======================
সোনা ব্যানার্জ্জীকে আজকাল আর কেউ মনে রাখে নি মালদা শহরে ।
চিরকুমার এই সোনাদা আদতে ছিলেন রাজশাহীর লোক ।
স্বাধীনতা সংগ্রামী, কার্ল মার্কসের ভক্ত- এই আদ্যপান্ত ভদ্রলোক কথা
একটু বেশী বলতেন ।
ইংরেজী, প্রাথমিক স্তর থেকে উঠিয়ে দেবার পর তিনি পার্টির
বিরাগভাজন হয়ে ব্রাত্য হয়ে পড়লেও- লড়াই জারি ছিল ওনার ।
উপার্জন বলতে ছিল- স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রাপ্য একটা অনিয়মিত
মাসিক ভাতা ।
তবু, হাসি বজায় রাখতেন মুখে ।
আশ্রয় বলতে ছিল :- ছোট ভাইদের একটা বরাদ্দ ঘর । ছাদ ফুটো
হওয়ার কারণে, বর্ষাকালে ছাতা মাথায় বিছানায় বসে থাকতে হতো ।
এটা দেখে- সাধারণ মানুষই এগিয়ে আসে ঘরটা মেরামত করতে । খুব কুণ্ঠিত হয়ে পড়েছিলেন সেই কালে, তবে করারও কিছু ছিল না তাঁর ।
শীতে কষ্ট পেতেন । লেপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল ওয়াড় সমেত ।
সোনাদার আনন্দ দ্যাখে কে ! ঘুমিয়ে নাকি খুব আরাম তাঁর ।
প্রায়ই দুপুরবেলা তিনি “নেমতন্ন” পেতেন কোনো না কোনো উপলক্ষে ।
তিনি সবিনয়ে বলতেন- ওই নেমতন্ন রাতে করা যায় না ?
কারণে বলতেন :- রাতে পেট ভরে ভাত খেলে ঘুমটা ভালো হয় ।
একবার আমার বাড়ীতে ছেলের জন্মদিনে পায়েস খেয়ে ,আমার স্ত্রীকে বাটিটা এগিয়ে দিয়ে বলেছিলেন :- একটু জল দাও তো বৌমা ।
জল দিয়ে, পায়েসের অবশিষ্টাংশ খাবার পর তাঁর উক্তি ছিল:- দুধের তৈরি যে কোনো জিনিস খেয়ে, ওই বাটিতেই জল খেলে, ভালো হজম হয় ।
ক্রিকেট খেলার খুব ভক্ত ছিলেন । আমার ভাড়া বাড়ী কাছে হওয়াতে, তিনি এসে টিভিতে খেলা দেখতেন সারাদিন বসে ।
সেই যেবার রবি শাস্ত্রী অডি গাড়ী পেল, সোনাদার কি আনন্দ !!!!
পরের দিন দুপুর বেলা খাওয়ার কথা বলা হলো ।
তিনি রাজী হলেন না ।
বাজারে দেখা হলো তাঁর সাথে ।
এক টাকায় একটা পাবদা মাছ আর দুটো কাঁচা লঙ্কা ফ্রি তে নিয়ে হাঁটা দিয়েছেন বাড়ীর দিকে ।
জিজ্ঞেস করলাম - রান্না করে খাবেন আজ ?
হ্যাঁ – ভারত জিতলে আমি বাড়ীতে নিজের হাতে ভোজ খাই !
++++++++++++
আজ সোনাদার কথা মনে পড়ছে খালি ! শোনা কথা- আত্মারা নাকি যেখানে খুশী যেতে পারে ।
সোনাদা- আপনি কি টি টোয়েন্টি টর্ণামেন্টে ভারত বনাম অষ্ট্রেলিয়া খেলাটা দেখবেন ?

No comments:
Post a Comment