রায়গঞ্জ শহরে – সমর (চক্রবর্তী) ডাক্তার খুব নামকরা চিকিৎসক ছিলেন । প্রথমে, তাঁর চেম্বার ছিল মিটার গেজ লাইনের লেভেল ক্রসিংয়ের সামনে, তবে পরে তিনি সরিয়ে নিয়ে যান, মোহনবাটীর কাছাকাছি এক জায়গায় ।
ফর্সা, চশমা পরা এই চিকিৎসক রসিক এবং দরদীও বটে । মাঝেই মাঝেই দুটো ঠোঁট দিয়ে, গাল ফুলিয়ে একটা শব্দ করা তাঁর অভ্যাস ছিল ।
আসলে তিনি কোন ওষুধটা প্রেসক্রিপশানে লিখবেন, সেই চিন্তা করার সময় এই ব্যাপারটা ঘনঘন করতেন ।
আমি সোজাসুজি তাঁর ভীড়ে ভরা চেম্বারে ঢুকেই পড়তাম সখ্য হয়ে যাবার পর, কারণ তিনি এই অনুমতিটা আমাকে দিয়েই রেখেছিলেন আরও কয়েকজন হাতে গোনা বেচুবাবুদের সঙ্গে ।
একবার, এই রকমই ভাবছেন আর শব্দ করেই যাচ্ছেন । আমার দিকে চোখ পড়াতে বললেন – এই আমাশা কেসে কি ওষুধ দেই বলো তো , মেট্রোনিডাজোল না টিনিডাজোল ?
আমি বললাম :- জিল ৬০০ লিখুন ।
সেটা কি ?
আমাদের কোম্পানীর টিনিডাজোলের ব্র্যাণ্ড
কবে বেরুলো আবার ?
এই তো জাষ্ট লঞ্চ করতে এসেছি রায়গঞ্জ মার্কেটে । আপনাকে দিয়েই বউনী শুরু হোক!!
পাওয়া যাবে তো লিখলে ?
কি যে বলেন !!! মার্কেটে অ্যাভেলেবল করেই তো বলতে এসেছি আপনাকে !!!
তালে লিখি?
লিখুন
বেশ (খানিক থেমে ), তুমি তো আচ্ছা লোক হে, এই ফাঁকে ডিটেইলিংটা করে নিলে!!
দাদা, আপনি ট্রেণ্ড সেটিং ডাক্তার !!! আপনি লিখলে আপনার ফলোয়াররাও তো লিখবে, তাই না ?
এটা কোন কোম্পানীর ?
মানে ?
ইণ্ডেন না এইচ পি ?
ইতি মধ্যে- একজন বাচ্চার মা আবার ফিরে এসে বললেন:-
আচ্ছা ডাক্তার বাবু আমার ছেলেটাকে আপেল সেদ্ধ খাওয়াতে পারি ?
মুখ দিয়ে তাঁর ইনসিগনিয়া শব্দটা করে উত্তর দিলেন :- নিজে কোনোদিন আপেল সেদ্ধ খেয়েছেন ?
না !
জানেন কি রকম অখাদ্য খাবার ? যত্ত সব !!! পেয়ারা সেদ্ধ খাওয়ান ।
আমার দিকে ঘুরে বললেন – তা হলে ওই জিল ৬০০ ই লিখলাম !!!
=============
পরে, তিনি কেন জানি না, টিনিডাজোল লিখলে আমাদের ব্র্যাণ্ডটাই লিখতেন ।
যেখানে উনি এখন চলে গেছেন সেখানে -কেমন আছেন উনি, কে জানে !!!

No comments:
Post a Comment