Powered By Blogger

Saturday, March 12, 2011

খাদ্যপ্রেম

আমসত্ত্ব দুধে ফেলি, তাহাতে কদলী দলি, সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে। 
হাপুস হুপুস শব্দ, চারিদিক নিস্তব্ধ, পিঁপড়া কাঁদিয়া যায় পাতে।।”
এইটা যখন প্রথম পড়ি, তখন মনে হয়েছিল, মনের কথা- পেটের কথা। পেটের কথা মানে- পেটের প্রেম।
অমৃত কাকে বলি জানি না! তবে মালদার গোপালভোগের আমসত্ত্ব দুধে ফেলে ১ ঘন্টা পর দেখেছি, সেই দুধ পুরো আমের ঘন সরবত হয়ে গেছে। তারপর সেটা ফ্রীজে রেখে ঠাণ্ডা করে, আস্তে আস্তে চুমুক মেরে মনে হয়েছে:- ওরে দুধ গোলা রে! তুঁহু মম শ্যাম সমান!
শ্যামের কথাই যখন এলো, তখন পুরোনো একটা গানের কথা বলি।
লুচির কোলে পড়ল চিনি
যেন শ্যামের কোলে সৌদামিনী!
প্রেম, ভালোবাসা- সব লুচি আর চিনির লালাসিক্ত রসায়ন।
তারপর- 
লুচির কোলে পড়ল ডাল
বামুন নাচে তালে তাল
“ভজ গৌরাঙ্গ” বলে বামুনদের সে কি প্রেমের নাচ!!!!!!!!!!
সবার পাতে দই পড়ছে দেখে- বামুন আর থাকতে পারল না!
রেগে বলল- 
হাতে দই, পাতে দই, তবু বলে কই কই
ওরে ব্যাটা হাঁড়ি হাতে, দে দই দে দই!
দই পেয়ে বামুন, সে কি খুশী!!!!!!
নাচতে নাচতে গাইলো-
পান্তুয়া লম্বা, রসগোল্লা গোল
হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল!
লেখাটা পড়ে; Horrible মনে হতে পারে, কিন্তু খাওয়ার প্রতি বামুনদের যে ভালোবাসা, সেটা যে নিখাদ- তার প্রমাণ, তার উন্মত্ত নাচ! আর সেই নাচ, প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে!

সেকালের খাদ্যপ্রেমী বামুনরা পেট ভরেছে কিনা- সেটা জানার জন্য, পৈতেতে একটা চাবি বেঁধে রাখতেন। 
এক নৈয়ায়িক, বামুনদের এক প্রতিভূকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:- আপনার ঈদৃশ কার্যের কারণ কি? উপবীতের সহিত কুঞ্চিকাঠির যোগ কোথা হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন?
বামুন:- মান্যবর! খাদ্যগ্রহণ কালে মদীয় উদর পূর্ত্তি হইয়াছে কিনা তাহা বোধ করিতে পারি না। এই কারণে, সংকেতের নিমিত্ত এই উপবীতের সহিত কুঞ্চিকাঠির যোগ করিয়াছি।
নৈয়ায়িক: -সংকেতটি কি প্রকার?
বামুন:-উদরের সহিত কুঞ্চিকাঠি সমকোণে উত্থিত হইলে, বোধগম্য হইবে যে- মদীয় উদর পূর্ত্তি হইয়াছে।
(কুঞ্চিকাঠি= চাবি)
বুঝুন! কি রকম খাদ্যপ্রেম!
সেই বামুনের আবার এরকমই খাদ্যরসিক যে কহতব্য নয়!‍
নিয়মমত গায়ত্রী জপ করতে বসেছে!
প্রথমেই বলল:-
“ওঁ প্রজাপতি ঋষি, পাতা পেড়ে বসি।
চিপিটক সহিত রম্ভা চর্বণে বিনিয়োগঃ।।”
(চিপিটক= চিড়া, রম্ভা = কলা)
খাদ্যরসিক সৈয়দ মুজতবা আলি আবার এককাঠি ওপর দিয়ে গিয়েছেন!
অমৃতের সন্ধান, বলতে গিয়ে, সংস্কৃত সাহিত্যের উপমা সহ বলছেন:-
“কেচিদ বদন্তি অমৃতস্তোসি সুরালয়ে
কেচিদ বদন্তি অমৃতস্তোসি প্রিয়াস্য অধরে।
ময়া পঠিতানি নানা শাস্ত্রাণি
অমৃতস্তোসি জম্বুর নীর পুটিত 
ভর্জিত মৎস খণ্ডে।”
অস্যার্থ:- কেউ কেউ বলেন- অমৃত আছে সুরালয়ে। ( এখানে, সুরালয়ে- শব্দটার দুটো মানে আছে।সন্ধির খেলা আর কি! প্রথমটা পড়তে হবে- সুর+ আলয়= দেবতার মন্দির। দ্বিতীয়টা- সুরা+ আলয়= ভাঁটিখানা) আবার কেউ কেউ বলেন- অমৃত আছে, প্রিয়ার অধরে মানে চুম্বনে। অনেক শাস্ত্র পড়েছি- কিন্তু অমৃত আছে লেবুর রস দেওয়া ভাজা মাছের মধ্যে।
অহো! চুম্বনের সাথে- ভাজা মাছ! কি অপূর্ব মেলবন্ধন! এটা নিশ্চয়ই কোনো বাঙালী পণ্ডিতের লেখা! না হলে মাছের এই তুলনা আর কোন পণ্ডিত করতে পারতো না।

এক বাউন গিয়েছে বিয়ে বাড়ীতে। খেতে খেতে শুয়ে পড়ে হাঁসফাঁস করছে।
বোঝাই গেল- আর খেতে পারছে না! একজন বললেন- ঠাকুরমশাই! একটা হজমের বড়ি দি! কি বলেন?
অতিকষ্টে উত্তর এলো- হজমের বড়ি যদি খাওয়ার জায়গা থাকতো হে, তা হলে তার বদলে আমি আরও ১০ টা পান্তুয়া খেতাম।
আগেই বলেছি, মুজতবা সাহেব খাদ্যরসিক ছিলেন! একবার তিনি, চাঁদনী রাতে তাজমহল না দেখতে গিয়ে রামপাখীর মাংস খাচ্ছিলেন- রেস্তোঁরায় বসে।
জিজ্ঞেস করাতে বলেছিলেন- বাপু হে! ওই তাজমহল, কড়কড়ায়তে-মড়মড়ায়তে করে খাওয়া যায় না। তাই যাই নি!
বৈষ্ণব বাউনরা মাছ যাতে খেতে পারেন- তার জন্য নীচের বিধান এলো:-
ইল্লিশ, খল্লিস, ভেটকী, মদগুর এব চ।
রোহিত রাজেন্দ্র, পঞ্চমৎস্যা নিরামিষাঃ।।
অস্যার্থ:- ইলিশ, খলসে, ভেটকী, মাগুর এবং রুই- এই পাঁচরকম মাছ নিরামিষ। খেলে দোষ নেই!
বুঝুন! কি জাত বদমাশ বিধানদার ঠাকুরমশাই! সব ভালো ভালো মাছগুলোকেই নিরামিষ বলে চালিয়ে দিলেন!!!!!!!!
তন্ত্রশাস্ত্র আরও সরেস! তাঁরা কি বলেছেন বিধান দিতে গিয়ে!!!!!!
মৎস্য তিন প্রকার। উত্তম, মধ্যম ও অধম।
উত্তম মৎস্য= প্রায় কন্টক বিহীন।
মধ্যম মৎস্য= কিছু পরিমাণ কন্টক।
অধম মৎস্য= প্রচুর কন্টক হইলেও উত্তম রূপে ভর্জিত হইলে অতীব উপাদেয়। মানেটা হলো, কাঁটা মাছ কড়কড়ে করে ভেজে খেতে পারো!
কি মৎস্যপ্রেম! কাউকে ছাড়া নেই! বাউন বলে কথা! 

বাউনদের খাওয়ার প্রতি লোভ এবং তাদের বিধানদের ওপর একটু যদি নজর দেওয়া যায়, তবে দেখবেন- কি সুন্দর রাজনীতি এর মধ্যে মিশে আছে।
এবার বিধানটা কি?
যে কোনো পূজোতে অব্রাহ্মণরা পক্কান্ন দিতে পারবে না!
বেশ! তা না হয় হোলো!
এবার নৈয়ায়িকরা প্রশ্ন তুললেন- অন্নের অর্থ সংকোচন পূর্বক তাহাকে পক্ক চাউলে (ভাত) পরিণত করা হইয়াছে। কিন্তু, অন্নের অর্থ হইলো- যাহা কিছু, উদর পূর্ত্তি করে, তাহাই অন্ন। উদর পরিতোষ বিনা কিভাবে পূজা সম্ভব?
বামুনরা নৈয়ায়িকদের বেশী ঘাঁটাল না। তারা বলল:-
কৃষরান্ন( খিচুড়ি) ও পক্ক চাউলে পূজা নিবেদন করিতে পারিবে না। অপিচ( ইংরেজী- However এর সমতুল্য) গোধূমপিষ্টক ( লুচি) সহ পরমান্ন (পায়েস) প্রদান করিতে পারিবে।
নৈয়ায়িকদের মধ্যে বেশীর ভাগই বাউন। তাঁরাও আর যুক্তি-তর্কের জাল বাড়ালেন না। এরই মধ্যে কিছু নৈয়ায়িক মিউ মিউ করে বললেন- পরমান্ন, পক্কান্নের নামভেদ! সমস্যার সমাধান কি রূপে হইবে?
উত্তরও এলো- চাউল যেহতু দুগ্ধে পক্ক, সে হেতু প্রত্যব্যয় ( দোষ) নাই। কারন, দুগ্ধ গোমাতা হইতে প্রাপ্ত।
রাজনীতি এর মধ্যে কি? কিছুই না! নিজের পয়সায় খিচুড়ি খাও আর পরের পয়সায় লুচি, পায়েস সাঁটাও! ব্যস্। খরচ হলে তোর হবে, আমার কি?
চালাকিটা ধরে ফেলে, কিছু নৈয়ায়িক সংস্কৃত শ্লোক রচনা করলেন:-
পরান্নং প্রাপ্যে মূঢ়, মা প্রাণেষু দয়াং কুরু।
পরান্নং দুর্ল্লভং লোকে, প্রাণাঃ জন্মণি জন্মণি।।
অস্যার্থ:- পরের অন্ন ( কেউ কাউকে সহজে ডেকে খাওয়ায় না) এই পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। অতএব, হে মূর্খ! যত পারো খাও! আর প্রাণ? সে তো জন্মজন্মান্তরেও পাওয়া যায়।

রবীন্দ্রনাথের কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলাম, তাই-রবীন্দ্রনাথের “জীবনস্মৃতি” থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:-
“আমাদের জলখাবার সম্বন্ধেও তাহার অত্যন্ত সংকোচ ছিল। আমরা খাইতে বসিতাম। লুচি আমাদের সামনে একটা মোটা কাঠের বারকোশে রাশকরা থাকিত। প্রথমে দুই-একখানি মাত্র লুচি যথেষ্ট উঁচু হইতে শুচিতা বাঁচাইয়া সে আমদের পাতে বর্ষণ করিত। দেবলোকের অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিতান্ত তপস্যার জোরে যে-বর মানুষ আদায় করিয়া লয় সেই বরের মতো, লুচি কয় খানা আমাদের পাতে আসিয়া পড়িত; তাহাতে পরিবেশনকর্তার কুণ্ঠিত দক্ষিণহস্তের দাক্ষিণ্য প্রকাশ পাইত না। তাহার পর ঈশ্বর প্রশ্ন করিত,আরো দিতে হইবে কিনা। আমি জানিতাম, কোন্‌ উত্তরটি সর্বাপেক্ষা সদুত্তর বলিয়া তাহার কাছে গণ্য হইবে। তাহাকে বঞ্চিত করিয়া দ্বিতীয়বার লুচি চাহিতে আমার ইচ্ছা করিত না। বাজার হইতে আমাদের জন্য বরাদ্দমত জলখাবার কিনিবার পয়সা ঈশ্বর পাইত। আমরা কী খাইতে চাই প্রতিদিন সে তাহা জিজ্ঞাসা করিয়া লইত। জানিতাম, সস্তা জিনিস ফরমাশ করিলে সে খুশি হইবে। কখনো মুড়ি প্রভৃতি লঘুপথ্য, কখনো-বা ছোলাসিদ্ধ চিনাবাদাম-ভাজা প্রভৃতি অপথ্য আদেশ করিতাম। দেখিতাম, শাস্ত্রবিধি আচারতত্ত্ব প্রভৃতি সম্বন্ধে ঠিক সূক্ষ্মবিচারে তাহার উৎসাহ যেমন প্রবল ছিল, আমাদের পথ্যাপথ্য সম্বন্ধে ঠিক তেমনটি ছিল না।
তাহলেই বুঝুন! কি কেলোর কীর্ত্তি!!!!!!!!!
আরে বাপু খাবি তো খা না! কে বারণ করেছে? পয়সাও মারবি, বিনে পয়সায় খাবি, আবার বড় বড় বাতেলাও মারবি, এটা কি ঠিক?

এবার দেখা যাক, সংস্কৃত সাহিত্যে খাবারের কি রকম বর্ণণা আছে! সাহিত্য তো আর খাবার ছাড়া হয় না। প্রেমও খাবার ছাড়া হয় না! আজকাল প্রেম করতে গেলেও একটা রেস্তোঁরায় বসতে হয়!
প্রেম- সাহিত্য- খাবার, এটা ত্রিকোণ! যাবে কোথায় বাছা? আড্ডা মারতে গেলেও খাবার! এই যে পলার বাড়ীতে আড্ডা মেরে এলাম, সেদিন! সেখানেও তো এক কিলো চাউমিঁএ, এক কিলো চিলি চিকেন আর গোটা দশেক সন্দেশ সাঁটিয়ে এলাম! সবাই আড্ডা মারবে কি! ওরা আমার খাওয়া দেখতেই ব্যস্ত! জল টল খেয়ে মনে হলো- নাঃ! এবার বোধহয় পেটে কিছু দানাপানি পড়েছে!!!!!!!
নাম বলবো না! বললেই ক্ষেপে যাবে! সাতই ফেব্রুয়ারী-২০১১ তে সল্ট লেকের ভজহরি মান্নাতে, একজন আমায় হেব্বী খাওয়ালো! আমার খাওয়ার সময় রেস্তোঁরার লোকগুলো কেমন যেন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছিল!
একজন ওয়েটার তো আর এক ওয়েটারকে ফিসফিস করে বলেই ফেল্লো- শুনেছিলাম- ভীম নাকি বক রাক্ষসকে মেরে ফেলেছে!!!!!!
কোথায়? এই তো সে!!!!!! এই লোকটা চলে গেলে মালিক কে বলে দোকান বন্ধ করে দে! আর তো খাবার নেই!
যাক! আসল কথায় আসি! আজকাল মাঝে মাঝে একটু বেলাইন হয়ে যাই আর কি!!!!!!
খ্রীষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে- দুজন বড় মাপের বাঙালী কবি বিরাট বিরাট সংস্কৃত কাব্য লিখেছিলেন।
এঁদের মধ্যে একজন- কবিকর্ণপূর পরমানন্দ সেন। বাড়ী – কাঞ্চনপল্লীতে মানে আজকাল যাকে কাঁচরাপাড়া বলে। বিরাট বড়লোকের ছেলে আর খুব গুণী( বদ্যিরা এরকমই হয়)।
“শ্রীশ্রীকৃষ্ণাহ্নিক- কৌমুদী” নামে একটা কাব্য লিখেছিলেন। এই কাব্যের দ্বিতীয় সর্গে ৮৫ থেকে ১১৮ শ্লোকে বসন্ততিলক আর পুষ্পিতাগ্রা ছন্দে শ্রী রাধার – রান্নার মনোরম বর্ণণা আছে।
আর একজন লেখক হলেন- শ্রী কৃষ্ণদাস কবিরাজ। এনার লেখা বইটির নাম হলো- “শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত” এবং “গোবিন্দলীলামৃত”।
এই “গোবিন্দলীলামৃত” তেই নানাধরণের খাবারের বর্ণণা আর রান্নার প্রণালী দেওয়া আছে।
তবে, শ্রী কৃষ্ণদাস কবিরাজ বেশ কিছুদিন বৃন্দাবনে থাকার ফলে একটু কম বর্ণণা দেওয়া আছে। কবিকর্ণপূর পরমানন্দ সেন বাংলাতে বসে লিখেছিলেন বলে বর্ণণাটা বেশ বিস্তৃত।

কবিকর্ণপুর বাথুয়া ( বাস্তুক), নটে ( মারিষ), নতির পত্র( পটলশাক) কলায়লতার শাক( কলায়বল্লী শিখা), ছোলার শাকের কচি ডগা ( চনকাগ্র শিখা), মটরশিখা, কোমল লাউডগা ( তুম্বিশিখা) আর পদিনার শাকের কথা উল্লেখ করেছেন- ৮৭ নং শ্লোকে। এই শাকগুলো নাকি শ্রীরাধা, শ্রীকৃষ্ণের জন্য ভালো সরষের তেলে ভেজেছিলেন ( ওই সরষের তেলটা আর পাওয়া যায় না বলে- আজকাল চারিদিকে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা, ব্রততী’ সব কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছেন)।
আমি নিজে পদিনার চাটনী খেয়েছি, কিন্তু পদিনা শাকভাজা আমার নিজের রাধা কোনোদিন ভেজে খাওয়ান নি! পড়ে বলেছিলাম, রান্না করতে! তা! যা প্রতিক্রিয়া হলো! যাক! অন্য দশ কথা এসে পড়বে!
ছোলার শাক আর মটর শাকের যে ঘন্ট হতে পারে, সে কথা কিন্তু কবিকর্ণপুর বলেন নি! শ্রীকৃষ্ণ কি ঘন্ট খেতেন না? কে জানে!!!!!! ঘন্ট খেলে যদি শ্রীরাধার প্রেম উবে যায়! তা হলেই তো ঘন্ট ঘেঁটে যাবে।
আমার শ্রীরাধা কিন্তু যে কোনো শাকই বড়ই ভালো রাঁধেন। এক থাল ভাত উড়ে যায় খালি ওই শাক দিয়ে।
কবিরাজ গোস্বামী আবার পাকা তেঁতুলের রস দিয়ে কলমি শাক, আর কাঁচা আম দিয়ে কালো নালতে পাতা রাঁধার কথাও বলেছেন।
এ ভাবে আমি খেয়েছি- উল্লুস!!!!!! জিভে জল এসে, কি বোর্ড পুরো ভিজে গেল।
কিন্তু, এই দুই কবির লেখাতে- পুঁই, পালং, মূলোর শাকের কথা পাই নি! কে জানে কেন!!!!! কবিরা কি এই শাকগুলো খেতে ভালোবাসতেন না! নাকি শ্রীকৃষ্ণের দৈববাণী হয়েছিল- বুঝলে হে- আমি ওই সব শাক খাই না! তাই লিখো না।
এবার আসি ভাজার কথায়!

ভাজার কথা বলতে গিয়ে কবি কর্ণপুর লিখেছেন ( শ্রীরাধা প্রেমে ভাজা ভাজা হয়েছিলেন কিনা!):- ( গোবিন্দলীলামৃত-৩।৯২-৯৩)
“বার্তাকু সূরণক মানক কর্করোথৈ
রম্ভামুঘোত্থ কণিশৈঃ কচুভিঃ পটোলৈঃ।
কুষ্মাণ্ডকৈর্লবলবৈঃ শিতসূচিরাজী
বেধেন নীরসতমৈর্বিবিধাহ্স ভাজী।।”
----------------
বার্তাকু= বেগুন। সূরণক= ওল। মানক= মান। কর্করোথ= কাঁকরোল।
রম্ভামুঘোত্থ = গর্ভমোচার ছোট ছোট কাঁচা কলা। পটোলৈঃ= পটল। কুষ্মাণ্ড= চালকুমড়ো।
এই আনাজগুলো ছোট ছোট করে কেটে ( কি ধৈর্য্য!!!!!! প্রেমে অধৈর্য্য হলে হয় না, এটাই বোধহয় কবি কর্ণপুর বোঝাতে চেয়েছেন!) সরু সূঁচ দিয়ে বিঁধিয়ে ভেতরের রস গুলো বের করে নিতে হবে। এরপর ডালের বেসনে চুবিয়ে সেগুলো সরষের তেলে ভাজতে হবে। এটা অবশ্য কবিরাজ গোস্বামীর বিধান।
সেই সময়ে আলু পাওয়া যেত না। গোল আলু- যেটা এখন আমরা খাই, সেটা টমাস রো জাহাঙ্গীরের সময় ভারতে এনেছিলেন। তাই বিভিন্ন শ্লোকে যে “আলুক” কথাটা আছে সেটা রাঙ্গা আলু বলে ধরতে হবে বলে গবেষকরা একমত।
কবিরাজ গোস্বামী, “ডিঙ্গিশ”( ঢ্যাঁড়শ) চাকা চাকা করে কেটে; ডালের বেসনে চুবিয়ে ঘিয়ে ভাজার কথা বারবার বলেছেন।
প্রেমের যে কত লাফড়া! উফস্‌। রান্নাঘরেই যদি সময়টা গেল, তবে প্রেমটা করবে কখন? যাক! ওনাদের ব্যাপার, ওনারা বুঝবেন! আমরা বরং সেই রান্নার রেসিপি গুলো দেখে নি!

একাল হলে, টিভিতে একটা প্রোগ্রাম করিয়ে নেওয়া হত, শ্রীরাধাকে নিয়ে! টি. আর.পি-র জন্য ভাবতে হতো না!!!!!! বকফুলভাজা নাকি- শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয় ছিল! শ্রীরাধাকে তো শেষমেষ “বক”- ই তো দেখিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। মানে, আজকের ভাষায় যাকে বলে- হাফসোল।
বকফুলকে সংস্কৃতে, কাঞ্চনকলিকা বলে। শ্রী রাধা, বকফুলকে ঘিয়ে ভেজে টক দইতে ভিজিয়ে, নুন-লংকা মিশিয়ে; একরকম “ডিস” তৈরী করেছিলেন। আমি টেষ্ট করেছি! দারুণ খেতে!
আপনারাও “ টেরাই” করতে পারেন।
কাসুন্দি, আদা- বাটা, নারকেল-বাটা দিয়ে কাঁঠালের
বিচিও “ টেরাই” করতে পারেন।
“নতি পত্র” মানে নলতে পাতার শুক্তুনির রেসিপি চাই!!!!! কুছ পরোয়া নেহি!
“যস্মিন্ প্রতপ্ত-কটু তৈল্যা-তিক্তপত্রীঃ।
সৎকাসমর্দদলিতার্দ্রক-সাধুমৈত্রীঃ।।”
কাসুন্দি, মিহি করে আদা বাটা দিয়ে , নলতে পাতাকে ম্যারিনেট করতে হবে। তারপর সরষের তেল গরম করে ছেড়ে দিয়ে, নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন।
অহো!!!! কি “সাধুমৈত্রীঃ”- অর্থাৎ, কাসুন্দি, মিহি করে আদা বাটা, সরষের তেল আর নলতে পাতার কি অসাধারণ বন্ধুত্ত্ব!!!!!

এবার দেখি, শ্রী রাধা, আর কি কি বানিয়েছিলেন! শ্রীকৃষ্ণ আসছেন- প্রেমটা একটু মাখো মাখো করতে হবে না? মাখো মাখো করতে গেলে তো দুধের দরকার! শ্রীরাধা, দুগ্ধালাবু বা দুধলাউ তৈরী করতে বসলেন।
সৌস্মেণ জীরকং- নিভং পরিকৃত্য তুম্বীং
সিদ্ধাঞ্জকেন পয়সা চ নিধায় কম্বীম্।
আলোড্য দত্তঘনসারমপাচি দুগ্ধাহ-
লাবুঃ সিতামরিচ জীরক হিঙ্গুমুগ্ধাঃ।।
-----------
লাউকে জিরের দানার মত ঝিরিঝিরি করে কেটে, জল এবং দুধ মিশিয়ে সেদ্ধ করবে, আর সেদ্ধ করার সময় বারবার হাতা দিয়ে নাড়তে হবে। তারপর, কর্পূর, চিনি, মরিচ, জিরা, হিং দিয়ে ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নেবে।
তবে কবিরাজ গোস্বামী হিং দিতে কিন্তু বলেন নি। এটার নাম তিনি দিয়েছিলেন- দুগ্ধতুম্বী ( তুম্বী= লাউ)।
এরপর, শ্রীরাধার মনে হলো- নাঃ! কম পড়ে যাচ্ছে!!!! আবার তিনি কচি মোচা কেটে ,“ মরিচাঘ্য” রাঁধতে বসলেন।
মোচার ছোটো ছোটো শস্য গুলো ঝিরি ঝিরি কেটে জলে ডুবিয়ে খানিকক্ষণ রেখে দিলেন।
তারপর, দুধ, মরিচ আর হিং দিয়ে ঘন ঘন নেড়ে ফুটে গেলে নামিয়ে রেখে ঠাণ্ডা হতে দিলেন।
কবিরাজ গোস্বামী হিং দিতে এখানেও বলেন নি! শ্রীকৃষ্ণ হিং ভালোবাসতেন কিনা জানা যায় না, তবে কবিরাজ গোস্বামী হিং ভালোবাসতেন না- এটা পরিস্কার!

এত কিছু করে, শ্রীরাধার মনে হলো, এবার কিছু “অম্ল” বা টক তৈরী করতে হবে। আজকাল হলে শ্রীকৃষ্ণ এত কিছু খাবার পর জেলুসিল খেতেন! কিন্তু, তখন তো ওসব পাওয়া যেত না!
দেখি! শ্রীরাধা কি কি রাঁধলেন!!
• পাকা কুমড়ো খণ্ড খণ্ড করে কেটে, সরষের তেলে ভেজে নিয়ে – ঘোল ( তক্র), আদা (আর্দ্রক), মৌরী ( মৌরিকা) ও হিং ( হিঙ্গু) দিয়ে মিশিয়ে রাখলেন। তারপর ছানা আর মুগের বড়া দিয়ে পরিবেশন।
• মূলা, পাকা চালতা চাকা চাকা করে কেটে, তক্র, গুড় এবং ভব্যখণ্ড ( পাকা তেঁতুল) দিয়ে আর রকম “অম্ল”।
• মিষ্টি পাকা আম, জলে ভালো করে মেখে- তারপর আদাবাটা, চিনি আর দুধ!
এরকম আরও বারো রকম “অম্ল” র বর্ণণা পাওয়া যায়!
এদের আবার মোট তিন রকমের ভাগও রয়েছে!
• ঈষদম্ল( অল্প টক)
• মধুরাম্ল ( মিষ্টি টক)
• মধ্যাম্ল ( মাঝামাঝি টক)
“চিধ্যাম্রাতকচুক্রাম্রৈস্তত্তদ্ ব্যাদিযোগতঃ।
ঈষন্মধুরগাঢ়াম্লভেদাম্ল দ্বিষড়বিধঃ।।”
অর্থ:- তেঁতুল,আমড়া,আমরুল ও আম এই চার রকমের টক, মুগের বড়ার সাথে মিলিয়ে বারো রকমের টক হত!‍
কিছু বুঝতে পারছেন? কোথায় লাগে আজকালকার বোতোলবন্দী সব সফ্ট ড্রিংকস্!!!!!!!!!!!!!

শেষে আসি মিষ্টির কথায়! যাকে বলে, মধুরেণ সমাপয়েৎ।

এই দুই কাব্যে- শাক, ভাজা, তরকারি, ডাল, টক ছাড়াও, নানা রকমের পিঠে আর পায়েসের বর্ণণাও আছে।
পিঠে গুলোর নাম ভারী সুন্দর, কিন্তু সব সময় এর রেসিপি আমরা পাই না! ( কি দুঃক্কু!)
কয়েকটা পিঠের নাম বলছি!
-        হংসকেলি
-        শোভারিকা
-        বেণী
-        চন্দ্রকান্তি
-        ললিতা! ( মাননীয় মান্না দে, আমার মনে হয়, এই পিঠেটা খেয়েছিলেন, না হলে ওই বিখ্যাত গানটা হতো না)
-        চিত্রা
-        কর্পূরকেলি
-        অমৃতকেলি
এখন আমরা যে মিষ্টিগুলো খাই, চারশ বছর আগেও সেই মিষ্টিগুলো ছিল!
জীলাবিকা মউহরি পুরু পূপগূজা
নাড়ীচয়াঃ কৃত সরস্বতি* কাদি পূজাঃ।
খর্চুরদাড়িমক শর্করপালমুক্তা
লাড্ডুৎকরান্ বিধতি রেহত কলাভিযুক্তাঃ।।
(*সরস্বতি- এই বানানটা সম্বোধনে বলে- ই কার হয়েছে)
জীলাবিকা=জিলিপি
পুরু= পুরী ( আটার তৈরী)
গূজা= গজা/ গুজিয়া
খর্চুর= খইচুর
দাড়িমক= কদমা ( মনে হয়)
যাই হোক, এবার বুইলেন তো!!!!!!!!! প্রেমের কি ল্যাঠা!!!!!!! খাও আর খেয়ে যাও! তারপর প্রেম করো!
শেষে ওই বিখ্যাত কবিতাটার দুই লাইন বলি!
এত খেয়ে তবু যদি নাহি ভরে মনটা
খাও তবে কচুপোড়া, খাও লবডঙ্কা!


সমাপ্ত
 
 








Online friends





আধ্যাত্মিক ভালোবাসা


মানুষের কষ্ট পেয়েও চৈতন্য হয় না, এটা খুবই আশ্চর্যের। আর এটা হয়, মিথ্যা পরিচয়কে আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য। সভ্যতার আরম্ভ থেকেই, সারা পৃথিবী কাম এবং কাঞ্চনে মায়াবদ্ধ। মানুষ এটাকেই জীবনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিয়ে সবার শেষে খুবই দুঃখ পায়।

নিজের এবং পরের মন আর দেহকে একাত্ম বোধ করে আমরা যত রকমের সম্ভব- সেই সব আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি;ফলে অশেষ দুঃখ- দুর্দশা সৃষ্টি করে ফেলি। এটাও ঠিক, এর মধ্যেই  কিছু মানুষ জাগতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। মানসিক সম্পদ আর সমৃদ্ধ হয় না। জাগতিক সম্পদ মানেই মানসিক সম্পদের অবনমন।

কথামৃততে আমরা একটা গল্প পড়েছি। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন-কাঁটা ঘাস খেয়ে উটের মুখ থেকে রক্ত পড়ে, কিন্তু তাও উট কাঁটা খাবেই।

আমরা যারা সাংসারিক জীব, তাদের অবস্থা ওই উটের মত। সব রকম কষ্ট পেয়েও ওই একই জায়গায় ঘোরাফেরা করি। মান- অভিমান, কথা বলা বন্ধ, অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে নিজের শরীর খারাপ করা, সংবেদনশীল হয়ে পড়া- সবই একসাথে ঘটে চলে।

এই সবের মূলে কে? আমাদের মন। আমাদের মন সবসময় আমাদের প্রতারণা করতে চেষ্টা করে। অবচেতন বা অচেতন বাসনা, কামনার হয়ে কথা বলে।

অতিরিক্ত সংসারাসক্তি বা জাগতিক আসক্তি আগুনের মত। এতে হৃদয় পুড়তে পুড়তে চলে। আর সেই পোড়া কোনো মলমে সারে না। তা বলে আমরা সবাই সাধু হয়ে যাব? না, সেটা আমি নিজে সাংসারিক জীব হয়ে বলতে পারি না, কিন্তু একটা সমাধান তো বের করতে হবে!

আর সেই ক্ষত মেরামত করতে একটাই মলম।  সেই মলম পাওয়া খুবই কষ্টকর।

আসছি সেই মলমের কথায়। তার আগে আরও দু একটা কথা বলে নেওয়া দরকার।
আমাদের ভালোবাসার জিনিষ আর মানুষগুলো আমাদের মনকে আকর্ষণ করে। ফলে সৃষ্টি হয়- আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ। ভালোবাসা আর বিদ্বেষ, একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ- এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।
সুতরাং, তারা একই পর্য্যায়ের। ঘৃণা এবং বিদ্বেষ হলো ভালোবাসা বা আসক্তির উল্টো দিক। এগুলো কিন্তু মূলত একই জিনিষ!
তাই সব রকম আসক্তি, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। এটা লেখা বা বলা যত সোজা- কাজে অনুবাদ করা ততটাই কঠিন। তাই দরকার সেই মলমের।
সেই মলমটা কি? প্রকৃত ধর্মানুশীলন। এখানে ধর্ম বলতে কিন্তু- অং- বং-চং করে পূজো- আচ্চা নয়।
আমরা ভালবাসব আর সবাইকে সেই ভালোবাসার জন্য উদ্বুদ্ধ করব।
তা হলে প্রশ্ন ওঠে- কাকে ভালবাসব? সোজা কথা- ঈশ্বরকে! কে সেই ঈশ্বর?
বিবেকানন্দ এক কথায় উত্তর দিয়েছেন।
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর!
সংস্কৃত সাহিত্যেও বলা আছে।
তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জিতাঃ।
ত্যাগের দ্বারাই ভোগ কর।
কিছুটা কল্যাণকর ও মানবোচিত আত্মসমালোচনা করা যেতে পারে। সেটা যেন কখনোই ধ্বংসমূলক বা নেতি বাচক আবেগ প্রবণতায় শেষ না হয়। কখনোই ভাবা উচিত নয়- আমি কি পাপী! কত অধম!
বরং ভাবা উচিত- যা হয়েছে, হয়ে গেছে! সেদিন শেষ । আমি জীবনপঞ্জীর নতুন পাতা উল্টে নতুন জীবন শুরু করি।
আর সেই নতুন জীবন শুরু করতে হবে নিজেকে, অপরকে ঈশ্বর কে ভালোবেসে!
আধ্যাত্মিক ভালোবাসার জীবন শুরু করে- সত্যস্বরূপের দিকে যাত্রা শুরু করতেই হবে।
সত্যস্বরূপের দিকনির্ণয়ই -আধ্যাত্মিক ভালোবাসা।
True Love Does exist!
বিজয়তে- সত্যম্, শিবম্, সুন্দরম্ ।
সমাপ্ত

 

Thursday, March 10, 2011

পুরোনো প্রেম

- কেমন আছো?
- কে বলছেন?
- জেনে কি হবে? গলা চিনতে পারছো না?
- না!
- মহিলাদের গলা চিনতে পারাটা কি খুব মুশকিল?
- আমি চিনতে পারি না!
- হুম! আমি চন্দনা!
- ..........
- কি হলো? চুপ কেন?
- .........
- লাইন তো কাটে নি! কিছু বলো!
- কি বলবো?
- তোমার নম্বর কি করে পেলাম!!!!!
- ...............
- চুপ কেন?
- ভাবছি
- কি?
- এখনও তোমার গলা, আমার কাছে গানের মত!
- হুম! এই বয়সেও বেশ পটানো কথা বলতে পারো!
- ..............
- শোনো, আমার মেয়ের অরকুট প্রোফাইলে, তোমাকে ফ্রেণ্ড লিষ্টে দেখলাম! আর ওখান থেকেই তোমার সেল নং!ফোটো দেখেই চিনেছি!
- ................
- লাইন তো কাটে নি! পাশ থেকে কিশোরের ওই গানটা শুনতে পারছি!
- হুম! কোনটা?
- ওই যে!‍ কোই হমদম, না রহা.......
- ওটা আমার প্রিয় গান!
- যাক! তোমার বয়স তো ৬৮ হলো! চুল পাকলেও বেশ হ্যাণ্ডসাম আছো! মেয়ে সামনা সামনি দেখেছে তোমায়, একটা জিটি তে!
- .......
- আবার চুপ!!!!!!!
- কি হবে, এসব শুনে!
- কেন?
- যখন শুনতে চেয়েছিলাম, তখন তো আমায় হাড়গিলে বলেছিলে!
- ঈশ্বরী পাটনী তো পড়েছিলে!
- ....
- কি হলো?
- না! এমনি!
- নিন্দাচ্ছলে প্রশংসাকে কি বলে?
- জানি না!
- হুম!
- একদিন দেখা করো না আমার সাথে!
- কি হবে দেখা করে?
- ছাড়ো তো ওসব! তুমি তো নর্থে থাকো!
- হ্যাঁ
- আমি সাউথে। একটা কমন জায়গা বাছো না, দেখা করার!
- দেখো! সময়ে পরিহাস!
- কি রকম?
- সেই আজো,আমি নর্থ পোল আর তুমি সাউথ পোল!
- কুঁক! কুঁক! কুঁক! কুঁক!
- Call ended!


লেখাপড়া

লেখাপড়া ( আলপথ, জানুয়ারী ২০১০)




লেখাপড়ার কথা ভাবলে, আজও শিউরে উঠি। এই বয়সেও দুঃস্বপ্ন দেখি, পরীক্ষার হলে কিস্সু লিখতে পারছি না, আর দরদর করে ঘেমে যাচ্ছি।
পরীক্ষার খাতাতে মুজতবা সাহেব নাকি এ্যায়সা আ্যানসার ঝেড়েছিলেন, যে পরীক্ষককেরা বলেছিলেন-
-এনকোর! ( ফিরসে বা রিপিট) আর সেই ক্লাসে তাঁকে আবার রেখে দিতেন। পরের বছর পর্য্যন্ত পরীক্ষককেরা অপেক্ষা করতেন, কখন আবার এইরকম উত্তর মুজতবা সাহেব লিখবেন।( এটা মুজতবা সাহেব নিজেই লিখে গেছেন)
এনকোর ব্যপারটা একটু বুঝিয়ে বললে বোধহয় ভালো হয়। আগেকার দিনে, যাত্রা থিয়েটারে কোন সিন ভালো লাগলে, দর্শকেরা বলতেন--এনকোর! (ইংরেজী শব্দ) আর কুশীলবেরা সেই দৃশ্যটি আবার অভিনয় করতেন!
এ দিক দিয়ে আমার পরীক্ষককেরা আমাকে এনকোর না বললেও, ফার্ষ্ট কল বা থার্ড কলেও আমাকে পাশ করাতেন না! ফলং- প্রহারং। আবার দাদু গিয়ে বণ্ড দিয়ে আমাকে ওপরের ক্লাসে ওঠাতেন।
ঋষি বঙ্কিম বলেছিলেন:- ( মুজতবা সাহেবের রেফারেন্স)
“ছাত্র জীবন হইত বড় সুখের জীবন
যদি না থাকিত এগ-জামি-নেশন!”
একটা চালু কথা(গুজব?) আছে। ঋষি বঙ্কিমও নাকি প্রথম সুযোগে স্নাতক পর্যায়ে পাশ করতে পারেন নি। যেহেতু, ওই পরীক্ষা কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরীক্ষা ছিল, সঙ্গে সঙ্গে গ্রেস মার্ক দিয়ে পাস করানো হয়! ( প্লিজ, গুজবে কান দেবেন না)
ওই দুই লাইনের কবিতাটা পড়ে মনে হয়, কথাটা সত্যি হলেও হতে পারে। যাই হোক, রেডুকুৎসিও আব আ্যবসার্ডাম ( রিডিউসড টু আ্যবর্সাড থিংস্- আবার মুজতবা সাহেব!!!) সূত্রে আমি পরীক্ষার ব্যাপারে মুজতবা সাহেব আর ঋষি বঙ্কিমের সমগোত্রীয়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
এক তালেবর ম্যাট্রিকে ফেল করে, নাকি বলেছিল:- ম্যাট্রিকুলেশন এক্সামিনেশন ইজ এ গ্রেট বদারেশন টু আওয়ার নেশন। ফাদারস আ্যডভাইস ফর কালটিভেশন আ্যাণ্ড মাদারস কনশোলেশন।
সেই মাতব্বরটি ( আমার কাছে প্রাতঃস্মরণীয়) ইতিহাসে, বাবর সম্বন্ধে লিখেছিল-
বাবর ওয়াজ এ গ্রেট এম্পপেরর। হি ফ্যাটাচুলেটেড আ্যণ্ড ল্যাটাচুলেটেড। হি অলসো পারপেনডিকুলারলি গরমরালাইজড এভরিথিং!
আরও ছিল, কিন্তু সেটা আর জানা যায় নি! ( দেশের কি দুর্গতি! মুন্না ভাইয়ের ভাষায় “ওয়াট লগা দিয়া!”)
হেসে উড়িয়ে দিলেন তো! তা ঠিকই করেছেন। এসব অবাস্তব কথা পড়াই উচিত নয়! মহা পাপ!
আমার তখন ক্লাস সেভেন। সংস্কৃত শেখান হচ্ছে। পণ্ডিত মশাই শেখাচ্ছেন- বৃক্ষ ( উচ্চারণ করেছিলেন- বৃখ্ স) হইতে লম্ফ প্রদান কর।
বৃক্ষাৎ উল্লম্ফ!
শান্তি (আমাদের পাগলা দাশু) বলল- স্যার, থুড়ি পণ্ডিতস্যার- ট্রাম হইতে লম্ফ প্রদান কর, এর সংস্কৃত কি হবে?
ফার্ষ্ট বয় কার্ত্তিক ভদ্রের উত্তর:- ট্রাম- অ কারান্ত শব্দ, নর শব্দের ন্যায়, সুতরাং ওটা হবে-
ট্রামাৎ উল্লম্ফ!
পণ্ডিতস্যার খেপে গেলেন। বললেন:-
ওহে শাখামৃগের ( বাঁদর) দল! ট্রাম, ইংলণ্ডিয় যবন শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় যাবনিক শব্দের প্রবেশ নিষিদ্ধ!!!!!!
তবে, কি হবে পণ্ডিতস্যার?
দাঁড়া, একটু চিন্তা করতে দে!
শান্তি উঠে দাঁড়াল!
-এ কি—খাড়াইলি ক্যান? (পণ্ডিতস্যার, রেগে গেলে বা হতচকিত হলে মাতৃভাষা বলতেন)
-আপনেই তো কইলেন!
-বলদা! তরে কখন খাড়াইতে কইলাম!!!!!
-ছ্যার! অহনেই তো কইলেন!
-ওও বুঝসি। বয়! বয়! ভাবতে দে।
-কিন্তু ছ্যার!
-ক
- ওই যে বলদা কইলেন, হেইডার সমসক্রিত কি হইবো? বলদা তো দুয়ো সম্প্রদায়ই কয়! হেইডা কি যাবনিক শব্দ?
-ছ্যামড়া, তুই তো মহা বজ্জাত! এইডা ন্যায়ের প্রশ্ন! হেইগুলা বোঝোনের বয়স তোগো হয় নাই!
- ছাড়ান দ্যান। অহনে কন, টেরামের সমসক্রিত কি হইবো?
-শকট
- এই দ্যাহেন, তা অইলে গিয়া, বলদা গাড়ীর সমসক্রিত কি?
-ওইটা পরে কমু হনে! টেরাম গাড়ীর তো টিক্কি থাহে! তা হইলে গিয়া- শিখা! আচে- সমন্বিত। লাইন- লৌহবর্ত্ম! ইলেকট্রিকে চলে- বিদ্যুশ্চালিত। উমমমমমম! তা অইল হইবো গিয়া- শিখা সমন্বিত লৌহবর্ত্মে বিদ্যুশ্চালিত স্বতশ্চল শকটঃ। বুঝছস? পুরাডা দাঁড়াইল গিয়া -শিখা সমন্বিত লৌহবর্ত্মে বিদ্যুশ্চালিত স্বতশ্চল শকটাৎ উল্লম্ফ!  
আমরা স্বতঃর্স্ফূত ভাবে হাততালি দিয়ে উঠলাম। শুনে পণ্ডিতস্যার হাঁফ ছাড়লেন! শান্তি, শুধু আস্তে একটা ফুট কেটেছিল- টেরাম, তলে হইল গিয়া জাতে বাউন!!!! শিখা আসে কইতাসেন!!! পণ্ডিতস্যার বোধহয় শুনতে পান নি বা শুনেও উপেক্ষা করেছিলেন।
তখনও কি পণ্ডিতস্যার জানতেন, আরও কি অপেক্ষা করে আছে তাঁর জন্য? দুই বছর ধরে এনকোর পাওয়া আর একটি ছিল, গদা। ভালো নামটা আর মনে নেই! ওই নামে ডাক শুনতে অভ্যস্থ ছিল সে। ফলে ভালো নামে ডাক শুনলে, ও নিজেও উত্তর দিত না। কারণ বোধহয় একটাই ছিল- ভালো নামটা ও নিজেও ভুলে গেসল। গদা খুব শিব্রাম পড়ত!
তা গদা হঠাৎ কাঁচুমাচু হয়ে জিজ্ঞেস করল-
-ছ্যার! একডা শ্লোকের মানে একডু কইয়া দেবেন?
- আরে ক না! সংস্কৃত শ্লোকের মানে কইতে পারুম না!!!! তইলে কিসের আমি হরিহর দেবশর্মণ?
- কইলাম তইলে- বলে করযোড়ে, মুদিত নয়নে; গদা সুর করে শুরু করল: -
হবর্তাবা কহিপ্তাসা, টজেগে ন শকেডুএ।
রন্তগাযু শদে ইব সীবাঙ্গবঃ।।
স্পষ্টতই পণ্ডিতস্যার কুলকুল করে ঘামছেন, দেখতে পেলাম। তখন, ইস্কুলে ইলেকট্রিক ছিল না। রতন, জোরে জোরে পাখার হাওয়া করতে লাগল। সাথে, পণ্ডিতস্যার মাথাকে বাম থেকে ডান দিকে ঘোরাতে শুরু করলেন। শান্তি জিজ্ঞেস করল:-
-মাথাডা ঘোরান ক্যান, পণ্ডিতস্যার?
-আরে, হাওয়ার ইস্পিড বাড়াইতেসি, লগে মাথা থিকা শ্লোকের মানে বাইর করনের চেস্টা!
ঢং ঢং করে ক্লাস শেষ করার ঘন্টা পড়ল। ক্লাস থেকে বেরিয়ে, পণ্ডিতস্যার দৌড়ে টীচারস রুমের দিকে চলে গেলেন। পরে, টিফিনের জন্য আধঘন্টা ছুটি। সবাই গদাকে চেপে ধরলুম। ক, শ্লোকটার মানে ক- শান্তির চিৎকার! গদা শুরু করল:- আরে ওই শ্লোকটা বুঝছস, কতকগুইলা খবরের কাগজ আর সাময়িক কাগজের নাম উল্টাইয়া দিসি। লগে, ইব আর বিসর্গ জুইড়া দিসি।
- খুইল্যা ক!
- হবর্তাবা= বার্তাবহ, কহিপ্তাসা= সাপ্তাহিক,টজেগে ন শকেডুএ= এডুকেশন গেজেট, রন্তগাযু= যুগান্তর, শদে= দেশ, সীবাঙ্গব = বঙ্গবাসী। বোঝসস?
টিফিন পিরিয়ড শেষ হল। ইংরাজীর ক্লাস। স্বয়ং হেডস্যার আসবেন। আমরা সবাই তটস্থ।
হেডস্যার এসেই বললেন- তোদের আজ ইংরাজী কথপোকথন শেখাব। আ্যাই গদা, তোকে আমি ইংরাজীতে জিজ্ঞেস করব আর তুই ইংরাজীতেই উত্তর দিবি। বুঝেছিস? গদা মাথা নাড়ল। সেটাতে, হ্যাঁ, না কিছুই বোঝা যায় না।
হেডস্যার শুরু করলেন-
-হোয়াট ইজ ইওর ফাদার?
- মাই ফাদার ইজ আমব্রেলা ফ্যাকটরী।
- হোয়াট?
- মানে ছ্যার, আমার বাবায় ছাতাকলে কাম করে!
হেডস্যার খানিক চোখ বন্ধ করে বসে থাকলেন। কিছু যেন বোঝার চেস্টা!!!!!
এরপর শান্তি! ( সবাই লাষ্ট বেঞ্চ, আমি সহ)
- হোয়াট মেটেরিয়ালস ইউ ইউজ ফর ইয়োর হাউজ?
- মাই হাউজ ইজ চ্যাকার ব্যাড়া ছ্যার!
- হোয়াট ইজ চ্যাকার ব্যাড়া? (হেডস্যারের হুংকার!!!)
- ছ্যার, চ্যাকার ব্যাড়া? দাউ দিয়া কাটিং ব্যাম্বু ঝাড়া। পাতলা পাতলা কাটিং দাড়া। ইঞ্চি ইঞ্চি গাড়া গাড়া। পেরেক দিয়া ঠুকিং ব্যাড়া! দ্যাট ইজ কলড চ্যাকার ব্যাড়া!
সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে যা হয় আর কি! সপাং সপাং করে লাষ্ট বেঞ্চের সবাইকে বেত মেরে তিনি ছিটকে বেরিয়ে গেলেন ক্লাস থেকে!!!!!!!!
পরের ক্লাস, বিজন স্যারের। অঙ্ক!!!!!!! তাও আবার আ্যলজেবরা! বেতের মারের ব্যাথা যায় নি।
বিজন স্যার বোর্ডে, বড় বড় করে লিখলেন:-
এক্স=১০
ওয়াই=২
তাহলে এক্স/ওয়াই= ?
শান্তি!!! তুই বোর্ডে আইয়া অঙ্কটা কইষা দে!!!
শান্তি বীরদর্পে বোর্ডে গেল। চক দিয়ে লিখতে লাগল:-

  ২)১০(৪১
     ৮  

                                        ------------- 
                                     ২

-------------


                                     ২

-------------



X
সুতরাং, এক্স/ওয়াই=৪১।
ঢং করে ছুটির ঘন্টা! বিজন স্যার বেরিয়ে গেলেন।
শান্তি চীৎকার করে বলল- ল্যাহাপড়া!!!!!
আমরা কোরাসে বললুম- এনকোর!!!!!!!
   
 

খোসগপ্পো-৩

খোসগপ্পো-৩


ক্ষেতু বাগচী, হাঁফাতে হাঁফাতে ঢুকলেন চন্দন ডাক্তারের চেম্বারে। স্বদেশী তারক মোত্তির আজ দিশি খুঁজেই পান নি! তাই, বাধ্য হয়ে ওই ফরেন খেয়ে এসেছেন। মেজাজটাও বেশ ফুরফুরে !! একটু খুঁতখুঁতি ছিল, ওই ফরেন খাওয়া নিয়ে! তবে, দোকানদার বলেছে- এই সব তো এখন স্বাধীন ভারতেই তৈরী হয়! তা হলে আর চরিত্রভ্রষ্ট কি করে হবেন, তারক দা!!!! তাই তারক মোত্তিরের আজ ফুরফুরে মেজাজ!
চন্দন বলল:- কি ব্যাপার, ক্ষেতুদা? হাঁফাচ্ছেন কেন!!! রঘু ডাকাত, থুড়ি মাতালের পাল্লায় পড়েছিলেন নাকি?
এ্যাই!!!!! মাতাল বলবে না চন্দন! খুব খারাপ হবে!!- তারক মোত্তির গর্জে উঠলেন!
নাটু লাহিড়ী, সকালের বাসী খবরের কাগজটা আদ্যপান্ত পড়ে , প্রির্ন্টাস লাইন মুখস্থ করতে করতে ভুরু উঁচু করে বললেন।
-তা হলে, “চা” তাল বলাই ভালো আর মা-ও বেশ তাল পাবেন!
-সেটাই বরঞ্চ ঠিক! তারক মোত্তিরের জবাব! আমরা তো
“ বল হরির” চায়ের নেশায় পাগল! তা সে ব্যাটাচ্ছেলে গেল কোথায়? এখনও তো চায়ের পায়েসটা দিল না! ওফ্! কাল যা চিনি দিয়েছিল, খালি তেজপাতাটা দ্যায় নি, চায়ে!!
ক্ষেতুদা বললেন- আমার মাথায় জঙ্ঘা হয়েছে!!!!!
সবাই সমস্বরে চীৎকার করে উঠল- কি বললেন, ক্ষেতুদা? মাথায় জঙ্ঘা?
জঙ্ঘা মানে তো উরুসন্ধি!- নাটু লাহিড়ী বিড়বিড় করে উঠলেন।
-নাহে! সত্যি সত্যি মাথায় জঙ্ঘা হয়েছে আমার! মানে ব্রেনে জং ধরে ঘা হয়ে গেছে! যা কাণ্ড হলো আজ! 
- কি হয়েছে, ক্ষেতুদা?
- আর বলো কেন! বঙ্কা! ওই যে আমার জমিদার বন্ধু তপার ছেলে! অনেকদিন বাদে দেশে ফিরেছে! চিঠির পর চিঠি দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে আমার ছেলেকে ই-মেল করেছিল! ছেলে সত্যি কথাটা বলতে পারে নি! উত্তরে বলেছিল- তুই দেশে একটু আয়! তারপর না হয় সব কথা বলা যাবে।
-তারপর? তারপর?
- ছেলেকে বলেছিলাম, বঙ্কা এলে সইয়ে সইয়ে সব খুলে বলবি! তারপর না হয় ও দেশের বাড়ী যাবে! তা আজ বঙ্কা এসেছে! ছেলে সব খুলে বলল!
- কি বলল আর কিভাবে বলল?
তা হলে শোনো ওদের কথাবার্তা! আমি বলে যাচ্ছি।
-আয় বঙ্কা!
- আরে বল তো, বাড়ীর সব কে কেমন আছে!
- সবাই ভালো! তবে তোদের ওই বুড়ো ঘোড়াটা মারা গেছে!
- সেকি??????? কি করে!!!!
- আরে! ওই যে আমডালটা ভেঙ্গে পড়লো যে ওর মাথার ওপর!
- আমডালটা ভেঙ্গে পড়ে মারা গেল? কি করে সম্ভব এটা!
-ঠিক, তা নয়! তবে ওই ফলন্ত আমগাছটা ঝড়ে ভেঙ্গে পড়াতে মাসীমা মারা গেলেন যে!
- কি! মা মারা গেছে?????
- আরে, মেসোমশাই চলে যাওয়ার পর, মাসীমা যখন তখন বাগানে চলে যেতেন যে।
- এ্যাঁ!!! বাবা মারা গেছে!
- তা! মেসোমশাই কি করবে!
- বৌমা আর নাতি একদিনে কলেরায় মারা গেলে শোক সহ্য হয়! তুইই বল না!
- হায়! হায়! সব মারা গেছে আর তুই বলছিস- সব খবর ভালো?
- দ্যাখ, বাবা বলেছিল, তোকে সব সইয়ে সইয়ে বলতে, তাই আর কি!
- হম্! তা হলে, আর আমার দেশে গিয়ে কি হবে?
- হ্যাঁ! গিয়ে কাজ নেই। সবই তো তোর জ্যাঠা, কাকারা দখল করে নিয়েছে!
- তা হলে আর কিছু করার নেই! তুই আমাকে একটু খেতে দে! খেয়ে বিশ্রাম করে দমদমাতে গিয়ে ফিরতি প্লেন ধরি!
- হ্যাঁ! তাই বরং কর!
সব শুনে, তারক মোত্তির বললেন:-
সত্যি! মাইরী! আমারও মাথায় জঙ্ঘা হয়ে গেল! নেশাটাও গেল! যাই বাড়ী যাই!
সেদিনের মত আড্ডাটা ভেঙ্গে গেল।
 


খোশগপ্পো-২

খোশগপ্পো-২

আরে! ক্ষেতুদা! আসুন! আসুন! কি খবর আপনার? চন্দন বলল।
-আর বলো না হে! আমার এই দুদিন ধরে, সন্ধেবেলায় সেরিব্র্যাল আ্যটাক হচ্ছে!
- সেরিব্র্যাল আ্যটাক? আপনার? তাও দুদিন ধরে? আর আপনি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন!
- দেখ, চন্দন! ইয়ার্কি মেরো না! বলি- মাথাটা ধরছে সন্ধে বেলা করে।
-মাথা ধরা আর সেরিব্র্যাল আ্যটাক এক হলো? আপনি দেখচি আমার ডাক্তারী ভুলিয়ে ছাড়বেন!!!!!!
-রাখো তোমার ডাক্তারী! আমার বাবার বন্ধু ছিলেন হরেন ডাক্তার। ডঃ হরেন মুখোটি! সন্ধে বেলায় আফিং খেতেন। আমার বড় ছেলে হওয়ার খবর ওনাকে দিতে গেছিলাম। এই ধরো রাত ৮ টার সময়! শুনে, হরেনকাকা বললেন- কবে ছেলে হলো?
বললাম-আজ সন্ধে ৬ টার সময়! শুনে কি বললেন জানো?
- কি?
বললেন- সর্বনাশ! এর মধ্যেই তুই হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিস?
জয় মা তারারারারা! ব্রহ্মময়ী মা! বলে ঢুকলেন, তারক মোত্তির। শেষের কথা গুলো কানে গিয়েছিল।
- যা বলেছেন, ক্ষেতুদা! আমি হয়েছিলাম হাসপাতালে! সে সময়ে হাসপাতালের খুব একটা রেওয়াজ ছিল না। লোকে হাসপাতালকে ভয়ই পেতো! তা আমাকে বাবা বলল- শোন!তোর একটা কুষ্ঠি করাতে হবে। তোর জীবনে কিছু হবে কিনা একটু জেনে আয়!
তো গেলুম, আমাদের বিরিঞ্চি ঠাকুরের কাছে! জিজ্ঞেস করলেন- কোথায় হয়েছিস! বললাম- হাসপাতালে!
বিরিঞ্চি ঠাকুর বড় একটা হাঁ করে অবাক হয়ে বললেন- সর্বনাশ!!!!! কি হয়েছিল তোর???????
চন্দন বলল- যাঃ! এ হয় নাকি!!!!! যত্ত সব খন্ড ত ব্যাপার!
ক্ষেতুদা ক্ষেপে গেলেন।
শোনো হে! অনেক কিছু হয়! শুধু “Zআনতি পারো না”! আমাকে একবার এক চোখের ডাক্তার বলেছিল-ক্ষেতুদা, আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক হয়েছে!
- ক্কি!!!!!!
-মানে, চোখের মণি তো চোখের হার্ট!!!! সেখানে ছানি পড়েছে! তাই আপনার চোখে হার্ট আ্যাটাক !
এপ্পর শুনবো থাইয়ের ওপর থাইসিস হয়েছে!- চন্দন বলল।
হতেই পারে, চন্দন! ক্ষেতুদার জবাব! আজকাল চিকিৎসা শাস্ত্র যে বেগে এগুচ্ছে!!!!!!!! এক্কেরে মনে হয়- লোকাল ট্রেনের ইএমইউ কোচে প্রচণ্ড তলপেটের চাপ!
দুটো বাচ্চা ছেলে ঢুকলো চেম্বারে!
-ও দাদু!!!!! চাঁদা দেও না!
-দোবো! তারক মোত্তির বললেন। তার আগে ইংরেজী ট্র্যানশ্লেশন কর!
- উফ! কি জ্বালা! আচ্ছা বলুন। এক চান্সে বলে দেবো।
- বল! একটা পচা কলা, গোটা কাঁদিকে পচিয়ে দ্যায়!
- ওও ও! এটা! খুব সোজা!
-বল দেখি!
- One পচা কলা পচেস দি Whole কাঁদি।
ধূপ করে একটা আওয়াজ ! সবাই ঘুরে দেখে- ক্ষেতুদা দাঁত কপাটি লেগে মৃগীরোগীর মত কাঁপছেন।
চন্দন ছেলে দুটোকে ১০ টাকা দিয়ে বিদেয় করল।
-কি হলো ক্ষেতু দা! কাঁপছেন কেন?
- না! অনেকদিন আগেকার একটা কথা মনের পড়ল তো! তাই কাঁপছি!
-কি?
- ছোট ভাই যখন আ্যমেরিকা থেকে এক, ও দেশী বন্ধু কে নিয়ে এদেশে এলো, সেই বন্ধুটাকে জলযোগের দই খাইয়েছিলাম। সেই ভ্রাতৃবন্ধুটি দই খেয়ে তারিফ করে বলল-What is Doi? (নাকি সুরে) এদিক ওদিক তাকিয়ে ছোটভাই নেই দেখে বলেছিলাম – Sleeping milk in the night, morning tight. ও কি বুঝল কে জানে!!!! গম্ভীর হয়ে গেল।
বল হরি চা নিয়ে এসে বলল- দুধ শেষ! আজ আর চা হবে না!
ঠিক আছে! আমারও একটা বিয়ের নেমন্তন্ন আছে! আজ যাই! চন্দন বলল!
সেদিনের মত আড্ডাও শেষ!
 

খোশগপ্পো

খোশগপ্পো

“ঈশাক্ষীর উসুর্ব্বুদে মারা গেল মার
নাকেতে নির্জ্জরগণ করে হাহাকার”

হুংকার দিয়ে উঠলেন- ক্ষেতু বাগচী!
-বল্, দেখি এর মানে কি? কাব্যি চর্চা হতিসে? যত্ত সব! সবাই চমকে গেল! এ আবার কোন ভাষায় কথা বলছেন ক্ষেতুদা! হুংকারের চোটে বদরী বাবু চেয়ার থেকে ছিটকে পড়লেন, “বল হরি”র চায়ের গ্লাসে চিনি মেশানোর শব্দটা ফাটা রেকর্ডের মত হতেই লাগলো। তারক খুড়ো, নেশালু চোখ খুলে কে কে বলে চেঁচিয়ে উঠলেন! হলটা কি? উগ্রপন্থীরা কি হানা দিয়েছে না বোম ফাটালো কেউ!!!!! ক্ষেতু বাগচী আবার একটা হুংকার দিলেন- ল্যাভেণ্ডিস্!!!!!!!! সবার পিলে চমকে উঠলো!
কিন্তু,এই কাণ্ডকারখানার পরিপ্রেক্ষিতটা কি?। খুলেই বলা যাক!
রোগীর ভীড় কম থাকায় সন্ধে বেলায় চন্দন ডাক্তারের চেম্বারে আড্ডা বসে। আড্ডার বিষয় টালা থেকে টালিগঞ্জ! তারক খুড়ো মানে তারক মোত্তির স্বদেশী করতেন। বয়স হলেও বেশ তরতাজা! চেহারা এবং মনেও। একটা স্কুলে বাংলা পড়িয়েছেন এককালে। এখন অবসর নিয়েছেন।সন্ধে হলেই একটু চোখটা লাল হয়। বিলিতি খান না। চিরজীবন স্বদেশী করে এসেছেন, তাই “দিশি” খান। জিজ্ঞেস করলে বলেন- হুঁ হুঁ বাবা! স্বদেশী করেছি, তাই চরিত্র ভ্রষ্ট হই নি!
তারক মৈত্রের স্বদেশী করার কথায় সবার একটু কিন্তু কিন্তু আছে! তা সে যাক গে!
কয়েকদিন আগে যেমন, হঠাৎ “বল হরি” জিজ্ঞেস করেছিল-
আচ্ছা! ভগবানের হাইট কত?
ক্ষেতু বাগচী বলেছিলেন- এক্সাট হাইট টা বলতে পারবো না! তবে তিনি গড়পড়তা মানুষের থেকে অনেক অনেক খাটো!
-কেন? সকলেরই জিজ্ঞাসা!
- না হলে, সবাই কেন বলবে- ভগবান!!!! মুখ তুলে চাও!!!!!
 চন্দন ডাক্তার লোকটি বেশ ভালো। ডঃ চন্দন ভাদুড়ি- এম.বি.বি.এস।পশার বেশ জমজমাট।অনেক গরীব লোক পয়সা দিতে না পেরে, জমির কলাটা, মূলোটা দিয়ে যায়! হাসি মুখে তাই নেয় চন্দন ডাক্তার। রাত বিরেতে লোকে ডাকলে চন্দন হাসিমুখে হাজির। এইখানে শহরতলীর গঞ্জে রিক্সা চলে। কোলকাতা শহর বাসে মাত্র ৬ টাকার দূরত্ত্ব। বাস রাস্তার ওপরেই চেম্বার। এর পাশেই হরির চায়ের দোকান! “বল”হরি বলেই পরিচিত। গান করতে করতে হরি চা বানায়! বদরী সান্যাল প্রায়ই ওকে অন্যমনস্ক হয়ে চা বানাতে বলেন। বদরী বাবুর বক্তব্য-এতে “বল হরি”, চাটা যদি দৈবাৎ ভালো বানায়!

আজকের আড্ডাতে বদরী সান্যালের লেখা কবিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কবিতাটা এরকম:-
অনন্ত কাল ধরে, তোমারই প্রতীক্ষায়
খুঁটে খুঁটে খাচ্ছি সময়।
গরুর পাল হাঁচে, সেই গোধূলিবেলায়
ছড়িয়ে যায় কত গোময়।
তবু তুমি আসো নাকো, দেরী কেন হয়?
এটা, বদরীবাবুর ৩২৭১ তম অণু কবিতা। পত্র পত্রিকায় পাঠান, কিন্তু তারা ছাপে না। সম্পাদকদের কবিত্ব বোধ সম্বন্ধে বিরক্ত হয়ে তিনি, তাঁর একটা কবিতা; কম্পিউটারের এ ফোর সাইজে “প্রিন্টিত”( বদরী বাবুর নিজের ভাষা) আকারে নিয়ে রাতে পাড়ার দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছিলেন। কুলোকে বলে চন্দন ডাক্তারের পশার বাড়ার এটা অন্যতম কারণ।
লোকে কবিতা পড়ছে আর মৃগী রোগী হয়ে গিয়ে চন্দন ডাক্তারের কাছে ছুটছে! কবিতাটা পড়ে, লোকে এই কারণে বদরীবাবুর ঠিকানা হন্যে হয়ে খোঁজ করেছে কিছুদিন। চন্দন পরামর্শ দিয়েছিল, বদরীবাবুকে- দাদা, আপনি এক্ষুণি চিৎপুরে গিয়ে মেক আপ নিয়ে মুখটা পাল্টে নিন! না হলে কিন্তু ঘোর বিপদ আপনার!
“বল হরি” কিন্তু বদরী বাবুর খুব ভক্ত! মহম্মদ রফীর গানের সুরে ওনার লেখা কবিতাগুলো চা বানাতে বানাতে গায়! বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গানের রিয়ালিটি শোয়ে নাম দেবার কথা ওর মাথায় বদরীবাবুই ঢুকিয়েছেন। বদরীবাবুর ইচ্ছেটা অবশ্য অন্য কারণে!
নাটু লাহিড়ী সর্দ্দির জন্য ওষুধ নিতে এসেছিলেন! ক্ষেতু বাবুর ল্যাভেণ্ডিস্, শুনে মিউ মিউ করে বললেন!
লবেঞ্চুস? ওটার কারখানায় তো ধর্মঘট!
তারক মোত্তির বললেন- ধর্মঘট, কি সমাস?
নাটু লাহিড়ী উত্তর দিলেন- ধর্মঘট হচ্ছে কমাস! মানে কয় মাস!!!!! ওপস! তারকদা!!!! খালি মাষ্টারী ফলান কেন? যাক! তাআআআআ ধর্মঘট- ৭ মাস হয়ে গেল!!!!
ক্ষেতু বাগচী আবার বললেন- যাও হে! যত্ত সব ফ্যাদরা প্যাচাল! বলো ওই দুই লাইনের মানে কি?
নাটুবাবু দুবার ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে হেঁচে বললেন- আমি পরে আসব চন্দন! কে যেন বলল, কোথায় যেন, কটার সময় যেতে হবে! কার যেন আসার টাইম হয়ে এসেছে! আমি যাই! বলে, সুরুৎ করে কেটে পড়লেন।
চন্দন বলল- দাঁড়ান ক্ষেতু দা! একটু দম নিতে দিন। আপনি যা ভয়ংকর হুংকার দিলেন। পিলে এক্কেরে চলকে উঠিসে। আই বাপস্।
ক্ষেতুবাবু আবার ক্ষেপে গেলেন।
- আমি তো বসেই রয়েসি! খামাকা দাঁড়াব কেন হে? যত্তসব! ওই বদরী যত নষ্টের গোড়া! রোজ একটা করে কবিতা শোনাবে আর আমার কোষ্ঠকাঠিন্য হবে! আজ ইসপার কি উসপার!
বদরীবাবু অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন- আমার কবিতার সঙ্গে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক কি?
- তুমি কবিতার কি জানো হে ছোকরা! খালি কতক অর্থহীন শব্দ লিখে অনর্থক কর্ণ কণ্ডুয়ন করো। তাইতেই তো আমার কোষ্ঠকাঠিন্য হয়!
- যাঃ! বাবা !!!!আমায় ছোকরা বলছেন? আমার রিটায়ার করার ৪ বছর হয়ে গেছে! হে ভগবান!! মুখ তুলে চাও!!!!!
- বদরী, তুমি আর ভগবানকে মুখ তুলে তোমার দিকে চাইতে বল না! ভগবানের পোনডাইটিস হবে! যা ঢাউস- ঢ্যাঙ্গা তুমি!!!!! তোমার একটাই প্লাস পয়েন্ট! গরীব রুগীরা ডায়ারিয়ায় ভুগলে আর চন্দনকে ওষুধ লিখতে হবে না! তোমার কবিতা গুলো পড়িয়ে দিলেই হবে।
চন্দন বলল- ক্ষেতু দা ওটা স্পোণ্ডিলোসিস হবে! পোনডাইটিস নয়!
- আরে ছাড়ো হেঃ!
ইতিমধ্যে বল হরি চা নিয়ে এসেছে! ক্ষেতু বাগচী গুণগুণ করে গাইতে শুরু করলেন-
চায়ে চর্বি
বিড়িতে বল
বাদবাকী যা খাবি
সবই অম্বল!
চা-তে সুরুৎ করে একটা চুমুক দিলেন- তারক মোত্তির! একটা বিড়ি নিয়ে কানের কাছে ধরে পাকিয়ে, দেশলাই দিয়ে বিড়িটা ধরিয়ে বললেন- ঠিক আছে ক্ষেতুদা! আপনার ওই বিদঘুটে কথাগুলোর মানেটা বলুন।
বিদঘুটে! তোমার গিদরিং জ্যাম করে দেব কিন্তু, তারক!
আহা! রাগ করেন কেন, ক্ষেতুদা! তারক মোত্তির ভিসুভিয়াসের মত বিড়ির ধোঁয়া ছেড়ে বললেন। মাফ করে দিন!
বলছি- কিন্তু ফের যদি প্যাচাল পাড়িচ আর ওই বদরী ব্যাটা কবিতা শুনিয়েছচে, তো ওরই একদিন কি আমারই একদিন।ক্ষেতু মোত্তির উত্তর দিলেন।
না! না! কিছু বলবে না বদরীদা! আপনি প্লিজ বলুন! চন্দন ডাক্তার বলল!
বলছি! কিন্তু বলার সময় ভজর ভজর করবে না কানের কাছে। ক্ষেতু বাগচী বললেন।
আরে না! বলুন, বলুন!
বেশ বলছি!
ঈশাক্ষী মানে – মহাদেব! বুঝলে হে! উসুর্ব্বুদের মানে হল, মহাদেবের ঊর্দ্ধনয়ন থেকে রোষানল! মারা গেল মার, - এর অর্থ হলো মরে গেল কামদেব। মার হলো কামদেবের আর এক নাম! নাক হলো স্বর্গ! আর নির্জ্জর হলো যাদের জরা নেই! মানে- দেবতারা!
তাহলে পুরো মানেটা কি দাঁড়াল ক্ষেতুদা?- চন্দন ডাক্তার জিজ্ঞেস করল!
মহাদেবের ঊর্দ্ধনয়নের রোষানলে মদনদেব মারা গেলে স্বর্গে দেবতারা হাহাকার করতে লাগল- বুইচ হে!
-বাবাঃ! কি জিনিস গুরু! ক্ষেতুদা!
- হুঁ! হুঁ! এটা কি বদরীর ফ্যাদরা প্যাচাল নাকি! খালি, ইং তাং কিরিমিচি!
- উফ্! এই ইং তাং কিরিমিচি টা আবার কি? চন্দন বলল।
- ওটা বদরীকে জিজ্ঞেস কর! বাঁদরের মত কবিতা লেখে ব্যাটা!
-সে না হয় বুঝলাম- কিন্তু ল্যাভেণ্ডিস কথাটার মানে কি?
- তুমি একটা লাওয়াঞ্জে লাওয়ারিস! ল্যাভেণ্ডিস এর মানে হচ্ছে ল্যাভেণ্ডার সাবান!
- যা! বাবা! এ আবার কিআ ভাষা!
- বদরী যদি প্রিন্টিত বলতে পারে তো আমি কেন ল্যাভেণ্ডিস বলবো না চন্দন!
-হুম! কিন্তু আবার একটা কথা ব্যাবহার করলেন- লাওয়াঞ্জে লাওয়ারিস! ওটা আবার কি?
- লাফাঙ্গা আর যার কোনো ওয়ারিস নাই!
বদরী খেপে গেলেন।
দেখুন, ক্ষেতুদা- একে আপনি বয়োজেষ্ঠ তার ওপর বারিন্দির! আমারই জাতভাই! তাই কিছু বলছি না! তা বলে আমাকে এ ভাবে অপমান করবেন?
- কোথায় অপমান করলাম? আমি তোমার এই মাথামুণ্ডুহীন কবিতার প্রতিবাদ জানালাম! বুয়েচ? আর বারিন্দিরদের কথা বলো না ভায়া! প্রবাদ আছে- বারিন্দির মরে ভাসে জলে, কাক বলে এ কোন ছলে!!!!! কাকের মত ধূর্ত প্রাণীও বারিন্দিরদের মড়া ঠোকরাতে সাহস পায় না! এত প্যাঁচ বারিন্দিরদের! আমি তো খোলাখুলি বলেচি তোমায়!
- হে! হে! ঠিক বলেছেন ক্ষেতুদা! তারক মোত্তির বললেন।
বুঝলে বদরী!‍ এখানে তো সবাই বারিন্দির! তাই পেরেকদের নিস্তার!
কেন? গম্ভীর স্বরে বললেন বদরী!
এই দ্যাখো! রাগ হয়েসে তো? তা পুরুষের রাগ থাকা ভালো! বারিন্দিরদের তো পেছন ভরা রাগ!
- যাক! ওই পেরেকের কথা কি বলছিলেন, ক্ষেতু দা! বলল, চন্দন।
- বলব আর কি! বারিন্দিরদের মাথায় পেরেক ঢোকালে ইস্ক্রুপ হয়ে বেরোয় জানো?
- ঠিকই তো! নাটুদার সঙ্গে গায়ে গা ঠেকলে, নাটুদা উল্টো সাত পাক ঘুরে যান! জিজ্ঞেস করলে বলেন- প্যাঁচ ছাড়াচ্ছি! এ্যাতোদিনে বুঝলাম কারণটা!
বল হরি, খালি চায়ের গেলাস গুলো নিতে এসেছিল! এই কথা গুলো শুনে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিল।
- ওরে কাঁদিস ক্যান রে ছোকরা!
- কাঁদবু নি! আপনাদের সঙ্গে কত্ত যে গা ঠোকাঠুকি হইসে! এ্যাহন আমার কি হইবো!
- হবে আবার কি! তোর বুদ্ধি বেড়ে যাবে!
- বুদ্ধি বাড়বো? ঠিক কইতাসেন?
- ছ্যাঁচরামি বুদ্ধিটা বাড়বে!
আর বেড়ে লাভ নেই! এমনিতেই ১০ টা চা খেলে ১৫ টা চায়ের পয়সা ন্যায়! তার ওপর যদি.... থাক, আর বললাম না। বললেন- তারকখুড়ো।
নাঃ! উঠি! রাত ১০ টা বাজে। এরপর বাড়ী গেলে গিন্নি ঠ্যাঙ্গাবে!
বলে উঠে পড়লেন- ক্ষেতু বাগচী!
যা বলেছেন! তা হলে আজকের মত এখানেই আড্ডা শেষ! বদরীর কবিতা নিয়ে কাল আলোচনা হবে!

.................................সমাপ্ত!.....................................