৯৫ বছর আগে আজকের দিনে জন্মানো, এই ব্যক্তিত্বের ধারে কাছে যাওয়ার আমার কোনো গুণই ছিল না ।
বহুল প্রচারিত একটি ছবি দেখেছেন অনেকেই । লেখার টেবিলে পাশে শোভা পাচ্ছে একটা ওষুধ কোম্পানির ডেস্কটপ ক্যালেন্ডার । মগ্ন হয়ে কিছু লিখছেন ।
আমারই এক সহকর্মী ( অন্য একটি কোম্পানির) তাঁকে সেটা উপহার দিয়েছিলেন । পরিচিতি ছিল সেই সহকর্মীর সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সিনেমারই সুবাদে ।
সেই সূত্রেই একদিন গিয়েছিলাম ওনার বাড়ীতে । সেই প্রথম এবং শেষ । মালদা থেকে কোলকাতায় এসেছিলাম আমার কোম্পানির কাজে । সেই ফাঁকে তাঁর বাড়ীতে ঢুঁ মারা ।
ঘড়ি ধরে পনের মিনিট সময় দিয়েছিলেন উনি । চা এবং টা দুটোই জুটেছিল । পনের মিনিট রূপান্তরিত হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টায় ।
হাঁ করে শুনছিলাম তাঁর কথন শৈলী । সত্যিকারের ব্যারিটোন ভয়েস কাকে বলে, বুঝেছিলাম, সামনাসামনি । বেশী ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতেন না উনি সাধারণ কথোপকথনে। যেটুকু সেদিন শুনেছিলাম, মনে হয়েছিল এইভাবেই বোধহয় ইংরেজী বলতে হয় ।
জানা ছিল, তবে আপিস কে দপ্তর বলার প্রয়োগ প্রথম শুনেছিলাম ওনার মুখে ।
মজা করেই বলেছিলেন :- কমলবাবু ( কমলকুমার মজুমদার ) বলেছেন :- ঢ্যাঙ্গা মাণিক আবার ইন্টেলেকচুয়াল হল কবে ?
মিচকে হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে ফিরে এসেছিলাম, এক ঝাঁক পূর্ণ হৃদয় মাথায় করে নিয়ে ।
ঠিক কতদিন এখন আর মনে নেই,তার মাস কয়েক পরেই তিনি ভর্তি হয়েছিলেন নার্সিং হোমে ।
তার পরেই “অভিযান”২৩ শে এপ্রিল, ১৯৯২ সালে ।
দীর্ঘ ২৪ বছর পরও বাংলা চলচিত্রের হাল দেখে ( কয়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া) এখনও প্রয়াত সলিল চৌধুরীর কবিতার দুটো লাইন আমার মাথায় ঘোরা ফেরা করে :-
“ সিনেমার কেন কালীঘাট নেই
তা হলে, অনেক পাঁঠা বলি দেওয়া যেত”
-
-
-
জয় বাবা মাণিক নাথ


No comments:
Post a Comment