Powered By Blogger

Thursday, May 5, 2016

প্রাদেশিক নহে

তখন অখণ্ড বিহার! ভারতের এই রাজ্যটি ভেঙ্গে ঝাড়খণ্ড আর বিহার হয়েছে।
“ মানজার বাবু” হিসেবে আরা গেছি।

সঙ্গে কৌশিক ভট্টাচার্য্য, আমার সহকর্মী প্রতিনিধি। ডাক্তারদের দেখা করে কোম্পানীর ওষুধের গুণাবলী প্রচার করাই উদ্দেশ্য। কৌশিক বিহারেরই ছেলে। হাজির জবাব তার অন্যতম গুণ। আমাকে আগেই বলেছিল, ওর নিজস্ব বাংলাতে- স্যার! যে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি, বহোত টাঙ্গ খিঁচনে ওয়ালা পাবলিক! তবে আমাদের ওষুধ প্রচুর লেখে।

আমি বললাম, তাহলে আর আমার যাওয়া কেন? জানো তো! যে ওষুধ লেখে, তাকে ডিসটার্ব করতে নেই, আর যে লেখে না, তাকেও ডিসটার্ব করতে নেই।

কৌশিক, আড় চোখে তাকালো আমার দিকে।

কি বলতে চাইছেন? তাহলে বাড়ীতেই বসে থাকব আর ফলস্ রিপোর্ট দেব? ( আমাদের লাইনে, এটাকে “গুবলু” বলে)

মুখ “ফোক্সে” কথাটা বলে, আমি প্রমাদ গুণলাম।

আরে না- মানে ও সব ডাক্তারের কাছে “মানজার বাবুদের” নিতে নেই!

কৌশিক- ঠিক আছে, এসেই যখন পড়েছেন, চলিয়ে মুলাকাত তো করে।
তা চললাম। ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ২/৩ জন “রিপেজেনটিটি”। সঙ্গে আরও কিছু “মানজার বাবু”। এক সর্দ্দার “মানজার বাবু”র সঙ্গে তার “রিপেজেনটিটি”র কোনো ব্যাপারে কথা-কাটাকাটি চলছে। “রিপেজেনটিটি”বাবু খাস কলকাত্তাইয়া। এক্কেরে “স্যামবাজারের সষী বাবু”
হঠাৎ সর্দ্দার “মানজার বাবু” বললেন- You see, these tough sales jobs are not meant for Bengalese. They are born clerks. You are not fit for this job.
রিপ্রেজেনটিটি- Have you gone to Calcutta?
সর্দ্দার “মানজার বাবু” -Why not? My head quarter is in Calcutta, you know.
রিপ্রেজেনটিটি-Then, Mr. Singh you must have noticed, we Bengalese are accustomed to see SARDARjees as truck, bus and taxi drivers. How come, you became a manager in this Pharma Company?
সর্দ্দার “মানজার বাবু” চুপ!
পালা এলে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলাম। ডাক্তারের সাথে কৌশিক পরিচয় করিয়ে দিল। ডাক্তার চেয়ার ছেড়ে উঠে হাত মেলালেন। চা খাচ্ছিলেন- বললেন, চা পিবো?
মাথা, হ্যাঁ অর্থে নাড়ালাম
ডাক্তার- এ কৌশিক, য়্যাদা বকর বকর মত কর!
কৌশিক- আরে, ডাগদর সাব, হাম তো ইয়ে বলবে করে, কি হাম কুচ না বোলি। “মানজার বাবু” বোলনে আয়ে কি উ ভি কুছ না বোলি, সমঝলন?
ডাক্তার- হঁঅঅঅঅঅঅ! চায় কা সাথ বাল খাইব, “মানজার বাবু”? ( পাঠক/পাঠিকারা ক্ষমা করবেন)
আমি মনে মনে রেগে গিয়ে না অর্থে মাথা নাড়লাম।
ডাক্তার- এ কৌশিক! তু খাবু?
কৌশিক, হ্যাঁ অর্থে নাড়াল।
পরে দেখলাম, চায়ের সাথে আমার চেহারার সাইজের ভুট্টা পোড়া! নুন, তেল দিয়ে মাখানো। আর ব্যাক গিয়ার মারতে পারলাম না। কি করে জানব, বাল মানে স্থানীয় ভাষায় ভুট্টা!!!!!!
এ কথা, সে কথার পর
ডাগদর সাব- (হাসি মুখে) এ কৌশিক! যিত্তা বাঙ্গালী হ্যায় না, বিহার মেঁ, উনকো বংলা মেঁ ভেজ দেম, আউর যিত্তা বিহারী বংলা মেঁ হ্যায় না, উনকো বিহার মেঁ ভেজ দো! কেইসন রহি, ই বাত? কোই দিককত?
কৌশিক- কোই দিককত না বা। খালি “মানজার বাবু” যব হাবরা মেঁ উতরব, তব কুলি না মিলি।

No comments:

Post a Comment