Powered By Blogger

Thursday, March 10, 2011

খোশগপ্পো-২

খোশগপ্পো-২

আরে! ক্ষেতুদা! আসুন! আসুন! কি খবর আপনার? চন্দন বলল।
-আর বলো না হে! আমার এই দুদিন ধরে, সন্ধেবেলায় সেরিব্র্যাল আ্যটাক হচ্ছে!
- সেরিব্র্যাল আ্যটাক? আপনার? তাও দুদিন ধরে? আর আপনি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন!
- দেখ, চন্দন! ইয়ার্কি মেরো না! বলি- মাথাটা ধরছে সন্ধে বেলা করে।
-মাথা ধরা আর সেরিব্র্যাল আ্যটাক এক হলো? আপনি দেখচি আমার ডাক্তারী ভুলিয়ে ছাড়বেন!!!!!!
-রাখো তোমার ডাক্তারী! আমার বাবার বন্ধু ছিলেন হরেন ডাক্তার। ডঃ হরেন মুখোটি! সন্ধে বেলায় আফিং খেতেন। আমার বড় ছেলে হওয়ার খবর ওনাকে দিতে গেছিলাম। এই ধরো রাত ৮ টার সময়! শুনে, হরেনকাকা বললেন- কবে ছেলে হলো?
বললাম-আজ সন্ধে ৬ টার সময়! শুনে কি বললেন জানো?
- কি?
বললেন- সর্বনাশ! এর মধ্যেই তুই হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিস?
জয় মা তারারারারা! ব্রহ্মময়ী মা! বলে ঢুকলেন, তারক মোত্তির। শেষের কথা গুলো কানে গিয়েছিল।
- যা বলেছেন, ক্ষেতুদা! আমি হয়েছিলাম হাসপাতালে! সে সময়ে হাসপাতালের খুব একটা রেওয়াজ ছিল না। লোকে হাসপাতালকে ভয়ই পেতো! তা আমাকে বাবা বলল- শোন!তোর একটা কুষ্ঠি করাতে হবে। তোর জীবনে কিছু হবে কিনা একটু জেনে আয়!
তো গেলুম, আমাদের বিরিঞ্চি ঠাকুরের কাছে! জিজ্ঞেস করলেন- কোথায় হয়েছিস! বললাম- হাসপাতালে!
বিরিঞ্চি ঠাকুর বড় একটা হাঁ করে অবাক হয়ে বললেন- সর্বনাশ!!!!! কি হয়েছিল তোর???????
চন্দন বলল- যাঃ! এ হয় নাকি!!!!! যত্ত সব খন্ড ত ব্যাপার!
ক্ষেতুদা ক্ষেপে গেলেন।
শোনো হে! অনেক কিছু হয়! শুধু “Zআনতি পারো না”! আমাকে একবার এক চোখের ডাক্তার বলেছিল-ক্ষেতুদা, আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক হয়েছে!
- ক্কি!!!!!!
-মানে, চোখের মণি তো চোখের হার্ট!!!! সেখানে ছানি পড়েছে! তাই আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক !
এপ্পর শুনবো থাইয়ের ওপর থাইসিস হয়েছে!- চন্দন বলল।
হতেই পারে, চন্দন! ক্ষেতুদার জবাব! আজকাল চিকিৎসা শাস্ত্র যে বেগে এগুচ্ছে!!!!!!!! এক্কেরে মনে হয়- লোকাল ট্রেনের ইএমইউ কোচে প্রচণ্ড তলপেটের চাপ!
দুটো বাচ্চা ছেলে ঢুকলো চেম্বারে!
-ও দাদু!!!!! চাঁদা দেও না!
-দোবো! তারক মোত্তির বললেন। তার আগে ইংরেজী ট্র্যানশ্লেশন কর!
- উফ! কি জ্বালা! আচ্ছা বলুন। এক চান্সে বলে দেবো।
- বল! একটা পচা কলা, গোটা কাঁদিকে পচিয়ে দ্যায়!
- ওও ও! এটা! খুব সোজা!
-বল দেখি!
- One পচা কলা পচেস দি Whole কাঁদি।
ধূপ করে একটা আওয়াজ ! সবাই ঘুরে দেখে- ক্ষেতুদা দাঁত কপাটি লেগে মৃগীরোগীর মত কাঁপছেন।
চন্দন ছেলে দুটোকে ১০ টাকা দিয়ে বিদেয় করল।
-কি হলো ক্ষেতু দা! কাঁপছেন কেন?
- না! অনেকদিন আগেকার একটা কথা মনের পড়ল তো! তাই কাঁপছি!
-কি?
- ছোট ভাই যখন আ্যমেরিকা থেকে এক, ও দেশী বন্ধু কে নিয়ে এদেশে এলো, সেই বন্ধুটাকে জলযোগের দই খাইয়েছিলাম। সেই ভ্রাতৃবন্ধুটি দই খেয়ে তারিফ করে বলল-What is Doi? (নাকি সুরে) এদিক ওদিক তাকিয়ে ছোটভাই নেই দেখে বলেছিলাম – Sleeping milk in the night, morning tight. ও কি বুঝল কে জানে!!!! গম্ভীর হয়ে গেল।
বল হরি চা নিয়ে এসে বলল- দুধ শেষ! আজ আর চা হবে না!
ঠিক আছে! আমারও একটা বিয়ের নেমন্তন্ন আছে! আজ যাই! চন্দন বলল!
সেদিনের মত আড্ডাও শেষ!
 

No comments:

Post a Comment