চাটুজ্যেদের রকে বসে আমি ডালমুটের ঠোঙা টা কায়দা করে চেষ্টা
করছিলুম খেতে। কিন্তু বেশিক্ষণ খেতে হল না।
এই সময় কোত্থেকে টেনিদা এসে হাজির। গাঁক গাঁক করে বললে, এই প্যালা, তোর না পিলে, ডালমুট খাচ্ছিস যে বড়ো ? দে, আমায় দে – বলে চিলের মতো ছোঁ মেরে
ঠোঙাটা নিয়ে নিলো ।
ঠিক এই সময় – ঢাকাইয়া হাবুল সেন হাঁপাতে হাঁপাতে এসে একটা
সাদা খাম তুলে দিল টেনিদার হাতে ।
টেনিদা ঠোঙার শেষ ডালটুকু মাইক্রোস্কোপিক চোখ দিয়ে খুঁজে
বার করে মুখে চালান দিয়ে বলল :- এটা কি র্যা ?
খুলে দেখোই না –
তোমার নামেই তো চিঠি । তুমি তো পটলডাঙা থাণ্ডার ক্লাবের সভাপতি ।
খুলে দেখা গেল –
ক্লাবের নামে একটা দু লাখ টাকার চেক ।
সঙ্গে একটা চিঠি -
শ্রীচরণকমলেষু টেনিদা,
শ্রীচরণকমলেষু টেনিদা,
আমি এখন সরকারের বড়
অফিসার । ক্লাবে সব অনুদান দেওয়া হচ্ছে । তাই তোমাদেরকেও পাঠালাম ।
প্রীত্যন্তে,
ঘটা
(ঘটকর্পর গড়াই)
ঘটা কে ? ক্যাবলা
এসে হাজির হয়েই প্রশ্ন করলো।
ঠোঙার শেষ নুনটুকু চেটে টেনিদা বলল :-
আরে ঘটাকে চিনলি না? সেই যে -সেবার গরমের ছুটিতে মামাবাড়ি
বেড়াতে গেছি। ওই যে একটা ছড়া আছে না — ‘মামাবাড়ি ভারি মজা — কিল চড় নাই’? কথাটা একদম বোগাস — বুঝলি? কক্ষনো বিশ্বাস করিসনি।
অবিশ্যি মামাবাড়িতে ভাল লোক একেবারে নেই তো নয়। দিদিমা, দাদু এরা বেশ খাসা লোক। বড় মামিরাও মন্দ নয়। কিন্তু ওই গাবলু মামা-টামা — বুঝলি, ওরা ভীষণ ডেঞ্জারাস হয়।
বললে বিশ্বাস করবিনে, সাতদিনের
মধ্যে গাবলু মামা দু’বার আমার কান টেনে দিলে। এমন কিছু করিনি, কেবল একদিন ওর ঘড়িটায় একটু চাবি দিয়েছিলুম — তাতে নাকি
স্প্রিংটা কেটে গিয়েছিল। আর একদিন ওর শাদা নাগরাটা কালো কালি দিয়ে একটু পালিশ
করেছিলুম, আর নেটের মশারিতে কাঁচি দিয়ে একটা গ্র্যাণ্ড জানলা বানিয়ে
দিয়েছিলুম। এর জন্য দু’দিন আমার কান ধরে পাক দিয়ে দিলে।
কী ভীষণ ছোটলোক বল দিকি।
তা করে করুক — গাবলু মামা — খ়ড়গপুরে দিনগুলো আমার ভালোই কাটছিল। দিব্যি খাওয়া-দাওয়া — মজাসে ইস্টিশানে রেল দেখে বেড়ানো, হাঁটতে হাঁটতে একেবারে কাঁসাইয়ের
পুল পর্যন্ত চলে যাওয়া, সেখানে বেশ চড়ুইভাতি — আরও কত কী বেশ ছিলুম।
বেশ মনের মতো বন্ধুও জুটে গিয়েছিল একটি। তার ডাক নাম ঘটা।— ভালোনাম ঘটকর্পর। ওর ছোট ভাইয়ের নাম ক্ষপণক, ওর দাদার
নাম বরাহ। ওদের বাবা গোবর্ধনবাবুর ইচ্ছে ছিল,— ওদের
ন-ভাইকে নিয়ে নবরত্ন সভা বসাবেন বাড়িতে।
কিন্তু ক্ষপণকের পর আর ভাই জন্মাল না—খালি বোন আর বোন। রেগে গিয়ে গোবর্ধনবাবু তাদের নাম দিতে লাগলেন, জ্বালামুখী, মুণ্ডমালিনী এই সব। এমনকি খনা নাম পর্যন্ত রাখলেন না
কারুর। এ হচ্ছে – সেই ঘটা ।
ওর ঠাকুরমার ভাঁড়ার থেকে আচার–টাচার
চুরি করে এনে আমায় খাওয়াত —অমন ভালো ছেলে দুনিয়ায় আর হয় না ! তাই মনে রেখে টাকা পাঠিয়েছে
।
ঠোঙাটা শেষ , তাও ভালো করে চেক করে টেনিদা থামল ।
ক্যাবলা সিরিয়াস হয়ে গেলেই – হিন্দি বলে । দীর্ঘদিন পশ্চিমে
থাকার ফল ।
লেকিন – হামে দেকর উনকো ফ্যায়দা কেয়া ?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেনিদা বললে, ও-সব
ভগবানের দান রে— । এই সব নিয়ে ভাবিস না । চল্ জম্পেশ করে এবারের
দুর্গাপুজোটা করি ।
কভি নেহী – ক্যাবলা বিদ্রোহ করলো । টেনিদা, তুমি আমাদের লীডার,
কোথায় ভাববে এই অনুদানের রহস্য কি – তা না, দুর্গা পুজোর কথা ভাবছো ।
হাবুল বললো – হ, ইডা আমিও ভাবতাছিলাম । ক্যাবলা, তুই ক – কি
করণ যায় ?
আমি তো বলবো – এই টাকা
ফেরত দাও । আমাদের পটলডাঙা থাণ্ডার ক্লাবের যথেষ্ট টাকা আছে ফাণ্ডে । আমাদের টাকা
দিয়েই যে সব গরীব ছাত্র – ছাত্রীরা এবারের মাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করেছে,
তাদের অনুদান দেবো শ্রদ্ধা সহ ।
টেনিদা লাফ দিয়ে বললো – ডি লা গ্রান্ডি, মেফিস্টোফেলিস্
আমরা সমস্বরে বললুম – ইয়াক্ ইয়াক্
আমরা সমস্বরে বললুম – ইয়াক্ ইয়াক্
==================
( সম্পূর্ণ ভাবে কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই, থাকলে অনিচ্ছাকৃত । প্রয়াত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের – পেশোয়ার কি আমীর অবলম্বনে লেখা )
( সম্পূর্ণ ভাবে কাল্পনিক । বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই, থাকলে অনিচ্ছাকৃত । প্রয়াত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের – পেশোয়ার কি আমীর অবলম্বনে লেখা )

