Powered By Blogger

Friday, May 15, 2015

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী

আগামী ১৯ শে মে ২০১৫  তে ৫৪ বছর পূর্ণ হবে ১৯৬১ সালের বিকেল দুইটা ৩৫ মিনিটে বিনা মেঘে বজ্রপাত  শিলচর স্টেশনের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। ভারতের আধাসামরিক বাহিনী অতর্কিতে গুলি শুরু করে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর। এতে এখানে শহীদ হন আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১১ তরুণ-তরুণী।


শহীদ হলেন কমলা ভট্টাচার্য, কুমুদ দাস, শচীন পাল, সুনীল সরকার, কানাইলাল নিয়োগী, সুকমল পুরকায়স্থ, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, তরুণী দেবনাথ, বীরেন্দ্র সূত্রধর, হীতেশ বিশ্বাস এবং সত্যেন্দ্র দেব। সবারই বয়স ছিল ২৫-এর মধ্যে। কমলা ভট্টাচার্য এবং শচীন পালের বয়স ১৮ পার হয়নি। শহীদ হওয়ার আগের দিন এ দুজন স্কুলে দিয়েছিলেন জীবনের শেষ পরীক্ষা।


এই ঘটনার খবর ২০ মে ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। দাবি ওঠে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। ৪০ হাজার মানুষের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয় শিলচরে। তার পরই ১১ শহীদের শেষকৃত্য হয় শিলচর শ্মশানে।

 এই বিষয়ে লিখবে তবে তার আগে জেনে নেই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার কথা ।

সমৃদ্ধ প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্যের পাশাপাশি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের রয়েছে সুদীর্ঘ ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস। মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবীতে বরাক উপত্যকায় ১৯৯৬ সনের ১৬ মার্চ পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন বিশ্বের প্রথম আদিবাসী এবং নারী ভাষা শহীদ -----------------সুদেষ্ণা সিংহ।
আপনাদের অতি পরিচিত কবি স্মরণজিৎ সিংহ মাতৃভাষা এই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী  ।

 “তিনি জানাচ্ছেন :-


বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরীরা ইন্দো-এরিয়ান, প্রাকচৈতন্য বৈষ্ণব, মনিপুরের লকতাক হ্রদ নিকটবর্তী এলাকাগুলিতে এদের আদিবাস হলেও এখন আসামের বরাক ও করিমগঞ্জ জেলা, গৌহাটি, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের শ্রীহট্ট এলাকায় তারা থাকে !
 বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী ভাষা সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত মাগধী হয়ে এলেও শৌরশ্রেণীর প্রভাবও পরিলক্ষিত এর উপর ! বাংলা লিপিই ব্যবহৃত হয় এই ভাষার লিখিতরূপে !
(বিম = বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী)
 Ram is going
রাম যাচ্ছে
রাম যারগা (বি.ম.)
Sita is going
সীতা যাচ্ছে
সীতা যেইরিগা (বিম)
কর্তার লিঙ্গভেদে ক্রিয়ার লিঙ্গভেদ হয় !
সে যায়
তা যারগা (বিম)
সে (স্ত্রীং) যায়
তেই যেইরিগা (বিম)
তারা যাচ্ছে
তানু যিতারাগা (বিম)
কর্তার বচন অনুসারে ক্রিয়ার বচন পরিবর্তিত হয় ।”

+++++++
এটা কিন্তু বাংলা ভাষা নয় । বাক্যগঠন বা সিনট্যাক্স সম্পূর্ণ আলাদা , সেটা ওপরেই দেখেছেন ।
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় অন্যান্য ভাষার প্রভাব [উইকি]
তৎসম শব্দ প্রায় ১০,০০০
হিন্দী, বাংলা ও অসমীয়া শব্দ প্রায় ৮,০০০
মৈতৈ শব্দ প্রায় ৩,৫০০
তৎভব শব্দ প্রায় ২,০০০
আরবী-পার্শি শব্দ প্রায় ২,০০০
ইংরেজি শব্দ প্রায় ২,০০০
দেশী শব্দ প্রায় ২,০০০
অর্ধ-তৎসম প্রায় ১,৫০০

ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে এই সম্প্রদায়ের উৎপত্তি। ১৭শ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি মণিপুর রাজ্যে বার্মিজদের সঙ্গে ৭ বৎসর স্থায়ী যুদ্ধে মণিপুরের অন্যান্য আরও জাতি ও উপজাতির ন্যায় বর্তমান বাংলাদেশ সমেত ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা ছড়িয়ে পড়ে।
 বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা ভারতে উপজাতি হিসাবে পরিচিত নয় এবং ভারতের অসম ও ত্রিপুরা রাজ্যে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা দেওয়া হয়।
( উইকি)




Saturday, May 9, 2015

বেচুবাবু -৪



অবশেষে সেই কাঙ্খিত ইন্টার ভিউ লেটার এলো কটক ওয়াই এম সি এ য়ের ঠিকানায় ।

 কটকে সন্ধে বেলা কাজের পর খুব একটা করার কিছু থাকতো না- বেচুবাবুদের ।

সলিল দা ( গুপুদা নামেই পরিচিত ছিলেন) , জ্যোৎস্নাদা এবং আরও কয়েকজন আড্ডা মারতেন সমীরদার কাছে এসে ।
 মাঝে মাঝে – জ্যোৎস্নাদার অমরবোর্ডিয়েও আড্ডা বসতো ।

সেদিন ওঁরা আসতেই খবরটা দিলাম ।

বেশ উৎফুল্ল সবাই ।  জ্যোৎস্নাদা বেশ কয়েকটা টিপস্ দিলেন । প্রথমেই বললেন :-

যে প্রশ্নটা অবধারিত করবে, সেটা হলো – লেট আস নো সামথিং অ্যাবাউট ইয়োর সেল্ফ ।
এটা অন্য ভাবেও আসতে পারে তবে এই প্রশ্নটা কেন করা হয় জানো হে ?

আমি তো বাক্যিহারা ।

উনি বললেন :-

কোন বিষয়টা সব চেয়ে ভালো জানো তুমি বলতো হে রামকেষ্ট !

সবচেয়ে ভালো ?

হ্যাঁ, এমনকি নিউটন আইনষ্টাইন- সবার থেকেও ভালো জানো তুমি !

আমি পপাত ধরণীতলে ।  একি রে ভাই, কোথায় নিউটন, আইনষ্টাইন আর কোথায় আমি ?
মিচকি হেসে সমীরদা বললেন :- বুঝলে হে ! যে বিষয়টা সবচেয়ে ভালো জানো তুমি, সেটা হলো নিজের সম্বন্ধে । ওটা তুমি ছাড়া আর কে ভালো জানবে বল?

এগজাক্টলি ! জ্যোৎস্না দা পাইপ টা দাঁতে কামড়ে বললেন ।

ইউ হ্যাভ টু কমিউনিকেট টু ডক্টরস্ অ্যাবাউট প্রডাক্টস্ ।  দে উইল জাষ্ট সি, হাউ ইউ কমিউনিকেট অ্যাবাউট এ সাবজেক্ট ইউ নো বেষ্ট ! ইফ দ্যাট ক্যান বি ডান- ইউ আর থ্রু এইট্টি পারসেন্ট ।

 তারপর আরও কিছু শেখালেন আমায় । যেমন, পাশ করার পর আমি বেকার বসে নেই, প্রাইভেট টিচিং করি- এই সব ।

তার পরের দিনই রওনা দিলাম কোলকাতার উদ্দেশ্যে ।
+++++++++++++++
গ্র্যাণ্ড হোটেল কিন্তু তখন – এখনকার মত ছিল না ।

 রাস্তা থেকে ঢুকতেই একটা লম্বা করিডর । একটু এগোলেই ডান দিকে রিসেপশান । সুবেশা , সুন্দরীরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন- মুখের আলতো হাসিটা সুকুমার রায়ের খুড়োর কলের মত  ঝুলিয়ে রাখা।

সদ্য চৌরঙ্গী উপন্যাসটা পড়া শেষ করেছি তখন । শাজাহান হোটেল নাকি আসলে গ্র্যাণ্ড । নাকি গ্রেট ইর্ষ্টান ?

 জানতাম, স্যাটা বোসের দেখা পাবো না, তবু একটা আশা ছিল মনের কোথাও।

দৃশ্যান্তর

হোটেলের একটা বড় ঘরে তিনজনের সামনে আমি একা । একজন পূর্বপরিচিত – তপন মুখার্জ্জি, আর দুজনের পরিচয় পরে পেয়েছিলাম ।

মিঃ ফনসেকা আর মিঃ দিশা , দুজনেই গোয়ান ।

আমার  হাতে লেখা বায়োডাটা মন দিয়ে পড়ছেন – মিঃ ফনসেকা আর আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে মিঃ দিশা ।

ফনসেকা ( হাতটা বাড়িয়ে) :- সো মিঃ ভট্টাচারিয়া,  গ্ল্যাড টু মিট ইউ ।
-       ( একটু ঘাবড়িয়ে, তাও হাত বাড়িয়ে) মি টু স্যার !
-      হোয়াই ?
-       আই আম একস্পেকটিং  মাই জব ফ্রম ইউ স্যার ( জিবে দুষ্ট সরস্বতীর ভর তখন)
-       বাট ইয়োর একস্পেকটেশন মে গো রং !
-       নাথিং সিওর ইন লাইফ, বাট টু এক্সপেক্ট ইজ এ পজিটিভ থিংকিং  স্যার্( জ্যোৎস্নাদার  শেখানো  কমন প্রশ্নটা পড়ে গেল বলে, মুখস্থ করা উত্তরটা ঝেড়ে দিলাম)
-       হাউ মেনি টাইমস, ইউ লাই ইন এ ডে মিঃ ভট্টাচারিয়া ?
-      ( জ্জয় গুরু জ্যোৎস্নাদা, আবার কমন) , ইটস এ সিচুয়েশানাল ডিমাণ্ড স্যার
-       ( বিস্মিত হয়ে) গুড !
-      এনি আইডিয়া অ্যাবাউট দ্য জব ?
-      টু সাম এক্সটেন্ট বাট .......
-      এনি প্রিভিয়াস এক্সপিরিয়েন্স ?
-      নো স্যার !

-      হোয়াট ইজ সালফা ?
-      আই ডোন্ট নো স্যার
-      ডু ইউ নো তেলুগু অ্যাণ্ড ওডিয়া সিরিয়াসলি ?
-      ক্যান আই ষ্টার্ট স্পিকিং ইন দোজ টু ল্যাংগুয়েজেস ?
-       ( হেসে) নট রিয়েলি ! ওক্কে ইউ মে গো নাও  । উই উইল ইনফর্ম ইউ বাই কেবল ।  আর ইউ রেডি টু জয়েন ?
-      অ্যাজ সিওর আ্যাজ আই অ্যাম সিয়িং ইউ স্যার ।
-       ওকে ।

বেরিয়ে এলাম মনে একটা খুঁতখুঁতোনি নিয়ে
তবে, শেষ মেষ চাকরীটা জুটেছিল ওই দুটো স্থানীয় ভাষা জানার জন্য ।


 ট্রেলিগ্রাম পেলাম যথাসময়ে ।   বাবার কাছ থেকে দুশো টাকা নিয়ে রওনা বোম্বের পথে ।

উঠতে হবে বায়াকুল্লার নতুন পাঁচতারা হোটেল হেরিটেজে ।
 সেখানকার একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি আপনাদের । এটা আমি বারবার লিখি আমার বোকামির নিদর্শন হিসেবে ।
কারণ একটাই এখানে জ্যোৎস্নাদা ছিলেন না আমাকে শেখানোর জন্য ।
+++++
নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের কাছে বোম্বে শহরটা তখন অধরা ।

একবার মায়ের কাছে আবদার করে, টাকা নিয়ে গিয়েছিলাম বোম্বেতে  । সে যে কি করুণ হাল হয়েছিল, সেটা হয়ত অনেকেই পড়েছেন আমার বোকা বোকা লেখায় ।

তবে, দ্বিতীয় বারের বোম্বে যাত্রা- প্লেনে । সেই কাহিনীও হয়তো অনেকে পড়েছেন । আমার প্রথম ওষুধ কোম্পানীতে চাকরীর দৌলতে সেই আইবুড়ো প্লেন যাত্রা ।

বায়কুল্লার পাঁচতারা “হোটেল হেরিটেজ” সবে  কয় দিন হলো খুলেছে তখন । অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে “ট্যাস্কি” করে পৌঁছলাম,সেই হোটেলে ।

বিশাল রিসেপশান কাউন্টারে এক লম্বা সুন্দরী মহিলা দাঁড়িয়ে টেলিফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছিলেন ।

আমি যেতেই, টেলিফোন নামিয়ে রেখে মিষ্টি হাসি হেসে বললেন :- ইয়েস স্যার, হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ ?

“স্বপ্ন নু, মতিভ্রম নু” অবস্থা আমার । মনে হলো স্বয়ং আশা পারেখ আমার সঙ্গে কথা বলছেন ।

আমার গলা দিয়ে একটা ঘড়ঘড় আওয়াজ বেরুলো ।

ধূলি – ধূসরিত চেহারা । পরণে সেজ মামার ঢলঢলে ব্লেজার ।

টাই তখন কণ্ঠে কা লঙ্গোটি হয়ে ঝুলে আমার আত্মহত্যার পথ প্রশস্ত করছে । বোম্বের গরমে ঘামছি দরদর করে ।

ভদ্রমহিলা একটুও না ঘাবড়িয়ে আমাকে একটা সুন্দর কাঁচের গ্লাসে জল দিলেন ।  গোঁৎ গোঁৎ শব্দে সবটুকু জল খেয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম ।

বুঝতে পারছিলাম, তিনি আমার জল খাবার শব্দ আর কণ্ঠার ওঠাপড়া লক্ষ্য করছিলেন।

কি বলবো- সেটা বাংলায় ভেবে নিয়ে ইংরেজীতে অনুবাদ করে বললাম :-

“ ম্যাডাম, আই এসেছি হিয়ার ফর ট্রেনিং ইন ওষুধ কোম্পানি ।”

ধনুকের মত পটল চেরা চোখের ভ্রু বোধহয় একটু কুঁচকেছিল ।

অ !!! বাঙালি ?  জার্মান রেমেডিস কোম্পানীর ট্রেইনিংয়ে এসেছেন ?

আজ্ঞে !!! আপনি বাঙালি ?

আমার চোদ্দপুরুষ বাঙালি । তবে বোম্বেতে আছি প্রায় পনোরো বছর, বাবার কাজের সূত্রে । এই প্রথম আসা হলো বুঝি ?

আজ্ঞে না, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার । তবে এই রকম হোটেলে প্রথম বার ।

বুঝেছি !! আপনার অ্যাপো লেটার আর পোষ্টাল আইডেন্টটি কার্ড দিন । ( তখন এটাই ছিল পরিচয় পত্র)

আজ্ঞে, অ্যাপো লেটার কি ?

আপনি কি বাঙলা বোঝেন না ?

আজ্ঞে তা বুঝি, তবে ওই অ্যাপো না কি বললেন যে !!!

হুম !!!! ওইটা হলো আ্যপয়েন্টমেন্ট লেটার ।

সেটা বলবেন তো !! সেটা আছে, তবে পোষ্টাল আইডেন্টি কার্ড আনা হয় নি, মানে করা হয় নি ।

আপনার নাম কি ?

এজ্ঞে ! রামকেষ্টো ভশ্চাজ !!!

তিনি একটা জাবদা খাতা বের করে মন দিয়ে পেন ওপর নিচু করে বললেন :- ওই নাম নেই, তবে    রামাক্রিষ্ণা ভটাচারিয়া আছে ।

আরে, ওটাই তো আমার নাম

তবে যে বড়ো রামকেষ্টো ভশ্চাজ বললেন !!

এজ্ঞে ওটা  আমার নামের বঙ্গীয় সংস্করণ ( ততক্ষণে সাহস ফিরে পেয়েছি )

ঠিক আছে, আপনার অ্যাপো লেটার দেখি !!

এবারে আর বুঝতে অসুবিধে হল না । চামড়ার স্যুটকেস খুলে- সব জামা কাপড়, জাঙ্গিয়া, গেঞ্জী, চিড়ের প্যাকেট, মুড়ির প্যাকেট চকচকে মাটিতে ফেলে  একদম নীচ থেকে বের করলাম, আমার দোমড়ানো ফাইল ।

খেয়াল করিনি, আমার চারপাশে তখন বেশ কয়েকজন পুরুষ মহিলা আমাকে ঘিরে ধরে বিস্ফারিত চোখে আমার কীর্তি কলাপ দেখছে ।

বিজয়গর্বে ওই লেটার বের করে মহিলার হাতে দিলাম । মনে মনে আশা- বোম্বে যখন, তখন এই মহিলা হিন্দি সিনেমার ফরমূলা মেনে আমার প্রেমে পড়তে বাধ্য ।

যেন, এক চিমটে দিয়ে আরশোলা তুলছেন- এই ভাবে, আমার অ্যাপো লেটার নিয়ে দেখলেন ।

নামটা মিলিয়ে বললেন :- এবার আপনার লাগেজটা গুছিয়ে নিন প্লিজ ।

আমি ওনার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছি  সপ্রেম নয়নে ।

আমার চোখের সামনে হাত নাড়িয়ে বললেন :- ক্যান ইউ লিশন টু মি ?

চমক ভাঙলো আমার ।

তাড়াতাড়ি করে সব কোনো রকমে কুড়িয়ে নিয়ে স্যুটকেসে ঢুকিয়ে দিয়ে বন্ধ করতে গেলাম । বন্ধ আর হয় না ।

শেষে একটা পা দিয়ে ডালাটা চেপে ধরে ( দুঃ শাসনের রক্তপানের মত )  লক আটকে দিতেই, পঁচিশ বছরের চামড়ার স্যুটকেশের লকের লম্বা পার্টটা পটাং করে সশব্দে বেরিয়ে গেল ।

দাঁত বের করার মতন সুটকেশের ডালা একদিকে খোলা আর একটা ময়লা গেঞ্জি উঁকি দিচ্ছে ।

মহিলা কোনো রকমে একটা খাতায় আমাকে দিয়ে সই করিয়ে নিলেন । তারপর একজনকে ডেকে বললেন :- সাব কা সামান রুম নং ১১৬ মেঁ লেকে যাও ।

আমি বললাম :- ম্যাডাম , একটা দড়ি হবে ?

কি করবেন , গলায় দেবেন ?

আরে না !!! বিজয়সিংহের বংশধর আমি, হেলায় করি বোম্বে জয় । ওসব কিছু নয়, সুটকেশটা বাঁধবো ।

বোকার মত তাকিয়ে থেকে বললেন – আপনি পারেনও বটে ।


বন্ধুবর অমিতাভ সেনগুপ্ত এই ঘটনার সাক্ষী । সে তখন কোলকাতার পণ্ডিতিয়া নিবাসী ঝকঝকে যুবক, একেবারে রজার মুরের মত চেহারা ।
তোর কি মনে আছে রে, সেই বোকামীর গল্প----- অমিতাভ ?

Friday, May 8, 2015

বেচুবাবু-৩







কারিগরি কারি - কুরীর জমানা । তাই জীবনটাকে মাঝে মাঝে সেল ফোন আর কম্পিউটারের মিশ্রণ বা কম্বিনেশন মনে হয় আমার ।


জীবনটা আবার ডুয়াল সিমের ফোন । সাথে দশ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা উইথ ফ্ল্যাশ ।  মাঝেই মাঝেই ফ্ল্যাস ব্যাকে চলে যাই ।

মাথার হার্ডডিস্কটা , মোটে দু জিবি । ৬৪ র‌্যাম । পুরোনো কালের ফ্লপি ডিস্কও মনে হয় আমার । খুব স্লো ইস্পিড !  সব উইণ্ডো খোলে না একসাথে ।
দুটো সিমে আলাদা আলাদা করে ভরা আছে- হাসি আর সুখ । আর একটাতে, কান্না আর দুঃখ ।


দুঃখের সিমটা আর আ্যক্টিভেট করি না আজকাল । নো ইনকামিং অর আউটগোয়িং । কি হবে, এই সব সিম রেখে ! আছে থাক, সংগ্রামের সাথী !!! অন্য সিমের অভিজ্ঞতা গুলোই ফ্ল্যাসে ঝলসে ওঠে ।


তারই  টুকরো টুকরো ছবি আঁকার চেষ্টা করি- কম্পিউটারের কি বোর্ডে । কোনোটায় আলো নেই, কোনোটায় বা ফ্ল্যাস ।


সদ্য, পাশ করে উঠেছি । ছাত্রাবস্থা থেকেই থাকি কটকের বারবাটি ষ্টেডিয়ামের পেছনে- ওয়াই. এম. সি. এ. র গেষ্ট হাউসে ।  দুটো করে সীট এক একটা ঘরে ।

আমি, দুটো সীটেরই ভাড়া দিয়ে  পুরো একটা ঘর দখল করে থাকি । একটু দূরেই বাথরুম , টয়লেট।  টিউশনি করি চুটিয়ে । মাস গেলে খারাপ টাকা পাই নাতখনকার হিসেবে । তাও চাকরীর চেষ্টা করছি ।  কারণ আগেই বলেছি ।

ভায়োলা সরকার নামে এক ছাত্রী, একদিন কথায় কথায় বলল :- জানেন স্যার !
-      কি ?
-      কোলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, আমার ঠাকুদার বাবার আউট হাউস ছিল ।  ইংরেজরা দখল করে নিলে, তিনি মনের দুঃখে কটকে চলে আসেন । সেই থেকে আমরা এখানেই আছি । মাঝে মধ্যে কোলকাতায় গিয়ে দেখে আসি ওই মেমোরিয়াল ।
-      তাই নাকি ! কে বলেছে ?
-      আমার বাবা !
-      এটাও তালে, তোমার জানা উচিত, নেতাজী ওইজন্যেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল । কটকের লোক ছিলেন কিনা !
-      স্যার ! এই তথ্য তো হিষ্টরি বুকে পাই নি !
-      আছে, আছে, তোমার বাবার কাছে যে পুরনো ইতিহাস বই আছে, পুঁথির আকারে , সেটা একবার দেখে নিও । তোমার বাবা আমাকে দেখিয়েছিলেন ।

আমার পাশের ঘরে থাকতেন এক বাঙালি ভদ্রলোক  । বেশ আন্নাদুরাই মার্কা গাব্দাগোব্দা চেহারা । সার্ট- টাই পরে, একটা বাদামী রঙের ব্যাগ হাতে ঝুলিয়ে বেরুতেন । আলাপ হল । বেশ সদালাপি । জানলাম, উনি স্কুইব বলে একটা আ্যমেরিকান ওষুধ কোম্পানীর মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ ।
একদিন ওনার ঘরে গেলাম ।  স্তুপাকার ময়লা গেঞ্জি আর মোজা জড়ো করে রাখা । জিজ্ঞেস করাতে, বললেন কে কাচবে? নতুন কিনে নেই ।

পরে, কোলকাতায় গেলে মা সব কেচে দ্যায় । তখন, ওই গুলোই পরি আবার ।


, জিজ্ঞেস করাতে বললেন ওসব নাম ঘুচে গেছে । আমি এখন বেচু মানে ওষুধ বেচি  ঘুরে ঘুরে । মাথায় ঝাঁকা নেই, তবে হাতে ব্যাগ আছে । এককথায় ওষুধের হকার । ভালো নাম অবশ্য আছে, তবে ওই বেচু নামেই পরিচিত সবার কাছে । বলে, হো হো করে দিলখোলা হাসি হাসলেন । আজকালকার দিন হলে, স্মাইলি দিলেই হতো ।

ওনার সঙ্গে একদিন রেষ্ট হাউসে গেলাম । এখানেই সব থাকেন । কেউ পার্মানেন্ট সীট নিয়ে, কেউ বা মেটারনিটি ওয়ার্ডের মত সারি সারি পাতা বিছানায় । সবার জায়গা হয় না বলে, কেউ কেউ বাইরে থাকেন । যেমন সমীরদা ( ততদিনে আসল নাম জেনে গেছি । পদবী সান্যাল ) ।


একটু রাতের দিকে জমজমাটি আড্ডা বসে । সমীরদা নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন ।


একজন বয়স্ক ভদ্রলোক হাত বাড়িয়ে টেনে নিয়ে পাশে বসিয়ে, বললেন :-
-     আমি বাপের ধর !!!
-     ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না !
-     আমি যে কোম্পানীতে কাজ করি, তার নাম হল- বসন্ত আয়ুর্বেদিক প্রডাক্ট ! সংক্ষেপে বাপ। আর আমার পদবী- ধর । তাই, বাপের ধর ।
হাসবো না কাঁদবো বুঝে ওঠার আগেই একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন :- ইনি মহাপুরুষ । গায়ে বড় বড় লোম আছে ।
আবার অবাক হবার পালা আমার ! গায়ে বড় বড় লোম থাকলেই, মহাপুরুষ ?
-      ও একদিন বাথরুমে স্নান করার জায়গা না পেয়ে, ইঁদারার জল তুলে স্নান করছিল ।  খালি গায়ে লোম দেখে, জিজ্ঞেস করলাম- তোর গায়ে এত লোম কেন ? উত্তর দিল- পুরুষ ! বুঝলেন বাপের ধরদা ! একেই বলে- পুরুষ । আমি বলেছিলুম- গাধা তো তালে মহাপুরুষ ! সেই থেকে ওই নামেই পরিচিত- মদন সাহা ।
দেখে- শুনে ঘোর লেগে গ্যালো । ঠিক করলাম এই বৃত্তিতেই আসবো ! বছর চল্লিশ- পঁয়তাল্লিশ আগে, এই বৃত্তি সম্বন্ধে বাইরের লোকেদের ধারণা ছিল- সব বাপে খ্যাদানো , মায়ে তাড়ানো ছেলেদের কাজকম্মো । মেয়েরা তো আসতোই না , এই কাজে ।

কিছু লোকের কালচারাল শক লাগল । কিন্তু আম্মো নাছোড় । সমীরদার কথা মতো বেশ কয়েকটা কোম্পানীতে আ্যপ্লাই করলাম । অবশেষে,সলিলদা বললেন:- দাদা তপন মুখার্জ্জি কটকেই  আসছেন, তোমার ইন্টার ভিউ হবে আমারই বাড়ীতে ।


সমীরদার স্যুট টাই পরেই গেলাম । একটু ঢলঢলে ।
ঢুকতেই জিজ্ঞেস করলেন :- I wonder ! In rainy season, Cuttack is having Circus Party!
-  Why Sir?
-   Oh, noooooooo ! You look like a clown!
-  Yap! I know, I am a mirror! ( তখন অত গুরুত্ব বুঝতাম না কথার)
হেসে ফেললেন  তপন বাবু।

কোলকাতায় যাওয়া টাওয়া হয় ?

হ্যাঁ স্যার ।


ঠিক আছে, তোমার কাছে টেলিগ্রাম  চলে যাবে ফাইনাল ইন্টারভিউয়ের । তৈরি থেকো!
এসো ! গুড লাক্ ।


ছুট্টে এসে রেষ্ট হাউসে খবর দিলাম । সবাই বেশ আনন্দিত । বাপের ধর বললেন :- ব্যাটা রামকেষ্টর বয়স, আমি যতদিন ক্যাজুয়াল লিভ নিয়েছি, তার থেকেও কম ! ব্যাটা জবরদস্ত বলেছে কিন্তু । তবে, তপনবাবুও বেশ স্পোর্টিং । না হলে, রামকেষ্টর চাকরীর কল হতো না !

+++++++

একটু এগিয়ে আসি । ইন্টার ভিউ আর ট্রেইনিংয়ের কথা পরে বলছি ।
আগেই বলেছি  সুপারভাইজারদের অফিসিয়াল কাজ ছিল বেচুবাবুদের কাজের তদারকি করা ।

বাস্তবে যেটা হতো, ত্যালানি না পেলে চাকরি যখন তখন খেয়ে নিতো ।
চালু কথায়, এদের বসবলা হতো/ হয় ।

আমি যতদূর জানি এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে প্রথম নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া হয়, সেটা হল- ওডিশার কটকে ।

বস পেটাইঅভিযানের শুরু এই কটকেই । একদিন রাতের বেলায় চন্দন এসে বলল- বস মাল খাওয়াতে বলল । আমি বললাম, মাইনে পাই নি । ব্যস্   ! বস আমাকে খস খস করে লিখে এই চিঠি দিয়ে বলল ইউ আর টারমিনেটেড ফ্রম দ্য জব , বিকজ ইউ আর নট পারফর্মিং ইউর ডিউটি প্রপারলি ।

আমি অনেক কাকুতি মিনতি করলে, বলল একটা বোতল দে তারপর অন্য কথা ।

আমি কাঁদতে কাঁদতে চলে এসেছি রেস্ট হাউসে  । বাড়ীতে অসুস্থ মা আর অবিবাহিতা বোন । বাবা নেই, চাকরি গেলে খাবো কি ?

চট জলদি সিদ্ধান্ত । আমরা কয়েকজন মিলে চললাম, সেই হোটেলে ।  রুমের দরজায় ঠক ঠক করে খোলালাম ।

র‌্যাভেনশ্য কলেজের কাছে প্রকাশ্য রাস্তায় রাত বারোটা পর্যন্ত চললো বেদম ক্যালানি আর খিস্তি ওই বসকে ।

এক বর্ধমানের দাদা ( নিও ফার্মা কোম্পানির) বলেছিল- খিস্তি আর ক্যালানির বিকল্প হয় না এই সব লোকেদের ক্ষেত্রে ।

টহলদার পুলিসরা কিছুটা হলেও চিনতো আমাদের কয়েকজনকে । কারণ জিজ্ঞেস করাতে, আমি ওডিয়াতে  সংক্ষেপে খুলে  বললাম ঘটনাটা ।

ওদের সাব ইন্সপেক্টরও ক্ষেপে গিয়ে দু তিনটি রুলের বাড়ি লাগালো সেই বসকে । পরে জেনেছিলাম, সেই সাব ইন্সপেক্টরের দাদাও এই রকম ঘটনার শিকার, কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারে নি তখন । এক সমকালে সংঘটন শীল ঘটনা এবং অদ্ভুত সমাপতন ।

বসটি ক্যালানি খেয়ে  টার্মিনেশন লেটার তুলে নিলে এবং মুচলেকাও দিল, যে ব্যাপারটা সে করেছে তার পূর্ণ বয়ান, পুলিশ ষ্টেশনে বসে ।

পরে সেই কপি পাঠাতে সেই বসের চাকরী চলে গিয়েছিল । যদিও সে পরে অন্য কোম্পানিতে যোগ দিয়ে আবার প্রথম থেকে শুরু করে । চন্দনও বেঁচে যায় ।


নীট ফল বিদেশী কোম্পানির ছেলেরাও বুঝলো দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ ।

এদিকে ইউনিয়নের ভেতর অসন্তোষের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে । চারিদিকে ছাইয়ের আনাগোনা ।







(চলবে)

Thursday, May 7, 2015

বেচুবাবু-২


আজকাল চোখ বন্ধ হলেই মনে হয়, অন্ধকার এক লেভেল ক্রসিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি।সামনে দিয়ে ঝমঝম করে ছুটে যাচ্ছে মেল ট্রেন। ইঞ্জিনটা কখনও ডাবলু পি ষ্টীম ক্যানাডিয়ান, কখনও বা ডিজেল বা হালের ঝকঝকে ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ।

কামরা গুলো শনশন করে বেরিয়ে যায়, কখনও আলো আর আঁধার; পিচকিরি দিয়ে ছিটিয়ে।


অনেকবার চেষ্টা করেছিকটা কামরা আছে দেখতে, কিন্তু গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সারা জীবনভর হয় নি। তাই আর গোনাও হয় না।অন্ধকার জাঁকিয়ে বসে, ট্রেন চলে যাবার পর। তখন হু হু করে মন। ধূ ধূ করা কাকে বলে, হাড়ে হাড়ে বুঝি।
আজকাল ১ মিলিগ্রাম আ্যালপ্রাজোলাম খাই আমি। তা প্রায় ৯ বছর হয়ে গেল। ঘুমের ওষুধের মৃদু ঝাঁকুনিতে, শরীর টা মনে হয় ট্রেনের কামরাতেই আছে।

ডাবলু পি ষ্টীম ক্যানাডিয়ান ইঞ্জিনে টানা মেল ট্রেনটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। সামনেই একটা কামরা! প্রতিটা জানলায় জ্বলছে আলো।

আমি তখন কটক ওয়াই এম সি এ তে থাকি । বাবা টাকা পাঠান, কিন্তু তাঁর অবসরের সময় চলে আসছে ।  বালেশ্বরের বাড়ীতে দুই ভাই এবং বোন । এই তিনজনেরও পড়াশোনার খরচের এক বিরাট ধাক্কা সামলাতে হয় বাবাকে ।
নিজেকে বড় অসহায় বোধ করছি । একটা অর্থকরী ব্যাপার না হলে তো বড় মুশকিল। টিউশনি পেলাম তিন চারটে । বাড়ীতে বারণ করে দিলাম, টাকা পাঠাতে । বাবার কাছে টাকা পাঠাতে না পারি, অন্তত নিজের খরচটুকু চালিয়ে নিতে পারবো ।
মাঝে মধ্যে  র‌্যভেনশ্য কলেজ চত্বরে যাই ।  আমারই সহপাঠী হেমন্ত বলে একটি ছেলে তখন বাজারে সদ্য আসা অটো চালাতে শুরু করেছে । চাকরীর বাজার এতই খারাপ ।
তবুও আড্ডা হয় কলেজ চত্বরে । একদিন দেখি আমাদের অন্য এক সহপাঠী ভাস্কর পট্টনায়ক এক চকচকে ঢাউস পেটমোটা বাদামী ব্যাগ সহ , টাই পরে  আড্ডায় হাজির ।
এসেই -  আড্ডায় হাজির সকলের জন্য ফুল কাপ চা, পরোটা তরকারি আর একটা করে ক্যাপষ্টান সিগারেটের অর্ডার দিল ।
এসব দেখে আমরা প্রত্যেকে একজন করে মূকাভিনয়ের  চরিত্রের মত চিত্রার্পিত । বেশ খানিক পরে, হেমন্ত  জিজ্ঞেস করল তালে তুই চাকরী পেলি ?  (হেলে, তুঅর চাকিরিখণ্ডে মিলি গলা ? )
ভাস্কর টাইয়ের নট টা আলগোছে ডান হাত দিয়ে একটু নাড়া চাড়া করে বলল-  হ্যাঁ ( হঁ)

আড্ডার মেয়েরাও অন্য টেবিল থেকে ভাস্করের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে  । স্বয়ং শাম্মি কাপুর বা দেবানন্দ্ যেন সামনে বসে আছেন । ভাস্কর এমনিতেই দেখতে         ভারি সুন্দর ছিল, কিন্তু এতদিন বোধহয় সেটা মেয়েদের চোখে পড়ে নি ।
চোখে না পড়ারও কথা । মেয়েরা সেভাবে ছেলেদের সঙ্গে মিশতো না ওডিশায় । আড্ডা তো অনেক দূরের কথা  । তবুও যে কজন আসতো, তারা দুঃসাহসী বলেই পরিচিত ছিল ।
ভাস্করকে জিজ্ঞাসা করা হলো- তুই কি চাকরি পেলি ? ( ততে  কোওন চাকিরই   মিলিলা কি ?)
ঘাড়টা শাম্মি কাপুরের মত হেলিয়ে উত্তর দিলো :- মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ ।

আমাদের সমবেত আর্তনাদ ( মেয়েরা ছাড়া ) আমোকু  মিলিব নাহি ? ( আমরা পাবো না?)
ভাস্কর এবারে উত্তমকুমারের মত ভুবন মোহিনী হাসি দিল :- সে অনেক ঝঞ্ঝাট ।

কি রকম কি রকম ?

প্রথমে যেতেই তারা আমাকে একটা ঘরে ঢোকালো । সেই ঘরে চারিদিক দিয়ে জল পড়ছে বৃষ্টির মত । আমি ভিজেই যাচ্ছি   । অনেক ক্ষণ পর বের করে নিয়ে আর একটা ঘরে ঢোকালো । প্রচণ্ড গরমে পুড়ে যাচ্ছি মনে হলো । কতক্ষণ জানিনা প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছি, এই সময় আমায় বের করে আর একটা ঘরে ঢোকানো হল ।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মনে হলে জমে যাবো  । এবারে আমাকে বের করে একজন বললেন :- মিঃ পট্টনায়ক, ইউ  আর থ্রু সাকসেসফুলি  ।
আমি জিজ্ঞেস করলাম- কেন এবং কি ভাবে স্যার ?
আরে, রোদে বৃষ্টি- ঠাণ্ডায় তোমাকে কাজ করতে হবে  । সেটা পারো কিনা, তার পরীক্ষা নিচ্ছিলাম  । তুমি সফল ।
তোর কোম্পানির নাম কি ? আমার কাতর জিজ্ঞাসা
বারোজ ওয়েলকাম
মানে ?
ফার্স্ট বরো দেন ওয়েলকাম
কথা গুলো বলে ভাস্কর বিল মিটিয়ে চলে গেল ।
হেমন্ত হতাশ হয়ে বলল :- ধ্যাত্ ! অটোই চালাবো । কয়জন আর এমএসসি পাশ করেঅটো চালায় বল দিকি ?
আঙুর ফল টক ( মনে মনে ভেবে ) সবাই বললাম ---- হঁহঁ হঁ !!!


(চলবে)