Powered By Blogger

Monday, May 2, 2016

গড়িমসি



বাংলা এই শব্দটার মধ্যে একটা আভিজাত্য আছে । বেশ একটা জমিদারি ভাব।

হচ্ছে হবে- করছি করব, টাইপের একটা হেব্বি ব্যাপার ।

গড়িমসি – অনেক ব্যাপারে করা যায় , তবে বিছানায় পাশবালিশ জড়িয়ে ধরে এই ব্যাপারটা একেবারে জমে ক্ষীর ।

অনেকে এটা আলস্য বা দীর্ঘসূত্রতা বলবেন , তবে এই শব্দগুলোর মধ্যে একটা কেজো বা কেমন যেন ব্যাকরণ টাইপ ভাব । ফুরফুরে অম্বুরী তামাকের একটা সুবাস – গড়িমসি শব্দটার সঙ্গে সেঁটে আছে । এর কাছাকাছি আর একটা শব্দ আছে – গদাইলস্করি ।

তবে কিনা এটা সেই গাধাবোটের মত । ধীরে ধীরে চলছে আসল নৌকোর সঙ্গে আর খালাসী বা লস্কর কপালে হাত দিয়ে বসে, ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে ।

শেষ পর্যন্ত – গদাইলস্করি মানে কুঁড়েমি দাঁড়ায়, তবে এটার মধ্যেও একটা গালি গালি ভাব ।

গড়িমসির সঙ্গে গদাইলস্করিটা ঠিক যায় না । আমরা, কথায় কথায় সায়েবদের কথা বলি । তারা নাকি এসব জানে না । একেবারে পাক্কা পেশাদার । সময়ের কাজ সময়ে হয় ।

কে বলেছে, শুনি - ঞ্যাঁ ? তা হলে – প্রোকাসটিনেশন কথাটা কে তৈরি করলো, ওদের অভিধানে- পাণিণী ? যত্তসব !
তবে হ্যাঁ, ব্যাটারা আবার পাশবালিশের মাহাত্ম বোঝে না । চৌরঙ্গী উপন্যাসে স্যাটা বোসকে, লিলেন ম্যানেজার বলেছিল – দেই ব্যাটাদের পাশবালিশের অভ্যেস ধরিয়ে । বুঝবে, কতধানে কত চাল ।

এদানীর এর একটা প্রতিশব্দ এসেছে – ল্যাদ্ খাওয়া । কেমন যেন একটা উদ্বাস্তু শব্দ ।

যে কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরে যান ! দেখবেন গড়িমসি কাকে বলে । এই টেবিল থেকে পাশের টেবিলে একটা জরুরী ফাইল যেতে এক মাস থেকে এক বছর লাগে ।

তবে গিন্নীর যেমন গুঁতো থাকে – বাজারে যাবার জন্য, সেরকম ঠিক মত গুঁতো পড়লে আবার সেটা পাঁচ মিনিটে সারা ।

রাতের বেলা ঘুমের সময় প্রাকৃতিক ডাক এলে – চড়াৎ করে উঠে যেমন টয়লেটে যেতে হয়, ঠিক সেই ভাবে কাজ টা মাখনের মত হয় ।

আবার যদি একটা পাঁচশো বা হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দ্যান, তবে গড়িমসি ভাবটা আর থাকে না ।
তবে এগুলো ব্যতিক্রম । ওই কেজো ব্যাপার ।

আমাদের জীবন টেবিলে, প্রত্যেকের ড্রয়ারে দুটো করে ড্রয়ার থাকে ।

একটা এখন নয়, আরেকটা কখনও নয় । একটা কিছু কাজ এলে – সেটা চট্ করে এখন নয় – ড্রয়ারে চলে যাবে ।
তারপর যখন জরুরী কাজটা মনে পড়বে, তখন সেকি দাঁত কিড়মিড়্ । তরকারি লবণ পোড়া হলেও কেন লবণ হয় নি বলে – গিন্নীকে চোপা ।
আর যদি কাজটা জরুরী না হয় তবে- কখনও নয় ড্রয়ারে অসূর্যম্পশ্যার মত পড়ে থাকবে ।
আমি একজনকে চিনি, যে এই সব গড়িমসিতে সিদ্ধ হস্ত ।

ভোরবেলা হাওড়া থেকে ট্রেন ছাড়বে – সে শুয়েই আছে । জিজ্ঞেস করলে বলেছিল – ট্রেনের ড্রাইভারকে বলা আছে, দেরী করে ছাড়বে ট্রেন ।
আমার এক ওপরওয়ালা – কি সব ছক টক কেটে বুঝিয়েছিল, কি করে সময় বাঁচাতে হয় । চব্বিশ ঘন্টা টাকে তো আর টেনে বাড়ানো যাবে না !

তাই টেলিফোনে যতটা সম্ভব কম কথা বলো, আগের কাজ আগে করো ফলানা – ঢেকানা ।
তিনি নাকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুকে ডু ইট নাও স্লোগানটা শিখেয়েছিলেন বলে দাবী করতেন ।
আমি কোনো রকমে এক চোখ বন্ধ করে আর এক চোখ হাপ খুলে বলেছিলুম – আপনি ময়াই বাঙালি কুলের কলঙ্ক । ওসব কেতাবে লেখা থাকে – বাস্তব জীবনে হয় না ।
-------
জীবন মানেই – গড়িমসি ।

===============
পুঃ - পুলিশদের গড়িমসির ব্যাপারটার কথা বললাম না । মিত্র তালিকায় কয়েকজন আছেন আর আমার ঘাড়ে একটাই মাথা ।
:'(

No comments:

Post a Comment