Powered By Blogger

Monday, March 28, 2016

পোড়া পেট

******খাওয়া দাওয়া নিয়ে আমার দুর্বলতা সর্বজনীন । এই বয়সে এসেও, সেই দুর্বলতাটা ভয়ঙ্কর ভাবে বিদ্যমান । খেতে বসলে আর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না আমার ।
আমার ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে জল খাওয়া বা কচকচ করে মাংস চিবোনোর শব্দ শুনে আমার দিকে অনেকেই ( এর মধ্যে আমার “উনিও” আছেন ) ভুরু কুঁচকে তাকান ।
একবার তো পার্ক স্ট্রীটের “স্কাইরুমে” ( এখন ঘচাং ফু হয়ে গেছে ) গিয়ে বলেই দিয়েছিলাম- ও ঠাহুর !!! ঝুলে ( স্যুপ) কদু ( লাউ) দিসো ক্যা?
আশ্চর্য জনক ভাবে উত্তর এসেছিল :- মিঁঞা, ধইর‌্যা ফেলসেন দেহি ।
তারপর থেকেই আমার “কনফি” তুঙ্গে । এই সব নাক উঁচুপনাকে – আমি তাচ্ছিল্যর চোখেই দেখি এখন ।
ফেসবুকের বন্ধুদের বাইরেও কয়েকটা বিয়ে, এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে– খাওয়াটা জব্বর হয়েছিল ।

আজ একটু খাওয়া দাওয়া নিয়ে অন্য কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি ।

প্রথমেই বলবো – আজ থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশ আগেকার কথা ।
যাদের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ– তাঁরা আবার বারিন্দির এবং স্বয়ং গৃহকর্তা আবার ডাক্তারও বটে ।
মাটীতে কলাপাতায় পরিবেশন আর মাটীর ভাঁড়ে জল ।
পদগুলোও বেশ উঁচুমানের । শেষ হয়ে এসেছে খাওয়া, তখন গৃহকর্তার মনে পড়ল শাকটা দেওয়া হয় নি, প্রথম পাতে ।
উনি যথারীতি উচ্চগ্রামে হাঁক ( বারিন্দিররা আবার পেছনে ভর দিয়ে কথা বলেন- বরিন্দের প্রাচীন প্রবাদ) দিলেন :- ওরে শাকটা নিয়ে আয় !!!!
নামকরা খাইয়েরা আপত্তি তুলে বললেন :- ওটা আর দিতে হবে না । এখন তো গলা পর্যন্ত মিষ্টান্নে ভর্তি ।
প্রথামত শাক পেটের নীচে থাকার কথা ।
ডাক্তার আবার হাঁক দিলেন বরিন্দ টোনে :-
ওরে, শাক গুলো একটা বালতীতে গুলে নিয়ে আয়, সঙ্গে গরুকে ইনজেকশান দেওয়ার মোটা কাঁচের সিরিঞ্জ । শাকটা সকলের পেছন দিয়ে ঢুকিয়ে দি । অতিথি সৎকারে ত্রুটি যেন না হয় ।
আপত্য কারীরা সহ সব নিমন্ত্রিতরা দুড়দার করে উঠে দৌড়ে পালিয়েছিলেন সেবার ।

অবিশ্বাস্য

বিধিসম্মত সতর্কীকরণ :- বিশ্বাস বা অবিশ্বাস যা খুশী করতে পারেন, তবে এটা আমার স্বচক্ষে দেখা ।

+++++++++++++++++++

ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর আগের । তখন আমি সদ্য বিবাহিত । ছুটিতে গিয়ে,কোচবিহারের আশে পাশে ঘুরে বেড়াই, আর সুলুক সন্ধান করি ।
সহায়, আমার ছোট খুড়শ্বশুর । তিনি ছিলেন- কোচবিহার ডি. এম ( তখন, ডি.সি বা ডিসট্রিক্ট কমিশনার বলা হত কেবল ওই খানে ) অফিসের নাজির । ফলে, অনেক গাড়ী তাঁর হেফাজতে থাকতো ।
বাণেশ্বরে একটা শিবমন্দির আছে । তার পাশেই একটা পুকুর । সেখানে প্রচুর কচ্ছপ ।  সব কচ্ছপই মোহন বলে ডাক দিলেই, পাড়ে চলে এসে খাবার জন্য হাঁ করত ।
তা, সেটা দেখতেই গিয়েছিলাম । আমার সঙ্গে ছিল- ওখানকারই দুজন বন্ধু । তাদেরও বেশ আগ্রহ ছিল এই সমস্ত ব্যাপারে । ঘটনাচক্রে আমরা তিনজনেই বাউন ( কারণ আছে, বলার )
ওখান থেকে ঠিক ৮ কিমি দূরে একটা প্রাচীন শিবমন্দির আছে,এক রাজবংশী গ্রামে । মন্দিরে নাকি প্রচুর, মন্ত্র খোদাই করা আছে, এক অজানা লিপিতে । তবে, জিপ যাবে না । কারণ, রাস্তা বলতে কিছুই নেই । সাইকেল চলতে পারে ।
বিকেল হয়ে আসছে । তাও আমার জেদ চেপে গেল ওই মন্দির দেখার জন্য । ফোটো ওরা তুলতে দেবে না বলে, আরও জেদ চেপেছিল দেখার জন্য ।
সাইকেল ভাড়া পাওয়া যেত । ৩ টাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য । ওই গ্রামের এক মুরুব্বীর সাথে রওনা দিলাম সাইকেলে করে । জিপ ফিরে গেল কোচবিহার শহরে । পরের দিন সকালে আসবে আর খবরটাও দিয়ে দেবে ড্রাইভার শ্বশুরবাড়িতে ।
এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় পড়ে টড়ে একাকার হয়ে পৌঁছলাম মুরুব্বীর বাড়ীতে । ইলেকট্রিক নেই !!! চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার । আলো বলতে, দু তিনটে লম্ফের আলো । যত কালি হয়, তার থেকেও কম আলো ।

মুরুব্বীর বাবার বয়স প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি তখন । হাঁটতে চলতে পারেন না । পেশায় ঝাড়িদার ছিলেন । ঝাড়িদার মানে রাজাকে মলত্যাগের সময় বা স্নানের সময় বাইরে থেকে জল তুলে এনে দিতেন ।

কোনোরকমে পেছন ঘষটে এলেন আমাদের দেখতে । বললেন ( কোচ ভাষাতে ) জাম বাবু আসি গেল্ । তোর বৌকে ডাকাত্ ( জামাইবাবু এসে গেছেন, তোর বৌকে ডাক্ )

ওই রাত্তিরে ওনারা মুরগা কেটে মাংস নিয়ে এলেন । বাকী, চাল, তেলও দিল । পেঁয়াজ, রসুন নেই , ফুরিয়ে গেছে । মশলাও বেশী নেই । মুরুব্বী ওই গুলোই কিনতে গিয়েছিল বাণেশ্বর । আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে ভুলে গেছে ।
এবার আমাদেরই রাঁধতে হবে । বামুনদের ওনারা রেঁধে দেবেন না । কারণ, আমাদের রান্না ওনারা প্রসাদ হিসেবে খাবেন ।
বাবা বললেন:- একটা কাগজত্ লিখ্যে দাও । লিখে দিলাম, কি কি লাগবে । কাগজটা নিয়ে বুড়ো, নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল । প্রায় মিনিট পনেরো পরে বেরিয়ে এলো সমস্ত ফর্দের জিনিস গুলো নিয়ে ।
আমরা ভাবলাম, বুড়োর ঘরেই ছিল । ওগুলো বের করে আনলো । মাথা ঘামালাম না । পরের দিনের জন্য চা, চিনি, দুধও আনতে লেখা ছিল ।
খেয়ে দেয়ে, ঘুম । পরের দিন সকালবেলা মন্দির দেখে এলাম । প্রায় চিনা ভাষার মত লিপি । কিস্সু বুজলাম না ।
সাইকেল নিয়ে ফিরে এলাম বাণেশ্বরে । মুরুব্বিও সাথে ছিল । বলল, চলুন যে দোকান থেকে বাবা মাল পত্তর নিয়ে এসেছিল, সেখানে দামটা দিয়ে আসি ।
আমরা অবাক ! যে বাবা উঠতেই পারে না, সেই লোক রাত ৮ টার সময় বাণেশ্বরে এসেছিল !!!!!!!! তাও বিনা সাইকেলে আর অত কম সময়ে ? আমাদেরই তো সাইকেলে এক ঘণ্টার ওপর লেগেছিল !!!!!!
ড্রাইভার বলল- এসব হয়, চলুন দেখবেন । গিয়ে দেখি, দোকানীর কাছে আমার হাতের লেখা ফর্দ ।
অবাক হলাম । কোনো ভাষাই নেই । ঝুলে পড়লাম, মুরুব্বীর কাছে । বললাম ফিরে চল তোমার গ্রামে ।
রাজী হল না সে । বলল:- বাবা আমাকেই শেখায় নি । কারণ, আমি এই বিদ্যাকে অপব্যবহার করতে পারি , তাই শেখাবে না বা বলবেও না ।

হতাশ হয়েছিলাম, আর আজও ভাবি, কি করে সম্ভব হয়েছিল এটা !!!!!

Sunday, March 27, 2016

স্মৃতি – বিস্মৃতির আড়ালে



+++++++++++++

 
অনেক কিছুই লিখবো ভাবি, হয় না লেখা প্রধান কারণআলস্য আর বাঁ হাতের তিনটে আঙুল স্পোনডিলোসিসের জন্য অসাড় হয়ে যাওয়া

এছাড়া লিখতে গেলেটানা বসাটাও আমার বারণ বড়জোর কুড়ি মিনিট তারপর অন্তত আধ ঘন্টা শোওয়া, ডাক্তারের ফরমান অনুযায়ী

তারপরে অসমাপ্ত লেখাটার আর দিশা পাই না- ঐ সময় ফারাকের জন্য চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলি


তবু সোমেনের একটা লেখা, এই লেখাটা আমাকে লিখতে বাধ্য করলো আমি ওর ষ্টেটাসে লিখতে পারতাম, এই কথাগুলো, কিন্তু তাতে অনেকেই আমাকে ভুল বুঝতো, সোমেন , তারক, পার্থ, সুশান্ত- এরকম কয়েকজন ছাড়া গ্রুপে সেই অসুবিধে নেই বলে, এখানেই লিখলাম ।

 আমি আনন্দবাজার পড়ি, সেই কৈশোর বয়স থেকে । ধীরে ধীরে দেখেছি এই পত্রিকার অধঃপতন ।
সেই সময়ে যুগান্তর, দৈনিক বসুমতী – এসব দৈনিকও ছিল তবে, আনন্দ বাজারকে টপকাতে পারে নি কেউই, প্রধানত তার ভাষা, খবরের উপস্থাপনা এবং পরিবেশনের জন্য ।

পার্টির মুখপত্রও ছিল  । প্রথমে স্বাধীনতা, পরে পার্টি ভাগ হবার পর- গণশক্তি এবং কালান্তর এই দুটি পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে ।

সবই লাইনোতে ছাপা, তবে সেরকম বানান ভুল চোখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না আমার ।
প্রথম আনন্দবাজারই অফসেটে ছাপা কাগজ আনে তাও আংশিক । সরকার বাড়ির এই কাগজ প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক চালু গল্প কথা চালু আছে, তার কতটা সত্যি বা মিথ্যা আমার জানা নেই ।

তবে, সেই সময়ে এই পত্রিকা ততটা খবর “তৈরি” করতো না বা  গা জোয়ারী মাতব্বরী, উন্নাসিকতা কম ছিল ।

তবু, কোথায় যেন একটা খামতি ছিল ।

সৈয়দ মুজতবা আলী, বাংলা সাহিত্যের কুতুব মিনার “দেশে বিদেশে” লেখা শুরু করেন – দক্ষিণ ভারতের মদনাপল্লী স্যানেটোরিয়ামে । আবু সইদ আইয়ুবের যক্ষ্মা হবার পর, তাঁর সাথে আলী সায়েব যান সেই স্যানেটোরিয়ামে ।
পরে পাণ্ডুলিপিটি কানাইলাল সরকারের হাতে পড়লে অবাক হয়ে যান পড়ে ।

কানাই বাবু সেটি দেন সাগরময় ঘোষের কাছে । ঘোষ বাবু পড়ে অভিভূত হয়ে যান । সেই সময়ে এক প্রথিত যশা সাহিত্যিক সাগরময় বাবুকে বলেন – কি পড়ছেন মন দিয়ে ?

একটা ভ্রমণ কাহিনী  - উত্তর ছিল, সাগরময় বাবুর ।

সাহিত্যিকটি বলেন – যাক এটা উপন্যাস নয়, না হলে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা দেবে ।


নাম শুনে সাহিত্যিক নাক কুঁচকে বলেন  - ও, সেই শান্তিনিকেতনের লেড়েটা ?

 অনেক বাধা সত্ত্বেও সাগরময় বাবু দেশে বিদেশে ছাপিয়েছিলেন দেশ পত্রিকায় ।

 ১৩ ই মার্চ ১৯৪৮ থেকে ১৮ ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৯  প্রকাশিত হয় কিস্তিতে – তার পরেরটা তো ইতিহাস ।



এদিকে কবি কৃষ্ণ ধরের ( এই নামটা বোধহয় অনেকেরই জানা নেই এখন) সঙ্গে আমার আলাপ হয় বৈবাহিক সূত্রে  । একটু ঢাক পেটানো হবে, তবে কয়েকটা কথা বলার জন্যই এই প্রসঙ্গ টেনে আনা ।

তিনি আমার ব্রহ্মপুরের বাসাতে আসেন গোপালপুরে বেড়ানোর জন্য । দিন কয়েক ছিলেন সেই ১৯৭৫ সালে ।

তখন নম্র ভাষায় কথা বলা কৃষ্ণ ধর- যুগান্তর এবং অমৃত সাপ্তাহিকের সম্পাদক মণ্ডলীতে ছিলেন ।

সারাদিনই আড্ডা  চলতো – নানা বিষয়ে । এর মধ্যেই তিনি একদিন জিজ্ঞেস করেন – আমি গল্প বা কবিতা লিখি কিনা ।

সবে ধন নীলমণি দুটো গল্প লেখা ছিল , সেই দুটো তাঁর হাতে দিতেই মুচকি হেসে ওই দুটি নেন, এবং বেশ পরে দেখি একটি গল্প ছাপা হয়েছিল অমৃত পত্রিকায় ।  পরের গল্পটা বিবেচিত হয় নি ছাপার জন্য । এখন সবই ভুলে গেছি ।
অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইণ্ডিয়ার শুঁড়িখানায় আলাপ হয় – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে- আমার বস হেমেন রায়ের সূত্রে ।
সুনীল বাবুই প্রথম আমার অমৃত পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পের কথা বলেন – এবং একটি গল্প চান এই শর্তে যে মনোনীত হলে ছাপা হবে ।

পুলকিত আমি গল্প পাঠাই এবং প্রায় পাঁচ মাস পরে সেই গল্পটি ছাপা হয়েছে, তবে আমার নামে নয় ।
 না না সুনীল বাবু এর জন্য দায়ী ছিলেন না, দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু শত অনুরোধেও আমি আজ পর্যন্ত কোনো গল্প পাঠাই নি দেশ পত্রিকায় আজ পর্যন্ত ।
পরে অত্যন্ত ভদ্রলোক এবং আনন্দবাজারের ক্রীড়া সম্পাদক প্রয়াত মতি নন্দীর সাথে আলাপ হয় একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ।

তাঁর ঝরঝরে গদ্য আমাকে
 অভিভূত করতো । এদিক দিয়ে দাম্ভিক, উন্নাসিক বর্তমান ক্রীড়া সম্পাদক গৌতম ঠিক মতি নন্দী নয়, তবে তার গদ্যের হাত খুব সুন্দর ।

এবারে আসি সিনেমা হলের ট্রেইলার প্রসঙ্গে । তখন সংবাদ বিচিত্রা নামে হলে দেখানো হতো বিভিন্ন খবর এবং খেলার টুকরো, টিভি পূর্ব যুগে

পনেরো মিনিট ছিল সময় সীমা । দেখেছিলাম
গাভাসকরের ওয়েষ্ট ইণ্ডিজের সাথে ব্যাটিং, সঙ্গে দিলীপ সরদেশাইয়ের সঙ্গত

এক অদ্ভূত রোমাঞ্চ , লিখে বোঝানো  আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।


পরে টিভি এলেও সরাসরি সম্প্রচার হতো না । পরের দিন দেখানো হতো খেলা ।


চারটে স্লিপ একটা গালি নিয়ে কপিল দেবের বোলিং দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম ।

আছে আমাদের দেশেও আছে, ফাষ্ট বোলার ।
এবারে বানান দিয়ে শেষ করবো ।

স্ক্যাম কথাটা আমি প্রথম দেখি
ইংরেজী কাগজে । অনেক ইংরেজি অভিধান খুঁজেও অর্থটা পাই নি । পরে অবশ্য জলভাত হয়ে যায় শব্দটা ।
সনির বিজ্ঞাপন দেখি বুঝি – ওটার উচ্চারণ সনি – সোনী নয় । তাই হয়তো সনিয়া।

তবে, শচীন না সচিন এই নিয়ে ধন্ধ এখনও কাটে নি ।
যেমন কাটে নি – গ্বালিয়র না গোয়ালিয়র ।

গান্ধী না গাঁধি ?
অনেক আগে – জ্যোতি বাসু উচ্চারণ করতেন দূরদর্শনের ইংরেজি সংবাদ পাঠক পাঠিকারা । খোদ পামেলা রত্নমই এই উচ্চারণ করতেন, তাঁর ভাই সুরজিৎ সেনের মত ।

পরে নাকি নিয়ম হয় – আঞ্চলিক ভাষায় যে উচ্চারণ হবে, সেটাই বলতে হবে ।

হয়ে যায় জ্যোতি বাসু ।


-------------
আমার এটা নির্ভেজাল স্মৃতি চারণ । তিন খেপে লিখেছি বলে – একটু আবোল তাবোল হয়ে গেছে মাফ করবেন  সবাই ।






Saturday, March 26, 2016

দুনিয়ার পাগলরা এক হও


“দুনিয়ার পাগলরা এক হও। চলো আমরা পাগলদের কমিউন তৈরি করি । সেয়ানা পাগলরা বাদ।”
বলি, আলাদা করে পাগল কোথায় তৈরি হয় মশাই ?
সবাই তো বাই ডিফল্ট পাগল । পাগলামি যদি না থাকে, তবে সেই মানুষটা সুস্থ নয় ।
কথায় বলে না ?
পাগলা খাবি কি, ঝাঁঝেই মরে যাবি !
পাগলাদের ফেভারিট খাবার হলো ক্ষীর !
কেন?
ওই যে বলে- পাগলা, ক্ষীর খা !
কতরকমের যে পাগল, এই দুনিয়াতে !
কাজ-পাগল
বৌ- পাগল
সিনেমা- পাগল
গান -পাগল
মেয়ে –পাগল
বই –পাগল

করে করে :- সাহিত্য পাগল ।
আর এক পাগল কবি তারপদ রায় বলে গিয়েছেন :- পাগল চেনার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো মোড়ে দাঁড়ানো ।
যদি দ্যাখেন , ট্র্যাফিক পুলিশ ছাড়া আর কেউ ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করছে, সে নির্ঘাৎ পাগল ।
পাগলরা, অন্তত আমি দেখিনি- একসঙ্গে থাকে !
থাকলেও বেশীক্ষণ নয় ।
কারণ ?
পাগলেও নিজের ভালো বোঝে ! বুইলেন কিনা !
পাগলরা কোনোদিন সেয়ানা হয় না, হলে সে পাগল নয় ।
গান পাগল মান্না দে গেয়েছিলেন :-
যখন কেউ আমাকে পাগল বলে তার প্রতিবাদ করি আমি 
যখন তুমি আমায় পাগল বলো , ধন্য যে হয় সে পাগলামি
ধন্য আমি ধন্য হে পাগল তোমার জন্য হে

সলিল চৌধুরীর সুরে নিচের গানটার কথা:-
পাগল হাওয়া 
কি আমার মতন তুমিও হারিয়ে গেলে 
ফুলেরও বনে হাজারও রঙের মেলায় 
সুরভি লুটের খেলায় 
তারে নাহি পেলে

অত কথা কি ? কবিদের গুরুঠাকুর রবি দাদু তো বলেইছেন :-
পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে. পাগল আমার মন জেগে ওঠে॥
তাই বলি, এত পাগল- ধুনবে কে ?

সলিলকি


++++
মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে । রোজ সকালে ঘুম থেকে ওঠো । টয়লেটে যাও । ব্রাশ করো- তারপর আর যা যা করণীয় সব করতে হয়, যন্ত্রের মত ।

চাকরি জীবনে ভাবতাম, কবে ছুটকারা পাবো ।
টাকা চাই, জীবন ধারণের জন্য – চাকরিটা করতে হবে ! পরিবারকে দেখভাল আছে। ছেলে- মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব ঘাড়ে । যদিও আমার মেয়ে নেই- বৌমা আছে ।
অবসর পেয়ে বেশ কয়েকদিন আনন্দে ছিলাম । রোজ সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠা নেই ! বসের ফোন নেই, টার্গেট করার জন্য ।
তারপর, খালি খালি লাগতো !
ছোটবেলায়, পড়তেও ক্লান্তি আসতো । শেষ কবে হবে- এই ডিগ্রির পড়াশোনা, সেটা ছিল এক ক্লান্তিকর পরীক্ষা ।
তারপর বেকারত্ব । অ্যাপ্লাই অ্যাপ্লাই- নো রিপ্লাই লিখতে ক্লিশে লাগলেও, ঘটনাটা তাই ছিল ।
সকলেই দেখি প্রেম করে । তাই বেকারের সময়ে প্রেম করলাম । সেখানেও একঘেঁয়েমি ।
সেই একটা পার্কে গিয়ে বসা , একঠোঙ্গা চিনেবাদাম নিয়ে । চিনেবাদামের পয়সা জোগাড়ও ছিল- এক কঠিন ব্যাপার । আর সেটা দুপক্ষের তরফেই ।
দুজনেই জানি বিয়ে হবে না, তাও সেই সম্বন্ধকে টেনে চলা- না হলে বন্ধুদের কাছে প্রেষ্টিজ থাকবে না ।

টাকাটা সব মনে হতো, তবে সেটাও নয় । ঠিক কি যে চাই, সেটাও নিজে বুঝতে পারি না এখনও !
এখন তো শারিরীক কারণে – অনেক বাধা নিষেধ মেনে চলতে হয় ।
তা, সত্যি বলতে কি – বাধা নিষেধের মধ্যেই তো বড় হয়েছি ।

এটা করবে না, সেটা বারণ !
ধ্যুৎতেরি বলে রাজনীতির আঙিনায় পদক্ষেপ ।
যা বুঝলাম – একটা অলিখিত গান চলছে, চারিদিকে !
মেরে অঙনে মেঁ তুমহারা কেয়া কাম হ্যায় ?
তিনদিন ফ্রিজে রাখা ডালের মত টক টক গন্ধ এই জীবনটাতে !
থোড়বড়ি খাড়া করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সব কিছু!
পরিত্রাণ নেই !

চলো হে- দু পাত্তর টেনে আসি যদি মেজাজটা ফুরফুরে হয় !
তবে, নেশা কেটে গেলে তো সেই অ্যাবনর্মাল জীবন !
শা.......................... লা !

কটা পাবদা মাছ আর দুটো কাঁচালঙ্কা


======================
সোনা ব্যানার্জ্জীকে আজকাল আর কেউ মনে রাখে নি মালদা শহরে ।

চিরকুমার এই সোনাদা আদতে ছিলেন রাজশাহীর লোক ।

স্বাধীনতা সংগ্রামী, কার্ল মার্কসের ভক্ত- এই আদ্যপান্ত ভদ্রলোক কথা 


একটু বেশী বলতেন ।

ইংরেজী, প্রাথমিক স্তর থেকে উঠিয়ে দেবার পর তিনি পার্টির 

বিরাগভাজন হয়ে ব্রাত্য হয়ে পড়লেও- লড়াই জারি ছিল ওনার ।

উপার্জন বলতে ছিল- স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রাপ্য একটা অনিয়মিত 

মাসিক ভাতা ।

তবু, হাসি বজায় রাখতেন মুখে ।

আশ্রয় বলতে ছিল :- ছোট ভাইদের একটা বরাদ্দ ঘর । ছাদ ফুটো 



হওয়ার কারণে, বর্ষাকালে ছাতা মাথায় বিছানায় বসে থাকতে হতো ।

এটা দেখে- সাধারণ মানুষই এগিয়ে আসে ঘরটা মেরামত করতে । খুব কুণ্ঠিত হয়ে পড়েছিলেন সেই কালে, তবে করারও কিছু ছিল না তাঁর ।

শীতে কষ্ট পেতেন । লেপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল ওয়াড় সমেত ।
সোনাদার আনন্দ দ্যাখে কে ! ঘুমিয়ে নাকি খুব আরাম তাঁর ।

প্রায়ই দুপুরবেলা তিনি “নেমতন্ন” পেতেন কোনো না কোনো উপলক্ষে ।
তিনি সবিনয়ে বলতেন- ওই নেমতন্ন রাতে করা যায় না ?

কারণে বলতেন :- রাতে পেট ভরে ভাত খেলে ঘুমটা ভালো হয় ।

একবার আমার বাড়ীতে ছেলের জন্মদিনে পায়েস খেয়ে ,আমার স্ত্রীকে বাটিটা এগিয়ে দিয়ে বলেছিলেন :- একটু জল দাও তো বৌমা ।

জল দিয়ে, পায়েসের অবশিষ্টাংশ খাবার পর তাঁর উক্তি ছিল:- দুধের তৈরি যে কোনো জিনিস খেয়ে, ওই বাটিতেই জল খেলে, ভালো হজম হয় ।

ক্রিকেট খেলার খুব ভক্ত ছিলেন । আমার ভাড়া বাড়ী কাছে হওয়াতে, তিনি এসে টিভিতে খেলা দেখতেন সারাদিন বসে ।
সেই যেবার রবি শাস্ত্রী অডি গাড়ী পেল, সোনাদার কি আনন্দ !!!!

পরের দিন দুপুর বেলা খাওয়ার কথা বলা হলো ।
তিনি রাজী হলেন না ।

বাজারে দেখা হলো তাঁর সাথে ।

এক টাকায় একটা পাবদা মাছ আর দুটো কাঁচা লঙ্কা ফ্রি তে নিয়ে হাঁটা দিয়েছেন বাড়ীর দিকে ।

জিজ্ঞেস করলাম - রান্না করে খাবেন আজ ?

হ্যাঁ – ভারত জিতলে আমি বাড়ীতে নিজের হাতে ভোজ খাই !
++++++++++++
আজ সোনাদার কথা মনে পড়ছে খালি ! শোনা কথা- আত্মারা নাকি যেখানে খুশী যেতে পারে ।

সোনাদা- আপনি কি টি টোয়েন্টি টর্ণামেন্টে ভারত বনাম অষ্ট্রেলিয়া খেলাটা দেখবেন ?