Powered By Blogger

Saturday, June 4, 2016

কিছু কথা


স্কুল থেকেই ইতিহাসে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না । সন, তারিখ মুখস্থ করা- কে কবে কোথায় আক্রমণ করেছে, সাম্রাজ্য বিস্তার কি ভাবে করেছে এইসবই ছিল মুখ্য বিষয় ।
কোনোরকমে টায়েটুয়ে পাশ করে যেতাম ক্লাসে । পরে, যখন ক্লান নাইনে উঠে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হলাম, কিছুটা অঙ্ক জানার জন্য- যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ প্রয়াত বিজন স্যারের কাছে- ইতিহাস পড়তে হবে না ভেবে বিশাল স্বস্তি পেয়েছিলাম ।
যে কোনো কারণেই হোক- কারণটা মুখ্য নয়, আমি একটা বেসরকারী চাকরি পেলাম একটা ওষুধ কোম্পানিতে ।
ওডিশা থেকে আমার চাকরি শুরু । নানা জায়গায় ঘোরার ফলে- সেখানকার মানুষজনের ব্যবহার সংস্কৃতির বৈচিত্র্য দেখে আবার আমার ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ জন্মালো ।
ইতিহাসের সঙ্গে – আর্থ সামাজিক অবস্থারও একটা যোগ আছে বলে আমার মনে হয়েছিল।
ইতিহাস যে ভাবে আমাদের স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়, কলেজ বা ইউনিভার্সিটির কথা বলতে পারবো না- তাতে আমার মনে হয়েছে গোটা সিস্টেমটাই ভুল ।
এক্সকারশান ছিল তবে, তাতে যতটা ঘোরার আনন্দ ছিল, ততটা ইতিহাস মনস্কতা ছিল না ।
পুরীতে যখন আমার পোষ্টিং হয়, সৌভাগ্যবশত আমার কোম্পানীর বিতরক ছিলেন একজন পাণ্ডা নিজে । তিনি নিজের ছেলেদের এই বৃত্তিতে না এনে প্রথমে ওষুধ,তারপর হোটেল এবং অন্যান্য ব্যবসায়ে জড়িয়ে দেন ।
তিনি উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসের স্নাতক ছিলেন । ফলে নানা যুগ ধরে ছড়িয়ে থাকা নানা গল্প গুজবকে পাত্তা না দিয়ে আসল সত্যটাকে খুঁজে বেড়াতেন।
নিজে ব্রাহ্মণ ছিলেন, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদ যে কি ভাবে ক্ষতি করেছে আমাদের ইতিহাসকে , সেটা নিয়ে সময় পেলেই আলোচনা করতেন আমার সাথে ।
ধীরে ধীরে আকর্ষণ বাড়তে লাগল – ইতিহাসের প্রতি, যোগ্য শিক্ষক পাওয়াতে ।
পতি বাবুর কাছেই প্রথম জানলাম মাদলা পঞ্জীর কথা । পঞ্জী মানে তথ্যের সারণী, পাঁজি নয় ।
মাদলা পঞ্জীকে কেন যে প্রকাশ করতে দিচ্ছে না, পুরীর পাণ্ডাকুল, তার একটা ব্যাখ্যা আমি পেয়েছিলাম। তবে সেটা কতটা নির্ভরযোগ্য -সন্দেহ আছে।
ওখানে নাকি চৈতন্য দেবকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের কথা লেখা আছে বা ছিল।
মাদলা পঞ্জীর লেখকরা অঙ্গিকার বদ্ধ ছিল এবং আছে- কোনো খুঁটিনাটি বিবরণও চাপা যাবে না। তাই ওটা বোধহয় অপ্রকাশিত থেকে যাবে। আর সেই কারণে ওটা আনেকডোটাল!
তবে পতি বাবু বলেছিলেন – চৈতন্যদেবের সময়ের কিছু পাতা নাকি ছেঁড়া আছে, মাদলা পঞ্জীতে ।
জানি না সত্যি কিনা , তবে পতি বাবু নিশ্চিত ছিলেন চৈতন্য দেবকে পুরীতে হত্যা করা হয়েছিল ।
মূল কারণ- মহিলাদের শিবপূজা করার অধিকার পাইয়ে দেবার জন্য, এই হত্যা । হয়তো নারায়ণ শিলাও পূজার অধিকার মহিলারা পেতেন চৈতন্যদেব বেঁচে থাকলে ।
আজকাল-পত্রিকা চৈতন্য দেবকে হত্যা করার কথা কিছুটা ছেপেছিল অনেকদিন আগে, তার পরে কোনো অজ্ঞাত কারণে চুপ হয়ে যায়।
সংস্কৃত সাহিত্য পড়তে গেলে, একজন গাইড লাগে। শুধু অনুবাদ পড়ে কিছু জানা যায় না! সেই গাইড শুধু সাহিত্যের ব্যাপারটা, ব্যকরণ নিয়ে বলবে।
ধর্ম নিয়ে প্যানপ্যানানি করবে না।সেটা কিছুটা আমি পেয়েছিলাম, পতিবাবুর কাছ থেকে।
বিশ্বনাথ মহারণার নাম ওড়িশা গিয়ে শুনেছেন? তাঁকে সেইকালের বিশ্বকর্মা বলা হতো। কোণারক মন্দির তাঁরই হাতের তৈরী। অন্যান্য কিছু মন্দিরও তাঁর নির্দ্দেশে তৈরী হয়েছিল।
মহরণা- সেকালের এঞ্জিনিয়ারদের পদবী ছিল। কিন্তু এটা জনশ্রুতি বলেই পরিচিত ।

আর্কিওলজিকাল সার্ভের কিছু অফিসারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তাঁরা বলেছিলেন, কোণারকের মন্দির ব্রজলেপ দিয়ে তৈরী বলে মনে হয়।
এটার বর্ণণা বৃহ্ৎসংহিতাতে বরাহমিহির লিখে গেছেন। প্রস্তুতপ্রণালী ব্যাখ্যা করেছেন যা আধুনিককালের সিমেন্টের সমগোত্রীয় ছিল।
আজকাল এই সবের আর কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না। যা হারিয়ে গেছে, তা গেছে।
ঐতিহাসিকদের বই তো পড়বোই কিন্তু সাথে সেই সময় কিছু লোক তাঁদের কথা লিখে গেছেন বিভিন্ন বইয়ে । সেগুলোও পড়া দরকার ।
না পড়লে- সাধারণের জীবনযাত্রার বিবরণ পাওয়া মুশকিল ।
হ্যাঁ ! অতিরঞ্জনও থাকে, তবে সেগুলো বাদ দেওয়া যায় সমসাময়িক অন্য লেখকদের লেখা পড়লে ।
ফলে- যে গুলো কমন পড়ে, আমার মনে হয় সেগুলো সত্যি হতে বাধ্য ।
ঐতিহাসিকরাও ধর্মদোষে দুষ্ট । কোনো মুসলমান ঐতিহাসিক বলবেন – তুর্কি বিজয় আবার হিন্দু ঐতিহাসিক বলবেন – তুর্কি আক্রমণ ।
এখন কে ফয়সালা করবে আক্রমণ না বিজয় ?
আমার দুভার্গ্য কোনোদিনই ভাবিনি এসব লিখবো, কারণ তখন ফেসবুক বা আর্ন্তজাল ছিল না ।
তবে একটা খাতাতে লিখতাম, যা কিছু শুনতাম বা দেখতাম ।
অবহেলার ফলে সেই সব খাতা হারিয়ে গেছে ।
তাই এখন ভরসা পুরোনো বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ ।
চেষ্টা জারি থাকবে প্রাচীন ভারত নিয়ে লেখার সাথে অবিভক্ত বাংলার কথা ।
আনেকডোটালও কিছু লিখবো, কারণ জনশ্রুতিকে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা বহাল তবিয়তে এখনও আছে ।
যেমন আছে, পুরাণ এবং আরও অনেক সংস্কৃত সাহিত্যের বর্ণণাকে উড়িয়ে দেবার । কারণ একটাই- প্রমাণের অভাব ।
তবু, যেসব লোকেরা এই সব ঘেঁটে আসল নির্য্যাস বের করে আমাদের সামনে আনেন, তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই হয় । আমার মনে হয় এঁরাই- সঠিক বিচারে ঐতিহাসিক ।
ধর্মশাস্ত্র বা যুদ্ধবিগ্রহ থেকেই ইতিহাসের সূত্রপাত হয়!
*Mythology is to be considered to be the parent of all history!!!!
Sir William Jones: - History of the primitive world!

History কথাটার উদ্ভব, বহু হাজার বছর আগের গ্রীক শব্দ HISTOR থেকে। যার অর্থ:- Knowledge and judgment। পরে ল্যাটিন শব্দ Historia আরও একটা অর্থ যোগ করে। সেটা হলো- বর্ণণ বা narration।
অলমতি

No comments:

Post a Comment