আমাদের পাড়ায় প্রতিবছর, পূজো হয় । পাড়ার মহিলাবৃন্দ পরিচালিত- ফেষ্টুনটা
হাল্কা দোল খায় । এবছরও দোল খেতে শুরু করেছিল । হরির দোকানে, এই নিয়ে জোর
আলোচনা !
লাহা কোলোনীর একজন জিজ্ঞেস করল:- রামুদা, আপনাদের পাড়ার পুরুষরা থাকে না পূজো কমিটিতে ?
মিনমিন করে বললাম :- গিন্নিরা থাকতে, আমাদের ভয় করে ওখানে থাকতে । তবে, থেটার হয় । আমরাই করি ।
এবছর হবে কি?
জিজ্ঞাসা নিয়ে,ক্ষেতু বাগচি এসে বসলেন । উনি বললেন :- থেটার করলে, আমাকে ডাকবেন না !!!!!
ক্যান স্যার ?
হরির বিনীত জিজ্ঞেসা !
আর বলো না হে ! সে বড় ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা । সব লোকই চায় মেন পার্ট করতে । আর না দিলেই একটা বিটকেল ব্যাপার ।
আমরা সবাই ঘন হয়ে ক্ষেতুদার চারপাশে, বসে আর দাঁড়িয়ে পড়লাম । হরি গদগদ
ভাবে একটা চায়ের গেলাসের অদৃশ্য ময়লা আর জীবাণু গরম জলে চুবিয়ে ঠিকঠাক করে,
সশ্রদ্ধভাবে চা তুলে দিল ক্ষেতুদার হাতে । ওনার চুমুক দেওয়া দেখে মনে হল,
উনি বেশ আয়েস করেই চা উপভোগ করছেন ।
তখন সাউথের একটা পাড়ায় থাকি ।
সেখানকার পূজো দারুন নাম করা । থীমের পূজো । সে বছর আমার ওপর ভার পড়ল
থেটারের ডিরেকশান দেওয়ার । নবমীর দিন মঞ্চস্থ হবে ।
যিনি ষ্টেজ
আরেঞ্জার থাকেন বরাবর, তিনি এবারে জেদ ধরে বসলেন- ওনাকে একটা ভালো রোল
দেবার জন্য । মুশকিল হলো একটাই, উনি এত ভালো ষ্টেজের সব জিনিসপত্র ঠিকঠাক
ভাবে যোগাড় করেন আর অভিনয়ের সময়- যোগান দেন, যে অন্য লোককে সেই ভার দেওয়া
মুশকিল । একটা ছোট খাটো রোল দেওয়া যেত, কিন্তু ওনার জেদ বড় রোল করবেন ।
অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে ওনাকে বলা হলো- আপনি যদি ষ্টেজ আরেঞ্জার না থাকেন, তবে পুরো প্রোডাকশানটাই মার খাবে ।
হাসিমুখেই তার জেদটা ছাড়লেন আর আমরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম ।
যথাদিনে, যথাসময়ে অভিনয় আরম্ভ হলো । থেটারের মধ্যকাল চলে এসেছে । এখানে এক
ভদ্রলোককে খুন করতে এসেছে এক ভাড়াটে গুণ্ডা । পিস্তল দিয়ে গুলি করবে ।
ষ্টেজ আরেঞ্জার ভদ্রলোক ঠিক সেই সময়ে একটা পটকা ফাটাবেন, যাতে গুলির আওয়াজ
দর্শকদের কানে যায় ।
ভাড়াটে গুণ্ডা গুলি করল । শব্দ হলো না । নিরুপায়
হয়ে গুণ্ডা ছুরি বের করে ভদ্রলোকের পেটে ঢোকাতেই ষ্টেজের পেছনে পটকার শব্দ
হলো – দ্যুমমমমমমমমমমম্ ।

No comments:
Post a Comment