অনেকদিন পর বুকি ঘোষের রেশন দোকানে আড্ডা দিতে গেছিলাম । সেদিন ছিল, কৌশিকি অমাবস্যার দিন । বেচা- কেনা শেষ । অপু আর জীবন বসে ভূতের গল্প করছে ।
চেয়ার এগিয়ে দিল – অলোক । তক্ষুণি গরম গরম চা নিয়ে এলো মিন্টু । ও সব দোকানেই সকাল বিকেল চা বিক্রি করে বেড়ায়।
চায়ে চুমুক দিয়ে – গল্পের ভাবধারা বোঝার চেষ্টা করলাম । কৌশিকী অমাবস্যা তিথির জন্য, চারিদিকে সাজ সাজ রব ।
অমাবস্যা থেকে – বিষয়গুলো গোল গোল ঘুরে আড্ডায় এখন ভূতে এসে ঠেকেছে ।
তর্ক চলছে – বুকি আর অপুর মধ্যে । বুকির বক্তব্য:- ভূত- নাকি স্বরে কথা বলে না আর অপু বলছে – আলবাৎ বলে ।
আমাকে জিজ্ঞেস করলো ওরা । গম্ভীর হয়ে বললুম – আমি তো স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি ! খোনা স্বরে তো কোনোদিন কথা বলি নি !
বুকি রেগে গিয়ে বললো – আপনি ভূত ? জানতাম না তো !
জানবে, কি করে হে ? গুহ্য তথ্যটা আমার বৌ ছাড়া, যে কেউ জানে না !
যাক্ !
তালে শুনুন – বুকি উবাচ !
ওই যে ডান দিকে বাঁধানো পুকুরটা দেখছেন – ওটা পঞ্চাশ বছর আগে বিরাট ছিল । বাবা আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়েছে সেই অন্ধকার থাকতে । মুখ ধুতে গেলাম – পুকুরে । ফিরে এসেই পড়তে বসতে হবে ।
দেখি, ওই ভোরে গণেশকাকু, জাল ফেলে মাছ ধরছে । মাছগুলো জাল থেকে বের করে পাশের ঝুড়িতে রাখতেই সেগুলো খালি মাছের কাঁটা হয়ে যাচ্ছে- নিজের চোখেই দেখলাম ।
আমি গণেশ কাকুকে বললাম:- দেখেছো কাকু কাণ্ডটা !
গণেশকাকু ভয়ডর হীন লোক ছিলেন । একটু তাকালেন – ঝুড়ির দিকে ।
তারপর
কে রে আমার মাছ খাচ্ছে? – গণেশ কাকুর চিৎকার ।
উত্তর এলো – আমি তোর অনাদি কাকা রে গণেশ । দু বছর আগে মারা গেছি, জানিস তো । আজ তুই মাছ ধরছিস দেখে কয়েকটা মাছ খেলাম । বহুদিন খাই নি । এখন পেট ভরেছে – চলে যাচ্ছি ।
কোনো খোনা স্বর ছিল না- বুকি ?
একদম না !
অপু বললো – বাতেলা আর মিথ্যে কথা !
কি রকম ? – আমার জিজ্ঞাসা ।
সন্ধেবেলা আমার মা, সেও প্রায় বছর পঞ্চাশ হবে, মাছ কাটছিল । আঁশ ছাড়িয়ে পাশে রাখতেই একটা কপাৎ করে আওয়াজ । এরকম বার দুয়েক হতেই মা তাকিয়ে দেখে – একটা কাটা মুণ্ডু ,গালে বিশাল দাড়ি, আরাম করে আঁশ গুলো খাচ্ছে শব্দ করে ।
মা একটা ঝাঁটার বাড়ি দিয়ে বললো – যা , ভাগ্ এখান থেকে !
কেঁমনে যাঁই মাঁ । পেঁট যেঁ ভঁরে নিঁ ।
অপু, তুমি নিজের কানে শুনেছো ? – আমার কৌতুহল ।
তবে আর বলছি কি ?
এরকম চলতো হয়তো, তবে আমার ফোনে রিং টোন বেজে উঠলো । স্ক্রিনে দেখলাম – আমার বৌ কল করেছে আমায় ।
বলো !
শোনো – তাড়াতাড়ি এসো তো !
কুট্টুর ( আমার নাতনী )খুব কেক খিদে পেয়েছে ! কিনে নিয়ে এসো তো ।
ফিরলাম বাড়িতে ।
কুট্টু বললো – দাদা তুই কি করে জানলি, আমার কেক খেতে ইচ্ছে করছে ? ( কুট্টু আমাকে আর তার দাদীকে ইয়ার বলে মনে করে ।)
কেন, তোর দাদী যে ফোন করে বলল আমায় !
বাজে কথা কেন বলো? আমি তোমায় ফোন করি নি !
কি যে বলো না ! এই দ্যাখো কল্ লিস্ট্ । দেখি কল্ লিস্টে্ আমার বৌয়ের কল্ নেই ।
ওনার ফোনেও আমার নং ছিল না !
