বিধিসম্মত
সতর্কীকরণ :- বিশ্বাস বা অবিশ্বাস যা খুশী করতে পারেন, তবে এটা
আমার স্বচক্ষে দেখা ।
+++++++++++++++++++
ঘটনাটা আজ
থেকে প্রায় ৪২ বছর আগের । তখন আমি সদ্য বিবাহিত । ছুটিতে গিয়ে,কোচবিহারের আশে পাশে ঘুরে বেড়াই, আর সুলুক সন্ধান করি ।
সহায়, আমার ছোট খুড়শ্বশুর । তিনি ছিলেন- কোচবিহার ডি. এম ( তখন, ডি.সি বা ডিসট্রিক্ট কমিশনার বলা হত কেবল ওই খানে ) অফিসের নাজির । ফলে, অনেক গাড়ী তাঁর হেফাজতে থাকতো ।
বাণেশ্বরে
একটা শিবমন্দির আছে । তার পাশেই একটা পুকুর । সেখানে প্রচুর কচ্ছপ । সব কচ্ছপই মোহন বলে ডাক দিলেই, পাড়ে চলে এসে খাবার জন্য হাঁ করত ।
তা, সেটা দেখতেই গিয়েছিলাম । আমার সঙ্গে ছিল- ওখানকারই দুজন বন্ধু । তাদেরও বেশ
আগ্রহ ছিল এই সমস্ত ব্যাপারে । ঘটনাচক্রে আমরা তিনজনেই বাউন ( কারণ আছে, বলার )
ওখান থেকে
ঠিক ৮ কিমি দূরে একটা প্রাচীন শিবমন্দির আছে,এক
রাজবংশী গ্রামে । মন্দিরে নাকি প্রচুর, মন্ত্র খোদাই করা আছে, এক অজানা লিপিতে । তবে, জিপ যাবে না । কারণ, রাস্তা বলতে কিছুই নেই । সাইকেল চলতে পারে ।
বিকেল হয়ে
আসছে । তাও আমার জেদ চেপে গেল ওই মন্দির দেখার জন্য । ফোটো ওরা তুলতে দেবে না বলে, আরও জেদ চেপেছিল দেখার জন্য ।
সাইকেল
ভাড়া পাওয়া যেত । ৩ টাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য । ওই গ্রামের এক মুরুব্বীর সাথে রওনা
দিলাম সাইকেলে করে । জিপ ফিরে গেল কোচবিহার শহরে । পরের দিন সকালে আসবে আর খবরটাও
দিয়ে দেবে ড্রাইভার শ্বশুরবাড়িতে ।
এবড়ো
খেবড়ো রাস্তায় পড়ে টড়ে একাকার হয়ে পৌঁছলাম মুরুব্বীর বাড়ীতে । ইলেকট্রিক নেই !!!
চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার । আলো বলতে, দু তিনটে লম্ফের আলো । যত কালি হয়, তার থেকেও কম আলো ।
মুরুব্বীর
বাবার বয়স প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি তখন । হাঁটতে চলতে পারেন না । পেশায় ঝাড়িদার ছিলেন
। ঝাড়িদার মানে রাজাকে মলত্যাগের সময় বা স্নানের সময় বাইরে থেকে জল তুলে এনে দিতেন
।
কোনোরকমে পেছন ঘষটে এলেন আমাদের দেখতে । বললেন ( কোচ ভাষাতে ) জাম বাবু আসি গেল্ ।
তোর বৌকে ডাকাত্ ( জামাইবাবু এসে গেছেন, তোর বৌকে ডাক্ )
ওই
রাত্তিরে ওনারা মুরগা কেটে মাংস নিয়ে এলেন । বাকী, চাল, তেলও দিল । পেঁয়াজ, রসুন নেই , ফুরিয়ে
গেছে । মশলাও বেশী নেই । মুরুব্বী ওই গুলোই কিনতে গিয়েছিল বাণেশ্বর । আমাদের সঙ্গে
আড্ডা দিতে গিয়ে ভুলে গেছে ।
এবার
আমাদেরই রাঁধতে হবে । বামুনদের ওনারা রেঁধে দেবেন না । কারণ, আমাদের রান্না ওনারা প্রসাদ হিসেবে খাবেন ।
বাবা
বললেন:- একটা কাগজত্ লিখ্যে দাও । লিখে দিলাম, কি কি
লাগবে । কাগজটা নিয়ে বুড়ো, নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল
। প্রায় মিনিট পনেরো পরে বেরিয়ে এলো সমস্ত ফর্দের জিনিস গুলো নিয়ে ।
আমরা
ভাবলাম, বুড়োর ঘরেই ছিল । ওগুলো বের করে আনলো । মাথা ঘামালাম
না । পরের দিনের জন্য চা, চিনি, দুধও আনতে
লেখা ছিল ।
খেয়ে দেয়ে, ঘুম । পরের দিন সকালবেলা মন্দির দেখে এলাম । প্রায় চিনা ভাষার মত লিপি ।
কিস্সু বুজলাম না ।
সাইকেল
নিয়ে ফিরে এলাম বাণেশ্বরে । মুরুব্বিও সাথে ছিল । বলল, চলুন যে
দোকান থেকে বাবা মাল পত্তর নিয়ে এসেছিল, সেখানে দামটা দিয়ে আসি ।
আমরা অবাক
! যে বাবা উঠতেই পারে না, সেই লোক রাত ৮ টার সময় বাণেশ্বরে
এসেছিল !!!!!!!! তাও বিনা সাইকেলে আর অত কম সময়ে ? আমাদেরই
তো সাইকেলে এক ঘণ্টার ওপর লেগেছিল !!!!!!
ড্রাইভার
বলল- এসব হয়, চলুন দেখবেন । গিয়ে দেখি, দোকানীর
কাছে আমার হাতের লেখা ফর্দ ।
অবাক হলাম
। কোনো ভাষাই নেই । ঝুলে পড়লাম, মুরুব্বীর কাছে । বললাম – ফিরে চল তোমার গ্রামে ।
রাজী হল
না সে । বলল:- বাবা আমাকেই শেখায় নি । কারণ, আমি এই
বিদ্যাকে অপব্যবহার করতে পারি , তাই শেখাবে না বা বলবেও না ।
হতাশ
হয়েছিলাম, আর আজও ভাবি, কি করে সম্ভব
হয়েছিল এটা !!!!!

No comments:
Post a Comment