+++++++++++++
অনেক কিছুই লিখবো ভাবি, হয় না লেখা । প্রধান কারণ – আলস্য আর বাঁ হাতের তিনটে আঙুল স্পোনডিলোসিসের জন্য অসাড় হয়ে যাওয়া ।
এছাড়া লিখতে গেলে – টানা বসাটাও আমার বারণ । বড়জোর কুড়ি মিনিট তারপর
অন্তত আধ ঘন্টা শোওয়া, ডাক্তারের ফরমান অনুযায়ী ।
তারপরে অসমাপ্ত লেখাটার আর দিশা পাই না- ঐ সময় ফারাকের জন্য । চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলি
।
তবু সোমেনের একটা লেখা, এই লেখাটা আমাকে লিখতে বাধ্য করলো । আমি ওর ষ্টেটাসে লিখতে পারতাম, এই কথাগুলো, কিন্তু তাতে অনেকেই আমাকে ভুল বুঝতো, সোমেন , তারক, পার্থ, সুশান্ত- এরকম কয়েকজন ছাড়া । গ্রুপে সেই অসুবিধে নেই বলে, এখানেই লিখলাম ।
আমি আনন্দবাজার
পড়ি, সেই কৈশোর বয়স থেকে । ধীরে ধীরে দেখেছি এই পত্রিকার অধঃপতন ।
সেই সময়ে যুগান্তর, দৈনিক বসুমতী – এসব দৈনিকও ছিল তবে,
আনন্দ বাজারকে টপকাতে পারে নি কেউই, প্রধানত তার ভাষা, খবরের উপস্থাপনা এবং
পরিবেশনের জন্য ।
পার্টির মুখপত্রও ছিল । প্রথমে স্বাধীনতা,
পরে পার্টি ভাগ হবার পর- গণশক্তি এবং কালান্তর এই দুটি পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে
।
সবই লাইনোতে ছাপা, তবে সেরকম বানান ভুল চোখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না আমার ।
প্রথম আনন্দবাজারই অফসেটে ছাপা কাগজ আনে তাও আংশিক । সরকার
বাড়ির এই কাগজ প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক চালু গল্প কথা চালু আছে, তার কতটা সত্যি বা
মিথ্যা আমার জানা নেই ।
তবে, সেই সময়ে এই পত্রিকা ততটা খবর “তৈরি” করতো না বা গা জোয়ারী মাতব্বরী, উন্নাসিকতা কম ছিল ।
তবু, কোথায় যেন একটা খামতি ছিল ।
সৈয়দ মুজতবা আলী, বাংলা সাহিত্যের কুতুব মিনার “দেশে বিদেশে” লেখা শুরু করেন –
দক্ষিণ ভারতের মদনাপল্লী স্যানেটোরিয়ামে । আবু সইদ আইয়ুবের যক্ষ্মা হবার পর, তাঁর
সাথে আলী সায়েব যান সেই স্যানেটোরিয়ামে ।
পরে পাণ্ডুলিপিটি কানাইলাল সরকারের হাতে পড়লে অবাক হয়ে যান
পড়ে ।
কানাই বাবু সেটি দেন সাগরময় ঘোষের কাছে । ঘোষ বাবু পড়ে অভিভূত হয়ে যান । সেই সময়ে
এক প্রথিত যশা সাহিত্যিক সাগরময় বাবুকে বলেন – কি পড়ছেন মন দিয়ে ?
একটা ভ্রমণ কাহিনী - উত্তর ছিল, সাগরময়
বাবুর ।
সাহিত্যিকটি বলেন – যাক এটা উপন্যাস নয়, না হলে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী
দেখা দেবে ।
নাম শুনে সাহিত্যিক নাক কুঁচকে বলেন - ও,
সেই শান্তিনিকেতনের লেড়েটা ?
অনেক বাধা সত্ত্বেও সাগরময় বাবু দেশে
বিদেশে ছাপিয়েছিলেন দেশ পত্রিকায় ।
১৩ ই মার্চ ১৯৪৮ থেকে ১৮ ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ প্রকাশিত হয় কিস্তিতে – তার পরেরটা তো ইতিহাস ।
এদিকে কবি কৃষ্ণ ধরের ( এই নামটা বোধহয় অনেকেরই জানা নেই এখন) সঙ্গে আমার আলাপ হয়
বৈবাহিক সূত্রে । একটু ঢাক পেটানো হবে,
তবে কয়েকটা কথা বলার জন্যই এই প্রসঙ্গ টেনে আনা ।
তিনি আমার ব্রহ্মপুরের বাসাতে আসেন গোপালপুরে বেড়ানোর জন্য । দিন কয়েক ছিলেন সেই
১৯৭৫ সালে ।
তখন নম্র ভাষায় কথা বলা কৃষ্ণ ধর- যুগান্তর এবং অমৃত
সাপ্তাহিকের সম্পাদক মণ্ডলীতে ছিলেন ।
সারাদিনই আড্ডা
চলতো – নানা বিষয়ে । এর মধ্যেই তিনি একদিন জিজ্ঞেস করেন – আমি গল্প বা
কবিতা লিখি কিনা ।
সবে ধন নীলমণি দুটো গল্প লেখা ছিল , সেই দুটো তাঁর হাতে দিতেই মুচকি হেসে ওই দুটি
নেন, এবং বেশ পরে দেখি একটি গল্প ছাপা হয়েছিল অমৃত পত্রিকায় । পরের গল্পটা বিবেচিত হয় নি ছাপার জন্য । এখন সবই
ভুলে গেছি ।
অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইণ্ডিয়ার শুঁড়িখানায় আলাপ হয় –
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে- আমার বস হেমেন রায়ের সূত্রে ।
সুনীল বাবুই প্রথম আমার অমৃত পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পের কথা
বলেন – এবং একটি গল্প চান এই শর্তে যে মনোনীত হলে ছাপা হবে ।
পুলকিত আমি গল্প পাঠাই এবং প্রায় পাঁচ মাস পরে সেই গল্পটি ছাপা হয়েছে, তবে আমার
নামে নয় ।
না না সুনীল বাবু
এর জন্য দায়ী ছিলেন না, দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু শত অনুরোধেও আমি আজ পর্যন্ত
কোনো গল্প পাঠাই নি দেশ পত্রিকায় আজ পর্যন্ত ।
পরে অত্যন্ত ভদ্রলোক এবং আনন্দবাজারের ক্রীড়া সম্পাদক প্রয়াত
মতি নন্দীর সাথে আলাপ হয় একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ।
তাঁর ঝরঝরে গদ্য আমাকে অভিভূত করতো । এদিক দিয়ে দাম্ভিক, উন্নাসিক
বর্তমান ক্রীড়া সম্পাদক গৌতম ঠিক মতি নন্দী নয়, তবে তার গদ্যের হাত খুব সুন্দর ।
এবারে আসি সিনেমা হলের ট্রেইলার প্রসঙ্গে । তখন
সংবাদ বিচিত্রা নামে হলে দেখানো হতো বিভিন্ন খবর এবং খেলার টুকরো, টিভি
পূর্ব যুগে ।
পনেরো মিনিট ছিল সময় সীমা । দেখেছিলাম – গাভাসকরের
ওয়েষ্ট ইণ্ডিজের সাথে ব্যাটিং,
সঙ্গে দিলীপ সরদেশাইয়ের সঙ্গত ।
এক অদ্ভূত রোমাঞ্চ , লিখে বোঝানো আমার
পক্ষে সম্ভব নয় ।
পরে টিভি এলেও সরাসরি সম্প্রচার হতো না । পরের দিন দেখানো হতো খেলা ।
চারটে স্লিপ একটা গালি নিয়ে কপিল দেবের বোলিং দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম ।
আছে – আমাদের দেশেও
আছে, ফাষ্ট বোলার ।
এবারে বানান দিয়ে শেষ করবো ।
স্ক্যাম কথাটা আমি প্রথম দেখি – ইংরেজী কাগজে ।
অনেক ইংরেজি অভিধান খুঁজেও অর্থটা পাই নি । পরে অবশ্য জলভাত হয়ে যায় শব্দটা ।
সনির বিজ্ঞাপন দেখি বুঝি – ওটার উচ্চারণ সনি – সোনী নয়
। তাই হয়তো সনিয়া।
তবে, শচীন না সচিন এই নিয়ে ধন্ধ এখনও কাটে নি । যেমন কাটে নি –
গ্বালিয়র না গোয়ালিয়র ।
গান্ধী না গাঁধি ?
অনেক আগে – জ্যোতি বাসু উচ্চারণ করতেন দূরদর্শনের ইংরেজি সংবাদ পাঠক পাঠিকারা ।
খোদ পামেলা রত্নমই এই উচ্চারণ করতেন, তাঁর ভাই সুরজিৎ সেনের মত ।
পরে নাকি নিয়ম হয় – আঞ্চলিক ভাষায় যে উচ্চারণ হবে, সেটাই বলতে হবে ।
হয়ে যায় জ্যোতি বাসু ।
-------------
আমার এটা নির্ভেজাল স্মৃতি চারণ । তিন খেপে লিখেছি বলে – একটু আবোল তাবোল হয়ে গেছে
মাফ করবেন সবাই ।