Powered By Blogger

Tuesday, April 23, 2019

দোকানদারি

এক মাড়োয়ারী ভদ্রলোকের বিশাল মুদির দোকান । একমাত্র ছেলে, গ্র্যাজুয়েট হয়েছে ।
দোকানে এসে দ্যাখে – এক খরিদ্দার বিশাল গালাগালি করছে , বাবাকে ডালের গুণমান নিয়ে ।
বাবা খালি হাতজোড় করে বসে আছে ।

ছেলে ফুঁসে উঠলেও কিছু বলতে পারছে না ।
খরিদ্দার চলে গেলে, বাবাকে জিজ্ঞেস করলে, উত্তর এলো – খরিদ্দারের কাছ থেকে খালি নিবি, দিবি না কিছুই ।
টাকা বা গালাগালি হলেও নিবি, দিবি না কিছুতেই ।

ইলিশ এবং...



আজকাল মনটা ঠিক জুতের থাকে না নিতুর । এককালে তার ভাল নাম ছিল – নিত্যানন্দ দাস।

সেই নামে কেউ ডাকত না গ্রামে ! মুনিষ খেটে সংসার চলত তার । অন্তত দুবেলা দু মুঠো ভাত জুটে যেত ।
ছেলে পুলে না থাকাতে গৌরীর একটু খেদ ছিল না যে তা নয়, তবে নিতু তার বৌকে বলেছিল – ভগবান যা করেন, ভালর জন্যই করে । ছেলে পুলে হলে অনেক ফ্যাসাদ হত ! এই তো রোজগার !
সব গুবলেট করে দিল ওই ব্যাটা- গুলে জেলে ! নানা রকম মাছ বেচে শহরে । সাইকেলের কেরিয়ারে মাছের ঝুড়ি নিয়ে বেরোয় ভোরবেলা ।
নিতু একদিন মাঠে যেতে- দেখা গুলের সঙ্গে ।
বলেছিল – বাঃ । দেখি তোর মাছগুলো !
কিনবি তো?
নিশ্চয় ।
গুলে, ঝুড়ির ওপরের প্ল্যাসটিক খুলে দেখাল নিতুকে ।
ইলিশ দেখিয়ে বলল নিতু – কত রে গুলে?
ইঃ , লবাবপুত্তুর ! হাজার টাকা কেজির মাছ খাবে ব্যাটা ! খ্যামতা আছে? বেকার সময় নষ্ট ! যা, গ্রামের পাশে নদীতে গিয়ে ধর ইলিশ । ব্যাটার ইদিক নাই –উদিক আছে ! হুঃ !
নিতুর খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল । ইলিশের সর্ষে বাটা ঝোল সে অনেকদিন আগে খেয়েছিল, গ্রামের মহাজনের বাড়ীতে ! লোকটি বেশ ভাল ছিল । নাতির অন্নপ্রাশনে গ্রাম শুদ্ধু লোককে যেচে খাইয়েছিল সর্ষে ইলিশ আর ভেটকি মাছের পাতুরি ।
ফুরুৎ করে একদিন ভবসাগর পার মহাজন !
গৌরীকে বলে কুচো মাছের সর্ষে বাটা ঝাল খেত নিতু ! গৌরীর রান্নার হাত ছিল - একেবারে সাক্ষাৎ মা অন্নপূর্ণার মত ।
সেদিন অপমানের পর নদীতে তার ছোট জালটা ফেলল । কিছু একটা জুটবেই !
কপাল খারাপ ! অনেকদিন অভ্যাস নেই ! জাল ঘুরিয়ে ফেলতে গিয়ে পা হড়কে গেল ‍! নিতু আর কিছু দেখতে পেল না !
তারপর থেকেই – গ্রামের এই বটগাছে বসে পা দোলায় !
অবাক হয়ে দেখে – মানুষের যখন দিন তখন নিতুদের রাত ! আর রাত হলেই ভোর হয় নিতুদের !
পা দুলিয়ে অনেকবার গুলের মাছের ঝুপড়ি ফেলে দিয়েছে ! ব্যাটা গুলে- প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও, পরে বুঝে খুব ভয় পেয়েছিল । আর তো অন্য রাস্তা নেই গ্রাম থেকে বেরোবার ! তাই নিতুর সাথে একটা রফা করেছিল গুলে !
গাছের দিকে তাকিয়ে বলেছিল – তুই যদি নিতু হোস, তবে একটা গাছের ডাল নাড়া !
নিতু ডাল নাড়াতেই , গুলে বলেছিল –তোকে মাসে দুটো করে ইলিশ দেবো ! গৌরীকে বলব- তোকে সর্ষে ইলিশের সাথে ভাত দেবে । আর রোজ চুনো মাছ দেবো ! ভাতের সাথে চুনো মাছের চচ্চড়ি খাবি ! গৌরী থালাটা রেখে যাবে এখানে । তুই খাবি ! ঠিক আছে? আর জ্বালাবি না আমাকে !
গাছের ডালটা নাড়িয়ে দিল নিতু !
এবারে আর একটা সমস্যা গজিয়ে গেল ! পাশের বেলগাছের ব্রহ্ম দৈত্য হারু ঠাকুর বলল – যে দিন ইলিশ হবে, সেদিন আমাকে ভাগ দিবি ! না হলে, তোকে একটা কেস দিয়ে ভূতেদের জেলে পাঠাব ! আমাকে সবাই ডরায় এখানে ।
অগত্যা মধুসূদন ! নিতু রাজী হল ।
এই করে রাত চলছে !
হঠাৎ ভূতেদের হেড অফিস থেকে কয়েকটা ভূত এল !
তাদের ফরমান – যত কারিয়া পিরেত, মামদো আর অন্যান্যরা আছে তাদের ভূত গণণা হবে !
ব্রহ্মদত্যি আপত্তি করলেন না ! কি আর করা ! ওরা সব নাম টাম লিখে নিয়ে গেল !
এখন শুধু অপেক্ষা, কবে লিস্ট বেরুবে !
যদি লিস্টে নাম না থাকে, তবে নিতুদের অন্য জায়গার শ্যাওড়া গাছে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হবে !
কোথায় পাবে গৌরীর হাতের রান্না !
মনটা কি ভাল থাকতে পারে নিতুর?

ভূতেরা


অনেকদিন পর বুকি ঘোষের রেশন দোকানে আড্ডা দিতে গেছিলাম । সেদিন ছিল, কৌশিকি অমাবস্যার দিন । বেচা- কেনা শেষ । অপু আর জীবন বসে ভূতের গল্প করছে ।

চেয়ার এগিয়ে দিল – অলোক । তক্ষুণি গরম গরম চা নিয়ে এলো মিন্টু । ও সব দোকানেই সকাল বিকেল চা বিক্রি করে বেড়ায়।
চায়ে চুমুক দিয়ে – গল্পের ভাবধারা বোঝার চেষ্টা করলাম । কৌশিকী অমাবস্যা তিথির জন্য, চারিদিকে সাজ সাজ রব ।
অমাবস্যা থেকে – বিষয়গুলো গোল গোল ঘুরে আড্ডায় এখন ভূতে এসে ঠেকেছে ।
তর্ক চলছে – বুকি আর অপুর মধ্যে । বুকির বক্তব্য:- ভূত- নাকি স্বরে কথা বলে না আর অপু বলছে – আলবাৎ বলে ।
আমাকে জিজ্ঞেস করলো ওরা । গম্ভীর হয়ে বললুম – আমি তো স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি ! খোনা স্বরে তো কোনোদিন কথা বলি নি !
বুকি রেগে গিয়ে বললো – আপনি ভূত ? জানতাম না তো !
জানবে, কি করে হে ? গুহ্য তথ্যটা আমার বৌ ছাড়া, যে কেউ জানে না !
যাক্ !

তালে শুনুন – বুকি উবাচ !
ওই যে ডান দিকে বাঁধানো পুকুরটা দেখছেন – ওটা পঞ্চাশ বছর আগে বিরাট ছিল । বাবা আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়েছে সেই অন্ধকার থাকতে । মুখ ধুতে গেলাম – পুকুরে । ফিরে এসেই পড়তে বসতে হবে ।
দেখি, ওই ভোরে গণেশকাকু, জাল ফেলে মাছ ধরছে । মাছগুলো জাল থেকে বের করে পাশের ঝুড়িতে রাখতেই সেগুলো খালি মাছের কাঁটা হয়ে যাচ্ছে- নিজের চোখেই দেখলাম ।
আমি গণেশ কাকুকে বললাম:- দেখেছো কাকু কাণ্ডটা !
গণেশকাকু ভয়ডর হীন লোক ছিলেন । একটু তাকালেন – ঝুড়ির দিকে ।
তারপর

কে রে আমার মাছ খাচ্ছে? – গণেশ কাকুর চিৎকার ।
উত্তর এলো – আমি তোর অনাদি কাকা রে গণেশ । দু বছর আগে মারা গেছি, জানিস তো । আজ তুই মাছ ধরছিস দেখে কয়েকটা মাছ খেলাম । বহুদিন খাই নি । এখন পেট ভরেছে – চলে যাচ্ছি ।
কোনো খোনা স্বর ছিল না- বুকি ?
একদম না !
অপু বললো – বাতেলা আর মিথ্যে কথা !
কি রকম ? – আমার জিজ্ঞাসা ।
সন্ধেবেলা আমার মা, সেও প্রায় বছর পঞ্চাশ হবে, মাছ কাটছিল । আঁশ ছাড়িয়ে পাশে রাখতেই একটা কপাৎ করে আওয়াজ । এরকম বার দুয়েক হতেই মা তাকিয়ে দেখে – একটা কাটা মুণ্ডু ,গালে বিশাল দাড়ি, আরাম করে আঁশ গুলো খাচ্ছে শব্দ করে ।
মা একটা ঝাঁটার বাড়ি দিয়ে বললো – যা , ভাগ্ এখান থেকে !
কেঁমনে যাঁই মাঁ । পেঁট যেঁ ভঁরে নিঁ ।
অপু, তুমি নিজের কানে শুনেছো ? – আমার কৌতুহল ।

তবে আর বলছি কি ?
এরকম চলতো হয়তো, তবে আমার ফোনে রিং টোন বেজে উঠলো । স্ক্রিনে দেখলাম – আমার বৌ কল করেছে আমায় ।
বলো !

শোনো – তাড়াতাড়ি এসো তো !
কুট্টুর ( আমার নাতনী )খুব কেক খিদে পেয়েছে ! কিনে নিয়ে এসো তো ।
ফিরলাম বাড়িতে ।
কুট্টু বললো – দাদা তুই কি করে জানলি, আমার কেক খেতে ইচ্ছে করছে ? ( কুট্টু আমাকে আর তার দাদীকে ইয়ার বলে মনে করে ।)
কেন, তোর দাদী যে ফোন করে বলল আমায় !
বাজে কথা কেন বলো? আমি তোমায় ফোন করি নি !
কি যে বলো না ! এই দ্যাখো কল‌্ লিস্ট‌্ । দেখি কল্ লিস্টে্ আমার বৌয়ের কল্ নেই ।
ওনার ফোনেও আমার নং ছিল না !

ভ্রান্তিবিলাস


ফ্ল্যাটে ঢুকতে গিয়ে, ভালো করে ব্যাগ হাতড়েও চাবিটা পেল না রিয়া ।
সব আছে, খালি চাবিটাই নেই । রাত আটটার সময়, চাবিওয়ালা কে পাওয়ার চেয়ে স্বয়ং ভগবানকে পাওয়া বোধহয় সহজ।
মা- বাবা পুরী গেছে বেড়াতে । রিয়ারও যাবার কথা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে অফিসে একটা প্রজেক্ট এসে যাওয়াতে, আর যাওয়া হয় নি তার ।
মা, পই পই করে বলে গেছে- গ্যাস অন করলে, আগে রেগুলেটার বন্ধ করবি । তোর যা ভুলো মন ।
মায়ের এই সব দোষারোপ ভালো লাগে না রিয়ার ।
না হয় একদিন লন্ড্রি থেকে বাবার জামা কাপড় এনে আলমারি মনে করে , সামসাঙের বিশাল ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখেছিল !
মা যে, স্নানের সময় তোয়ালে ঘাড়ে করে সারা বাড়ি খোঁজে, তোয়ালে, তার বেলা?
খালি রিয়ারই দোষ?
তার বয়ে গেছে – রান্না করতে । দুপুরে অফিস ক্যানটিনে খেয়ে নেয় আর রাতে পাড়ার মোড় থেকে রুটি তরকারি আনে ।
সাতটা দিন এভাবেই চালিয়ে দেবে রিয়া, এটা ঠিকই করে রেখেছিল ।
সকালের চা পাশের ফ্ল্যাটের আন্টি দিয়ে যায় । অত সকালে ভালো করে ঘুমই ভাঙে না রিয়ার । তবু উঠে দরজাটা খুলতে হয়, চায়ের জন্য ।
বিড়বিড় করেই যাচ্ছে, রিয়া । এখন কি করবে, ভেবেই পাচ্ছে না ।
পাশের বাড়ীর আন্টিকে ডাকবে?

নাঃ ! আজকেই মায়ের কাছে খবর যাবে ফোনে ।
সব কটা শত্তুর । সে যতই আদর করে আজকের ডিনারে তাকে নেমতন্ন করুক না কেন আন্টি !
সারাদিনের পরা সালোয়ার কামিজ ছেড়ে তো ফ্রেশ হতে হবে ।
সেটার কি হবে ? আবার কালকে অফিস যেতে হলে তো, এই একই সালোয়ার কামিজ পরতে হবে ।
মাগো ! গা শিরশির করছে ।
হটাৎ, মোবাইলে একটা ফোন । স্ক্রিনে দেখল- কল করেছে আন্টি !

এখন কি করবে রিয়া?
ফোনটা অ্যাকসেপ্ট করবে না বেজে যেতে দেবে? রিজেক্ট করলেই তো সেই আবার সন্দেহ । মেয়েটার কিছু হলো না তো, বা মোবাইল কি হারিয়ে ফেলল ?
মহা ঝামেলায় পড়া গেল ।
দোনো মনো করে ফোনটা তুলল ।
কি রে রিয়া, তুই কোথায়?
এই তো ফ্ল্যাটের সামনে ।
ফোন করতে কি হয়েছিল?
এক মিনিট দাঁড়া- আসছি । সকালে বেরুবার সময় ,ফ্ল্যাটের চাবিটা তো আমার কাছে রেখে গেছিলি, হারিয়ে যেতে পারে ভয়ে ।

বিড়ম্বনা



ওলাতে উঠেই ধড়াম্ করে দরজাটা বন্ধ করল বিরাজ । ওই ধড়াম‌্ শব্দের মধ্যেই রাগের ঝাঁজটা বুঝতে পারছিল অনীতা ।

ড্রাইভার, একটু রেগে বললো – দরজাটা আস্তে তো বন্ধ করতে পারতেন । ভেঙে গেলে তো দায় নেবেন না আপনারা ।
গড়িয়া থেকে- এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর । এতটা রাস্তা যেতে হবে, তাই সময় মিলবে- বিরাজের রাগ কমতে ।
অনীতা, চুপ করে বসে থেকে বন্ধ জানলার পাশে- রাস্তাটা দেখতে লাগলো ।
খানিক পরে, বিরাজ বললো – তুমি কি সত্যিই এম. এ. পাশ করেছো, ইংরেজি নিয়ে ?
অনীতার মুচকি হেসে জবাব – কোনো সন্দেহ আছে কি? তাহলে বিয়ের সময় না হয় শংসাপত্রটা দেখাতাম । একেবারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপ মারা ।
শংসাপত্রটা আবার কি?

সার্টিফিকেট ।
মোটে সাতদিন হলো বিয়ে হয়েছে ওদের । এখন আত্মীয়দের বাড়ীতে খেয়ে বেড়ানোর পালা ।
বালুরঘাট সাকিন হলেও – অনীতার মা বাবা, রাজশাহীর ।
অনীতার জন্ম অবশ্য বালুরঘাটেই । দেখেশুনেই বিয়ে বিরাজের সাথে ।
অনীতা দেখতে ভারী সুন্দরী আর স্মার্ট । তাই- মা বাবার একমাত্র ছেলে বিরাজ আপত্তি করে নি। নিজেদের বারোশো স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট ।

একটা নামকরা আইটি কোম্পানির প্রজেক্ট হেড ।
অনীতাও বালুরঘাট কলেজ থেকে ইংরেজি অনার্স নিয়ে পাশ করে যাদবপুর থেকে এম.এ করেছে ইংরেজি নিয়েই । মার্কসও বেশ ভালো- ৬৭ % । নেট পরীক্ষায় পাশ করেছে ।
এখন অধ্যাপনা করবে না পিএইচডি করবে, সেটা নিয়ে ভাবার মধ্যেই এই বিয়ে ।
বিরাজ গোমড়া মুখে বললো – তুমি এত শিক্ষিতা, তাও তোমার বালুরঘাটের গাঁইয়া স্বভাব গেল না !

অনীতার কেন জানি না – হাসিটা সোডার মত ভুকভুকিয়ে উঠছে, ভেতরে।
মুখটা যথাসম্ভব গম্ভীর রেখে জিজ্ঞেস করলো – কি করেছি বা বলেছি আমি?
তুমি বারবার আমার মাসতুতো বোনকে ঝি বলেছো ?
ওমা ! ঝি বলবো কেন ?
হাজার বার বলেছো ।
আরে তার আগে তো ঠাকুর বলেছি । পুরোটা হলো – ঠাকুরঝি ।

থামো ! ঝি বলেছো, আবার ঠাকুর আগে বলে গ্লোরিফাই করার চেষ্টা করো না ।
ওমা, তুমি জানো না ?
কি?
শ্বশুরকে তো ঠাকুর বলে । আর ঝি হচ্ছে মেয়ে । মেসো তো আমার ঠাকুর, হাজার হোক মেসোশ্বশুর বলে কথা ! তাই তোমার মাসতুতো বোন আমার ঠাকুরঝি ।
বিরাজ বোধহয়, এবার নরম । তাও বললো – জানি না এসব । তবে যে ভারি কুলুঙ্গি বলছিলে ?
ওরে বাবারে, ওদের যে কাঠের কাঁচ দেওয়া আলমারিটা আছে,তারই এক কোণে একটা খোপে দেখলাম – একটা গণেশের মূর্তি আছে । তাই বলেছিলাম, কুলুঙ্গিটা একেবারে মাপমত হয়েছে, গণেশের মূর্তির সাথে ।
বিরাজ এবার হেসে বললো – এত পুরোনো বাংলা শিখলে কবে ?
ইচ্ছে থাকলেই শেখা যায় । কত যে বাংলা শব্দ এভাবে হারিয়ে গেল !

এবারে বিরাজ দরাজ দিল । সামনে একটা সিসিডি দেখে বললো – চলো, একটু কফি খেয়ে বাড়ীতে যাবো । এটার কোনো বাংলা আছে নাকি?
আছে তো ।
কি ?

কাপে কফি দে । যদিও , কাপকে আগে পেয়ালা বলতো ।
অনীতা জোরে গেয়ে উঠলো – ঠুন্ ঠুন্ পেয়ালা ।
( সত্য ঘটনা অবলম্বনে । কারও নামের সাথে মিল থাকলে, সেটা অনিচ্ছাকৃত ।)

Thursday, November 2, 2017

সংগ্রাম


দেশভাগের কথা সবাই জানেন, তাই আর চর্বিতচর্বণ না করাই ভাল ।

দেশভাগ কেন হয়েছিল, কি ভাবে হয়েছিল কারা দায়ী- এসব এখন পুরোনো কথা ।
আমি এসব স্বচক্ষে দেখিনি অনেকের মতই।

কিন্তু, আমার- মা, বাবা, কাকা,পিসিমা, দাদু, দিদিমার মুখে এই সব শুনতে শুনতে বড় হওয়ার ফলে, সব যেন চোখের সামনে দেখতে পাই ।

ওডিশায় থাকার ফলে বাবা পড়াশোনার জন্য দাদুর বাড়ীতে পাঠিয়েছিলেন । তাই দেখতে পেয়েছি- উদ্বাস্তু কলোনির সংগ্রাম ।

কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সব জায়গায় গড়ে উঠেছিল- বাস্তুহারাদের বসতি, লোকমুখে যার নাম ছিল কলোনি ।

অধিকাংশ কলোনি এখন জাতে উঠে গিয়ে হয়েছে – পল্লী ।

পরবর্তী প্রজন্ম আর কলোনী নামটা বজায় রাখেন নি, কারণ ওটা একটা নিকৃষ্ট শব্দ ।

তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মরা এপারে এসে কিভাবে সংগ্রাম করেছেন – সেটা তো ভোলবার নয় ।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় – এই বেঁচে থাকার লড়াইটা যদি ওপারেই করতেন, তাহলে এত অপমান আর জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করতে হত না ।

যাক্, যেটা হয় নি তা নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই ।

আমি মামাবাড়ীতে থাকতাম- বাঘাযতীন কলোনীর ই ব্লকে । মামা বাড়ী আজও আছে সেখানে, কিন্তু দালান কোঠা হয়েছে ।

আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য, যা যা দরকার – সবই মজুত সেখানে, তবে পাঁচ মামার মধ্যে মাত্র তিনজন জীবিত ।

রূপান্তরটা আমার চোখের সামনেই হয়েছে ।
ছিল – মাটির মেঝে, বেড়ার ঘর । সামনে ছিল দুটো বকফুলের গাছ ।
জলের জন্য ছিল – টিপকল । জলে ভকভক করছে আয়রণের গন্ধ ।

স্নানের জন্য ছিল – পুকুর । তালগাছের গুঁড়ি দিয়ে তার ঘাট বানান ।
এইরকম পুকুর বাঘাযতীনের প্রায় সব জায়গাতেই ছিল । হয়, কাটান বা প্রাকৃতিক।

ওপারে অভ্যেস ছিল, পুকুরে হাত পা ধোয়া, স্নান করা, সেটাই এপারে তৈরি করে ওপারকে ছুঁয়ে থাকার একটা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।

লায়েলকার মাঠেও পুকুর ছিল । বাঘাযতীন থেকে হেঁটে, বিজয়গড় শিক্ষানিকেতনে যাবার সময় দেখা যেত একটা পুকুর ।

ফাঁকা লায়েলকার মাঠে তখন তৈরি হল – একটা দালান বাড়ী ।
নাকি, ইংরেজি ব্যাকরণের বিখ্যাত লেখক – পিকে দে সরকারের মালিকানা ছিল ওই বাড়ীটার ।

তারপর সেই পুকুরটাকে ঘিরে তৈরি হল – কয়েকটা দোতলা বাড়ীর । শুনতে পেতাম – আকাশবাণীর তখনকার বাংলা সংবাদ পাঠিকা বিখ্যাত ইভা নাগের একটা বাড়ী ছিল ওখানে ।

সত্যি মিথ্যে যাচাই করার সময় ছিল না তখন ।

অনেক পরে, বাঘাযতীনে আমার মামার বাড়ী ঢোকার পরের গলিটা (আগের গলিটা ছিল, চালপট্টির) দিয়ে ঢোকার বাঁ দিকে বাড়ী তৈরি করেন অভিনত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় ।

যাওয়া আসার পথে এক ঝলক কখনও দেখতে পাওয়া যেত মাধবীদেবীকে ।

মাধবীদেবীর জীবনসঙ্গী- নির্মলকুমার পড়েছেন মালদার অক্রুরমণি স্কুলে। তাঁকে একটা সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন – স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রাক্তনীরা । ঠিক মনে নেই । তবে সেই সময় আমি মালদায় ।

সন্ধেবেলা চারিদিক থেকে ভেসে আসতো চিৎকার করে পড়ার আওয়াজ।
আমার কেন জানি এখন মনে হয়, সেই চিৎকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকত- প্রতিষ্ঠিত হবার বাসনা ।

লন্ঠনের মৃদু হলদেটে আলো – খালি নিয়ন সাইনের অপেক্ষা ।
রাত বিরেতে তিনটে আলু বা পেঁয়াজ ধার নেবার প্রয়োজন হত অনেকের কারণ হয়তো বাড়ীতে অতিথি এসেছেন ।

পরের দিন বাজার করে, সেই ধার মেটান হতো ।

বাঘাযতীন বাজার ছিল বিজয়গড়ের রাস্তায় ।

কলোনি ঢোকার মুখ আর বাঘাযতীনের মধ্যে ছিল – বড় রাস্তা ।
চলত- ৮০ বি আর সরকারি পাঁচ নম্বরের দোতলা বা একচোখ কানা একতলা বাস ।

ভোরবেলা – পুণ্য করতে কিছু লোক যেতেন গঙ্গাস্নান করতে ।
বেশীর ভাগ লোকই পুকুরে স্নান করতেন । বাসভাড়াটা সেই হিসেবে তখনকার দিনেও বেশী ছিল ।

তাই অনেকেই যেতেন না, সাশ্রয় করার জন্য মানে যেটুকু পারা যায়।
পুকুরে স্নান করার মন্ত্র ছিল । একঢেলা মাটি তুলে পাড়ে ছুঁড়ে দেবার ।

এই করে করে বোধহয় পুকুরটা গভীর হত ।

উত্থিষ্ঠোত্থিষ্ঠো পঙ্ক ত্বং ত্যজ পুণ্য পরস্য চ।
পাপানি বিলয়ং যান্তু শান্তিং দেহি সদা মমঃ॥

হে পাঁক, তুমি ওঠো । পরের পুণ্য নিয়ে আমাদের পাপগুলো দূর করে আমাদের শান্তি দাও ।

শান্তি এখনও খুঁজে চলেছি ।

ওঁ শান্তিঃ, ওঁ শান্তিঃ, ওঁ শান্তিঃ,

-----
মন্ত্রটা ভুলে গেছিলাম । সিলেটের পরম বন্ধু বিধুভূষণ ভট্টাচার্য মন্ত্রটা পাঠিয়েছেন আমাকে । আমি কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে ।

Monday, October 30, 2017

দক্ষিণী ক্ষেতুদা


দুপুরের দিকে একটা ব্যক্তিগত কাজ ছিল, সেটা সেরে – ভাত টাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, খানিক।
ঠিক, ঘুম বলা যাবে না, তবে তন্দ্রা মতন হয়েছিল আর কি !
এখন আমার কাজ বলতে দুই – খাই আর শুই ! তাই দুপুরে বেশী ঘুমোই না । রাতে আর ঘুম আসবে না !
তখন আর কটা হবে? এই সন্ধে ছটা ফটা ! হরির দোকানে গেলাম ।
চা খেয়ে, সবে গেলাসটা রাখব, এই সময় একটা মেরুন রঙের অল্টো গাড়ী এসে দাঁড়াল, দোকানের সামনে । ড্রাইভিং সিট থেকে গাঁকগাঁক করে শব্দবাণ ভেসে এলো -
আমার জন্য চা বল্ রে রামকেষ্ট । আওয়াজ শুনে দেখি – আমাদের ক্ষেতুদা, মানে ক্ষেতু বাগচী ।
চা খেতে খেতে ক্ষেতুদা উবাচ – দমদম স্টেশন যেতে, মতিঝিলের একটু ভেতরে ,ইসকন একটা সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারের দোকান খুলেছে, জানিস?
না তো !
জানবি কি? ব্যাটা তো সবসময় ঘরে বসে থাকিস ! তুই না, ধোসা- ইডলি খেতে ভালবাসিস !
সে তো ভালবাসি, তবে পাচ্ছি কোথায়? মাঝে একটা ছেলে, সপ্তাহের মঙ্গল আর শনিবার নিয়ে আসত । এখন আর আসে না । বলে- বিক্রি নেই !
বলিস্ কি রে? এই ইসকনওয়ালারা তো আরও দুটো ব্রাঞ্চ খুলেছে কলকাতায় !
কোথায়, কোথায়?
মিন্টো পার্ক আর গুরুসদয় দত্ত রোডে !
তাই?
তালে আর বলছি কি ! চ, চ খেয়ে আসি !
তুমি যাও ক্ষেতুদা ! আমার আজ পেট ভাল নেই!
আম্মো বারিন্দির, তুইও বারিন্দির ! তোর পেটের প্যাঁচ আমি বুঝি না- মনে করছিস? তোর গায়ে টাচ হলেই তো আমি উল্টো সাত পাক ঘুরি- প্যাঁচ ছাড়াতে ।
সে তো আমিও !
বুঝি রে বুঝি! বারিন্দিরের প্যাঁচ বলে কথা !
মাইরি বলছি,ক্ষেতুদা – তুমি টেনিদার জ্যাঠা আর ঘনাদারও তস্য তস্য দাদা ! তুমি খাওয়াবে, এটা বিশ্বাস করার চেয়ে, ম্যানড্রেক- মহাজাতি সদনে ম্যাজিক দেখাচ্ছে- এটা বিশ্বাস করা বরং ভাল ।
ছোট মুখে বড় কথা বলছিস যে বড়? বলি, আমি কি তোকে খাওয়াই নি?
সে তো- দু টাকার চানাচুর !
অকৃতজ্ঞ! দু টাকাটাই দেখলি, চানাচুরটা দেখলি না? চ চ, গাড়িতে ওঠ্ । খেয়ে আসি ওখান থেকে !
মা কালীর দিব্বি ! আমার পকেটে মাত্র দশটা টাকা ! তাও হরিকে দিতে হবে চায়ের দামের জন্য ! তুমি যাও দাদা – আমি না হয় পরে যাবো একদিন ।
এই দ্যাখ !
কি?
তিনটে পাঁচশো টাকার নোট আমার পকেটে ।
কোত্থেকে পেলে দাদা?
আবার?
মানে তোমার কাছে তো পাঁচ টাকার বেশী দেখি নি, তাই আর কি !
বাজার খরচ থেকে জমিয়েছি – তিন মাস ধরে !
বৌদি ধরতে পারে নি ?
তা পারে নি !
যাক ! বাঁচা গেল !
যাবি তো?
চলো – এত করে বলছ যখন !
তা, লোকজনকে জিজ্ঞেস করে মতিঝিলের ভেতরে অল্প ঢুকেই
দোকানটা ।
বড় করে ইংরেজিতে লেখা – ইসকন । সাথে রাধাকৃষ্ণের ছবি ।
দোকানের দুটো ভাগ । একদিকে মিষ্টি আর একদিকে টেবিল আর চেয়ার পাতা ।
মিষ্টিগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল –মে মাসের দোওয়া দুধ থেকে , ছানা বা ক্ষীর হয়েছে- অগাস্ট মাসে আর মিস্টি তৈরি এই অক্টবরে ।
ভাবগতিক ভাল নয় দেখে কেটে পড়ার তাল করছি, সেই সময় দেখি ওডিয়া ভাষায় কথা বলছে কাউন্টারে বসা ছেলেটা ।
ওর ফোন শেষ হতেই জিজ্ঞেস করলাম – ঘরঅ কৌঠি কি হ? ( বাড়ি কোথায় হে?)
কান এঁটো করে হেসে বলল – আইজ্ঞা, জাজপুর ! আপণঅ ওডিয়া কি? ( আজ্ঞে জাজপুর । আপনি কি ওডিয়া?)
(আগামীকাল শেষ পর্ব)
তুমঅ ঘর জাজপুররে, বিরজা মন্দিরঅ পাখরে ?
( তোমার বাড়ী, জাজপুরে- বিরজা মন্দিরের কাছে?)

আইজ্ঞা, হেলে টিকে ভিতরে । আপনঅ  বিরজা মন্দিরঅ দেখিছন্তি কি ?

(আজ্ঞে, একটু ভেতরে । আপনি বিরজা মন্দির দেখেছেন?)

 মলা ! মু পরা বালেশ্বর লুকঅ ! বিরজা হেলে, বঙালি মানঙ্ক দুর্গা । হেলে, এইঠি – দুর্গা, দি হাতিয়া আউ মহিষাসুরঅ কু পানি মহিশাসুর কুহা যায়ে । এইঁথি পাঁই এই বিরজা মন্দিরঅ পরা বিরজা ক্ষেত্র !
( মর ! আমি বালেশ্বরের লোক ! বিরজা হলেন – বাঙালিদের দুর্গা, কিন্তু দুটো হাত আর মহিষাসুরকে জল মহিষাসুর বলে । এই জন্য- বিরজা মন্দিরকে বিরজা ক্ষেত্র বলা হয়)

আপনঅ তো সবু জানিছন্তি
(আপনি তো সব জানেন)

তমে জানিছ কি, চৈতন্য দেবঅ পরা জাজপুরঅ লুকঅ ।

( তুমি জানো কি, চৈতন্য দেব জাজপুরের লোক!)
আইজ্ঞা – ভলঅ ভাবে জানে । সেঁইথি পাঁই ইসকন গুটে মন্দিরঅ ভি করিছন্তি জাজপুররে ।

( আজ্ঞে, ভালো ভাবেই জানি । সেই জন্য তো  ইসকন সেখানে একটা মন্দির করেছে ওখানে)
 হঁ না ?
( তাই নাকি?)
ক্ষেতুদা দেখলাম –উসখুস করছেন । বললেন – তোর এই ভজর ভজর থামাবি? ক্ষিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে, আর তুই- ইতিহাস বলছিস্ । বলি হ্যাঁ হে, কি কি পাবো এখানে?

এবারে ছেলেটা সরাসরি বাংলায় চলে এল যদিও একটু ওডিয়া টান ছিল বাংলা কথায়।

আজ্ঞে- ধোসা, ইডলি, বড়া, সাম্বার বড়া, সব পাবেন । চাই কি, রাতের ভাতও খেয়ে যেতে পারেন । আমাদের কোনো রান্নাতেই পেঁয়াজ রসুন নেই । এমনকি মিষ্টিতেও ।

মিষ্টিতে কেউ পেঁয়াজ রসুন দেয় নাকি? – ক্ষেতুদা রেগে অগ্নিশর্মা ।

আজ্ঞে, পেঁয়াজ রসুনের ছোঁয়া পর্যন্ত লাগে না এখানে !

সেটা সব মিষ্টির দোকানেই । সিঙারাতে পুরেও পেঁয়াজ রসুন  থাকে না ।
যাকগে-আমরা ধোসা খাবো । কত করে পিস?
আজ্ঞে ৭০ টাকা ।
নারকেল চাটনি আর সাম্বার থাকবে ?
আজ্ঞে, সেটা তো থাকবেই ।
আপাতত দাও দু প্লেট । খেয়ে দেখি । কতক্ষণ লাগবে আনতে ?

এই ২০ থেকে ২৫ মিনিট !
আচ্ছা, ঠিক আছে ।

ছেলেটি কে .ও.টি নিয়ে চলে গেল কিচেনে ।
আমার ,মনে ধন্ধ !  আন্ধ্রার কথা জানি, কিন্তু তমিড়নাড্ ? লাগাও ফোন – প্রকল্পকে ।

ফোন ধরলে – দুটো খেজুরে আলাপের পর জিজ্ঞস করলাম – বলি,তোমাদের চেন্নাই শহরে পেঁয়াজ রসুন  ছাড়া মসালা ধোসা পাওয়া যায়?

খানিক চুপ থেকে – প্রকল্পর উত্তর :-

সেটা তো ঠিক জানি না, তবে খুঁজলে মিলতে পারে । তবে পেঁয়াজ রসুন   ছাড়া ধোসার ফ্লেভারটই তো আসবে না !

 ওখানে আমিষ খাওয়ার চল এখন কেমন ?

বেড়েছে দাদা । এমনকি তমিড়রা এখন চাট, ফুচকা, চিকেন তন্দুর, তড়কা সবই খায় । তবে তড়কাতে কারি পাতা থাকে।
তাই?
হ্যাঁ ! আজকাল রুটিও খায় তমিড়রা ।
বলো কি হে? রুটি ?
হ্যাঁ দাদা । আর আগে রাতে ইডলি খাওয়ার চল ছিল না, তবে এখন রাতে দেদার খায় ইডলি, তাও মাংসের সাথে ।
হোটেলে – মিলস্ রেডি বোর্ড থাকে ?

থাকে, তবে শুধু দিনের বেলা ! রাতে থাকে না ।
 কেন?
মিলস্ মানে এখানে ভাত । রাতে এরা ভাত খায় না এখন ।
ব্রেকফাস্টটাতো আগে হোটেলেই সারত, এখন কি অবস্থা ?

প্রায় কমে গেছে । বাড়ীতেই করে নেয় এরা ।

আর মিষ্টি?

ওই মাইশোর পাক আর লাড্ডু ।

ইতিমধ্যে ধোসা চলে এসেছে – গরম গরম । বেশ মন মাতান পুরোনো সুবাস ।
প্রকল্পকে বললাম – পরে কথা বলব ।

ধোসার মশালাতে – আলু,কড়াইশুঁটি,গাজর, এই সব ।
সাম্বারেও তাই । শুধু নারকোলের চাটনিতে ধনেপাতা বাটা ।ওটা খেয়ে ভাল লাগল না।
 রাতে নাকি ভাতও মেলে । দুরকম তরকারি, ডাল, সাম্বার, পাঁপড়, চাটনি ।
দাম- ২০০ টাকা প্লেট ।
 ক্ষেতুদা বলল – চ রামকেষ্ট ! ফুটি এবারে । তোর তো ইতিহাস, ভূগোল সব জানা হল । এবারে বাড়ী না গেলে ঝাড় ! রাতে তো ভাত খেতেই হবে । তবে কম । পেট ভরে গেছে । তোর বৌদি আবার সন্দেহ করবে ।

ছেলেটি বলল – আবার আসবেন !