Powered By Blogger

Saturday, March 12, 2011

আধ্যাত্মিক ভালোবাসা


মানুষের কষ্ট পেয়েও চৈতন্য হয় না, এটা খুবই আশ্চর্যের। আর এটা হয়, মিথ্যা পরিচয়কে আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য। সভ্যতার আরম্ভ থেকেই, সারা পৃথিবী কাম এবং কাঞ্চনে মায়াবদ্ধ। মানুষ এটাকেই জীবনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিয়ে সবার শেষে খুবই দুঃখ পায়।

নিজের এবং পরের মন আর দেহকে একাত্ম বোধ করে আমরা যত রকমের সম্ভব- সেই সব আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি;ফলে অশেষ দুঃখ- দুর্দশা সৃষ্টি করে ফেলি। এটাও ঠিক, এর মধ্যেই  কিছু মানুষ জাগতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। মানসিক সম্পদ আর সমৃদ্ধ হয় না। জাগতিক সম্পদ মানেই মানসিক সম্পদের অবনমন।

কথামৃততে আমরা একটা গল্প পড়েছি। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন-কাঁটা ঘাস খেয়ে উটের মুখ থেকে রক্ত পড়ে, কিন্তু তাও উট কাঁটা খাবেই।

আমরা যারা সাংসারিক জীব, তাদের অবস্থা ওই উটের মত। সব রকম কষ্ট পেয়েও ওই একই জায়গায় ঘোরাফেরা করি। মান- অভিমান, কথা বলা বন্ধ, অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে নিজের শরীর খারাপ করা, সংবেদনশীল হয়ে পড়া- সবই একসাথে ঘটে চলে।

এই সবের মূলে কে? আমাদের মন। আমাদের মন সবসময় আমাদের প্রতারণা করতে চেষ্টা করে। অবচেতন বা অচেতন বাসনা, কামনার হয়ে কথা বলে।

অতিরিক্ত সংসারাসক্তি বা জাগতিক আসক্তি আগুনের মত। এতে হৃদয় পুড়তে পুড়তে চলে। আর সেই পোড়া কোনো মলমে সারে না। তা বলে আমরা সবাই সাধু হয়ে যাব? না, সেটা আমি নিজে সাংসারিক জীব হয়ে বলতে পারি না, কিন্তু একটা সমাধান তো বের করতে হবে!

আর সেই ক্ষত মেরামত করতে একটাই মলম।  সেই মলম পাওয়া খুবই কষ্টকর।

আসছি সেই মলমের কথায়। তার আগে আরও দু একটা কথা বলে নেওয়া দরকার।
আমাদের ভালোবাসার জিনিষ আর মানুষগুলো আমাদের মনকে আকর্ষণ করে। ফলে সৃষ্টি হয়- আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ। ভালোবাসা আর বিদ্বেষ, একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ- এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।
সুতরাং, তারা একই পর্য্যায়ের। ঘৃণা এবং বিদ্বেষ হলো ভালোবাসা বা আসক্তির উল্টো দিক। এগুলো কিন্তু মূলত একই জিনিষ!
তাই সব রকম আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। এটা লেখা বা বলা যত সোজা- কাজে অনুবাদ করা ততটাই কঠিন। তাই দরকার সেই মলমের।
সেই মলমটা কি? প্রকৃত ধর্মানুশীলন। এখানে ধর্ম বলতে কিন্তু- অং- বং-চং করে পূজো- আচ্চা নয়।
আমরা ভালবাসব আর সবাইকে সেই ভালোবাসার জন্য উদ্বুদ্ধ করব।
তা হলে প্রশ্ন ওঠে- কাকে ভালবাসব? সোজা কথা- ঈশ্বরকে! কে সেই ঈশ্বর?
বিবেকানন্দ এক কথায় উত্তর দিয়েছেন।
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর!
সংস্কৃত সাহিত্যেও বলা আছে।
তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জিতাঃ।
ত্যাগের দ্বারাই ভোগ কর।
কিছুটা কল্যাণকর ও মানবোচিত আত্মসমালোচনা করা যেতে পারে। সেটা যেন কখনোই ধ্বংসমূলক বা নেতি বাচক আবেগ প্রবণতায় শেষ না হয়। কখনোই ভাবা উচিত নয়- আমি কি পাপী! কত অধম!
বরং ভাবা উচিত- যা হয়েছে, হয়ে গেছে! সেদিন শেষ । আমি জীবনপঞ্জীর নতুন পাতা উল্টে নতুন জীবন শুরু করি।
আর সেই নতুন জীবন শুরু করতে হবে নিজেকে, অপরকে ঈশ্বর কে ভালোবেসে!
আধ্যাত্মিক ভালোবাসার জীবন শুরু করে- সত্যস্বরূপের দিকে যাত্রা শুরু করতেই হবে।
সত্যস্বরূপের দিকনির্ণয়ই -আধ্যাত্মিক ভালোবাসা।
True Love Does exist!
বিজয়তে- সত্যম্, শিবম্, সুন্দরম্ ।
সমাপ্ত

 

No comments:

Post a Comment