেন। কিছু যেন বোঝার চেস্টা!!!!!
এরপর শান্তি! ( সবাই লাষ্ট বেঞ্চ, আমি সহ)
- হোয়াট মেটেরিয়ালস ইউ ইউজ ফর ইয়োর হাউজ?
- মাই হাউজ ইজ চ্যাকার ব্যাড়া ছ্যার!
- হোয়াট ইজ চ্যাকার ব্যাড়া? (হেডস্যারের হুংকার!!!)
- ছ্যার, চ্যাকার ব্যাড়া? দাউ দিয়া কাটিং ব্যাম্বু ঝাড়া। পাতলা পাতলা কাটিং দাড়া। ইঞ্চি ইঞ্চি গাড়া গাড়া। পেরেক দিয়া ঠুকিং ব্যাড়া! দ্যাট ইজ কলড চ্যাকার ব্যাড়া!
সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে যা হয় আর কি! সপাং সপাং করে লাষ্ট বেঞ্চের সবাইকে বেত মেরে তিনি ছিটকে বেরিয়ে গেলেন ক্লাস থেকে!!!!!!!!
পরের ক্লাস, বিজন স্যারের। অঙ্ক!!!!!!! তাও আবার আ্যলজেবরা! বেতের মারের ব্যাথা যায় নি।
বিজন স্যার বোর্ডে, বড় বড় করে লিখলেন:-
এক্স=১০
ওয়াই=২
তাহলে এক্স/ওয়াই= ?
শান্তি!!! তুই বোর্ডে আইয়া অঙ্কটা কইষা দে!!!
শান্তি বীরদর্পে বোর্ডে গেল। চক দিয়ে লিখতে লাগল:-

  ২)১০(৪১
     ৮  

                                        ------------- 
                                     ২

-------------


                                     ২

-------------



X
সুতরাং, এক্স/ওয়াই=৪১।
ঢং করে ছুটির ঘন্টা! বিজন স্যার বেরিয়ে গেলেন।
শান্তি চীৎকার করে বলল- ল্যাহাপড়া!!!!!
আমরা কোরাসে বললুম- এনকোর!!!!!!!
   
 

খোসগপ্পো-৩

খোসগপ্পো-৩


ক্ষেতু বাগচী, হাঁফাতে হাঁফাতে ঢুকলেন চন্দন ডাক্তারের চেম্বারে। স্বদেশী তারক মোত্তির আজ দিশি খুঁজেই পান নি! তাই, বাধ্য হয়ে ওই ফরেন খেয়ে এসেছেন। মেজাজটাও বেশ ফুরফুরে !! একটু খুঁতখুঁতি ছিল, ওই ফরেন খাওয়া নিয়ে! তবে, দোকানদার বলেছে- এই সব তো এখন স্বাধীন ভারতেই তৈরী হয়! তা হলে আর চরিত্রভ্রষ্ট কি করে হবেন, তারক দা!!!! তাই তারক মোত্তিরের আজ ফুরফুরে মেজাজ!
চন্দন বলল:- কি ব্যাপার, ক্ষেতুদা? হাঁফাচ্ছেন কেন!!! রঘু ডাকাত, থুড়ি মাতালের পাল্লায় পড়েছিলেন নাকি?
এ্যাই!!!!! মাতাল বলবে না চন্দন! খুব খারাপ হবে!!- তারক মোত্তির গর্জে উঠলেন!
নাটু লাহিড়ী, সকালের বাসী খবরের কাগজটা আদ্যপান্ত পড়ে , প্রির্ন্টাস লাইন মুখস্থ করতে করতে ভুরু উঁচু করে বললেন।
-তা হলে, “চা” তাল বলাই ভালো আর মা-ও বেশ তাল পাবেন!
-সেটাই বরঞ্চ ঠিক! তারক মোত্তিরের জবাব! আমরা তো
“ বল হরির” চায়ের নেশায় পাগল! তা সে ব্যাটাচ্ছেলে গেল কোথায়? এখনও তো চায়ের পায়েসটা দিল না! ওফ্! কাল যা চিনি দিয়েছিল, খালি তেজপাতাটা দ্যায় নি, চায়ে!!
ক্ষেতুদা বললেন- আমার মাথায় জঙ্ঘা হয়েছে!!!!!
সবাই সমস্বরে চীৎকার করে উঠল- কি বললেন, ক্ষেতুদা? মাথায় জঙ্ঘা?
জঙ্ঘা মানে তো উরুসন্ধি!- নাটু লাহিড়ী বিড়বিড় করে উঠলেন।
-নাহে! সত্যি সত্যি মাথায় জঙ্ঘা হয়েছে আমার! মানে ব্রেনে জং ধরে ঘা হয়ে গেছে! যা কাণ্ড হলো আজ! 
- কি হয়েছে, ক্ষেতুদা?
- আর বলো কেন! বঙ্কা! ওই যে আমার জমিদার বন্ধু তপার ছেলে! অনেকদিন বাদে দেশে ফিরেছে! চিঠির পর চিঠি দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে আমার ছেলেকে ই-মেল করেছিল! ছেলে সত্যি কথাটা বলতে পারে নি! উত্তরে বলেছিল- তুই দেশে একটু আয়! তারপর না হয় সব কথা বলা যাবে।
-তারপর? তারপর?
- ছেলেকে বলেছিলাম, বঙ্কা এলে সইয়ে সইয়ে সব খুলে বলবি! তারপর না হয় ও দেশের বাড়ী যাবে! তা আজ বঙ্কা এসেছে! ছেলে সব খুলে বলল!
- কি বলল আর কিভাবে বলল?
তা হলে শোনো ওদের কথাবার্তা! আমি বলে যাচ্ছি।
-আয় বঙ্কা!
- আরে বল তো, বাড়ীর সব কে কেমন আছে!
- সবাই ভালো! তবে তোদের ওই বুড়ো ঘোড়াটা মারা গেছে!
- সেকি??????? কি করে!!!!
- আরে! ওই যে আমডালটা ভেঙ্গে পড়লো যে ওর মাথার ওপর!
- আমডালটা ভেঙ্গে পড়ে মারা গেল? কি করে সম্ভব এটা!
-ঠিক, তা নয়! তবে ওই ফলন্ত আমগাছটা ঝড়ে ভেঙ্গে পড়াতে মাসীমা মারা গেলেন যে!
- কি! মা মারা গেছে?????
- আরে, মেসোমশাই চলে যাওয়ার পর, মাসীমা যখন তখন বাগানে চলে যেতেন যে।
- এ্যাঁ!!! বাবা মারা গেছে!
- তা! মেসোমশাই কি করবে!
- বৌমা আর নাতি একদিনে কলেরায় মারা গেলে শোক সহ্য হয়! তুইই বল না!
- হায়! হায়! সব মারা গেছে আর তুই বলছিস- সব খবর ভালো?
- দ্যাখ, বাবা বলেছিল, তোকে সব সইয়ে সইয়ে বলতে, তাই আর কি!
- হম্! তা হলে, আর আমার দেশে গিয়ে কি হবে?
- হ্যাঁ! গিয়ে কাজ নেই। সবই তো তোর জ্যাঠা, কাকারা দখল করে নিয়েছে!
- তা হলে আর কিছু করার নেই! তুই আমাকে একটু খেতে দে! খেয়ে বিশ্রাম করে দমদমাতে গিয়ে ফিরতি প্লেন ধরি!
- হ্যাঁ! তাই বরং কর!
সব শুনে, তারক মোত্তির বললেন:-
সত্যি! মাইরী! আমারও মাথায় জঙ্ঘা হয়ে গেল! নেশাটাও গেল! যাই বাড়ী যাই!
সেদিনের মত আড্ডাটা ভেঙ্গে গেল।
 


খোশগপ্পো-২

খোশগপ্পো-২

আরে! ক্ষেতুদা! আসুন! আসুন! কি খবর আপনার? চন্দন বলল।
-আর বলো না হে! আমার এই দুদিন ধরে, সন্ধেবেলায় সেরিব্র্যাল আ্যটাক হচ্ছে!
- সেরিব্র্যাল আ্যটাক? আপনার? তাও দুদিন ধরে? আর আপনি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন!
- দেখ, চন্দন! ইয়ার্কি মেরো না! বলি- মাথাটা ধরছে সন্ধে বেলা করে।
-মাথা ধরা আর সেরিব্র্যাল আ্যটাক এক হলো? আপনি দেখচি আমার ডাক্তারী ভুলিয়ে ছাড়বেন!!!!!!
-রাখো তোমার ডাক্তারী! আমার বাবার বন্ধু ছিলেন হরেন ডাক্তার। ডঃ হরেন মুখোটি! সন্ধে বেলায় আফিং খেতেন। আমার বড় ছেলে হওয়ার খবর ওনাকে দিতে গেছিলাম। এই ধরো রাত ৮ টার সময়! শুনে, হরেনকাকা বললেন- কবে ছেলে হলো?
বললাম-আজ সন্ধে ৬ টার সময়! শুনে কি বললেন জানো?
- কি?
বললেন- সর্বনাশ! এর মধ্যেই তুই হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিস?
জয় মা তারারারারা! ব্রহ্মময়ী মা! বলে ঢুকলেন, তারক মোত্তির। শেষের কথা গুলো কানে গিয়েছিল।
- যা বলেছেন, ক্ষেতুদা! আমি হয়েছিলাম হাসপাতালে! সে সময়ে হাসপাতালের খুব একটা রেওয়াজ ছিল না। লোকে হাসপাতালকে ভয়ই পেতো! তা আমাকে বাবা বলল- শোন!তোর একটা কুষ্ঠি করাতে হবে। তোর জীবনে কিছু হবে কিনা একটু জেনে আয়!
তো গেলুম, আমাদের বিরিঞ্চি ঠাকুরের কাছে! জিজ্ঞেস করলেন- কোথায় হয়েছিস! বললাম- হাসপাতালে!
বিরিঞ্চি ঠাকুর বড় একটা হাঁ করে অবাক হয়ে বললেন- সর্বনাশ!!!!! কি হয়েছিল তোর???????
চন্দন বলল- যাঃ! এ হয় নাকি!!!!! যত্ত সব খন্ড ত ব্যাপার!
ক্ষেতুদা ক্ষেপে গেলেন।
শোনো হে! অনেক কিছু হয়! শুধু “Zআনতি পারো না”! আমাকে একবার এক চোখের ডাক্তার বলেছিল-ক্ষেতুদা, আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক হয়েছে!
- ক্কি!!!!!!
-মানে, চোখের মণি তো চোখের হার্ট!!!! সেখানে ছানি পড়েছে! তাই আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক !
এপ্পর শুনবো থাইয়ের ওপর থাইসিস হয়েছে!- চন্দন বলল।
হতেই পারে, চন্দন! ক্ষেতুদার জবাব! আজকাল চিকিৎসা শাস্ত্র যে বেগে এগুচ্ছে!!!!!!!! এক্কেরে মনে হয়- লোকাল ট্রেনের ইএমইউ কোচে প্রচণ্ড তলপেটের চাপ!
দুটো বাচ্চা ছেলে ঢুকলো চেম্বারে!
-ও দাদু!!!!! চাঁদা দেও না!
-দোবো! তারক মোত্তির বললেন। তার আগে ইংরেজী ট্র্যানশ্লেশন কর!
- উফ! কি জ্বালা! আচ্ছা বলুন। এক চান্সে বলে দেবো।
- বল! একটা পচা কলা, গোটা কাঁদিকে পচিয়ে দ্যায়!
- ওও ও! এটা! খুব সোজা!
-বল দেখি!
- One পচা কলা পচেস দি Whole কাঁদি।
ধূপ করে একটা আওয়াজ ! সবাই ঘুরে দেখে- ক্ষেতুদা দাঁত কপাটি লেগে মৃগীরোগীর মত কাঁপছেন।
চন্দন ছেলে দুটোকে ১০ টাকা দিয়ে বিদেয় করল।
-কি হলো ক্ষেতু দা! কাঁপছেন কেন?
- না! অনেকদিন আগেকার একটা কথা মনের পড়ল তো! তাই কাঁপছি!
-কি?
- ছোট ভাই যখন আ্যমেরিকা থেকে এক, ও দেশী বন্ধু কে নিয়ে এদেশে এলো, সেই বন্ধুটাকে জলযোগের দই খাইয়েছিলাম। সেই ভ্রাতৃবন্ধুটি দই খেয়ে তারিফ করে বলল-What is Doi? (নাকি সুরে) এদিক ওদিক তাকিয়ে ছোটভাই নেই দেখে বলেছিলাম – Sleeping milk in the night, morning tight. ও কি বুঝল কে জানে!!!! গম্ভীর হয়ে গেল।
বল হরি চা নিয়ে এসে বলল- দুধ শেষ! আজ আর চা হবে না!
ঠিক আছে! আমারও একটা বিয়ের নেমন্তন্ন আছে! আজ যাই! চন্দন বলল!
সেদিনের মত আড্ডাও শেষ!
 

খোশগপ্পো

খোশগপ্পো

“ঈশাক্ষীর উসুর্ব্বুদে মারা গেল মার
নাকেতে নির্জ্জরগণ করে হাহাকার”

হুংকার দিয়ে উঠলেন- ক্ষেতু বাগচী!
-বল্, দেখি এর মানে কি? কাব্যি চর্চা হতিসে? যত্ত সব! সবাই চমকে গেল! এ আবার কোন ভাষায় কথা বলছেন ক্ষেতুদা! হুংকারের চোটে বদরী বাবু চেয়ার থেকে ছিটকে পড়লেন, “বল হরি”র চায়ের গ্লাসে চিনি মেশানোর শব্দটা ফাটা রেকর্ডের মত হতেই লাগলো। তারক খুড়ো, নেশালু চোখ খুলে কে কে বলে চেঁচিয়ে উঠলেন! হলটা কি? উগ্রপন্থীরা কি হানা দিয়েছে না বোম ফাটালো কেউ!!!!! ক্ষেতু বাগচী আবার একটা হুংকার দিলেন- ল্যাভেণ্ডিস্!!!!!!!! সবার পিলে চমকে উঠলো!
কিন্তু,এই কাণ্ডকারখানার পরিপ্রেক্ষিতটা কি?। খুলেই বলা যাক!
রোগীর ভীড় কম থাকায় সন্ধে বেলায় চন্দন ডাক্তারের চেম্বারে আড্ডা বসে। আড্ডার বিষয় টালা থেকে টালিগঞ্জ! তারক খুড়ো মানে তারক মোত্তির স্বদেশী করতেন। বয়স হলেও বেশ তরতাজা! চেহারা এবং মনেও। একটা স্কুলে বাংলা পড়িয়েছেন এককালে। এখন অবসর নিয়েছেন।সন্ধে হলেই একটু চোখটা লাল হয়। বিলিতি খান না। চিরজীবন স্বদেশী করে এসেছেন, তাই “দিশি” খান। জিজ্ঞেস করলে বলেন- হুঁ হুঁ বাবা! স্বদেশী করেছি, তাই চরিত্র ভ্রষ্ট হই নি!
তারক মৈত্রের স্বদেশী করার কথায় সবার একটু কিন্তু কিন্তু আছে! তা সে যাক গে!
কয়েকদিন আগে যেমন, হঠাৎ “বল হরি” জিজ্ঞেস করেছিল-
আচ্ছা! ভগবানের হাইট কত?
ক্ষেতু বাগচী বলেছিলেন- এক্সাট হাইট টা বলতে পারবো না! তবে তিনি গড়পড়তা মানুষের থেকে অনেক অনেক খাটো!
-কেন? সকলেরই জিজ্ঞাসা!
- না হলে, সবাই কেন বলবে- ভগবান!!!! মুখ তুলে চাও!!!!!
 চন্দন ডাক্তার লোকটি বেশ ভালো। ডঃ চন্দন ভাদুড়ি- এম.বি.বি.এস।পশার বেশ জমজমাট।অনেক গরীব লোক পয়সা দিতে না পেরে, জমির কলাটা, মূলোটা দিয়ে যায়! হাসি মুখে তাই নেয় চন্দন ডাক্তার। রাত বিরেতে লোকে ডাকলে চন্দন হাসিমুখে হাজির। এইখানে শহরতলীর গঞ্জে রিক্সা চলে। কোলকাতা শহর বাসে মাত্র ৬ টাকার দূরত্ত্ব। বাস রাস্তার ওপরেই চেম্বার। এর পাশেই হরির চায়ের দোকান! “বল”হরি বলেই পরিচিত। গান করতে করতে হরি চা বানায়! বদরী সান্যাল প্রায়ই ওকে অন্যমনস্ক হয়ে চা বানাতে বলেন। বদরী বাবুর বক্তব্য-এতে “বল হরি”, চাটা যদি দৈবাৎ ভালো বানায়!

আজকের আড্ডাতে বদরী সান্যালের লেখা কবিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কবিতাটা এরকম:-
অনন্ত কাল ধরে, তোমারই প্রতীক্ষায়
খুঁটে খুঁটে খাচ্ছি সময়।
গরুর পাল হাঁচে, সেই গোধূলিবেলায়
ছড়িয়ে যায় কত গোময়।
তবু তুমি আসো নাকো, দেরী কেন হয়?
এটা, বদরীবাবুর ৩২৭১ তম অণু কবিতা। পত্র পত্রিকায় পাঠান, কিন্তু তারা ছাপে না। সম্পাদকদের কবিত্ব বোধ সম্বন্ধে বিরক্ত হয়ে তিনি, তাঁর একটা কবিতা; কম্পিউটারের এ ফোর সাইজে “প্রিন্টিত”( বদরী বাবুর নিজের ভাষা) আকারে নিয়ে রাতে পাড়ার দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছিলেন। কুলোকে বলে চন্দন ডাক্তারের পশার বাড়ার এটা অন্যতম কারণ।
লোকে কবিতা পড়ছে আর মৃগী রোগী হয়ে গিয়ে চন্দন ডাক্তারের কাছে ছুটছে! কবিতাটা পড়ে, লোকে এই কারণে বদরীবাবুর ঠিকানা হন্যে হয়ে খোঁজ করেছে কিছুদিন। চন্দন পরামর্শ দিয়েছিল, বদরীবাবুকে- দাদা, আপনি এক্ষুণি চিৎপুরে গিয়ে মেক আপ নিয়ে মুখটা পাল্টে নিন! না হলে কিন্তু ঘোর বিপদ আপনার!
“বল হরি” কিন্তু বদরী বাবুর খুব ভক্ত! মহম্মদ রফীর গানের সুরে ওনার লেখা কবিতাগুলো চা বানাতে বানাতে গায়! বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গানের রিয়ালিটি শোয়ে নাম দেবার কথা ওর মাথায় বদরীবাবুই ঢুকিয়েছেন। বদরীবাবুর ইচ্ছেটা অবশ্য অন্য কারণে!
নাটু লাহিড়ী সর্দ্দির জন্য ওষুধ নিতে এসেছিলেন! ক্ষেতু বাবুর ল্যাভেণ্ডিস্, শুনে মিউ মিউ করে বললেন!
লবেঞ্চুস? ওটার কারখানায় তো ধর্মঘট!
তারক মোত্তির বললেন- ধর্মঘট, কি সমাস?
নাটু লাহিড়ী উত্তর দিলেন- ধর্মঘট হচ্ছে কমাস! মানে কয় মাস!!!!! ওপস! তারকদা!!!! খালি মাষ্টারী ফলান কেন? যাক! তাআআআআ ধর্মঘট- ৭ মাস হয়ে গেল!!!!
ক্ষেতু বাগচী আবার বললেন- যাও হে! যত্ত সব ফ্যাদরা প্যাচাল! বলো ওই দুই লাইনের মানে কি?
নাটুবাবু দুবার ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে হেঁচে বললেন- আমি পরে আসব চন্দন! কে যেন বলল, কোথায় যেন, কটার সময় যেতে হবে! কার যেন আসার টাইম হয়ে এসেছে! আমি যাই! বলে, সুরুৎ করে কেটে পড়লেন।
চন্দন বলল- দাঁড়ান ক্ষেতু দা! একটু দম নিতে দিন। আপনি যা ভয়ংকর হুংকার দিলেন। পিলে এক্কেরে চলকে উঠিসে। আই বাপস্।
ক্ষেতুবাবু আবার ক্ষেপে গেলেন।
- আমি তো বসেই রয়েসি! খামাকা দাঁড়াব কেন হে? যত্তসব! ওই বদরী যত নষ্টের গোড়া! রোজ একটা করে কবিতা শোনাবে আর আমার কোষ্ঠকাঠিন্য হবে! আজ ইসপার কি উসপার!
বদরীবাবু অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন- আমার কবিতার সঙ্গে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক কি?
- তুমি কবিতার কি জানো হে ছোকরা! খালি কতক অর্থহীন শব্দ লিখে অনর্থক কর্ণ কণ্ডুয়ন করো। তাইতেই তো আমার কোষ্ঠকাঠিন্য হয়!
- যাঃ! বাবা !!!!আমায় ছোকরা বলছেন? আমার রিটায়ার করার ৪ বছর হয়ে গেছে! হে ভগবান!! মুখ তুলে চাও!!!!!
- বদরী, তুমি আর ভগবানকে মুখ তুলে তোমার দিকে চাইতে বল না! ভগবানের পোনডাইটিস হবে! যা ঢাউস- ঢ্যাঙ্গা তুমি!!!!! তোমার একটাই প্লাস পয়েন্ট! গরীব রুগীরা ডায়ারিয়ায় ভুগলে আর চন্দনকে ওষুধ লিখতে হবে না! তোমার কবিতা গুলো পড়িয়ে দিলেই হবে।
চন্দন বলল- ক্ষেতু দা ওটা স্পোণ্ডিলোসিস হবে! পোনডাইটিস নয়!
- আরে ছাড়ো হেঃ!
ইতিমধ্যে বল হরি চা নিয়ে এসেছে! ক্ষেতু বাগচী গুণগুণ করে গাইতে শুরু করলেন-
চায়ে চর্বি
বিড়িতে বল
বাদবাকী যা খাবি
সবই অম্বল!
চা-তে সুরুৎ করে একটা চুমুক দিলেন- তারক মোত্তির! একটা বিড়ি নিয়ে কানের কাছে ধরে পাকিয়ে, দেশলাই দিয়ে বিড়িটা ধরিয়ে বললেন- ঠিক আছে ক্ষেতুদা! আপনার ওই বিদঘুটে কথাগুলোর মানেটা বলুন।
বিদঘুটে! তোমার গিদরিং জ্যাম করে দেব কিন্তু, তারক!
আহা! রাগ করেন কেন, ক্ষেতুদা! তারক মোত্তির ভিসুভিয়াসের মত বিড়ির ধোঁয়া ছেড়ে বললেন। মাফ করে দিন!
বলছি- কিন্তু ফের যদি প্যাচাল পাড়িচ আর ওই বদরী ব্যাটা কবিতা শুনিয়েছচে, তো ওরই একদিন কি আমারই একদিন।ক্ষেতু মোত্তির উত্তর দিলেন।
না! না! কিছু বলবে না বদরীদা! আপনি প্লিজ বলুন! চন্দন ডাক্তার বলল!
বলছি! কিন্তু বলার সময় ভজর ভজর করবে না কানের কাছে। ক্ষেতু বাগচী বললেন।
আরে না! বলুন, বলুন!
বেশ বলছি!
ঈশাক্ষী মানে – মহাদেব! বুঝলে হে! উসুর্ব্বুদের মানে হল, মহাদেবের ঊর্দ্ধনয়ন থেকে রোষানল! মারা গেল মার, - এর অর্থ হলো মরে গেল কামদেব। মার হলো কামদেবের আর এক নাম! নাক হলো স্বর্গ! আর নির্জ্জর হলো যাদের জরা নেই! মানে- দেবতারা!
তাহলে পুরো মানেটা কি দাঁড়াল ক্ষেতুদা?- চন্দন ডাক্তার জিজ্ঞেস করল!
মহাদেবের ঊর্দ্ধনয়নের রোষানলে মদনদেব মারা গেলে স্বর্গে দেবতারা হাহাকার করতে লাগল- বুইচ হে!
-বাবাঃ! কি জিনিস গুরু! ক্ষেতুদা!
- হুঁ! হুঁ! এটা কি বদরীর ফ্যাদরা প্যাচাল নাকি! খালি, ইং তাং কিরিমিচি!
- উফ্! এই ইং তাং কিরিমিচি টা আবার কি? চন্দন বলল।
- ওটা বদরীকে জিজ্ঞেস কর! বাঁদরের মত কবিতা লেখে ব্যাটা!
-সে না হয় বুঝলাম- কিন্তু ল্যাভেণ্ডিস কথাটার মানে কি?
- তুমি একটা লাওয়াঞ্জে লাওয়ারিস! ল্যাভেণ্ডিস এর মানে হচ্ছে ল্যাভেণ্ডার সাবান!
- যা! বাবা! এ আবার কিআ ভাষা!
- বদরী যদি প্রিন্টিত বলতে পারে তো আমি কেন ল্যাভেণ্ডিস বলবো না চন্দন!
-হুম! কিন্তু আবার একটা কথা ব্যাবহার করলেন- লাওয়াঞ্জে লাওয়ারিস! ওটা আবার কি?
- লাফাঙ্গা আর যার কোনো ওয়ারিস নাই!
বদরী খেপে গেলেন।
দেখুন, ক্ষেতুদা- একে আপনি বয়োজেষ্ঠ তার ওপর বারিন্দির! আমারই জাতভাই! তাই কিছু বলছি না! তা বলে আমাকে এ ভাবে অপমান করবেন?
- কোথায় অপমান করলাম? আমি তোমার এই মাথামুণ্ডুহীন কবিতার প্রতিবাদ জানালাম! বুয়েচ? আর বারিন্দিরদের কথা বলো না ভায়া! প্রবাদ আছে- বারিন্দির মরে ভাসে জলে, কাক বলে এ কোন ছলে!!!!! কাকের মত ধূর্ত প্রাণীও বারিন্দিরদের মড়া ঠোকরাতে সাহস পায় না! এত প্যাঁচ বারিন্দিরদের! আমি তো খোলাখুলি বলেচি তোমায়!
- হে! হে! ঠিক বলেছেন ক্ষেতুদা! তারক মোত্তির বললেন।
বুঝলে বদরী!‍ এখানে তো সবাই বারিন্দির! তাই পেরেকদের নিস্তার!
কেন? গম্ভীর স্বরে বললেন বদরী!
এই দ্যাখো! রাগ হয়েসে তো? তা পুরুষের রাগ থাকা ভালো! বারিন্দিরদের তো পেছন ভরা রাগ!
- যাক! ওই পেরেকের কথা কি বলছিলেন, ক্ষেতু দা! বলল, চন্দন।
- বলব আর কি! বারিন্দিরদের মাথায় পেরেক ঢোকালে ইস্ক্রুপ হয়ে বেরোয় জানো?
- ঠিকই তো! নাটুদার সঙ্গে গায়ে গা ঠেকলে, নাটুদা উল্টো সাত পাক ঘুরে যান! জিজ্ঞেস করলে বলেন- প্যাঁচ ছাড়াচ্ছি! এ্যাতোদিনে বুঝলাম কারণটা!
বল হরি, খালি চায়ের গেলাস গুলো নিতে এসেছিল! এই কথা গুলো শুনে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিল।
- ওরে কাঁদিস ক্যান রে ছোকরা!
- কাঁদবু নি! আপনাদের সঙ্গে কত্ত যে গা ঠোকাঠুকি হইসে! এ্যাহন আমার কি হইবো!
- হবে আবার কি! তোর বুদ্ধি বেড়ে যাবে!
- বুদ্ধি বাড়বো? ঠিক কইতাসেন?
- ছ্যাঁচরামি বুদ্ধিটা বাড়বে!
আর বেড়ে লাভ নেই! এমনিতেই ১০ টা চা খেলে ১৫ টা চায়ের পয়সা ন্যায়! তার ওপর যদি.... থাক, আর বললাম না। বললেন- তারকখুড়ো।
নাঃ! উঠি! রাত ১০ টা বাজে। এরপর বাড়ী গেলে গিন্নি ঠ্যাঙ্গাবে!
বলে উঠে পড়লেন- ক্ষেতু বাগচী!
যা বলেছেন! তা হলে আজকের মত এখানেই আড্ডা শেষ! বদরীর কবিতা নিয়ে কাল আলোচনা হবে!

.................................সমাপ্ত!.....................................
   

Sunday, November 28, 2010

ভুলভাল (শারদীয়া “ সর্বজয়া” ১৪১৭)

শিরোনামে যা আছে, সেটা ঠিকই পড়েছেন!!! এমন কি চশমা চোখে দিয়ে পড়লেও বাঙ্গাল আর ঘটির লড়াই কবে থেকে চালু হয়েছে, তা ঐতিহাসিকরাই বলতে পারবেন এই বিষয় নিয়ে বহু পত্র পত্রিকায় লেখালেখি, চলচিত্র তৈরী, মুখে মুখে ছড়া চালু-ও হয়েছিলসরলীকরণ করে বলা যায়, দেশভাগের পর, বাঙ্গালী হলেও দুই ভিন্ন মুখী সংস্কৃতির সংঘর্ষ, বিশেষ করে রান্না বান্না আর ফুটবলের ক্ষেত্রে এই তথাকথিত সংঘাতের সৃষ্টিদুটো প্রচলিত ছড়া বলি
বাঙ্গাল মনুষ্য নহে
বিদঘুটে জন্তু
লাফ দিয়ে গাছে ওঠে
ল্যাজ নাই কিন্তু!!!!!!
উত্তরে, এই ছড়াটি চালু হলো
বাঙ্গাল মনুষ্য নহে
দেবতার তুল্য
এ দেশের ঘটিরা
বুঝিবে কি মূল্য!!!!
৬৪ বছর পর এসবের আর মূল্য সত্যিই নেইসবই ইতিহাস! যেটা আছে, সেটা পুরোনো স্মৃতি নিয়ে হাসাহাসিআসুন, সেই ভুলে যাওয়া দিনগুলোকে নিয়েই এই ভুলভাল লেখাটা শুরু করি
দেশভাগ হয়ে গেছেমদনেরও চাকরী গেল! ওপারের জমিদার বাবু মদনকে ডেকে বললেন-( কথপোকথন বাঙ্গাল ভাষাতেই হয়েছিল, কিন্তু আমি সেটা ইচ্ছে করে এড়িয়ে গেলাম)
-
বুঝলি রে! তোর রান্না খেয়ে খেয়ে আর কারো রান্না মুখে রুচবে না জানি, কিন্তু আমার আর মাইনে দিয়ে তোকে রাখার সামর্থ্য নেইতাছাড়া, আমি ঘটি বাটি বেচে দিয়ে কোনরকমে ওপারে চলে যাচ্ছি কোথায় থাকব জানি নাতোকে বাপ পিতেমোর রাখা এই দুটো মোহর দিয়ে গেলামভালো থাকিস
মদন কিছু দিন ধরেই আঁচ পাচ্ছিল এরকম কিছু একটা ঘটবেবিয়ে সাদী করে নিবাপ মাও মরে ভূততিনকূলে কেউ নেইথাকার মধ্যে পিতৃপুরুষের দেড় কাঠার ভিটেটাতিন চার দিন ভেবে চিন্তে, মদন আবদুল চাচাকে ভিটেটা বেচেই দিলো
যে টুকু পয়সা পেলো, সেটাই নিয়ে পাড়ি দিয়ে এসে মদন এসে পৌঁছল এপারের এক জেলাতেছোট্ট এক চিলতে বাসা ভাড়া করে মদন থিতু হলো
রান্না ছাড়া কিছু জানা নেই!!!! রোজই কাজের সন্ধানে বেরো্য় আর ফেরে এক বুক হতাশা নিয়ে
ঘুরে ঘুরে মদন ভাবল, এপারে আসাটা কি ভুল হলো! ওপারে থাকলেও বা কি হতো!!! সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পা পড়ল জমে থাকা জলের ওপর! কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আর কি! ঠিক সেই সময় মোটোর গাড়ীতে উঠছিলেন স্থানীয় জমিদার গৃহিণীচলকে ওঠা জল গিয়ে পড়ল তাঁর দামী শাড়ীর ওপর! আর যায় কোথায়! পায়ের চটি খুলে সপাটে মদনের গালেতারপর গটমট করে মোটোর গাড়ীতে উঠে চলে গেলেন! সঙ্গে তীর্যক মন্তব্য-
বাঙ্গাল গুলো রাস্তাটাও দেখে চলতে পারে না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মদন ভেবে অবাক! তাকে বাঙ্গাল বলে চিনলেন কি করে ওই মা জননী? ভেবে কোনো কূল কিনারা পেল না! শেষে রাস্তার ধারের মুদি দোকানে বসে ১ পয়সার মুড়ি কিনে চিবোতে লাগলঅন্তত পেটের জ্বালাটা তো মিটুক! অপমানের জ্বালাটা আপাতত থাক!
দোকানী হেসে বলল: -বাপু হে! ওই ছোট্টো টিনের বাক্সর ওপর ভালেবাসা কথাটা কেন লিখেয়েছ? তুমি তো দেখছি এক্কেরে খাজা বাঙ্গাল!!!
মদন,বাড়ী থেকে বেরুলে তার সমস্ত টাকা পয়সা, জামা কাপড় বাবার বিয়ের এই ছোট বাক্সটাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়বিদ্যুৎ খেলে গেল মদনের মাথায়!!!!!!
এবার বুঝতে পারল, মা জননী কেন তাকে বাঙ্গাল বলেছিলেন!!!!!
দোকানীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল. মা জননী কার স্ত্রী!!! ভদ্রলোক বিশাল পয়সার মালিক আর তাঁকে সবাই জমিদার বাবু বলেই ডাকেমা লক্ষ্মীর কৃপায় পয়সার কোন অভাব নেই! রোজ বেলা ১২ টা থেকে ৩ টে কাছারী বাড়ীতে বসেন, পাত্র মিত্র সহবিশাল পয়সার মালিক হলেও ভদ্রলোক বেশ দয়ালু! রোজ তাঁর বাড়ীতে প্রায় ১০০ জনের পাত পড়ে, আর বেশ কিছু বেকার লোক জনও থাকেন ওনার বাড়ীতে
তখন বাজে বেলা একটাজল খেয়ে মদন কপাল ঠুকে বেরিয়ে পড়ল জমিদারবাবুর কাছারী বাড়ীর দিকে
তখন লোকজন একটু কমবাবু আয়েস করে গড়গড়া টানছেন!!! মদনকে দেখে বাবু ভুরু কুঁচকে বললেন- কি চাই? গম্ভীর স্বরের সঙ্গে মদন পরিচিততাই না ঘাবড়ে বলল- হজুর, আমি ওপার থেকে আসছিরান্না ছাড়া তো কিছু জানি না! হজুর যদি দয়া করে একটা রান্নার কাজ দেন!!!!
-
ওহে! তোমার ওই বাঙ্গাল রান্না এখানে কারুর মুখেই রুচবে না! আর তা ছাড়া, আমার চার চার জন রান্নার লোক! তোমাকে রেখে কি লাভ?
-
হজুর আমার রান্না একবার খেয়েই দেখুন!!!
-
বেশ! খেতে পারি, কিন্তু এমন জিনিস তোমাকে রেঁধে খাওয়াতে হবে, যেটা আমি জীবনে খাই নি!! পারবে???
মদন এক মুহূর্ত্ত ভেবে বলল- পারব হজুর! কিন্তু দশ দিন সময় দিতে হবে!
বাবু বললেন- বেশ! তা যদি পার, তবে তোমাকে আমি কাজে বহাল করবওরে! কে আছিস! এ ব্যাটাকে নিয়ে গিয়ে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করে দে! আর রান্নার জিনিস কিনতে যা পয়সা লাগবে দিবি! যাও বাপু! এখন আর বিরক্ত করো না!
মদন লাফাতে লাফাতে গিয়ে ওর ভাড়া বাড়ীটা ছেড়ে দিয়ে বাবুর বাড়ী এসে উঠল
সেই যে ঘরের মধ্যে এসে ঢুকল, খাওয়া আর টুকটাক কেনাকাটি করা ছাড়া মদন আর বাবুর বাড়ীর বাইরে আর বেরোয় না
ক্রমে ক্রমে দিন গড়িয়ে যাচ্ছেদশদিনও হয়ে গেলবাবুর আর মনে নেই! কে কার খবর রাখে? মদন কিন্তু ঠিক মনে রেখে সময় মত তার নতুন রান্না এক বিরাট কড়াই করে হাজির করল বাবুর সামনে
বাবুকে একটা বড় বাটী করে মদন খেতে দিলমুখে দিয়েই লাফিয়ে উঠলেন!
-
অমৃত! অমৃত! ওরে গিন্নীমাকে ডেকে নিয়ে আয়! ওনাকেও চাখাই! গিন্নীমা এলেন, খেলেন কিন্তু মদনকে চিনতে পারলেন না! চেনার কথাও নয়দশদিনে গরীবের কথা কে আর মনে রাখে? রান্না খেয়ে গিন্নীমাও লাফিয়ে উঠলেন!
একই কথা মুখে-অমৃত! অমৃত! পারিষদেরাও খেলতাদেরও একই কথা! রান্না যারা করত, তারা দৌড়ে এসে ঘটনা দেখে হতভম্ব! ওদের মধ্যে একজন বলল- সবই তো হল!! কিন্তু বাবুকে নতুন জিনিস কি খাওয়ালে হে, মদন?
বাবুরও মনে পড়লঞ্যাঁ!! তাই তো! বল হে, কি সেই নতুন জিনিস!!!! গিন্নীমাও সুরে সুর মেলালেন!
মদন শুরু করল-
কাছারী বাড়ীতে ঢোকার সময় দেখি একগাদা পুরোনো জুতো! জিজ্ঞেস করে জানলাম- ওগুলো চাকর বাকরদের বাতিল জুতো!!! তা ওই জুতো গুলো থেকে গোড়ালী গুলো খুলে নিয়ে, এই দশদিন ভিনিগারে ভিজিয়ে রেখে রান্না করেছি!! অনেক ভেবে দেখলাম বাবু আর গিন্নীমা, আপনারা তো অনেক জিনিস খেয়েছেন, কিন্তু বাঙ্গাল রান্না আর চাকরের জুতো তো আর খান নি!!!!!!! তাই আর কি!!!!


............
সমাপ্ত..........